১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৯
ঈমানের পরীক্ষা
কুরআনে আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন : “আমি হক ও বাতিলের (সত্য ও মিথ্যার) মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী আয়াতসমূহ নাযিল করে দিয়েছি। আল্লাহ যাকে চান এ আয়াতের সাহায্যে তাকে সোজা পথ দেখিয়ে দেন। লোকেরা বলে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা (তাঁদের) আনুগত্য স্বীকার করছি; কিন্তু পরে তাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক আনুগত্য স্বীকার করেছে, কিন্তু পরে তাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক আনুগত্য করা ছেড়ে দেয়। এ শ্রেণীর লোকেরা ঈমানদার নয়। তাদের কাজকর্মের ব্যাপারে আল্লাহর আইন অনুসারে ফায়সালা করার জন্য-কর্মের ব্যাপারে আল্লাহর আইন অনুসারে ফায়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে ডাকা হয় তখন কিছু লোক অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। কিন্তু আল্লাহর আইনের ফায়সালা যদি তাদের মনের মত হয় তবে অবশ্য তা স্বীকার করে নেয়। তাদের মনের মধ্যে কি রোগ আছে? না তারা শুধু অকারণ সন্দেহের মধ্যে ডুবে রয়েছে? অথবা তাদের এ ভয় আছে যে, আল্লাহ এবং তাঁর রসূল তাদের হক নষ্ট করবে? কারণ যাই হোক, তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করছে। প্রত্যেক ঈমানদার লোকের নিয়ম এই যে, আল্লাহর আইন অনুসারে বিচার করার জন্য যখন তাদেরকে ডাকা হয় তখন তারা আমরা শুনেছি এবং তা অনুসরণ করি’ বলে মাথা নত করে দেয়। বাস্তবিক পক্ষে এ শ্রেণীর লোকেরাই মুক্তি ও উন্নতি লাভ করতে পারে। আর যারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম পালন করবে, আল্লাহকে ভয় করবে এবং তাঁর নাফরমানী হতে ফিরে থাকবে কেবল তারাই সফলকাম হবে এবং মুক্তি পাবে।” (সূরা আন নূর ২৪ : ৪৬-৫২)
এ আয়াতসমূহে ঈমানের যে পরিচয় দেয়া হয়েছে আমরা তা একটু বিশেষভাবে বুঝতে চেষ্টা করি। বস্তুত নিজেকে আল্লাহর কিতাব ও রসূলের হিদায়াতের সামনে সোপর্দ করে দেয়ার নামই হচ্ছে ঈমান। সেখান হতে যে হুকুম আসে তার সামনে মাথা নত করে দাও। এর বিরোধী কোনো কথা শুনবে না, না নিজের মনের কথা, না বংশ ও পরিবারের কথা আর না দুনিয়ার লোকদের কথা। যে ব্যক্তির মনের মধ্যে এ গুণ বর্তমান থাকবে প্রকৃতপক্ষে সেই হবে। মুমিন ও মুসলিম। আর যার মধ্যে এ গুণ থাকবে না তাকে মুনাফিক ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
এ আয়াতসমূহে ঈমানের যে পরিচয় দেয়া হয়েছে আমরা তা একটু বিশেষভাবে বুঝতে চেষ্টা করি। বস্তুত নিজেকে আল্লাহর কিতাব ও রসূলের হিদায়াতের সামনে সোপর্দ করে দেয়ার নামই হচ্ছে ঈমান। সেখান হতে যে হুকুম আসে তার সামনে মাথা নত করে দাও। এর বিরোধী কোনো কথা শুনবে না, না নিজের মনের কথা, না বংশ ও পরিবারের কথা আর না দুনিয়ার লোকদের কথা। যে ব্যক্তির মনের মধ্যে এ গুণ বর্তমান থাকবে প্রকৃতপক্ষে সেই হবে। মুমিন ও মুসলিম। আর যার মধ্যে এ গুণ থাকবে না তাকে মুনাফিক ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।