hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য কী?

একজনের নাম রামপ্রসাদ, এজন্য সে হিন্দু এবং আর একজনের নাম আবদুল্লাহ, অতএব সে মুসলিম তা কি হতে পারে? পরন্তু কাফির ও মুসলিমের মধ্যে শুধু পোশাকের পার্থক্যই আসল পার্থক্য নয়। কাজেই একজন ধুতি পরে বলে সে হিন্দু এবং অন্যজন পায়জামা-পাঞ্জাবী পরে বলে সে মুসলিম বিবেচিত হতে পারে না। বরং মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে আসল পার্থক্য হচেছ উভয়ের ইলম বা জ্ঞানের পার্থক্য। এক ব্যক্তি কাফির এই জন্য যে, সে জানে না তার সৃষ্টিকর্তার সাথে তার কী সম্পর্ক এবং তার বিধান অনুসারে জীবনযাপনের প্রকৃত পথ কোনটি? কিন্তু একটি মুসলিম সন্তানের অবস্থাও যদি এরূপ হয়, তবে তার ও কাফির ব্যক্তির মধ্যে কোন্ দিক দিয়ে পার্থক্য করা যাবে? এবং এ দু’জনের মধ্যে পার্থক্য করে আমি একজনকে কাফির ও অপরজনকে মুসলিম বলবো কেমন করে? কথাগুলো বিশেষ মনোযোগ সহকারে এবং ধীরভাবে ভেবে দেখা আবশ্যক।

আল্লাহর যে মহান নিয়ামতের জন্য আমরা শোকর আদায় করছি, একে লাভ করা এবং রক্ষা করা এ দু’টি কাজই সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ইলম বা জ্ঞানের উপর। ইলম বা জ্ঞান না থাকলে মানুষ তা পেতে পারে না -- সামান্য পেলেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা বড়ই কঠিন ব্যাপার। সবসময়ই তাকে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা ও খুঁতখুঁতে ভাব মনের মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। মুসলিম না হয়েও এক শ্রেণীর লোক নিজেদের মুসলিম মনে করে, এর একমাত্র কারণ তাদের অজ্ঞতা। যে ব্যক্তি একেবারেই জানে না যে, ইসলাম ও কুফরের মধ্যে এবং ইসলাম ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য কী? সে তো অন্ধকারাচ্ছন্ন পথের পথিকের মত; সরল রেখার উপর দিয়ে চলতে চলতে আপনা আপনি তার পা দুখানা কখন যে পিছলিয়ে যাবে বা অন্য পথে ঘুরে যাবে, তা সে জানতেই পারবে না। জীবনের পথে চলতে চলতে সে সরল পথ হতে কখন যে সরে গিয়েছে, তা সে টেরও পাবে না। এমনও হতে পারে যে, পথিমধ্যে কোনো ধোঁকাবাজ শয়তান এসে তাকে বলবে -- “মিঞা তুমি তো অন্ধকারে পথ ভুলে গিয়েছ, আমার সাথে চল, আমি তোমাকে তোমার গন্তব্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেব।” বেচারা অন্ধকারের যাত্রী নিজের হাত কোনো শয়তানের হাতে সঁপে দিয়ে তার অনুসরণ করতে আরম্ভ করবে এবং সে তাকে পথভ্রষ্ট করে কোথা হতে কোথা নিয়ে যাবে তার কোনো ঠিক ঠিকানা থাকবে না। তার নিজের হাতে আলো নেই এবং সে নিজে পথের রেখা দেখতে ও চিনে চলতে পারে না বলেই তো সে এতবড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু তাঁর কাছে যদি আলো থাকে, তবে সে পথও ভুলবে না, আর অন্য কেউও তাকে গোমরাহ করে বিপদে নিয়ে যেতে পারবে না।

এ কারণেই বলা যেতে পারে যে, ইসলাম সম্বন্ধে অজ্ঞ হওয়া এবং কুরআনের উপস্থাপিত বিধান ও মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর প্রদত্ত শিক্ষা ভাল করে না জানা মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে কতবড় বিপদের কথা! এ অজ্ঞতার কারণে সে নিজেও পথভ্রষ্ট হতে পারে এবং শয়তানও তাঁকে বিপদগামী করতে পারে। কিন্তু যদি তার কাছে জ্ঞানের আলো থাকে, তবে সে জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে এবং প্রতি ধাপে ইসলামের সরল পথ দেখতে পাবে। প্রতি পদেই কুফরি, গোমরাহী, পাপ, জ্বিনা, হারামী প্রভৃতি যেসব বাঁকা পথ ও হারাম কাজ সামনে আসবে, তা সে চিনতে এবং তা হতে বেঁচে থাকতে পারবে। আর যদি কোনো পথভ্রষ্টকারী তার কাছে আসে তবে তার দু-চারটি কথা শুনেই তাকে চিনতে পারবে। এবং এ লোকটি যে পথভ্রষ্টকারী ও এর অনুসরণ করা যে কিছুতেই উচিত নয়, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে।