১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
কালিমা প্রচারের পুর্বেকার আকীদা
রসূল যখন কালিমা প্রচার শুরু করলেন তখন তিনি দেখলেন তৎকালিন মানুষের মধ্যে ধর্ম সম্পৰ্কীয় কিছু আকীদা বিশ্বাস রয়েছে। তিনি দেখলেন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর যারা উম্মত বলে দাবী করত সে ইহুদীরা বিশ্বাস করতো যে আল্লাহ তাদের জন্যই জান্নাত তৈরী করেছেন, আর জাহান্নাম তৈরী করেছেন ইহুদীদের যারা শত্র তাদের জন্য। তারা মনে করে, যেহেতু তাদের বংশে অনেক নবী রসূল সৃষ্টি হয়েছেন তাই জান্নাত তাদের বংশের লোকদের জন্য আল্লাহ নির্দিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। প্রকালে তাদের ভয়ের কোন কারণই নেই তারা কর্মফল সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে কর্মফল পরকালে নয়, পৃথিবীতে।
পরকালে তাদের জন্য ভয়ের কোন কারণ নেই এই বিশ্বাসই তাদেরকে বেপরোয়া করে গড়ে তুলল। আর পরকালের ভয় দূর হয়ে গেলে তারা হয়ে পড়ে শক্ত যালিম। কাজেই তারা যালিমও হয়ে পড়ল স্বাভাবিক নিয়মেই। আর এ জন্যই তাদের উপর নেমে এলো আল্লাহর গজব।
খৃষ্টানরা বিশ্বাস করত, যারাই ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আল্লাহর ছেলে ও শেষ রসূল হিসেবে মেনে নেবে তাদের জন্য পরকালে আর কোন ভয় নেই। কারণ - তাদের বিশ্বাস যে ঈসা (আলাইহিস সালাম) নিজে শলে বিদ্ধ হয়ে তাঁর সমস্ত উম্মতের গুনাহের শাস্তি নিজেই ভোগ করেছেন। কাজেই তাঁর উম্মতের আর কোন ভয় থাকার কথা নয়। এই বিশ্বাস তাদেরকেও নির্ভীক করে গড়ে তুলল। আর তাদের ২য় বিশ্বাস ছিল যে, মানুষের জীবনের দু’টি অংশ।
১ম) দ্বীনদারী বা ধর্মীয় অংশ
২য়) দুনিয়াদারী অংশ।
তাদের এ বিশ্বাস এখনও রয়েছে যে মানুষ দুই মহাপ্রভুর অধীন, যথা ১) ধর্মীয় প্রধান ও ২) রাষ্ট্রীয় প্রধান। রাষ্ট্রপ্রধান শুধু রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলবেন, তিনি ধর্ম ব্যবস্থার উপরে কোন কথা বলতে পারবেন না। আর যিনি ধর্মপ্রধান তিনি ধর্মীয় ব্যাপারেই কথা বলতে পারবেন তিনি রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন না। এই আকীদার কারণে তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা হলো ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
তারা মনে করে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার জন্যে এটাই উত্তম পথ এবং এ পথেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে। তাদের বিশ্বাস যে, রাষ্ট্রের কোন আইন কানুনের ক্ষেত্রে ধর্মপ্রধান যদি বাধার সৃষ্টি করে তা যদি রাষ্ট্রপ্রধান মেনে নিতে না পারে তাহলে রাষ্ট্রপ্রধান ও ধর্মপ্রধানের মধ্যে সৃষ্টি হবে দ্বন্দ্ব। আর সে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়বে গোটা জাতির মধ্যে, ফলে শান্তি ব্যহত হবে চরমভাবে। কাজেই তারা তাদের আকীদা বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনের দুই অংশের জন্যে দুই মহা প্রভু ঠিক করে নিয়েছে এবং তাদের কাজের বা অধিকারের একটা সীমানা তাদের কোন প্রভুই অতিক্রম করতে পারবে না।
কিন্তু ইসলাম এই দুই জাতির কোন ধারণার সঙ্গেই একমত নয়। না ইহুদীদের সঙ্গে আর না খৃষ্টানদের সঙ্গে। মুসলিমদের ধারণা কর্মের জন্য এ দুনিয়া আর কর্মফল পরকালে। মুসলিমদের বিশ্বাস একজনের পাপের শাস্তি অপরে ভোগ করবে না। প্রভু আমাদের একাধিক নয়, তিনি একাই একমাত্র প্রভু। এই কথারই জোরাল স্বীকারোক্তি হচ্ছে কালিমা তাইয়্যিবায়।
মুসলিমদের বিশ্বাস যে, মানুষ যদি দুই প্রভুকে প্রভু হিসেবে মেনে নেয় তাহলে জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে দুই প্রভুর নির্দেশ যদি দুই প্রকার হয়ে যায় তাহলে একই সঙ্গে দুই প্রকার নির্দেশ মেনে চলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। যেমন এক প্রভু যদি বলেন রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলতে আর অন্য প্রভু যদি বলেন রাস্তার বাম পাশ দিয়ে চলতে তাহলে চলব কোন পাশ দিয়ে? যে পাশ দিয়েই চলি না কেন তাতে এক প্রভুর নির্দেশ অমান্য করা হবেই। এজন্যে মুসলিম কখনও দুই প্রভু মানে না। এটারই স্বীকারোক্তি রয়েছে কালিমা তাইয়্যিবার মধ্যে।
