hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৫

রসুল (ﷺ) -এর মিশন

একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে আমাকে জানতে হবে আল কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় কী? কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য কী? রসূল (ﷺ) -এর আগমনের উদ্দেশ্য কী? আমরা যদি রসূল (ﷺ) -এর বিস্তারিত জীবনী অধ্যায়ন করি তাহলে দেখতে পাই যে, নবুয়াত পাওয়ার ৪০ বছর বয়স থেকে তাঁর মক্কী জীবনের ১৩টি বছর কেটেছে মানুষের আকীদা পরিষ্কার করার কাজে। আল কুরআনের মক্কী সূরাগুলো নাযিল হয়েছে আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে।

আর রসূল (ﷺ) তার মাদানী জীবনের ১০টি বছর কেটেছে ইকামাতুদ দ্বীনের কাজ করে। আল কুরআনের মাদানী সূরাগুলো ইকামাতুদ দ্বীন বিষয়ে নাযিল হয়েছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে। রসূল (ﷺ) -এর ২৩ বছর নবুয়ত জীবনে উপরের এই দুটি বিষয়ে কাজ করেছেন। এবং আল কুরআনও নাযিল হয়েছে মূলতঃ এই দুটি বিষয়ের জন্য।

আল কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষ। আমরা যদি আল কুরআনের বিস্তারিত তাফসীর পড়ি তাহলে দেখতে পাই যে আল কুরআনের আগাগোড়া যতো বিষয় রয়েছে তা জীবিত মানুষদের নিয়ে। কী করলে দেশবাসী ভাল থাকবে, শান্তিতে থাকবে। আর কী করলে দেশবাসী খারাপ থাকবে, অশান্তিতে থাকবে।

আল কুরআনে দেয়া আছে মানবজাতির সকল সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান। এ জন্য একে বলা হয় “Complete Code of Life” অর্থাৎ পূণাঙ্গ জীবন বিধান। রান্না ঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা অর্থাৎ পার্লামেন্ট পর্যন্ত সকল বিধান রয়েছে এতে। তাই এটি হচ্ছে মুসলিম দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার Constitution। আমরা জানি আল কুরআনে সলাত প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে ৮০ বারের মতো অথচ ইকামাতুদ দ্বীনের কথা বলা হয়েছে ২০০ বারেরও অধিক। এই বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আল কুরআনের objective ইকামাতুদ দ্বীন বা আকিমুদ্দীন (দ্বীন প্রতিষ্ঠা)।