১
ঈমানের স্বচ্ছ ধারণা
লেখকঃ আমির জামান, নাজমা জামান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৩
কালিমার সারমর্ম
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’- কালিমার এ অংশের অর্থ জেনে একে মানলে নিম্নলিখিত কাজগুলো অবশ্য কর্তব্য হয়।
১. আল্লাহ ছাড়া আর কাকেও সাহায্যকারী, বিপদ হতে উদ্ধারকারী ও মুক্তিদাতা বলে স্বীকার ও বিশ্বাস করব না।
২. আল্লাহ ছাড়া কেউ ক্ষতি-উপকার করতে পারে বলে মনে করতে পারব, সকল ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করব।
৩. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিকট জিকির">দু’আ করতে এবং সাহায্যের প্রার্থনা করতে পারব না।
৪. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত বা বন্দেগী করব না এবং কারও নামে মানত করব না।
৫. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাকেও প্রভু, আইনদাতা ও বিধানদাতা এবং বাদশাহ বা সার্বভৌম বলে স্বীকার করব না- অন্য কারও আইন মানব না (এমন আইন মানব না যা মূলতঃ আল্লাহর আইনের ভিত্তিতে ও উহার সীমার মধ্যে রচিত হয়নি)।
৬. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও বান্দা বা দাস হয়ে থাকব না এবং নিজের প্রবৃত্তির কামনা ও দেশ-চলতি প্রথাসমূহ অন্ধভাবে অনুসরণ করব না।
৭. জীবনের প্রত্যেক ব্যাপারে আল্লাহর বিধানকে একমাত্র ভিত্তি বলে মানব ও সে অনুযায়ী প্রত্যেকটি কাজ করতে হবে।
৮. জীবনের প্রত্যেক কাজের জবাবদিহি কেবল আল্লাহর নিকট করতে হবে- এ বিশ্বাস হৃদয়-মনে সদা জাগ্রত রাখব, এবং যে-কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন সে কাজ করতে ও যে-কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন তা হতে বিরত থাকতে সর্বদা চেষ্টা করব।
‘মুহাম্মাদুর রসূলুন্নাহ’- কালিমার এ দ্বিতীয় বাক্যে উচ্চারণ এবং স্বীকার করলে মানতে হবে :
১. মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রসূল।
২. তাঁর মাধ্যমে যে জীবন বিধান ও হিদায়াত আল্লাহর নিকট হতে এসেছে তাই সত্য এবং শাশ্বত।
৩. তাঁর উপস্থাপিত আদর্শ ও তাঁর প্রদত্ত শিক্ষার বিরোধী যা তা সবই ভুল ও ভ্রষ্টতা এবং অবশ্য পরিত্যাজ্য।
৪. তিনি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিই মানুষের স্বাধীন নেতা হতে পারে না। তিনিই কালিমা বিশ্বাসীদের একমাত্র চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ নেতা।
৫. অতএব মানব জীবনের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর কিতাব ও রসূলের হাদীস তথা সুন্নাহ অনুসারে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৬. এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালাতে হবে যা এ কালিমা অনুযায়ী আল্লাহর সার্বভৌমত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আইন-বিধান রচনার মৌলিক অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই স্বীকৃত ও ঘোষিত।
প্রত্যেকটি মুসলিমের এটাই মূল বিশ্বাস। প্রত্যেকটি মুসলিমের জন্য এটাই কর্ম বিধান।
প্রথম:
এখন আমাকে প্রথমে বিবেচনা করতে হবে, কালিমার এ ব্যাখ্যাসহ এর প্রতি আমি পূর্ণ ও দৃঢ়ভাবে ঈমান আনতে পেরেছি কিনা। যদি পারি তা হলে এর প্রতি দৃঢ়ভাবে ঈমান আনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। আমার চিন্তা, বিশ্বাস ও মূল্যমান এ অনুযায়ী ঢেলে গঠন করতে হবে।
দ্বিতীয় :
এ কালিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যার আলোকে আমি আমার নিজের কর্মজীবন যাচাই করে দেখি। তাতে এর বিপরীত কিছু দেখতে পেলে তা দূর করি। নিজেকে কালিমা অনুযায়ী পুরাপুরি সংশোধন করে নিতে হবে।
তৃতীয় :
আমার গোটা পরিবার ও ঘর-সংসারে এ কালিমার বিপরীত কিছু থাকলে তা সংশোধন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ :
আমার পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষা-সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক লেনদেন, বিচার-আচার সব কিছুই এ কালিমার মানদণ্ডে যাচাই করব এবং সব কিছুকে এ কালিমা অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করব। সে চেষ্টা আমি একা করতে পারবো না, দলবদ্ধভাবে তা করতে হবে। অতএব এই চিন্তার লোক জোগাড় করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কালিমা’কে সমগ্র জীবনের উপর বিজয়ী শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে দিতে হবে।
