hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২

ইসলামে জ্ঞান ও কাজের গুরুত্ব

মুসলিমকে কাফির হতে পৃথক করা যায় মাত্র দুটি জিনিসের ভিত্তিতে : প্রথম, ইলম বা জ্ঞান; দ্বিতীয়, আমল বা কাজ। অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলিমকে প্রথমেই জানতে হবে যে, তার প্রকৃত মালিক কে? কী তাঁর আদেশ ও নিষেধ? তাঁর ইচ্ছেমতো চলার উপায় কী? কিসে তিনি সন্তুষ্ট হন আর কিসে তিনি অসন্তুষ্ট হন। এসব বিস্তৃতভাবে জেনে নেয়ার পর নিজেকে প্রকৃত মালিকের একান্ত অনুগত বানিয়ে দেবে, তাঁর ইচ্ছামত চলবে, নিজের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা ত্যাগ করবে। তার মন যদি ‘মালিকের ইচ্ছার বিপরীত কোনো বস্তুর কামনা করে তবে সে নিজের মনের কথা না শুনে মালিকের কথা শুনবে। কোনো কাজ যদি নিজের কাছে ভালো মনে হয়, কিন্তু মালিক সে কাজটিকে ভালো না বলেন, তবে তাকে মন্দই মনে করবে। আবার কোনো কাজ যদি নিজের মনে খুব মন্দ বলে ধারণা হয়, কিন্তু মালিক সে কাজটিকে ভালো মনে করে এবং কোনো কাজ যদি নিজের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে হয় অথচ, মালিক যদি তা করার আদেশ দেন, তবে তার ও মালের যতই ক্ষতি হোক না কেন, তা সে অবশ্যই করবে। আবার কোন কাজকে যদি নিজের জন্য লাভজনক মনে করে, আর ‘মালিক’ তা করতে নিষেধ করেন তবে তাতে দুনিয়ার সমস্ত ধন-সম্পত্তি লাভ করতে পারলেও তা সে কখনই করবে না। ঠিক এ ইলম ও এরূপ আমলের জন্যই মুসলিম আল্লাহর প্রিয় বান্দা। তার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং আল্লাহ তাকে সম্মান দান করেন। কিন্তু উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে কাফির কিছুই জানে না এবং এ জ্ঞান না থাকার দরুনই তার কার্যকলাপও তদনুরূপ হয় না এ জন্য যে, সে আল্লাহ সম্বন্ধে একেবারে অজ্ঞ এবং তাঁর অবাধ্য বান্দা। ফলতঃ সে আল্লাহর অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত হয়।

যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, অথচ কাফিরের মতোই জাহিল বা অজ্ঞ এবং আল্লাহর অবাধ্য এমতাবস্থায় কেবল না, পোশাক ও খাবার-দাবারের পার্থক্যের কারণে সে কাফির অপেক্ষা কোনোভাবেই শ্রেষ্ঠ হতে পারে না, আর কোনো কারণেই সে ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর রহমতের হকদার হতে পারে।