১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৮
আল্লাহ ছাড়া অন্য মানুষের দাসত্ব:
নফসের দাসত্ব, বংশগত প্রথার দাসত্ব এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য মানুষের দাসত্ব আমাদের মধ্যে এখনও খুব বেশী পরিমাণেই আছে। আর এটাই ভিতর থেকে আমাদের শক্তি এবং দ্বীন ও ঈমানকে একেবারে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমাদের মধ্যে ছোট লোক বড় লোকের পার্থক্য আছে। আর এরূপে আমাদের সমাজের লোকদেরকে নানা শ্রেণীতে ভাগ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম এ সমস্ত শ্রেণী ও সম্প্রদায়কে এক জাতি ও পরস্পরের ভাই করে একটি মযবুত দেয়ালের মত করতে চেয়েছিল। সেই দেয়ালের প্রত্যেকখানা ইট অন্য ইটের সাথে ম্যবুত হয়ে গেঁথে থাকবে, এটাই ছিল আল্লাহর ইচ্ছা।
অথচ আমরা এখনও সেই পুরাতন হিন্দুয়ানী জাতিভেদের ধারণা নিয়ে রয়েছি। হিন্দুদের এক গোত্র যেমন অন্য গোত্র হতে পৃথক থাকে আর এক জাতি অন্য জাতিকে ঘৃণা করে আমরাও ঠিক তাই করছি। বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে আমরা পরস্পর কোনো কাজ করতে পারি না। সকল মুসলিমকে আমরা সমানভাবে ভাই বলে গ্রহণ করতে পারি না। মুখে মুখে ভাই বলে থাকি, কিন্তু কাজের বেলায় আমাদের মধ্যে ঠিক সেরূপ পার্থক্য থেকে যায় যেমন ছিল আরব দেশে ইসলামের পূর্বে। এসব কারণে আমরা পরস্পর মিলে একটা মযবুত দেয়াল হতে পারছি না। ভাংগা দেয়ালের নানা দিকে ছড়ানো ইটের মতো আমরা এক একজন মানুষ পৃথক হয়ে পড়ে রয়েছি। এ জন্যই না আমরা এক ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে পারছি, না কোনো বিপদ-আপদের মুকাবিলা করতে পারছি।
ইসলামের সুস্পষ্ট শিক্ষা অনুযায়ী আমাদেরকে যদি বলা যায় যে, এ সমস্ত ভেদাভেদ ও পার্থক্য চূর্ণ করে দিয়ে ও পরস্পর মিলেমিশে এক হয়ে যাও তাহলে আমরা তখন ঐ এক কথাই বলবো যে, আমাদের বাপ-দাদার কাল হতে যে প্রথা চলে এসেছে তা আমরা ভেংগে দিতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ এর উত্তরে কী বলবেন তা কি আমরা জানি?
আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন, তোমাদের ছেলেমেয়েরা সকলেই তোমাদের সম্পত্তির অংশ পাবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কী করছি? আমরা বলছি যে, আমাদের বাপ-দাদার আইনে মেয়েরা সম্পত্তির অংশ পেতে পারে না পেতে পারে একমাত্র ছেলেরাই। কাজেই আমরা বাপ-দাদার আইন মানি আল্লাহর আইন মানতে পারি না। একটু চিন্তা করে দেখি, এর নাম কি ইসলাম? আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, বংশগত ও দেশ প্রচলিত আইন পরিত্যাগ কর, উত্তরে আমরা প্রত্যেকেই বলে ওঠবো-সকলে যখন ত্যাগ করবে তখন আমিও করবো।
কেননা অন্য লোক যদি তাদের মেয়েকে সম্পত্তির অংশ না দেয়, তাহলে আমার সম্পত্তি তো অন্যের ঘরে চলে যাবে, কিন্তু অন্যের ঘর হতে আমার ঘরে কিছুই আসবে না। ভেবে দেখি এ উত্তরের অর্থ কী? অপরে যদি আল্লাহর আইন মানে তবে আমি মানবে, এরূপ শর্ত করে কি আমি আল্লাহর আইনের প্রতি ঈমান। এনেছি? তাহলে কাল আমি এটাও বলতে পারি যে, অপরে ব্যভিচার করলে আমিও ব্যভিচার করবো, অপরে চুরি করলে আমিও চুরি করবো।
মোটকথা অপরে যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত গোনাহ না ছাড়বে আমিও ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত গোনাহ করতে থাকবো। আসল কথা এই যে, এ ব্যাপারে আমাদের দ্বারা উল্লেখিত তিনটি দেবতারই পূজা করানো হচ্ছে। নফসের বন্দেগী করছি, বাপ দাদার প্রথারও বন্দেগী করছি, আর দুনিয়ার মুশরিক জাতিগুলোর দাসতুও আমরা করছি। অথচ এ তিনটি দেবতার পূজার সাথে সাথে ইসলামের দাবীও আমরা করছি।
