১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
চতুর্থ কারণ : রসুলকে অস্বীকার করা বা তাদের সম্বন্ধে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করা
১) আমাদের রসূল (ﷺ) -এর রিসালাতকে অস্বীকার করা। কারণ, মুহাম্মাদ (ﷺ) যে আল্লাহর রসূল এই সাক্ষ্য দেয়া ইসলামের রোকনের এক রোকন।
২) রসূল (ﷺ) সম্পর্কে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করা বা সত্যবাদিতা সম্পর্কে বা আমানত বা পবিত্রতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা। রসূল (ﷺ) -কে গালি দেয়া, অথবা কোন ঠাট্টা বিদ্রুপ কর, অথবা তার অবমূল্যায়ন করা অথবা তার কার্যসমূহ সম্পর্কে কোন আজেবাজে কথা বলা।
৩) রসূল (ﷺ) -এর কোন সহীহ হাদীস সম্পর্কে খারাপ কথা বলা বা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা অথবা তিনি যদি কোন সত্য খবর দিয়ে থাকেন তাকে অস্বীকার করা। যেমন : দাজ্জালের প্রকাশ পাওয়া অথবা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আসমান হতে অবতীর্ণ হয়ে তার শরীয়ত মত বিচার করবে একথা অস্বীকার করা। এ জাতীয় আরো অনেক কথা যা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত তা অস্বীকার করা।
৪) অথবা কোন একজন রসূলকে অস্বীকার করা যাদের আল্লাহ প্রেরণ করেছিলেন আমাদের রসূল (ﷺ) -এর পূর্বে অথবা তাদের সময়ে তাদের সমপ্রদায়ের সাথে যে ঘটনা ঘটেছিল যা আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন বা রসূল (ﷺ) সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করা। ৫) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পরে মিথ্যা নবুয়তের দাবী করে। যেমন - মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী করেছে।
৬) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন সব গুণে বিভূষিত করে যা আল্লাহ করেন নি। যেমন : রসূলুল্লাহ আল্লাহর নূরে সৃষ্টি।
৭) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন জিনিস পেতে ইচ্ছা করে যা দেবার মালিক আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহ নয়। যেমন : সাহায্য চাওয়া, বিজয়ের সাহায্য চাওয়া, রোগমুক্তি অথবা এই জাতীয় কার্যসমূহ, যা আজ মুসলিমদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আল কুরআনের দৃষ্টিতে এই জাতীয় কথাগুলো শিরক দ্বারা পূর্ণ। কারণ আল্লাহ বলেন : “সাহায্য কখনো আসতে পারে না আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ হতে।” (সূরা আনফাল ৮ : ১০)
আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও এর বিরোধিতা করে বলেন,
“যদি কিছু চাও আল্লাহর নিকট চাও। আর যদি সাহায্য চাও তার নিকটেই চাও।” (তিরমিযী)
৮) তবে আমরা রসূলগণের কোন মোজেযাকে অস্বীকার করি না। তবে যেটা আমরা অস্বীকার করি তা হল তাদেরকে আল্লাহর শরীক স্থির করা। আল্লাহর নিকট যেভাবে দু’আ করি তাদের নিকট ও একইভাবে দু'আ করা কিংবা তাদের জন্য ওরস করা অথবা তাদের জন্য নজর নেয়াজ মানত পেশ করা। এমনকি তাদের কারো কারো মাজারে টাকা পয়সা দেয়া।
৯) যেমন অনেকে বলেন যে, আল্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কারণে দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। তারা দলীল হিসাবে এই বানোয়াট মিথ্যা হাদীসে কুদসী পেশ করে। তা হল : “যদি না তুমি হতে তবে দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না।' ইবনে জাওযী (রহ.) বলেন এটা মাউজু বা বানোয়াট হাদীস। উপরোক্ত আকীদা-বিশ্বাস আল্লাহর নিম্মোক্ত কথার খেলাফ। আল্লাহ বলেন :
