hadith book logo

ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা

লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

আজকের মুসলিমরা কি বাস্তবিকই আল্লাহর বান্দা?

মুসলিম বাস্তবিকই যদি আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতো তাহলে আল্লাহর সেই প্রিয়জনেরা দুনিয়ায় নানাভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে কেন? আল্লাহ কি যালেম (নাউযুবিল্লাহ)? মুসলিম যদি আল্লাহর ‘হক’ জানতো, তাঁর আদেশ পালন করতো, তাহলে তিনি তাঁর অবাধ্য বান্দাদেরকে শাস্তি দেবেন কেন? আর তাদেরকে তার আনুগত্যের বিনিময়ে শাস্তিইবা দেবেন কোন কারণে? আল্লাহ নিশ্চয়ই অবিচারক নন এবং তাঁর আনুগত্য করার বিনিময় অপমান ও শাস্তি নয়। একথা যদি একান্তভাবে বিশ্বাস করা হয় তবে স্বীকার করতেই হবে যে, মুসলিমদের মুসলিম হওয়ার দাবীতে কিছুটা গলদ আছে। তাদের নাম সরকারী পরিসংখ্যানে নিশ্চয়ই মুসলিম হিসেবে লিখিত আছে; কিন্তু সেই সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে আল্লাহর দরবারে বিচার হবে না। আল্লাহর নিজস্ব পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজেই তাঁর পরিসংখ্যানে মুসলিমদের নাম তাঁর অনুগত লোকদের তালিকায় লিখিত আছে, না অবাধ্য লোকদের তালিকায় লিখিত হয়েছে তা খোঁজ করে দেখা আবশ্যক।

আল্লাহ মুসলিমদের কাছে কিতাব পাঠিয়েছেন, তা পড়ে মুসলিমগণ প্রকৃত ‘মালিক কে চিনতে পারে; কিন্তু ঐ কিতাবে যা লিখিত আছে, তা জানার জন্য মুসলিমগণ একটুও চেষ্টা করেছে কি? আল্লাহ তাদের প্রতি নবী পাঠিয়েছেন, তিনি মুসলিম হওয়ার উপায় ও নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর নবী দুনিয়ায় এসে কী শিক্ষা দিয়েছেন, তা জানার জন্য তারা কখনও যত্নবান হয়েছে কি? আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান লাভ করার পথের সন্ধান বলে দিয়েছেন, কিন্তু তারা সেই পথে চলছে কি? যেসব কাজ মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে, আল্লাহ তা এক এক করে বলে দিয়েছেন, কিন্তু মুসলিম কি সেসব কাজ ত্যাগ করেছে? এ প্রশ্নগুলোর কী উত্তর হতে পারে? যদি স্বীকার করা হয় যে, আল্লাহর কিতাব হতে মুসলিমগণ যেমন কোনো জ্ঞান লাভ করতে চেষ্টা করেনি, তেমনি তাঁর প্রদর্শিত পথেও তারা একটুও চলেনি, তাহলে তারা মুসলিম হলো কিরূপে এবং তারা পুরস্কারই বা কিরূপে চাচ্ছে। তারা যে ধরনের মুসলিম দাবী করছে, ফলও তেমনি পাচ্ছে, আর তেমনি পুরষ্কার তারা পরকালেও পাবে।

মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে ইলম ও আমল, জ্ঞান ও কাজ ছাড়া আর কোনোই প্রভেদ নেই। কারো ইলম ও আমল যদি কাফিরের ইলম ও আমলের মত হয়, আর তবুও সে নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয় তাহলে বুঝতে হবে যে, সে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। কাফির কুরআন পড়ে না এবং তাতে কী লিখিত আছে। তা সে জানে না। কিন্তু মুসলিমের অবস্থা যদি এ রকমই হয় তাহলে সে নিজেকে মুসলিম বলবে কোন অধিকারে? নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) দুনিয়ার মানুষকে যে শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার জন্য যে সরল পথ দেখিয়েছেন, কাফিরগণ তা কিছুই জানে না। এখন মুসলিমও যদি সেই রকমই অজ্ঞ হয় তাহলে তাকে মুসলিম কেমন করে বলা যায়? কাফির আল্লাহর ইচ্ছে মতো চলে না, চলে নিজ ইচ্ছেমত; মুসলিমও যদি সেরূপ স্বেচ্ছাচারী ও স্বাধীন হয়, সেরূপ নিজের খামখেয়ালী ও স্বেচ্ছাচারিতার বশবর্তী হয়, সেরূপই আল্লাহর প্রতি উদাসীন ও বেপরোয়া হয় এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুগত দাস হয়, তবে তার নিজেকে মুসলিম অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ পালনকারী’ বলার কী অধিকার আছে? কাফির হালাল-হারামের মধ্যে পার্থক্য করে না। যে কাজে সে লাভ ও আনন্দ দেখতে পায় -- তা আল্লাহর কাছে হালাল হোক কি হারাম হোক -- অসংকোচে সে তাই করে যায়। মুসলিমও যদি এ নীতি গ্রহণ করে তবে তার ও কাফির ব্যক্তির পার্থক্য রইল কোথায়?

মোটকথা, কাফিরের ন্যায় মুসলিমও যদি ইসলাম সম্বন্ধে অজ্ঞ হয় এবং কাফিরের পরিবর্তে কেবল মুসলিমরাই সম্মান লাভ করবে কেন? কাফিরের ন্যায় মুসলিমরাও পরকালে শাস্তি ভোগ করবে না কিসের জন্য? এটা এমন একটি গুরুতর বিষয় যে, এ সম্বন্ধে আমাদের বীরভাবে চিন্তা করা আবশ্যক।