১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩
ইসলাম কোনো জাতি, বংশ বা সম্প্রদায়ের নাম নয়
ইসলাম কোনো জাতি, বংশ বা সম্প্রদায়ের নাম নয়। কাজেই বাবা হতে পুত্র এবং পুত্র হতে পৌত্র আপনা-আপনিই তা লাভ করতে পারে না। ব্রাক্ষ্মণের পুত্র মূর্খ এবং চরিত্রহীন হলেও কেবলমাত্র ব্রাক্ষ্মণের পুত্র বলেই সে ব্রাক্ষ্মণের মর্যাদা পেয়ে থাকে এবং উচ্চ বংশ বলে পরিগণিত হয়। আর চামারের পুত্র জ্ঞানী ও গুণী হয়েও নীচ ও হীন থেকে যায়। কারণ সে চামারের মত নীচ জাতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু ইসলামে এসব বংশের মর্যাদার বিন্দুমাত্র স্থান নেই।
ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) একজন মূর্তি-পূজারীর ঘরে জন্ম লাভ করেছিলেন; কিন্তু তিনি আল্লাহকে চিনতে পেরে তাঁর আদেশ পালন করলেন; এ জন্য আল্লাহ তাঁকে সমস্ত জগতের নেতা বা ইমাম করে দিয়েছিলেন। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র একজন নবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিল; কিন্তু সে আলাহকে চিনতে পারল না বলে তার অবাধ্য হয়ে গেল। এজন্য তার। বংশমর্যাদার প্রতি ক্ৰক্ষেপ করা হলো না। উপরন্তু যে শাস্তি দেয়া হলো, সমস্ত দুনিয়া তা হতে শিক্ষা লাভ করতে পারে। অতএব বুঝে গেল, আল্লাহর কাছে। মানুষে মানুষে যা কিছু পার্থক্য হয়ে থাকে, তা কেবল ইলম ও আমলের জন্য মাত্র। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর অনুগ্রহ কেবল তারাই পেতে পারে, যারা তাঁকে তাঁর প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী চিনে এবং তাঁর অনুসরণ করে। কিন্তু যাদের মধ্যে এ গুণ নেই, তাদের নাম আবদুল্লাহই হোক, আর আবদুর রহমান হোক, দীননাথই হোক, আর ডেভিড জনই হোক, আল্লাহর কাছে এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই -- এরা কেউই আল্লাহর অনুগ্রহ পাবার অধিকার পেতে পারে না।
মুসলিমগণ নিজেদের মুসলিম বলে মনে করে এবং মুসলিমের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করে। কিন্তু একটু চোখ খুলে চেয়ে দেখি, আল্লাহর অনুগ্রহ কি তাদের উপর সত্যই নাযিল হচ্ছে? পরকালের কথা পরের জন্যই রইল, এই দুনিয়ায় মুসলিমদের যে দুরাবস্থা হচ্ছে তা একবার খেয়াল করে দেখা আবশ্যক।
ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) একজন মূর্তি-পূজারীর ঘরে জন্ম লাভ করেছিলেন; কিন্তু তিনি আল্লাহকে চিনতে পেরে তাঁর আদেশ পালন করলেন; এ জন্য আল্লাহ তাঁকে সমস্ত জগতের নেতা বা ইমাম করে দিয়েছিলেন। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র একজন নবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিল; কিন্তু সে আলাহকে চিনতে পারল না বলে তার অবাধ্য হয়ে গেল। এজন্য তার। বংশমর্যাদার প্রতি ক্ৰক্ষেপ করা হলো না। উপরন্তু যে শাস্তি দেয়া হলো, সমস্ত দুনিয়া তা হতে শিক্ষা লাভ করতে পারে। অতএব বুঝে গেল, আল্লাহর কাছে। মানুষে মানুষে যা কিছু পার্থক্য হয়ে থাকে, তা কেবল ইলম ও আমলের জন্য মাত্র। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর অনুগ্রহ কেবল তারাই পেতে পারে, যারা তাঁকে তাঁর প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী চিনে এবং তাঁর অনুসরণ করে। কিন্তু যাদের মধ্যে এ গুণ নেই, তাদের নাম আবদুল্লাহই হোক, আর আবদুর রহমান হোক, দীননাথই হোক, আর ডেভিড জনই হোক, আল্লাহর কাছে এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই -- এরা কেউই আল্লাহর অনুগ্রহ পাবার অধিকার পেতে পারে না।
মুসলিমগণ নিজেদের মুসলিম বলে মনে করে এবং মুসলিমের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করে। কিন্তু একটু চোখ খুলে চেয়ে দেখি, আল্লাহর অনুগ্রহ কি তাদের উপর সত্যই নাযিল হচ্ছে? পরকালের কথা পরের জন্যই রইল, এই দুনিয়ায় মুসলিমদের যে দুরাবস্থা হচ্ছে তা একবার খেয়াল করে দেখা আবশ্যক।