“নিশ্চয় আমি জ্বীন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।” (সূরা যারিয়াত ৫১ : ৫৬)। এমনকি নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে পর্যন্ত তিনি তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কারণ তার প্রতিপালক তাকে বলেন :
واغب نيك كى يأتيك اليقين
“আপনি আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন যতক্ষণ না মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়।” (সূরা হিজর ১৫: ৯৯)।
আর আল্লাহ সমস্ত রসূলদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের দিকে। দাওয়াত দেয়ার জন্য। আল্লাহ বলেন : “আর নিশ্চয় আমি প্রত্যেক উম্মতদের নিকট এই বলে রসূল প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতদের হতে দূরে থাক। (সূরা নাহল ১৬ : ৩৬)
“তাগুত হচ্ছে তারা, যাদের ইবাদত করা হয় আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তারা তাতে রাজী খুশী থাকে।
এই কথা বলা যে, আল্লাহ সর্বপ্রথম রসূল (ﷺ) -এর নূরকে সৃষ্টি করেন। আর তার নূর হতেই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা হয়। এই আকীদাও বাতিল আকীদা। এর স্বপক্ষে কোন দলীল নেই। সত্যিকার অর্থে মুহাম্মাদ (ﷺ) বাবা ও মা হতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার আব্বা ছিলেন আব্দুল্লাহ আর ছিলেন আমিনা বিনতে ওহাব। অন্যরা যেভাবে জন্মগ্রহণ করেন তিনিও সেভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব।
কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলিল হতে এটা প্রমাণিত হয় যে, মানুষদের মধ্যে প্রথম সৃষ্টি হলেন আদম (আলাইহিস সালাম) আর পদার্থের মধ্যে কলম। এগুলো ঐ কথার বিরোধিতা করে যে, আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি হল মুহাম্মাদ (ﷺ)। কারণ, এই কথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিরোধী।
আরও বাতিল আকীদার মধ্যে হচ্ছে আল্লাহ সমস্ত জিনিস তার (নবীর) নূর হতে সৃষ্টি করেছেন, যা বহু সুফীই বলে থাকে। এই কথার প্রমাণে কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোন দলীল নেই।
২) রসূল (ﷺ) সম্পর্কে কোন খারাপ ধারণা পোষণ করা বা সত্যবাদিতা সম্পর্কে বা আমানত বা পবিত্রতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা। রসূল (ﷺ) -কে গালি দেয়া, অথবা কোন ঠাট্টা বিদ্রুপ কর, অথবা তার অবমূল্যায়ন করা অথবা তার কার্যসমূহ সম্পর্কে কোন আজেবাজে কথা বলা।
৩) রসূল (ﷺ) -এর কোন সহীহ হাদীস সম্পর্কে খারাপ কথা বলা বা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা অথবা তিনি যদি কোন সত্য খবর দিয়ে থাকেন তাকে অস্বীকার করা। যেমন : দাজ্জালের প্রকাশ পাওয়া অথবা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আসমান হতে অবতীর্ণ হয়ে তার শরীয়ত মত বিচার করবে একথা অস্বীকার করা। এ জাতীয় আরো অনেক কথা যা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত তা অস্বীকার করা।
৪) অথবা কোন একজন রসূলকে অস্বীকার করা যাদের আল্লাহ প্রেরণ করেছিলেন আমাদের রসূল (ﷺ) -এর পূর্বে অথবা তাদের সময়ে তাদের সমপ্রদায়ের সাথে যে ঘটনা ঘটেছিল যা আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন বা রসূল (ﷺ) সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করা। ৫) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পরে মিথ্যা নবুয়তের দাবী করে। যেমন - মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী করেছে।
৬) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন সব গুণে বিভূষিত করে যা আল্লাহ করেন নি। যেমন : রসূলুল্লাহ আল্লাহর নূরে সৃষ্টি।
