hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

দ্বিতীয় অংশের ব্যাখ্যা

কালিমা তাইয়্যিবার দ্বিতীয় বাক্য অর্থাৎ মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’। এ অংশের সহজ অর্থ হচ্ছে : মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল'। তাওহীদের যে ব্যাখ্যা আমরা উপরে পড়েছি, তা স্বীকার করে নিলে জীবনে প্রত্যেকটি কাজ এবং প্রত্যেকটি পদে পদে আল্লাহর হিদায়াত ও আইন অনুযায়ী চলা আমাদের একান্ত কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। শুধু এটাই নয়, আল্লাহর আইন ছাড়া আমরা আর কিছুই মানতে ও অনুসরণ করতে পারি না এবং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই আমাদের সারা জীবন কাজ করে যেতে হয়।

ইবাদত-বন্দেগী, রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনা, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব, শিক্ষা-দীক্ষা, লেনদেন ও বেচাকেনা, ব্যবসায়-বাণিজ্যে, যুদ্ধ-সন্ধি, বন্ধু-শত্রতা- মোটকথা ব্যক্তি জীবন ও সামাজিক জীবনের প্রত্যেকটি কাজই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আইন অনুযায়ী সমাধা করা একান্তই আবশ্যক হয়ে পড়ে। কিন্তু এখন মুশকিল এটা দাঁড়ায় যে, আমরা আল্লাহর আইন কোথায় পাব এবং কেমন করে জানব যে, আল্লাহ কোন কাজে সন্তুষ্ট হন আর কোন কাজে অসন্তুষ্ট হন? জীবনযাপনের কোন পন্থা এবং ব্যবস্থা আল্লাহ পছন্দ করেন আর কোনটি করেন অপছন্দ, তাই বা আমরা বুঝতে পারব কিরূপে? আর এটা যতক্ষণ পর্যন্ত জানতে ও বুঝতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যতই তওহীদ বিশ্বাসী হই না কেন, সে তওহীদ অনুযায়ী কাজ করতে আমরা কোনদিনই পারব না।

এইখানে আরও একটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় ও মহামূল্য নীতিকথা বলার লোক দুনিয়ায় কোন দিনই কম পাওয়া যায় না। কিন্তু সে নীতি নিজে অনুসরণ করে তা বাস্তবায়িত করার পন্থা দেখিয়ে দেয়ার লোক খুব বেশী কোনদিনই পাওয়া যায়নি। তাই কালিমার প্রথম অংশের প্রতি বিশ্বাসী লোকদের জন্য নেতা বা পথ-প্রদর্শক হিসেবে একান্ত প্রয়োজন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি নিজে পুতঃপবিত্র চরিত্রের অধিকারী হয়ে এবং আল্লাহর বিধান নিজে পালন করে লোকদেরকে তা অনুসরণ করার বাস্তব পন্থা দেখিয়ে দিবেন। এরূপ নেতৃত্ব না পেলে মানুষের পক্ষে আল্লাহর বিধান পালন করা সম্ভব নয় আর তা না পেলে কোনদিনই আমরা শান্তি ও কল্যাণ লাভ করতে সমর্থ হবো না। কালিমা তাইয়্যিবার প্রতি আমাদের ঈমানও আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত হতে পারবে। ফলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে আসবে। এটা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার।