hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

৩. মানব জীবনে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা কী?

সরাসরি জ্ঞানের উৎস হলো পাঁচটি ইন্দ্রিয়। এ দ্বারা অতি সামান্য জ্ঞানই অর্জন করা যায়। শুধু এটুকু জ্ঞানের দ্বারা মানুষের জীবন চলে না। সামান্য কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মানুষকে বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেই চলতে হয়।

১. শৈশবে মা বলে দিয়েছেন যে, অমুক আমার বাবা। বিশ্বাস করেছি। এ বিষয়ে সরাসরি জ্ঞানের কোনো সুযোগ নেই।

২. বাংলা ভাষা শিখার জন্য অ, আ, ক, খ’তে বিশ্বাস করেই এ ভাষা শিখতে হয়েছে।

৩. অসুখ হলে ডাক্তারের উপর বিশ্বাস না করলে চিকিৎসা পাওয়া অসম্ভব।

৪. ফসল হবে- এ কথা বিশ্বাস না হলে কৃষক চাষাবাদই করতে পারবে না।

৫. বিচারকের মনে সাক্ষী-প্রমাণ নিয়ে আসামি দোষী বলে বিশ্বাস সৃষ্টি হলেই শাস্তি দেয়, বিশ্বাস না হলে বা সন্দেহ হলে শাস্তি দেয় না।

৬. যে কোনো সময় মৃত্যু আসতে পারে। তবু মানুষ আরও কিছুদিন হয়ত বেঁচে থাকবে বিশ্বাস করে বলেই জীবন সচল আছে।

৭. মানুষে মানুষে সম্পর্ক বিশ্বাসের উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, ভাই-ভাইয়ে সম্পর্ক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্পর্ক সবই বিশ্বাসনির্ভর। হিসাব করলে দেখা যাবে যে, বিশ্বাস ছাড়া একদিনও মানুষ চলতে পারে না। বিশ্বাসই গোটা জীবনকে ঘিরে রেখেছে। জ্ঞান চর্চা বিশ্বাস দিয়েই শুরু হয় সকল জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই নিকট রয়েছে। প্রত্যেক বিষয়ে জ্ঞানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু আল্লাহই জানেন। তিনিই শুরু, তিনিই শেষ।

যে কোনো জ্ঞান চর্চা করতে হলে প্রথমেই কতক বিষয়কে বিশ্বাস করতে হয়। A, B, C, D যেভাবে লেখা আছে এগুলোকে বিনা যুক্তিতে মেনে নিয়েই ভাষা শেখা শুরু করতে হয়। কেউ যদি তর্ক করে যে, এভাবে কেন, অন্য ভাবে লিখলে দোষ কী? তাহলে তার ভাষা শেখা শুরু করাই সম্ভব হবে না। জ্যামিতি পড়তে হলে প্রথমেই কতক Axiom বা স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে বিশ্বাস করতে হয়। যেমন বিশ্বাস করতে হয় যে, বিন্দুর (Point) দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা কোনোটাই নেই; তবু বিন্দুর অস্তিত্ব আছে। যদিও পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী এটা একেবারেই অযৌক্তিক। তথাপি এটা বিশ্বাস না করলে জ্যামিতি শেখ শুরুই করা যায় না।

বিজ্ঞান চর্চা প্রথমে হাইপোথেসিস (কল্পনা, অনুমান) দিয়েই শুরু হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কারক নিউটন সম্পর্কে জানা যায় যে, ফলের বাগানে বসা অবস্থায় তাঁর সামনে গাছ থেকে একটা আপেল নিচে পড়লো। এর আগেতো অনেকবার তিনি আপেল পড়তে দেখেছেন; কিন্তু সেদিন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগলো যে, উপরেও শূন্য নিচেও শূন্য। তাহলে ফলটি উপরের দিকে না গিয়ে নিচের দিকে নামল কেন? তাঁর মনে এ দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, পৃথিবীর মধ্যে এমন কোনো শক্তি আছে, যা বস্তুকে আকর্ষণ করে। এভাবে বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সূচনা হয়।

জ্ঞানের ময়দানে কোনো বিষয়েই জ্ঞানের শুরু বা শেষ মানুষের আয়ত্তে নেই। প্রথমে বিশ্বাস দিয়ে জ্ঞান চর্চা শুরু হয় এবং একটি পর্যায় পর্যন্ত গিয়ে চর্চা থেমে যায়। জ্ঞানের শেষ পর্যন্ত পৌছার সাধ্য মানুষের নেই।