৭) যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন জিনিস পেতে ইচ্ছা করে যা দেবার মালিক আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহ নয়। যেমন : সাহায্য চাওয়া, বিজয়ের সাহায্য চাওয়া, রোগমুক্তি অথবা এই জাতীয় কার্যসমূহ, যা আজ মুসলিমদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আল কুরআনের দৃষ্টিতে এই জাতীয় কথাগুলো শিরক দ্বারা পূর্ণ। কারণ আল্লাহ বলেন : “সাহায্য কখনো আসতে পারে না আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ হতে।” (সূরা আনফাল ৮ : ১০)
আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও এর বিরোধিতা করে বলেন,
“যদি কিছু চাও আল্লাহর নিকট চাও। আর যদি সাহায্য চাও তার নিকটেই চাও।” (তিরমিযী)
৮) তবে আমরা রসূলগণের কোন মোজেযাকে অস্বীকার করি না। তবে যেটা আমরা অস্বীকার করি তা হল তাদেরকে আল্লাহর শরীক স্থির করা। আল্লাহর নিকট যেভাবে দু’আ করি তাদের নিকট ও একইভাবে দু'আ করা কিংবা তাদের জন্য ওরস করা অথবা তাদের জন্য নজর নেয়াজ মানত পেশ করা। এমনকি তাদের কারো কারো মাজারে টাকা পয়সা দেয়া।
৯) যেমন অনেকে বলেন যে, আল্লাহ রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কারণে দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। তারা দলীল হিসাবে এই বানোয়াট মিথ্যা হাদীসে কুদসী পেশ করে। তা হল : “যদি না তুমি হতে তবে দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না।' ইবনে জাওযী (রহ.) বলেন এটা মাউজু বা বানোয়াট হাদীস। উপরোক্ত আকীদা-বিশ্বাস আল্লাহর নিম্মোক্ত কথার খেলাফ। আল্লাহ বলেন :
“নিশ্চয় আমি জ্বীন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য।” (সূরা যারিয়াত ৫১ : ৫৬)। এমনকি নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) -কে পর্যন্ত তিনি তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কারণ তার প্রতিপালক তাকে বলেন :
واغب نيك كى يأتيك اليقين
“আপনি আপনার রবের ইবাদত করতে থাকুন যতক্ষণ না মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়।” (সূরা হিজর ১৫: ৯৯)।
আর আল্লাহ সমস্ত রসূলদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের দিকে। দাওয়াত দেয়ার জন্য। আল্লাহ বলেন : “আর নিশ্চয় আমি প্রত্যেক উম্মতদের নিকট এই বলে রসূল প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতদের হতে দূরে থাক। (সূরা নাহল ১৬ : ৩৬)
“তাগুত হচ্ছে তারা, যাদের ইবাদত করা হয় আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তারা তাতে রাজী খুশী থাকে।
এই কথা বলা যে, আল্লাহ সর্বপ্রথম রসূল (ﷺ) -এর নূরকে সৃষ্টি করেন। আর তার নূর হতেই সমস্ত কিছু সৃষ্টি করা হয়। এই আকীদাও বাতিল আকীদা। এর স্বপক্ষে কোন দলীল নেই। সত্যিকার অর্থে মুহাম্মাদ (ﷺ) বাবা ও মা হতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার আব্বা ছিলেন আব্দুল্লাহ আর ছিলেন আমিনা বিনতে ওহাব। অন্যরা যেভাবে জন্মগ্রহণ করেন তিনিও সেভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব।
কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলিল হতে এটা প্রমাণিত হয় যে, মানুষদের মধ্যে প্রথম সৃষ্টি হলেন আদম (আলাইহিস সালাম) আর পদার্থের মধ্যে কলম। এগুলো ঐ কথার বিরোধিতা করে যে, আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি হল মুহাম্মাদ (ﷺ)। কারণ, এই কথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিরোধী।
আরও বাতিল আকীদার মধ্যে হচ্ছে আল্লাহ সমস্ত জিনিস তার (নবীর) নূর হতে সৃষ্টি করেছেন, যা বহু সুফীই বলে থাকে। এই কথার প্রমাণে কুরআন ও সহীহ হাদীসের কোন দলীল নেই।