১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০২
দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না থাকার পরিণাম
আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য হচ্ছে না:
দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে আজ আমাদের সমাজে আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করাটা হয়ে পড়েছে সবচেয়ে কঠিন কাজ, আর নাফরমানি করা হয়েছে সহজবোধ্য। অথচ দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকলে ইসলাম জীবন বিধান হবার কারণে আল্লাহ রসূলের আদেশ-নিষেধ অনুসারে জীবনযাপন হতো সহজবোধ্য আর এর বিপরীতটা হতো কষ্টকর। দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য যেসব কাজকে ফরয করেছেন আমরা ঠিকমত সেগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি না। পক্ষান্তরে যেসব কাজকে আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন সেগুলো বর্জন করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
সলাত প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না :
গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এ অবস্থায় আমাদের সলাতও প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। যা হচ্ছে তাকে প্রতিষ্ঠা নয়, আদায় বলা হয়। সলাত তো প্রতিষ্ঠা হবে সেদিন, যেদিন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীকে সলাতের ফরয আদায়ের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। সে নির্দেশ লংঘিত হলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সলাতে রাজধানী শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমামতি করবেন রাষ্ট্রপ্রধান স্বয়ং অথবা তাঁর প্রতিনিধি। অন্যান্য মসজিদের ইমামগণ হবেন তাঁর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদায় স্বীকৃত।
যাকাত বাস্তবায়ন হচ্ছে না:
অনুরূপভাবে যাকাতের ব্যাপারটাও তেমনি। যেভাবে রসূল (ﷺ) -এর যামানায়, খোলাফায়ে রাশেদীনের যামানায় যাকাত গ্রহণ ও বণ্টন হতো সেভাবে গ্রহণ ও বন্টন এ সমাজ ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। অথচ যাকাতের ক্ষেত্রে রসূল (ﷺ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতই একমাত্র বৈধ ও বিজ্ঞানসম্মত। যাকাত ধনী-গরীবের পার্থক্য দূর করে যে, একটা সামাজিক বিপ্লব ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টির যোগ্যতা রাখে, ব্যক্তিগতভাবে যাকাত বন্টন ও গ্রহণের মাধ্যমে সেটা কোনদিনই অর্জিত হতে পারে না। যাকাত আদায় করবেন সরকার এবং তা দিয়ে দেশের ও জনগণের উন্নয়ন কার্যক্রম চালাবে।
প্রকৃত সিয়ামের বাস্তবায়ন হচ্ছে না:
এমনিভাবে সিয়াম যে পরিবেশ দাবি করে, বর্তমান অবস্থায় সেই পরিবেশ আমরা কিছুতেই আশা করতে পারি না।
হাজ্জের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত :
হাজ্জ আল্লাহ ফরয করলেও দেশের সরকারের অনুমোদন না পেলে আমাদের পক্ষে এ ফরযের উপর আমল বা সম্ভব হচ্ছে।
সুদভিঠিক অর্থনীতি :
অনুরূপভাবে আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন। অথচ আমাদের গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে সুদের ভিত্তিতে। তাই এ হারামকে বর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রস্টিটিউশনের লাইসেন্স:
আল্লাহ জিনাকে হারাম করেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় আইনে কিছু লোকদের জিনার ব্যবসা করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। উক্ত জিনার ব্যবসায়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জানমালের হিফাযতের জন্য অন্য কথায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা চালাতে সাহায্য করার জন্য সরকারি তহবিল থেকে যে পুলিশ বাহিনীকে ভরণ-পোষণ করা হয়, তাদের এক অংশ নিয়োজিত থাকছে যাতে করে দেশের সবাই প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য
মদের লাইসেন্স :
আল্লাহ মদকে হারাম করেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় আইনে কিছু লোকদের এবং হোটেলকে মদের ব্যবসা করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। এতে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচেছ।
নারীর সম্মান রক্ষা হচ্ছে না:
