hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

প্রথম অংশের ব্যাখ্যা

এ কালিমার প্রথম অংশকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগ হচ্ছে নেতিবাচক, অর্থাৎ কোন মাবুদ নেই- প্রভু বা সৃষ্টিকর্তাও কেউ নেই। আমি কাউকে ভয় করি না, কারও নিকট নতি স্বীকার করি না, কারও আইন মানি, কারও দয়া-অনুগ্রহ বা সাহায্য আমি চাই না, কাউকেও উচ্চতর ক্ষমতার অধিকারী স্বীকার করি না। কারও ইবাদত-বন্দেগী করি না। এসব দিক দিয়ে যে কেউ আমার উপর কত ও প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে, আমি তাকেই অস্বীকার করি। সকলের প্রতিই আমি বিদ্রোহী। কারও সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আর দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে ইতিবাচক; অর্থাৎ এসব দিক দিয়ে একমাত্র আল্লাহকেই আমি স্বীকার করি ও মানি।

لگه الله منگنه لا إله إلا هو خالق كل شي فابور وهو على كل شي وكيل

“তিনিই তোমাদের আল্লাহ (যাঁর মধ্যে উল্লিখিতরূপ গুণাবলী বর্তমান) তিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই। তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা; অতএব কেবল তাঁরই দাসত্ব কর বন্দেগী কর। তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের ব্যাপারেই দায়িত্বশীল।” (সূরা আনআম ৬ : ১০২)

কুরআনের এ আয়াত দুটিতে কালিমা তাইয়্যিবার অর্থ অত্যন্ত পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। এ আয়াত দু’টির সারাংশকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

প্রথমত:

আল্লাহর একত্ব। এক আল্লাহকে স্বীকার করায় মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয় জীবনেরই সুখ-শান্তি লাভ হওয়া সম্ভব। একাধিক প্রভু স্বীকার করায় মানুষের জীবন নানাবিধ দুঃখ ও অশান্তিতে ধবংস হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

দ্বিতীয়ত :

মুশরিকগণ আল্লাহকে ছেড়ে যে সব দেব-দেবী ও মানুষ-প্রভুর পূজা, উপাসনা ও দাসত্ব করে, তা সর্বতোভাবে অমূলক ও ভিত্তিহীন; তা কতকগুলি নামের সমষ্টি মাত্র। আসলে এদের কোনই অস্তিত্ব নেই আর সেসব নামও আল্লাহ রাখেননি- মুশরিকগণ নিজেরাই তা রেখেছে। মানুষের ক্ষতি বা উপকার করার একবিন্দু ক্ষমতা এদের নেই। আর সেই ক্ষমতা না থাকলে কাকেও ইবাদত বা বন্দেগীর যোগ্য বলে মেনে নেয়া যায় না।

তৃতীয়ত :

মানুষের কর্মজীবনের জন্য আইন-বিধান রচনা করা কোন কিছুর আদেশ করা ও নিষেধ করার ক্ষমতা এবং অধিকার এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও নেই। যারা এ আল্লাহকে স্বীকার করবে, তারা সেই এক আল্লাহর দেয়া আইন ও বিধান ছাড়া আর কিছুই মানতে পারবে না। তারা নিজেদের ব্যক্তি জীবনে, সমাজে ও রাষ্ট্রে এবং তাদের ধন-সম্পদে ভোগ-ব্যবহার ও ব্যয়-বন্টনে কেবলমাত্র আল্লাহর দেয়া বিধি-বিধানই মেনে চলতে বাধ্য হবে। কেননা আল্লাহই সার্বভৌমত্ব তথা সর্বোচ্চ ক্ষমতার নিরংকুশ মালিক। এটা অন্য কাকেও দেয়া যেতে পারে না।

চতুর্থত:

আল্লাহই সকলেরই মা'বুদ; মানুষ কেবল তাঁরই বান্দা। মানুষ এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও অধীনতা ও আনুগত্য স্বীকার করতে পারে না। অন্য কারও পূজা-উপাসনাও (ইবাদত-বন্দেগী) করতে পারে না।

পঞ্চমত:

এবং শেষ কথা এই যে, উল্লিখিত চারটি বুনিয়াদী আকীদার সমন্বয়ে মানুষের জন্য আল্লাহর নিকট হতে যে জীবন বিধান রচনা করে দেয়া হয়েছে। তাই একমাত্র অক্ষয় ও মজবুত ব্যবস্থা। এটা ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বা নীতি কিংবা আদর্শ অথবা জীবন বিধান মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য ও চিরস্থায়ী হতে পারে না - তা শান্তি ও সুখেরও ধর্ম হতে পারে না। এর কোন একটি কথাও যদি কেউ বদলাতে চেষ্টা করে, তবে সে এ ধর্মের প্রকাশ্য শত্র। বলা বাহুল্য, সেই শক্তিশালি ধর্ম হচ্ছে একমাত্র ইসলাম।

وما أرسلنا من قبلك من رسول إلا نوحي إليه أنه لا إله إلا أنا فاعبدون

“হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে যত নবীই আমি পাঠিয়েছি, তাঁদের সকলেরই প্রতি ওহী যোগে আমি এ আদেশ করেছি যে, আমি ছাড়া আর কেউই ‘ইলাহ' বা মাবুদ ও প্রভু নেই। অতএব তোমরা সকলে কেবল আমারই দাসত্ব ও বন্দেগী কবুল কর।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ২৫)