hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৯

কবীরা গুনাহ কী?

ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, কবীরা গুনাহ হল ও যে সব গুনাহের কারণে দুনিয়াতে আল্লাহ কর্তৃক শাস্তির বিধান আছে এবং আখিরাতে শাস্তির ধমক দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যে সব গুনাহের কারণে কুরআন ও হাদীসে ঈমান চলে যাওয়ার হুমকি বা অভিশাপ ইত্যাদি এসেছে তাকেও কবীরা গুনাহ বলে।

“যে সকল বড় গুনাহ সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সে সব বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পার, তবে আমি তোমাদের এটি বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দিব এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা ৪: ৩১)

উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ যারা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে তাদেরকে দয়া ও অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন, কারণ ছগীরা গুনাহ বিভিন্ন নেক আমল যেমন- সলাত, সিয়াম, জুমু'আ, রমাদান ইত্যাদির মাধ্যমে মাফ হয়ে যাবে।

রসুল (ﷺ) বলেন : “পাঁচ ওয়াক্ত সলাত, এক জুমুআ হতে অন্য জুমু'আ এবং এক রমাদান হতে অন্য রমাদান-এর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করিয়ে দেয়, যদি বড় গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়।” (সহীহ মুসলিম)

উল্লেখিত হাদীসের দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, কবীরা গুনাহ হতে বেঁচে থাকা অতীব জরুরী। যদিও বিশেষভাবে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার ফলে কোন কোন কবীরা গুনাহ মাপ করানো যেতে পারে। আর একই গুনাহ বার বার করলে তা ছগীরা থাকে না, কবীরা গুনাহ হয়ে যায়। অতএব কবীরা গুনাহ হতে বেঁচে থাকতে হলে তা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

হুযাইফা ইবনুল ইয়ামন (রা.) বলেন - লোকেরা রসূল (ﷺ) -কে ভাল ভাল বিষয়গুলি জিজ্ঞাসা করত এবং আমি খারাপ বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এজন্য যে, যাতে আমাকে খারাপ বিষয়গুলো স্পর্শ করতে না পারে। এসব কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জানা থাকলে হয়ত এ গুনাহ হতে বেঁচে থাকাও সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।