এখানে মাত্র দু’টি উদাহরণ উল্লেখ করা হলো। নতুবা একটু চোখ খুলে তাকালে এত প্রকারের বড় বড় রোগ আমাদের মধ্যে দেখা যাবে যে, তা গুণেও শেষ করা যাবে না এবং লক্ষ্য করলে দেখবো যে, কোথাও একটি দেবতার পূজা চলছে, কোথাও দু'টি দেবতার পূজা চলছে। অপর কোথাও তিনটি দেবতারই পূজা চলছে। তিনটি দেবতার পূজা করার সাথে সাথে ইসলামেরও দাবী করা একটা হাস্যকর ব্যাপার এবং এমতাবস্থায় আল্লাহ খাটি মুসলিমদের উপর যে অফুরন্ত রহমত নাযিল করার ওয়াদা করেছেন, ঠিক তাই আমাদের উপর নাযিল হবে এরূপ আশা করাও কম হাস্যকর ব্যাপার নয়।
অথচ আমরা এখনও সেই পুরাতন হিন্দুয়ানী জাতিভেদের ধারণা নিয়ে রয়েছি। হিন্দুদের এক গোত্র যেমন অন্য গোত্র হতে পৃথক থাকে আর এক জাতি অন্য জাতিকে ঘৃণা করে আমরাও ঠিক তাই করছি। বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে আমরা পরস্পর কোনো কাজ করতে পারি না। সকল মুসলিমকে আমরা সমানভাবে ভাই বলে গ্রহণ করতে পারি না। মুখে মুখে ভাই বলে থাকি, কিন্তু কাজের বেলায় আমাদের মধ্যে ঠিক সেরূপ পার্থক্য থেকে যায় যেমন ছিল আরব দেশে ইসলামের পূর্বে। এসব কারণে আমরা পরস্পর মিলে একটা মযবুত দেয়াল হতে পারছি না। ভাংগা দেয়ালের নানা দিকে ছড়ানো ইটের মতো আমরা এক একজন মানুষ পৃথক হয়ে পড়ে রয়েছি। এ জন্যই না আমরা এক ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে পারছি, না কোনো বিপদ-আপদের মুকাবিলা করতে পারছি।
ইসলামের সুস্পষ্ট শিক্ষা অনুযায়ী আমাদেরকে যদি বলা যায় যে, এ সমস্ত ভেদাভেদ ও পার্থক্য চূর্ণ করে দিয়ে ও পরস্পর মিলেমিশে এক হয়ে যাও তাহলে আমরা তখন ঐ এক কথাই বলবো যে, আমাদের বাপ-দাদার কাল হতে যে প্রথা চলে এসেছে তা আমরা ভেংগে দিতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ এর উত্তরে কী বলবেন তা কি আমরা জানি?
আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন, তোমাদের ছেলেমেয়েরা সকলেই তোমাদের সম্পত্তির অংশ পাবে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কী করছি? আমরা বলছি যে, আমাদের বাপ-দাদার আইনে মেয়েরা সম্পত্তির অংশ পেতে পারে না পেতে পারে একমাত্র ছেলেরাই। কাজেই আমরা বাপ-দাদার আইন মানি আল্লাহর আইন মানতে পারি না। একটু চিন্তা করে দেখি, এর নাম কি ইসলাম? আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, বংশগত ও দেশ প্রচলিত আইন পরিত্যাগ কর, উত্তরে আমরা প্রত্যেকেই বলে ওঠবো-সকলে যখন ত্যাগ করবে তখন আমিও করবো।
কেননা অন্য লোক যদি তাদের মেয়েকে সম্পত্তির অংশ না দেয়, তাহলে আমার সম্পত্তি তো অন্যের ঘরে চলে যাবে, কিন্তু অন্যের ঘর হতে আমার ঘরে কিছুই আসবে না। ভেবে দেখি এ উত্তরের অর্থ কী? অপরে যদি আল্লাহর আইন মানে তবে আমি মানবে, এরূপ শর্ত করে কি আমি আল্লাহর আইনের প্রতি ঈমান। এনেছি? তাহলে কাল আমি এটাও বলতে পারি যে, অপরে ব্যভিচার করলে আমিও ব্যভিচার করবো, অপরে চুরি করলে আমিও চুরি করবো।
মোটকথা অপরে যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত গোনাহ না ছাড়বে আমিও ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত গোনাহ করতে থাকবো। আসল কথা এই যে, এ ব্যাপারে আমাদের দ্বারা উল্লেখিত তিনটি দেবতারই পূজা করানো হচ্ছে। নফসের বন্দেগী করছি, বাপ দাদার প্রথারও বন্দেগী করছি, আর দুনিয়ার মুশরিক জাতিগুলোর দাসতুও আমরা করছি। অথচ এ তিনটি দেবতার পূজার সাথে সাথে ইসলামের দাবীও আমরা করছি।
এখানে মাত্র দু’টি উদাহরণ উল্লেখ করা হলো। নতুবা একটু চোখ খুলে তাকালে এত প্রকারের বড় বড় রোগ আমাদের মধ্যে দেখা যাবে যে, তা গুণেও শেষ করা যাবে না এবং লক্ষ্য করলে দেখবো যে, কোথাও একটি দেবতার পূজা চলছে, কোথাও দু'টি দেবতার পূজা চলছে। অপর কোথাও তিনটি দেবতারই পূজা চলছে। তিনটি দেবতার পূজা করার সাথে সাথে ইসলামেরও দাবী করা একটা হাস্যকর ব্যাপার এবং এমতাবস্থায় আল্লাহ খাটি মুসলিমদের উপর যে অফুরন্ত রহমত নাযিল করার ওয়াদা করেছেন, ঠিক তাই আমাদের উপর নাযিল হবে এরূপ আশা করাও কম হাস্যকর ব্যাপার নয়।