১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৩
১. ঈমান মানে কী?
ঈমান আরবী শব্দ। এর সহজ অর্থ হলো বিশ্বাস। বিশ্বাস বলতে কী বুঝায়? এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। ধরি এক পরিচিত লোক এসে আমাকে বললেন, ‘ভাই, আমাকে এক হাজার টাকা ধার দিন। আমি এক মাস পরই ফেরত দিয়ে যাব। এক মাস পর টাকাটা ফেরত দেবে কি না সে বিষয়ে আমার সরাসরি জানা নেই। আমি তাকে কী বলবো? তাকে তো আর একথা বলা যায় না যে, এক মাস পর ফেরত দেন কি না আগে দেখে নেই। তাহলে তাকে কী বলব? আমার কাছে লোকটি ধার চেয়েছে, হয় তাকে ধার দেব, আর না হয় ধার দিতে অস্বীকার করব। ধার দেব কি দেব না এ বিষয়ে কিভাবে আমি সিদ্ধান্ত নেব? টাকা সত্যি ফেরত দেবে কি না সে বিষয়ে ডাইরেক্ট নলেজ বা প্রত্যক্ষ জ্ঞান তো নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি তাকে যতটুকু জানি তাতে আমার মনে এ বিশ্বাস হয় কি না যে, লোকটি ওয়াদা পালন করবে। যদি তার উপর আমার বিশ্বাস হয় যে, এ লোক টাকা ফেরত দেবে তাহলে আমি তাকে ধার দেব। মোটকথা, ধার দেয়ার এই সিদ্ধান্তটার ভিত্তিই হলো বিশ্বাস।
যদি তার অতীত আচরণ থেকে তার উপর আমার এ বিশ্বাস না হয় যে, টাকাটা ফেরত নেবে, তাহলে আমি ধার দেব না। আমি যে তাকে অবিশ্বাস করলাম, তাও পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে। তাকে ধার দিতে অস্বীকার করলে সে নিশ্চয়ই বলবে, আমাকে বিশ্বাস করেন না? আমি যে তাকে অবিশ্বাস করলাম, এটাও কিন্তু বিশ্বাস। অর্থাৎ আমার বিশ্বাস যে, সে টাকা ফেরত দেবে না। তাকে আমি টাকা দিলামই না। কী করে জানলাম যে, সে টাকা ফেরত দেবে না? পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমেই আমি এ বিশ্বাসে পোঁছেছি।
তাহলে বিশ্বাসের সংজ্ঞা কী দাঁড়াল? যে বিষয়ে সরাসরি জ্ঞান নেই, অথচ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে; তখন পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া উপায় নেই; এভাবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারই নাম বিশ্বাস।
একটি বড় উদাহরণ
মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতে হবে কি না এ বিষয়ে সরাসরি জ্ঞান নেই। কিন্তু এ বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকারও উপায় নেই। যদি মৃত্যুর পর আরও একটি জীবন থাকে তাহলে আমাকে সে হিসেব মনে রেখেই দুনিয়ায় চলতে হবে। যদি না থাকে তাহলে বেপরোয়া চলা সহজ মনে হতে পারে। তাই এ বিষয়ে চুপ থাকার উপায় নেই। হয় আছে মনে করতে হবে আর না হয় নেই বলে ধারণা করতে হবে এবং স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।
বিশ্বাসের তিন অবস্থা
যে দুটো উদাহরণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এর ভিত্তিতে বিশ্বাসের তিনটি অবস্থা হলো :
এক) ইতিবাচক বিশ্বাস:
ক. আমার বিশ্বাস হয় যে, লোকটিকে ধার দিলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
খ. আমার বিশ্বাস হয় যে, মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতে হবে।
দুই) নেতিবাচক বিশ্বাস:
ক. আমার বিশ্বাস যে, লোকটি ধার দিলে টাকা ফেরত দেবে না।
খ. আমার বিশ্বাস যে, মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই।
তিন) সন্দেহ:
ক. লোকটি টাকা ফেরত দিতেও পারে, নাও দিতে পারে।
খ. মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতেও পারে, নাও হতে পারে।
