১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৪
কুফরী কী?
কুফরীর সংজ্ঞা :
কুফরীর আভিধানিক অর্থ আবৃত করা ও গোপন করা। আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের বিপরীত অবস্থানকে কুফরী বলা হয়। কুফরী হচ্ছে আল্লাহ ও রসূলের এক প্রতি ঈমান না রাখা (তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক কিংবা না হোক)। আল্লাহ ও তার রসূল (ﷺ) সম্পর্কে কোন সংশয়, সন্দেহ, উপেক্ষা, ঈর্ষা করা কুফরী। আবার যে ৬টি বিষয়ের উপর আমাদেরকে ঈমান আনতে (বিশ্বাস করতে) বলা হয়েছে অর্থাৎ ঈমানের ৬টি রুকনের (আল্লাহ, ফিরিশতা, নবী, কিতাব, কিয়ামত দিবস ও আখিরাত, পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য) কোন একটিকে অস্বীকার করাও কুফরী। কুফরী দুই প্রকার,
প্রথম প্রকার : বড় কুফরী
এ প্রকারের কুফরী মুসলিম ব্যক্তিকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। এটি আবার পাঁচ ভাগে বিভক্ত :
১. ঈমানের রুকনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কুফরী : এর দলীল আল্লাহর বাণী:
যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা রচনা করে, অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? জাহান্নামই কি এইসব কাফিরের আবাস নয়? (সূরা আনকাবুত ২৯ : ৬৮)
২. ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে মনে বিশ্বাস রেখেও অহংকারবশতঃ মুখে অস্বীকার করা কুফরী: এর দলীল আল্লাহর বাণীঃ
যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল। সুতরাং সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাকারা ২ : ৩৪)
৩. ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে সংশয়জনিত কুফরী: একে ধারণাজনিত কুফরীও বলা হয়। এর দলীল আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ
নিজের প্রতি যুলুম করে সে তার তার বাগানে প্রবেশ করল। .......। (সূরা কাহফ ১৮ : ৩৫-৩৮)
৪. ঈমানের রুকনসমূহের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কুফরী। এর দলীল আল্লাহর বাণী :
আর কাফিররা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরা আহকাফ ৪৬ : ০৩)
৫. মুনাফিকী ও কপটতার কুফরী। এর দলীল হল আল্লাহর বাণী :
এটা এজন্যে যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে। ফলে তাদের অন্ত রে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না। (সূরা মুনাফিকূন ৬৩ : ০৩)
দ্বিতীয় প্রকার: ছোট কুফরী
এ প্রকারের কুফরী মুসলিম মিল্লাত থেকে বহিস্কৃত করে না। একে ‘আমলী কুফরীও বলা হয়। ছোট কুফরী দ্বারা সে সব গুনাহের কাজকেই বুঝানো হয়েছে, কুরআন ও সুন্নায় যাকে কুফরী নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ধরনের কুফরী বড় কুফরীর সমপর্যায়ের নয়।
যেমন আল্লাহর নিয়ামতের কুফরী করা যা নিমোক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে:
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এমন এক জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। তথায় প্রত্যেক স্থান হতে আসত প্রচুর রিযিক ও জীবিকা। অতঃপর সে জনপদের লোকেরা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ প্রকাশ করল। (সূরা নাহল ১৬ : ১১২)
এক মুসলিম অপর মুসলিমের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াও এ ধরনের কুফরীর অন্তর্গত। রসূল (ﷺ) বলেন : কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী কাজ আর তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।
তিনি আরো বলেন: আমার পর তোমরা পুনরায় কাফির হয়ে যেও না, যাতে তোমরা একে অপরকে হত্যা করবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।
অন্যের নামে কসমও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। রসূল (ﷺ) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করল সে কুফরী কিংবা শিরক করল। (তিরমিযী, হাকিম)
মূল কথা
১. বড় কুফরী মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (ফাসিক) এবং তার অতীতের অামলসমূহ নষ্ট করে দেয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরী ইসলাম থেকে বের করে না এবং অতীতের আমলও নষ্ট করে না। তবে তা আমলে এটি সৃষ্টি করে এবং ছোট কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি করে।
২. বড় কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু ছোট কুফরীর কাজে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে না। বরং কখনো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
৩. বড় কুফরীতে লিপ্ত হলে সে ব্যক্তির জান-মাল মুসলিমদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। অথচ ছোট কুফরীতে লিপ্ত হলে জান-মাল বৈধ হয় না।
৪. বড় কুফরীর ফলে মু'মিন ও অত্র কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত শতা সৃষ্টি হওয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। তাই সে ব্যক্তি যত নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন, তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা মু'মিনদের জন্য কখনোই বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে কোন বাধা নেই। বরং তার মধ্যে যতটুকু ঈমান রয়েছে সে পরিমাণ তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং যতটুকু নাফরমানী তার মধ্যে আছে, তার প্রতি ততটুকু পরিমাণ ঘৃণা ও বিদ্বেষ ভাব পোষণ করা যেতে পারে।
