১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৯
কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা?
এখন আমরা চিন্তা করি যে, আমাদের দেহের সাথে, আমাদের পরিবারের লোকদের সাথে এবং দুনিয়ার অন্যান্য সমস্ত লোকের সাথে সঠিক সম্পর্ক রাখার জন্য জীবনের প্রতি ধাপে জ্ঞানের উজ্জল আলো লাভ করা আমাদের কতখানি আবশ্যক। প্রতি ধাপে আমার জানা চাই যে, কোটা মিথ্যা? সুবিচার কী এবং যুলুম কী? আমার উপর কার কী পরিমাণ অধিকার আছে এবং আমারই বা কার উপর কী পরিমাণ অধিকার আছে? জীবনের কোন্ কাজে প্রকৃত উপকার পাওয়া যাবে আর কিসে আসল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে? কিন্তু এসব কিছুর জ্ঞান আমি কোথায় পেতে পারি? এটা যদি আমি আমার মনের কাছে জানতে চাই, তবে সেখানে তা পাবো না। কারণ আমার মন নিজেই অজ্ঞ ও মূখ, নিজের স্বার্থ ও অসৎ কামনা ছাড়া আর তেমন কিছুই তার জানা নেই। সে তো বলবে ও মিথ্যা কথা বল, গীবত কর, যিনা কর, সুদ খাও, হারাম উপায়ে টাকা রোযগার কর। কারণ এসব কাজে খুবই আনন্দ আছে। সে বলবে, সকলেরই হক মেরে খাও, কাউকে হক দিও না। কারণ তাতে লাভও আছে, আরামও আছে। এমন একটা অজ্ঞ-মূখের হাতে যদি আমি আমার জীবনের রজু ছেড়ে দেই-মন যা চায়, যদি কেবল তাই করি, তবে এটা আমাকে একেবারে অধঃপতনের চরম সীমায় নিয়ে যাবে। এমনকি, পরিণামে আমি একজন নিকৃষ্ট স্বার্থপর, হীনচেতা ও পাপিষ্ঠে পরিণত হবে। এতে আমার দ্বীন-দুনিয়া সবকিছুই নষ্ট হবে।
দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে এই যে, আমি আমার মনের ইচ্ছার কথা না শুনে আমারই মতো অন্য মানুষের উপর একান্তভাবে নির্ভর করবো এবং প্রত্যেক কাজেই আমি সেই লোকদের কথামত কাজ করবো। তারা যেদিকে চালায়, আমি অন্ধভাবে সেদিকেই চলবো। এ পথ যদি অবলম্বন করি, তবে কোনো স্বার্থপর লোক এসে আমাকে তার নিজের ইচ্ছামত পরিচালিত এবং নিজের স্বার্থোদ্ধারের জন্য ব্যবহার করতে পারে, এর খুবই আশংকা আছে। কিংবা কোনো মূখ ও পথভ্রষ্ট লোক এসে আমাকেও বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যেতে পারে। অথবা কোনো যালিম ব্যক্তি আমাকে হাতিয়ার স্বরূপ গ্রহণ করে আমার দ্বারা অন্যের উপর যুলুম করাতে পারে।
মোটকথা, অন্য লোকের অনুসরণ করলেও আমি জ্ঞানের সেই জরুরী আলো লাভ করতে পারি না, যা আমাকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝাতে, ন্যায় ও অন্যায় বলে দিতে পারে এবং আমার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।
দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে এই যে, আমি আমার মনের ইচ্ছার কথা না শুনে আমারই মতো অন্য মানুষের উপর একান্তভাবে নির্ভর করবো এবং প্রত্যেক কাজেই আমি সেই লোকদের কথামত কাজ করবো। তারা যেদিকে চালায়, আমি অন্ধভাবে সেদিকেই চলবো। এ পথ যদি অবলম্বন করি, তবে কোনো স্বার্থপর লোক এসে আমাকে তার নিজের ইচ্ছামত পরিচালিত এবং নিজের স্বার্থোদ্ধারের জন্য ব্যবহার করতে পারে, এর খুবই আশংকা আছে। কিংবা কোনো মূখ ও পথভ্রষ্ট লোক এসে আমাকেও বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যেতে পারে। অথবা কোনো যালিম ব্যক্তি আমাকে হাতিয়ার স্বরূপ গ্রহণ করে আমার দ্বারা অন্যের উপর যুলুম করাতে পারে।
মোটকথা, অন্য লোকের অনুসরণ করলেও আমি জ্ঞানের সেই জরুরী আলো লাভ করতে পারি না, যা আমাকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝাতে, ন্যায় ও অন্যায় বলে দিতে পারে এবং আমার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।