hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

কালিমা তাইয়্যিবার শিক্ষা

‘কালিমা তাইয়্যিবা' একটি বিরাট বিপ্লবী ঘোষণা। যারা এটা গ্রহণ করে, তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত, বন্দেগী বা উপাসনা করতে পারে না। আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার জন্য কিংবা তাঁর নিকট সুপারিশ করানোর আশায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত ও দাসত্ব করতে পারে না। আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং তাঁর আযাব হতে মুক্তি পাবার জন্য তারা আল্লাহরই হুকুম-আহকাম পালন করা ছাড়া কোন মানুষকে রাষ্ট্রপতি, নেতা-নেত্রী বা পীর-বুযুর্গকে এবং ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন পন্থা ও পদ্ধতি কিছুতেই গ্রহণ করতে পারে না। তারা মনে করে অন্তরের সাথে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি এবং তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য অন্তরের অন্তস্থল দিয়ে তাঁকে বিশ্বাস করে একমাত্র মা'বুদরূপে তাঁকেই মেনে নিয়ে তাঁরই নির্দেশমত জীবনযাপন করা এবং তাঁরই বিধানকে দুনিয়ার বুকে পুরাপুরি প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রচেষ্টা করাই হচ্ছে একমাত্র উপায়।

এ উপায় ও পন্থা ভিন্ন অন্য কোন পন্থা যারা প্রচার করে, যারা বলে বেড়ায় যে, “আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে হলে অমুক দরবেশ, অমুক পীর-বুযুর্গের নিকট মুরিদ হয়ে বা তার মাযারে হাযির হয়ে ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাসিল করতে হবে, নতুবা তাঁর বদ দু’আয় জ্বলে পুড়ে মরতে হবে অথবা যারা “শুধু কুরআন হাদীস অনুযায়ী আমল করাই আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যথেষ্ট নয়” বলে প্রচার করে, তারা প্রকারান্তরে শিরকেরই প্রচার করে। কারণ পীর সাহেবান ও বুযুর্গানে দ্বীনের রূহানী শক্তির নিকট কোন কিছুর আশা করা বা তাকে ভয় করা পরিষ্কার শিরক।

কালিমা তাইয়্যিবার প্রতি যারা ঈমান এনেছে, তারা কখনই সে দাওয়াত শুনতে প্রস্তুত নয়। তারা সুস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠবে যে, আল্লাহর রহমত লাভের জন্য তাঁকেই ডাকব, কেবল তাঁরই গোলামী করব, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ ও পথ ত্যাগ করব এবং তা দুনিয়া হতে মুছে ফেলার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করব। কেননা শাফা'আত করার ক্ষমতা এবং সারা জাহানের উপর কর্তৃত্ব কেবল এক আল্লাহর। তারা বলবে, মানুষের ক্ষতি বা উপকার করবার ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া কারও আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। কোন জীবিত বা কবরে শায়িত ব্যক্তির এ ক্ষমতা আছে বলে আমরা মানি না। বস্তুত এটাই হচ্ছে প্রকৃত তাওহীদবাদী মানুষের কথা এবং এ পথই হচ্ছে তাওহীদবাদী মানুষের জন্য একমাত্র জীবন-পথ।

সার্বভৌমত্বের অধিকারী কেবলমাত্র আল্লাহই, তিনি ছাড়া আর কেউ নয়। অতএব আইন ও বিধানদাতাও কেবলমাত্র তিনিই। অতএব যে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আল্লাহর প্রভুত্ব ও সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না, কালিমা বিশ্বাসী কোন মানুষই তার আনুগত্য করতে পারে না; এমন রাষ্ট্রের জারি করা কোন আইন কানুনও সে মেনে নিতে রাজী হতে পারে না।

বস্তুত কালিমার প্রতি যারা বিশ্বাস স্থাপন করবে, তারা দৃঢ়ভাবে ইসলামী আইন ভিন্ন অন্য কোন আইনের আনুগত্য স্বীকার করতে পারে না, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রভুত্ব ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে এবং তা সমর্থন করতে পারে না। মানুষের রচিত কোন আইন-কানুনও তারা মানতে পারে না। যে আদালতে মানুষের রচিত আইনের ভিত্তিতে বিচার হয়, সে আদালতের নিকট তারা কোন বিচারও চাইতে পারে না এবং মানুষের রচিত কোন আইন নিয়ে তারা ওকালতিও করতে পারে না; কারণ, এর প্রত্যেকটি কাজই শিরক এবং এটা করতে গেলে মুখে আল্লাহর স্বীকৃতি থাকলেও কার্যতঃ তাঁকে অস্বীকার করা হয়।

অর্থাৎ এক আল্লাহর প্রভুত ও সার্বভৌমত্ব ছাড়া আর কারও প্রভুতুকে স্বীকার করা, আল্লাহর আইনকে বাদ দিয়ে মানুষের রচিত আইন অনুসারে বিচার ফায়সালা করা বা চাওয়া এবং সে আইন নিয়ে ওকালতি করা পরিষ্কার শিরক। তাই যখন ইসলাম-বিরোধী কোন নেতা বা শক্তি মানুষের নিকট আনুগত্য পাওয়ার দাবি করে, তখন তওহীদে বিশ্বাসী মানুষ সুস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠে ও আল্লাহ, তাঁর রসূল ও ইসলামী আইনের ভিত্তিতে গড়া রাষ্ট্র এবং আল্লাহর আনুগত্য স্বীকারকারী ও তাঁর আইন অনুসরণকারী রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়া আমরা অন্য কারও আনুগত্য স্বীকার করতে পারি না। যখন তাদের উপর মানুষের রচিত আইন জারি করা হবে এবং সে অনুসারে বিচার ফায়সালা করা হবে, তখন তারা উদাত্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিবে, আমরা মানুষের রচিত আইন মানি না এবং সে অনুযায়ী কোন বিচারও আমরা চাই না। যখন দুনিয়ার ধন-সম্পত্তি, পুঁজি ও উৎপাদন-উপায়কে মানুষের নিজেদের ইচ্ছামত কিংবা মনগড়া কোন মতাদর্শ বা ব্যবস্থা অনুযায়ী ভোগ-ব্যবহার ও ব্যয়-বন্টনের চেষ্টা করা হবে, তখন তারা স্পষ্ট ভাষায় বলবে যে, সারা জাহানের নিরংকুশ মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। যাবতীয় ধন-সম্পদ ও উপায়-উৎপাদনেরও প্রকৃত মালিক তিনিই। অতএব একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছাই ও তাঁরই দেয়া ব্যবস্থা অনুযায়ী তা ভোগ-দখল ও ব্যবহার করতে হবে।