সন্দেহ মানে কোনো রকম বিশ্বাস এখনো জন্মেনি। ইতিবাচক নেতিবাচক কোনো বিশ্বাস না হওয়াই সন্দেহ।
একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। ধরি এক পরিচিত লোক এসে আমাকে বললেন, ‘ভাই, আমাকে এক হাজার টাকা ধার দিন। আমি এক মাস পরই ফেরত দিয়ে যাব। এক মাস পর টাকাটা ফেরত দেবে কি না সে বিষয়ে আমার সরাসরি জানা নেই। আমি তাকে কী বলবো? তাকে তো আর একথা বলা যায় না যে, এক মাস পর ফেরত দেন কি না আগে দেখে নেই। তাহলে তাকে কী বলব? আমার কাছে লোকটি ধার চেয়েছে, হয় তাকে ধার দেব, আর না হয় ধার দিতে অস্বীকার করব। ধার দেব কি দেব না এ বিষয়ে কিভাবে আমি সিদ্ধান্ত নেব? টাকা সত্যি ফেরত দেবে কি না সে বিষয়ে ডাইরেক্ট নলেজ বা প্রত্যক্ষ জ্ঞান তো নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি তাকে যতটুকু জানি তাতে আমার মনে এ বিশ্বাস হয় কি না যে, লোকটি ওয়াদা পালন করবে। যদি তার উপর আমার বিশ্বাস হয় যে, এ লোক টাকা ফেরত দেবে তাহলে আমি তাকে ধার দেব। মোটকথা, ধার দেয়ার এই সিদ্ধান্তটার ভিত্তিই হলো বিশ্বাস।
যদি তার অতীত আচরণ থেকে তার উপর আমার এ বিশ্বাস না হয় যে, টাকাটা ফেরত নেবে, তাহলে আমি ধার দেব না। আমি যে তাকে অবিশ্বাস করলাম, তাও পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে। তাকে ধার দিতে অস্বীকার করলে সে নিশ্চয়ই বলবে, আমাকে বিশ্বাস করেন না? আমি যে তাকে অবিশ্বাস করলাম, এটাও কিন্তু বিশ্বাস। অর্থাৎ আমার বিশ্বাস যে, সে টাকা ফেরত দেবে না। তাকে আমি টাকা দিলামই না। কী করে জানলাম যে, সে টাকা ফেরত দেবে না? পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমেই আমি এ বিশ্বাসে পোঁছেছি।
তাহলে বিশ্বাসের সংজ্ঞা কী দাঁড়াল? যে বিষয়ে সরাসরি জ্ঞান নেই, অথচ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে; তখন পরোক্ষ জ্ঞানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া উপায় নেই; এভাবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারই নাম বিশ্বাস।
একটি বড় উদাহরণ
মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতে হবে কি না এ বিষয়ে সরাসরি জ্ঞান নেই। কিন্তু এ বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকারও উপায় নেই। যদি মৃত্যুর পর আরও একটি জীবন থাকে তাহলে আমাকে সে হিসেব মনে রেখেই দুনিয়ায় চলতে হবে। যদি না থাকে তাহলে বেপরোয়া চলা সহজ মনে হতে পারে। তাই এ বিষয়ে চুপ থাকার উপায় নেই। হয় আছে মনে করতে হবে আর না হয় নেই বলে ধারণা করতে হবে এবং স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।
বিশ্বাসের তিন অবস্থা
যে দুটো উদাহরণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এর ভিত্তিতে বিশ্বাসের তিনটি অবস্থা হলো :
এক) ইতিবাচক বিশ্বাস:
ক. আমার বিশ্বাস হয় যে, লোকটিকে ধার দিলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
খ. আমার বিশ্বাস হয় যে, মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতে হবে।
দুই) নেতিবাচক বিশ্বাস:
ক. আমার বিশ্বাস যে, লোকটি ধার দিলে টাকা ফেরত দেবে না।
খ. আমার বিশ্বাস যে, মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই।
তিন) সন্দেহ:
ক. লোকটি টাকা ফেরত দিতেও পারে, নাও দিতে পারে।
খ. মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতেও পারে, নাও হতে পারে।
সন্দেহ মানে কোনো রকম বিশ্বাস এখনো জন্মেনি। ইতিবাচক নেতিবাচক কোনো বিশ্বাস না হওয়াই সন্দেহ।