১. আল্লাহ ছাড়া আর কাকেও সাহায্যকারী, বিপদ হতে উদ্ধারকারী ও মুক্তিদাতা বলে স্বীকার ও বিশ্বাস করব না।
২. আল্লাহ ছাড়া কেউ ক্ষতি-উপকার করতে পারে বলে মনে করতে পারব, সকল ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করব।
৩. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নিকট জিকির">দু’আ করতে এবং সাহায্যের প্রার্থনা করতে পারব না।
৪. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত বা বন্দেগী করব না এবং কারও নামে মানত করব না।
৫. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাকেও প্রভু, আইনদাতা ও বিধানদাতা এবং বাদশাহ বা সার্বভৌম বলে স্বীকার করব না- অন্য কারও আইন মানব না (এমন আইন মানব না যা মূলতঃ আল্লাহর আইনের ভিত্তিতে ও উহার সীমার মধ্যে রচিত হয়নি)।
৬. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও বান্দা বা দাস হয়ে থাকব না এবং নিজের প্রবৃত্তির কামনা ও দেশ-চলতি প্রথাসমূহ অন্ধভাবে অনুসরণ করব না।
৭. জীবনের প্রত্যেক ব্যাপারে আল্লাহর বিধানকে একমাত্র ভিত্তি বলে মানব ও সে অনুযায়ী প্রত্যেকটি কাজ করতে হবে।
৮. জীবনের প্রত্যেক কাজের জবাবদিহি কেবল আল্লাহর নিকট করতে হবে- এ বিশ্বাস হৃদয়-মনে সদা জাগ্রত রাখব, এবং যে-কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন সে কাজ করতে ও যে-কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন তা হতে বিরত থাকতে সর্বদা চেষ্টা করব।
‘মুহাম্মাদুর রসূলুন্নাহ’- কালিমার এ দ্বিতীয় বাক্যে উচ্চারণ এবং স্বীকার করলে মানতে হবে :
১. মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রসূল।
২. তাঁর মাধ্যমে যে জীবন বিধান ও হিদায়াত আল্লাহর নিকট হতে এসেছে তাই সত্য এবং শাশ্বত।
৩. তাঁর উপস্থাপিত আদর্শ ও তাঁর প্রদত্ত শিক্ষার বিরোধী যা তা সবই ভুল ও ভ্রষ্টতা এবং অবশ্য পরিত্যাজ্য।
৪. তিনি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তিই মানুষের স্বাধীন নেতা হতে পারে না। তিনিই কালিমা বিশ্বাসীদের একমাত্র চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ নেতা।
৫. অতএব মানব জীবনের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর কিতাব ও রসূলের হাদীস তথা সুন্নাহ অনুসারে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৬. এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালাতে হবে যা এ কালিমা অনুযায়ী আল্লাহর সার্বভৌমত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আইন-বিধান রচনার মৌলিক অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই স্বীকৃত ও ঘোষিত।
প্রত্যেকটি মুসলিমের এটাই মূল বিশ্বাস। প্রত্যেকটি মুসলিমের জন্য এটাই কর্ম বিধান।
প্রথম:
এখন আমাকে প্রথমে বিবেচনা করতে হবে, কালিমার এ ব্যাখ্যাসহ এর প্রতি আমি পূর্ণ ও দৃঢ়ভাবে ঈমান আনতে পেরেছি কিনা। যদি পারি তা হলে এর প্রতি দৃঢ়ভাবে ঈমান আনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। আমার চিন্তা, বিশ্বাস ও মূল্যমান এ অনুযায়ী ঢেলে গঠন করতে হবে।
দ্বিতীয় :
এ কালিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যার আলোকে আমি আমার নিজের কর্মজীবন যাচাই করে দেখি। তাতে এর বিপরীত কিছু দেখতে পেলে তা দূর করি। নিজেকে কালিমা অনুযায়ী পুরাপুরি সংশোধন করে নিতে হবে।
তৃতীয় :
আমার গোটা পরিবার ও ঘর-সংসারে এ কালিমার বিপরীত কিছু থাকলে তা সংশোধন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
চতুর্থ :
আমার পরিবেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষা-সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক লেনদেন, বিচার-আচার সব কিছুই এ কালিমার মানদণ্ডে যাচাই করব এবং সব কিছুকে এ কালিমা অনুযায়ী গড়ে তোলার চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করব। সে চেষ্টা আমি একা করতে পারবো না, দলবদ্ধভাবে তা করতে হবে। অতএব এই চিন্তার লোক জোগাড় করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কালিমা’কে সমগ্র জীবনের উপর বিজয়ী শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে দিতে হবে।