hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৬

৪. আল্লাহর সাথে সম্পর্কের বাস্তব রূপ কী?

আল্লাহর উপর ঈমান আনলে আল্লাহর সাথে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। আল্লাহ এ সম্পর্ককে সূরা নাস-এ তিনভাবে প্রকাশ করেছেন।

১. “মানুষের রব বা প্রতিপালক।” যাবতীয় প্রয়োজন পূরণকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী ইত্যাদি। আর মানুষ তাঁর দয়ার ভিখারি, তাঁর একান্ত অনুগৃহীত ও প্রতিপালিত।

২. মানুষের বাদশাহ। তিনি রাজা, আর মানুষ তাঁর প্রজা। কোনো অবস্থায়ই কারো পক্ষে তাঁর রাজত্বের বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। তাঁর রাজ্যের নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানে মানুষ আবদ্ধ। ভালো বা মন্দ কিছু করার ইচ্ছা ও চেষ্টার স্বাধীনতাটুকু শুধু মানুষকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ সমাধা করার কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। কর্ম সমাধা করা আল্লাহর ইচ্ছার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। শুধু ইচ্ছা ও চেষ্টা করা হলেই মানুষ কর্মের পুরস্কার বা শাস্তি পাবে। কর্ম সম্পন্ন না হলেও এর বদলা পাবে। ইচ্ছা ও চেষ্টার সামান্য স্বাধীনতাটুকু ছাড়া আল্লাহ তাঁর প্রজাকে আর কোনো ক্ষমতাই দেননি।

৩. ‘আল্লাহই মানুষের একমাত্র ইলাহ, রব, হুকুমকর্তা, প্রভু ও মুনিব। তাঁর হুকুমের বিরোধী কোনো হুকুম মানার অধিকার মানুষের নেই।

এসব সম্পর্কের স্বাভাবিক দাবি

যে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর উপর ঈমান আনে তার ঈমানের দাবি সে পূরণ করতে সক্ষম হয়।

১. সে আল্লাহকে একমাত্র রব হিসেবে মেনে নেয়। যা কিছু সে দুনিয়ায় ভোগ করে এর জন্য সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর প্রতিই জ্ঞাপন করে। তার দেহে যত নিয়ামত আছে, তার অন্তরে যত সুকামনা আসে, তার মনে যত সুচিন্তা আসে, নেক কাজের যত ইচ্ছা মনে জাগে, সৎকাজের জন্য চেষ্টা করার যতটুকু তাওফীক হয়, আল্লাহর সৃষ্টি জগতের যা কিছু ব্যবহার করা ও ভোগ করার সুযোগ সে পায়-এ সকল বিষয়েই সে একমাত্র আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জানায়। একমাত্র তাঁরই প্রতি কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করে। এবং মনে তাঁরই অনুগ্রহের তৃপ্তি বোধ করে। প্রতিটি নিঃশ্বাসই তাঁর দয়া বলে অনুভব করে। প্রতিটি আপদ-বিপদকে তাঁর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মনে করে। সে আল্লাহকেই একমাত্র রিযুকদাতা ও প্রয়োজন পূরণকারী মনে করে। কঠিন মুসীবতেও সে পেরেশান হয় না। কোনো অবস্থায়ই তাঁর রব। থেকে নিরাশ হয় না। সব কিছুর মধ্যে আল্লাহ তার জন্য মঙ্গল ও কল্যাণ রেখেছেন বলে বিশ্বাস করে। একমাত্র তাঁরই উপর নির্ভর করে মনে সান্তনা বোধ করে।

২. সে আল্লাহকে একমাত্র প্রভু মনে করে এবং আর কোনো শক্তির পরওয়া সে করে না। কোনো বড় শক্তিই তার নিকট বড় নয়। যিনি সকল বাদশাহর বাদশাহ, সে নিজেকে তাঁরই স্নেহভাজন প্ৰজা মনে করে। কারো দাপটে সে ভীত হয় না। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তিকে ভয় করার সামান্য প্রয়োজনও সে বোধ করে না। কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারে বলে সে মনে করে না। সে পরম সাহসী ও চরম নির্ভীক। দুনিয়া ও আখিরাতে সে আল্লাহকেই একমাত্র অলী বা স্নেহপরায়ণ অভিভাবক মনে করে। সর্বাবস্থায় সে অন্তরে প্রশান্তি বোধ করে। কোনো অবস্থায়ই বিচলিত হওয়া প্রয়োজন মনে করে না। নিজেকে সে আল্লাহর সৈনিক মনে করে এবং তাঁর বাদশাহর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা ও প্রতিষ্ঠা রাখা সবচেয়ে বড় কর্তব্য মনে করে। আল্লাহর অপছন্দনীয় সবকিছু দূর করার জন্য প্রচেষ্টা করে। সে আল্লাহকেই আর সব কিছু থেকে বেশি ভালোবাসে, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের চেয়ে বড় কোনো আকাঙ্খা তার থাকে না। মালিকের সন্তুষ্টির জন্য জান কুরবানী করার মধ্যেই সে গৌরব বোধ করে। শয়তানের রাজত্ব উৎখাত করে আল্লাহর রাজত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জান ও মাল কুরবানী করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করাই জান্নাত লাভের সোপান মনে করে।

৩. আল্লাহই একমাত্র ইলাহ বলে বিশ্বাস করে। তাঁর হুকুমের বিরোধী কারো হুকুম পালন করতে সে এক বিন্দুও প্রস্তুত নয়। তাঁর আদেশ পালন করা ও তাঁর নিষেধ থেকে নিজেকে বিরত রাখাই তার দুনিয়ার ক্ষণ স্থায়ী জীবন ও আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবনের সাফল্যের একমাত্র উপায় বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। এটাই আল্লাহর নৈকট্য লাভের একমাত্র পথ বলে সে মনে করে। দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তির জন্য আর কোনো বিকল্প উপায় আছে বলে সে বিশ্বাস করে না।