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা পর্দাকে ফরয ও উলঙ্গপনা, বেহায়াপনা হারাম করেছেন। আর দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যদি পর্দা প্রথাকে নির্দিষ্ট ড্রেস কোডের মধ্যে নিয়ে আসতো তাহলে তারা তাদের সঠিক সম্মান ও নিরাপত্তা পেত। ইসলাম নারী সমাজকে আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার দিয়ে সম্মানজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।
নিরাপত্তার অভাব :
ইসলাম যেখানে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আবরুর হিফাযতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, সেখানে বর্তমান অবস্থায় আমাদের দেশে মানুষের জানের নিরাপত্তা নেই, মালের নিরাপত্তা নেই, ইজ্জত-আবরুর কোনো নিরাপত্তা নেই।
মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত:
ইসলাম জনগণের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও ন্যায়বিচারের গ্যারান্টি দান করে। আমাদের সমাজে সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা না থাকার ফলেই দেশের অগণিত মানুষ ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সর্বত্রই ফিতনা :
ইসলাম চায় ফিতনা ফাসাদের অবলুপ্তি, আর আজ আমাদের সমাজটাই ফিতনা-ফাসাদের সর্বগ্রাসী সয়লাবে নিমজ্জিত। নারী সমাজ বঞ্চিত মানুষের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত তারা সত্যিকারের নারীর সম্মান ও অধিকার থেকে। এমনিভাবে ধর্মীয় ও মানবীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকায় অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আল কুরআনের ভাষায় :
“জলে স্থলে ফিতনা-ফাসাদের যে তান্ডবলীলা বয়ে চলছে, এটা মানুষের কৃতকর্মের ফল।” (সূরা রূম ৩০ : ৪১)
দ্বীন প্রতিষ্ঠা না করার পরিণাম
নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন : আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন। অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ হতে লোকদেরকে বিরত রাখবে। নতুবা তোমাদের উপর শীঘ্রই আল্লাহর আযাব নাযিল হবে। অতঃপর তোমরা (তা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার জন্যে) দুআ করতে থাকবে কিন্তু তোমাদের দু'আ কবুল হবে না। (জামে আত তিরমিযী)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে শরীক হল না, কিংবা দ্বীন প্রতিষ্ঠা নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনাও করল না আর এই অবস্থায়-ই মারা গেল, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল। (সহীহ মুসলিম)।
সতর্কতাঃ
উপরের দুটি হাদীসেই আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ না করার পরিণাম কী ভয়াবহ। দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ না করার কারণে আমাদের উপর শীঘ্রই আযাব নাযিল হবে কিন্তু তা থেকে আমরা দু'আ করেও রেহাই পাব না। আরা দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা নিয়ে যারা একটু চিন্তা ভাবনাও করবে না তাদের মৃত্যু হবে মুনাফিকের মৃত্যুর মতো।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা
“দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার পরিণাম’ এ অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করার প্রয়াস পেয়েছি যে, দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে যুগপৎভাবে আমরা ফরয, ওয়াজিব প্রভৃতি কাজ করতে যেমন ব্যর্থ হচ্ছি তেমনি হারাম কাজসমূহও বর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ পরিণাম থেকে বাঁচতে হলে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বেশি জরুরী কাজ হিসেবে প্রমাণিত হয়, এটাতো স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধির দাবি।
ইসলামী শরীয়তেও আল্লাহর যমীনে এবং মানুষের জীবনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এ কাজকে ফরয কাজ হিসেবে ফরযে আইন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বাস্তবতার দাবী অনুসারে এ কাজটা কেবল ফর্য কাজই নয়, সবচেয়ে ফরযের বড় ফরয। কারণ অন্যান্য ফরযের উপর যথার্থ আমল এ ফরটার উপর নির্ভরশীল।
শরীয়াতের দৃষ্টিতে যেখানে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা আছে সেখানে সেটাকে প্রতিষ্ঠা রাখার জন্য চেষ্টা করা ফরয। এ ফরযটা যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবে করা হয় সেই কারণে ফরযে কেফায়া। আজ যেখানে দ্বীন বিজয়ী করার চেষ্টা করা ফরয। এ ফরয প্রতিষ্ঠার জন্য যেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো সংস্থা (রাষ্ট্র ব্যবস্থার অভাব) থাকে না, কাজেই এ অবস্থায় দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা ফরযে আইন।
দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে আজ আমাদের সমাজে আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করাটা হয়ে পড়েছে সবচেয়ে কঠিন কাজ, আর নাফরমানি করা হয়েছে সহজবোধ্য। অথচ দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকলে ইসলাম জীবন বিধান হবার কারণে আল্লাহ রসূলের আদেশ-নিষেধ অনুসারে জীবনযাপন হতো সহজবোধ্য আর এর বিপরীতটা হতো কষ্টকর। দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য যেসব কাজকে ফরয করেছেন আমরা ঠিকমত সেগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি না। পক্ষান্তরে যেসব কাজকে আল্লাহ তা'আলা হারাম করেছেন সেগুলো বর্জন করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
সলাত প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না :
গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এ অবস্থায় আমাদের সলাতও প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। যা হচ্ছে তাকে প্রতিষ্ঠা নয়, আদায় বলা হয়। সলাত তো প্রতিষ্ঠা হবে সেদিন, যেদিন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীকে সলাতের ফরয আদায়ের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। সে নির্দেশ লংঘিত হলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সলাতে রাজধানী শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইমামতি করবেন রাষ্ট্রপ্রধান স্বয়ং অথবা তাঁর প্রতিনিধি। অন্যান্য মসজিদের ইমামগণ হবেন তাঁর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদায় স্বীকৃত।
যাকাত বাস্তবায়ন হচ্ছে না:
অনুরূপভাবে যাকাতের ব্যাপারটাও তেমনি। যেভাবে রসূল (ﷺ) -এর যামানায়, খোলাফায়ে রাশেদীনের যামানায় যাকাত গ্রহণ ও বণ্টন হতো সেভাবে গ্রহণ ও বন্টন এ সমাজ ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। অথচ যাকাতের ক্ষেত্রে রসূল (ﷺ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতই একমাত্র বৈধ ও বিজ্ঞানসম্মত। যাকাত ধনী-গরীবের পার্থক্য দূর করে যে, একটা সামাজিক বিপ্লব ও অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টির যোগ্যতা রাখে, ব্যক্তিগতভাবে যাকাত বন্টন ও গ্রহণের মাধ্যমে সেটা কোনদিনই অর্জিত হতে পারে না। যাকাত আদায় করবেন সরকার এবং তা দিয়ে দেশের ও জনগণের উন্নয়ন কার্যক্রম চালাবে।
প্রকৃত সিয়ামের বাস্তবায়ন হচ্ছে না:
এমনিভাবে সিয়াম যে পরিবেশ দাবি করে, বর্তমান অবস্থায় সেই পরিবেশ আমরা কিছুতেই আশা করতে পারি না।
হাজ্জের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত :
হাজ্জ আল্লাহ ফরয করলেও দেশের সরকারের অনুমোদন না পেলে আমাদের পক্ষে এ ফরযের উপর আমল বা সম্ভব হচ্ছে।
সুদভিঠিক অর্থনীতি :
অনুরূপভাবে আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন। অথচ আমাদের গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে সুদের ভিত্তিতে। তাই এ হারামকে বর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রস্টিটিউশনের লাইসেন্স:
আল্লাহ জিনাকে হারাম করেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় আইনে কিছু লোকদের জিনার ব্যবসা করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। উক্ত জিনার ব্যবসায়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জানমালের হিফাযতের জন্য অন্য কথায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা চালাতে সাহায্য করার জন্য সরকারি তহবিল থেকে যে পুলিশ বাহিনীকে ভরণ-পোষণ করা হয়, তাদের এক অংশ নিয়োজিত থাকছে যাতে করে দেশের সবাই প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য
মদের লাইসেন্স :
আল্লাহ মদকে হারাম করেছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় আইনে কিছু লোকদের এবং হোটেলকে মদের ব্যবসা করার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। এতে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচেছ।
নারীর সম্মান রক্ষা হচ্ছে না:
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা পর্দাকে ফরয ও উলঙ্গপনা, বেহায়াপনা হারাম করেছেন। আর দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যদি পর্দা প্রথাকে নির্দিষ্ট ড্রেস কোডের মধ্যে নিয়ে আসতো তাহলে তারা তাদের সঠিক সম্মান ও নিরাপত্তা পেত। ইসলাম নারী সমাজকে আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার দিয়ে সম্মানজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।