তাছাড়া যুক্তি হচ্ছে এই যে একই চাকর যেমন দুই মুনিবের চাকুরী একই সঙ্গে করতে পারে না এবং একজন স্ত্রী যেমন একই সঙ্গে দুজন স্বামীর স্ত্রী হতে পারে না। কারণ এখানে আনুগত্যের প্রশ্ন রয়েছে। ঠিক তেমনই কোন মানুষ একই সঙ্গে দুই মহাপ্রভুর বান্দা হতে পারে না। এই কথাগুলোই অত্যন্ত সহজ ভাষায় আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় মাত্র ২৪টি অক্ষরের তৈরী ৭টি শব্দ দ্বারা গঠিত কালিমা তাইয়্যিবার মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।
পরকালে তাদের জন্য ভয়ের কোন কারণ নেই এই বিশ্বাসই তাদেরকে বেপরোয়া করে গড়ে তুলল। আর পরকালের ভয় দূর হয়ে গেলে তারা হয়ে পড়ে শক্ত যালিম। কাজেই তারা যালিমও হয়ে পড়ল স্বাভাবিক নিয়মেই। আর এ জন্যই তাদের উপর নেমে এলো আল্লাহর গজব।
খৃষ্টানরা বিশ্বাস করত, যারাই ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আল্লাহর ছেলে ও শেষ রসূল হিসেবে মেনে নেবে তাদের জন্য পরকালে আর কোন ভয় নেই। কারণ - তাদের বিশ্বাস যে ঈসা (আলাইহিস সালাম) নিজে শলে বিদ্ধ হয়ে তাঁর সমস্ত উম্মতের গুনাহের শাস্তি নিজেই ভোগ করেছেন। কাজেই তাঁর উম্মতের আর কোন ভয় থাকার কথা নয়। এই বিশ্বাস তাদেরকেও নির্ভীক করে গড়ে তুলল। আর তাদের ২য় বিশ্বাস ছিল যে, মানুষের জীবনের দু’টি অংশ।
১ম) দ্বীনদারী বা ধর্মীয় অংশ
২য়) দুনিয়াদারী অংশ।
তাদের এ বিশ্বাস এখনও রয়েছে যে মানুষ দুই মহাপ্রভুর অধীন, যথা ১) ধর্মীয় প্রধান ও ২) রাষ্ট্রীয় প্রধান। রাষ্ট্রপ্রধান শুধু রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলবেন, তিনি ধর্ম ব্যবস্থার উপরে কোন কথা বলতে পারবেন না। আর যিনি ধর্মপ্রধান তিনি ধর্মীয় ব্যাপারেই কথা বলতে পারবেন তিনি রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন না। এই আকীদার কারণে তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থা হলো ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
তারা মনে করে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার জন্যে এটাই উত্তম পথ এবং এ পথেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে। তাদের বিশ্বাস যে, রাষ্ট্রের কোন আইন কানুনের ক্ষেত্রে ধর্মপ্রধান যদি বাধার সৃষ্টি করে তা যদি রাষ্ট্রপ্রধান মেনে নিতে না পারে তাহলে রাষ্ট্রপ্রধান ও ধর্মপ্রধানের মধ্যে সৃষ্টি হবে দ্বন্দ্ব। আর সে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়বে গোটা জাতির মধ্যে, ফলে শান্তি ব্যহত হবে চরমভাবে। কাজেই তারা তাদের আকীদা বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনের দুই অংশের জন্যে দুই মহা প্রভু ঠিক করে নিয়েছে এবং তাদের কাজের বা অধিকারের একটা সীমানা তাদের কোন প্রভুই অতিক্রম করতে পারবে না।
কিন্তু ইসলাম এই দুই জাতির কোন ধারণার সঙ্গেই একমত নয়। না ইহুদীদের সঙ্গে আর না খৃষ্টানদের সঙ্গে। মুসলিমদের ধারণা কর্মের জন্য এ দুনিয়া আর কর্মফল পরকালে। মুসলিমদের বিশ্বাস একজনের পাপের শাস্তি অপরে ভোগ করবে না। প্রভু আমাদের একাধিক নয়, তিনি একাই একমাত্র প্রভু। এই কথারই জোরাল স্বীকারোক্তি হচ্ছে কালিমা তাইয়্যিবায়।
মুসলিমদের বিশ্বাস যে, মানুষ যদি দুই প্রভুকে প্রভু হিসেবে মেনে নেয় তাহলে জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে দুই প্রভুর নির্দেশ যদি দুই প্রকার হয়ে যায় তাহলে একই সঙ্গে দুই প্রকার নির্দেশ মেনে চলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। যেমন এক প্রভু যদি বলেন রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলতে আর অন্য প্রভু যদি বলেন রাস্তার বাম পাশ দিয়ে চলতে তাহলে চলব কোন পাশ দিয়ে? যে পাশ দিয়েই চলি না কেন তাতে এক প্রভুর নির্দেশ অমান্য করা হবেই। এজন্যে মুসলিম কখনও দুই প্রভু মানে না। এটারই স্বীকারোক্তি রয়েছে কালিমা তাইয়্যিবার মধ্যে।
তাছাড়া যুক্তি হচ্ছে এই যে একই চাকর যেমন দুই মুনিবের চাকুরী একই সঙ্গে করতে পারে না এবং একজন স্ত্রী যেমন একই সঙ্গে দুজন স্বামীর স্ত্রী হতে পারে না। কারণ এখানে আনুগত্যের প্রশ্ন রয়েছে। ঠিক তেমনই কোন মানুষ একই সঙ্গে দুই মহাপ্রভুর বান্দা হতে পারে না। এই কথাগুলোই অত্যন্ত সহজ ভাষায় আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় মাত্র ২৪টি অক্ষরের তৈরী ৭টি শব্দ দ্বারা গঠিত কালিমা তাইয়্যিবার মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।