কুফরীর আভিধানিক অর্থ আবৃত করা ও গোপন করা। আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের বিপরীত অবস্থানকে কুফরী বলা হয়। কুফরী হচ্ছে আল্লাহ ও রসূলের এক প্রতি ঈমান না রাখা (তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক কিংবা না হোক)। আল্লাহ ও তার রসূল (ﷺ) সম্পর্কে কোন সংশয়, সন্দেহ, উপেক্ষা, ঈর্ষা করা কুফরী। আবার যে ৬টি বিষয়ের উপর আমাদেরকে ঈমান আনতে (বিশ্বাস করতে) বলা হয়েছে অর্থাৎ ঈমানের ৬টি রুকনের (আল্লাহ, ফিরিশতা, নবী, কিতাব, কিয়ামত দিবস ও আখিরাত, পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য) কোন একটিকে অস্বীকার করাও কুফরী। কুফরী দুই প্রকার,
প্রথম প্রকার : বড় কুফরী
এ প্রকারের কুফরী মুসলিম ব্যক্তিকে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। এটি আবার পাঁচ ভাগে বিভক্ত :
১. ঈমানের রুকনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কুফরী : এর দলীল আল্লাহর বাণী:
যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা রচনা করে, অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে? জাহান্নামই কি এইসব কাফিরের আবাস নয়? (সূরা আনকাবুত ২৯ : ৬৮)
২. ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে মনে বিশ্বাস রেখেও অহংকারবশতঃ মুখে অস্বীকার করা কুফরী: এর দলীল আল্লাহর বাণীঃ
যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল। সুতরাং সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। (সূরা বাকারা ২ : ৩৪)
৩. ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে সংশয়জনিত কুফরী: একে ধারণাজনিত কুফরীও বলা হয়। এর দলীল আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ
নিজের প্রতি যুলুম করে সে তার তার বাগানে প্রবেশ করল। .......। (সূরা কাহফ ১৮ : ৩৫-৩৮)
৪. ঈমানের রুকনসমূহের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কুফরী। এর দলীল আল্লাহর বাণী :
আর কাফিররা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরা আহকাফ ৪৬ : ০৩)
৫. মুনাফিকী ও কপটতার কুফরী। এর দলীল হল আল্লাহর বাণী :
এটা এজন্যে যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে। ফলে তাদের অন্ত রে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। অতএব তারা বুঝে না। (সূরা মুনাফিকূন ৬৩ : ০৩)
দ্বিতীয় প্রকার: ছোট কুফরী
এ প্রকারের কুফরী মুসলিম মিল্লাত থেকে বহিস্কৃত করে না। একে ‘আমলী কুফরীও বলা হয়। ছোট কুফরী দ্বারা সে সব গুনাহের কাজকেই বুঝানো হয়েছে, কুরআন ও সুন্নায় যাকে কুফরী নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ধরনের কুফরী বড় কুফরীর সমপর্যায়ের নয়।
যেমন আল্লাহর নিয়ামতের কুফরী করা যা নিমোক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে:
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এমন এক জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। তথায় প্রত্যেক স্থান হতে আসত প্রচুর রিযিক ও জীবিকা। অতঃপর সে জনপদের লোকেরা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ প্রকাশ করল। (সূরা নাহল ১৬ : ১১২)
এক মুসলিম অপর মুসলিমের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াও এ ধরনের কুফরীর অন্তর্গত। রসূল (ﷺ) বলেন : কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী কাজ আর তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।
তিনি আরো বলেন: আমার পর তোমরা পুনরায় কাফির হয়ে যেও না, যাতে তোমরা একে অপরকে হত্যা করবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)।
অন্যের নামে কসমও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। রসূল (ﷺ) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করল সে কুফরী কিংবা শিরক করল। (তিরমিযী, হাকিম)
মূল কথা
১. বড় কুফরী মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (ফাসিক) এবং তার অতীতের অামলসমূহ নষ্ট করে দেয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরী ইসলাম থেকে বের করে না এবং অতীতের আমলও নষ্ট করে না। তবে তা আমলে এটি সৃষ্টি করে এবং ছোট কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তিকে শাস্তির মুখোমুখি করে।
২. বড় কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু ছোট কুফরীর কাজে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে না। বরং কখনো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
৩. বড় কুফরীতে লিপ্ত হলে সে ব্যক্তির জান-মাল মুসলিমদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। অথচ ছোট কুফরীতে লিপ্ত হলে জান-মাল বৈধ হয় না।
৪. বড় কুফরীর ফলে মু'মিন ও অত্র কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত শতা সৃষ্টি হওয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। তাই সে ব্যক্তি যত নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন, তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা মু'মিনদের জন্য কখনোই বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ছোট কুফরীতে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে কোন বাধা নেই। বরং তার মধ্যে যতটুকু ঈমান রয়েছে সে পরিমাণ তাকে ভালবাসা ও তার সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত এবং যতটুকু নাফরমানী তার মধ্যে আছে, তার প্রতি ততটুকু পরিমাণ ঘৃণা ও বিদ্বেষ ভাব পোষণ করা যেতে পারে।