নিরাপত্তার অভাব :
ইসলাম যেখানে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আবরুর হিফাযতের দায়িত্ব গ্রহণ করে, সেখানে বর্তমান অবস্থায় আমাদের দেশে মানুষের জানের নিরাপত্তা নেই, মালের নিরাপত্তা নেই, ইজ্জত-আবরুর কোনো নিরাপত্তা নেই।
মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত:
ইসলাম জনগণের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও ন্যায়বিচারের গ্যারান্টি দান করে। আমাদের সমাজে সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা না থাকার ফলেই দেশের অগণিত মানুষ ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সর্বত্রই ফিতনা :
ইসলাম চায় ফিতনা ফাসাদের অবলুপ্তি, আর আজ আমাদের সমাজটাই ফিতনা-ফাসাদের সর্বগ্রাসী সয়লাবে নিমজ্জিত। নারী সমাজ বঞ্চিত মানুষের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত তারা সত্যিকারের নারীর সম্মান ও অধিকার থেকে। এমনিভাবে ধর্মীয় ও মানবীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকায় অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আল কুরআনের ভাষায় :
“জলে স্থলে ফিতনা-ফাসাদের যে তান্ডবলীলা বয়ে চলছে, এটা মানুষের কৃতকর্মের ফল।” (সূরা রূম ৩০ : ৪১)
দ্বীন প্রতিষ্ঠা না করার পরিণাম
নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন : আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন। অবশ্যই তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ হতে লোকদেরকে বিরত রাখবে। নতুবা তোমাদের উপর শীঘ্রই আল্লাহর আযাব নাযিল হবে। অতঃপর তোমরা (তা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার জন্যে) দুআ করতে থাকবে কিন্তু তোমাদের দু'আ কবুল হবে না। (জামে আত তিরমিযী)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে শরীক হল না, কিংবা দ্বীন প্রতিষ্ঠা নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনাও করল না আর এই অবস্থায়-ই মারা গেল, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল। (সহীহ মুসলিম)।
সতর্কতাঃ
উপরের দুটি হাদীসেই আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ না করার পরিণাম কী ভয়াবহ। দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ না করার কারণে আমাদের উপর শীঘ্রই আযাব নাযিল হবে কিন্তু তা থেকে আমরা দু'আ করেও রেহাই পাব না। আরা দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা নিয়ে যারা একটু চিন্তা ভাবনাও করবে না তাদের মৃত্যু হবে মুনাফিকের মৃত্যুর মতো।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা
“দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার পরিণাম’ এ অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করার প্রয়াস পেয়েছি যে, দ্বীন প্রতিষ্ঠা না থাকার কারণে যুগপৎভাবে আমরা ফরয, ওয়াজিব প্রভৃতি কাজ করতে যেমন ব্যর্থ হচ্ছি তেমনি হারাম কাজসমূহও বর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ পরিণাম থেকে বাঁচতে হলে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বেশি জরুরী কাজ হিসেবে প্রমাণিত হয়, এটাতো স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধির দাবি।
ইসলামী শরীয়তেও আল্লাহর যমীনে এবং মানুষের জীবনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এ কাজকে ফরয কাজ হিসেবে ফরযে আইন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বাস্তবতার দাবী অনুসারে এ কাজটা কেবল ফর্য কাজই নয়, সবচেয়ে ফরযের বড় ফরয। কারণ অন্যান্য ফরযের উপর যথার্থ আমল এ ফরটার উপর নির্ভরশীল।
শরীয়াতের দৃষ্টিতে যেখানে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা আছে সেখানে সেটাকে প্রতিষ্ঠা রাখার জন্য চেষ্টা করা ফরয। এ ফরযটা যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবে করা হয় সেই কারণে ফরযে কেফায়া। আজ যেখানে দ্বীন বিজয়ী করার চেষ্টা করা ফরয। এ ফরয প্রতিষ্ঠার জন্য যেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো সংস্থা (রাষ্ট্র ব্যবস্থার অভাব) থাকে না, কাজেই এ অবস্থায় দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা ফরযে আইন।