১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫১
মুসলিম এবং কাফিরের মধ্যে এতখানি পার্থক্য কেন হলো?
প্রত্যেক মুসলিম নিশ্চয়ই একথা জানে যে, মুসলিম ব্যক্তির মর্যাদা ও সম্মান কাফির ব্যক্তিদের অপেক্ষা অনেক উচ্চে। আল্লাহ মুসলিমকে পছন্দ করেন এবং কাফিরকে অপছন্দ করেন। মুসলিমের গুনাহ ক্ষমা করা হবে কাফিরের অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। কিন্তু মুসলিম এবং কাফিরের মধ্যে এতখানি পার্থক্য কেন হলো, সেই সম্বন্ধে একটু গভীরভাবে চিন্তা করা আবশ্যক।
কাফির ব্যক্তিরা যেমন আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তান, মুসলিমরাও তেমনি তাঁর সন্তান। মুসলিম যেমন মানুষ, কাফিররাও তেমনি মানুষ। মুসলিমদের মত তাদেরও হাত-পা, চোখ-কান সবই আছে। তারাও এ পৃথিবীর বায়ুতেই শ্বাস গ্রহণ করে, এ যমীনের উপর বাস করে এবং খাদ্য খায়। তাদের জন্ম এবং মৃত্যু মুসলিমদের মতোই হয়। যে আল্লাহ মুসলিমদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকেও তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তাহলে মুসলিমদের স্থান উচ্চ এবং তাদের স্থান নীচে হবে কেন? প্রকৃত মুসলিম কেন জান্নাতে যাবে আর তারা কেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? একথাটি বিশেষভাবে চিন্তা করে দেখা আবশ্যক। মুসলিমদের এক একজনের নাম রাখা হয়েছে আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান বা তদনুরূপ অন্য কোনো নাম, অতএব তারা মুসলিম। আর কিছু লোকের নাম রাখা হয়েছে দীননাথ, লী-কুয়ান, রবার্টসন প্রভূতি, কাজেই তারা কাফির; কিংবা মুসলিমগণ খাতনা করায়, আর তারা তা করায় না, মুসলিম গরুর গোশত খায়, তারা তা খায় না -- শুধু এটুকু কথার জন্যই মানুষে মানুষে এতবড় পার্থক্য হতে পারে না! আল্লাহই যখন সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকলকেই তিনি লালন-পালন করেন -- তিনি এতবড় discrimination কখনও করতে পারেন। কাজেই তিনি এ রকম সামান্য বিষয়ের কারণে মানুষে মানুষে এতবড় পার্থক্য করবেন এবং তাঁরই সৃষ্ট এক শ্রেণীর মানুষকে অকারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন -- তা কিছুতেই হতে পারে না।
বাস্তবিকই যদি তা না হয়, তবে উভয়ের মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায় তা চিন্তা করে দেখতে হবে। বস্তুত উভয়ের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কেবল মাত্র কুফরি ও ইসলামের। ইসলামের অর্থ -- আল্লাহর আনুগত্য করা এবং কুফরীর অর্থ আল্লাহকে অস্বীকার করা, অমান্য করা ও আল্লাহর অবাধ্য হওয়া। মুসলিম ও কাফির উভয়ই মানুষ, উভয়ই আল্লাহর সৃষ্ট জীব, তাঁরই আজ্ঞাবহ দাস। কিন্তু তাদের একজন অন্যজন অপেক্ষা এজন্য শ্রেষ্ঠ যে, একজন নিজের প্রকৃত মনিবকে চিনতে পারে, তাঁর আদেশ পালন করে এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার দুঃখময় পরিণামকে ভয় করে। কিন্তু অন্য জন নিজ মনিবকে চিনে না এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার দুঃখময় পরিণামকে ভয় করে না এবং তাঁর আদেশ পালন করে, এজন্যই সে অধঃপাতে চলে যায়। এ কারণেই মুসলিমদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং কাফিরদের প্রতি অসন্তুষ্ট, প্রকৃত মুসলিমকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন এবং কাফিরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার ভয় দেখিয়েছেন।
কাফির ব্যক্তিরা যেমন আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তান, মুসলিমরাও তেমনি তাঁর সন্তান। মুসলিম যেমন মানুষ, কাফিররাও তেমনি মানুষ। মুসলিমদের মত তাদেরও হাত-পা, চোখ-কান সবই আছে। তারাও এ পৃথিবীর বায়ুতেই শ্বাস গ্রহণ করে, এ যমীনের উপর বাস করে এবং খাদ্য খায়। তাদের জন্ম এবং মৃত্যু মুসলিমদের মতোই হয়। যে আল্লাহ মুসলিমদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকেও তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তাহলে মুসলিমদের স্থান উচ্চ এবং তাদের স্থান নীচে হবে কেন? প্রকৃত মুসলিম কেন জান্নাতে যাবে আর তারা কেন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে? একথাটি বিশেষভাবে চিন্তা করে দেখা আবশ্যক। মুসলিমদের এক একজনের নাম রাখা হয়েছে আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান বা তদনুরূপ অন্য কোনো নাম, অতএব তারা মুসলিম। আর কিছু লোকের নাম রাখা হয়েছে দীননাথ, লী-কুয়ান, রবার্টসন প্রভূতি, কাজেই তারা কাফির; কিংবা মুসলিমগণ খাতনা করায়, আর তারা তা করায় না, মুসলিম গরুর গোশত খায়, তারা তা খায় না -- শুধু এটুকু কথার জন্যই মানুষে মানুষে এতবড় পার্থক্য হতে পারে না! আল্লাহই যখন সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকলকেই তিনি লালন-পালন করেন -- তিনি এতবড় discrimination কখনও করতে পারেন। কাজেই তিনি এ রকম সামান্য বিষয়ের কারণে মানুষে মানুষে এতবড় পার্থক্য করবেন এবং তাঁরই সৃষ্ট এক শ্রেণীর মানুষকে অকারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন -- তা কিছুতেই হতে পারে না।
বাস্তবিকই যদি তা না হয়, তবে উভয়ের মধ্যে আসল পার্থক্য কোথায় তা চিন্তা করে দেখতে হবে। বস্তুত উভয়ের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কেবল মাত্র কুফরি ও ইসলামের। ইসলামের অর্থ -- আল্লাহর আনুগত্য করা এবং কুফরীর অর্থ আল্লাহকে অস্বীকার করা, অমান্য করা ও আল্লাহর অবাধ্য হওয়া। মুসলিম ও কাফির উভয়ই মানুষ, উভয়ই আল্লাহর সৃষ্ট জীব, তাঁরই আজ্ঞাবহ দাস। কিন্তু তাদের একজন অন্যজন অপেক্ষা এজন্য শ্রেষ্ঠ যে, একজন নিজের প্রকৃত মনিবকে চিনতে পারে, তাঁর আদেশ পালন করে এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার দুঃখময় পরিণামকে ভয় করে। কিন্তু অন্য জন নিজ মনিবকে চিনে না এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার দুঃখময় পরিণামকে ভয় করে না এবং তাঁর আদেশ পালন করে, এজন্যই সে অধঃপাতে চলে যায়। এ কারণেই মুসলিমদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং কাফিরদের প্রতি অসন্তুষ্ট, প্রকৃত মুসলিমকে জান্নাতে দেয়ার ওয়াদা করেছেন এবং কাফিরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার ভয় দেখিয়েছেন।