hadith book logo

উসমান (রাঃ) রাঃ সম্পর্কে ১৫০টি শিক্ষণীয় ঘটনা

লেখকঃ মূল আহমাদ আব্দুল আলি তাহতাভী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৯

৮৬. ভাইয়ের উপর হদ জারি করেন

উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রাঃ) হতে বর্ণিত। উবায়দুল্লাহ বলেন, উসমান (রাঃ) যখন নামাযের জন্য বের হলেন, তখন আমি তার সাথে দেখা করলাম এবং বললাম, আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন রয়েছে। আর সেটা হলো, উপদেশ। অতঃপর যখন নামায শেষ হলো তখন আমি মিসওয়ার এবং ইবনে আবদে ইয়াগুস এ দুজনের সাথে ছিলাম। তখন খলিফার দূত আমার নিকট আসল এবং বলল, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে পরীক্ষা করেছেন। এরপর আমি উসমান (রাঃ) এর নিকট চলে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি একটু আগে আমাকে কোন উপদেশের কথা বলেছিলে? আমি তাকে বললাম, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ -কে সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন। আর তার প্রতি তিনি কিতাব নাযিল করেছেন। সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে হতে একজন যারা আল্লাহর এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) -এর ডাকে সাড়া দিয়েছে। এখন মূল কথা হলো, ওয়ালীদের ব্যাপারে লোকেরা অনেক কথা বলাবলি করছে। সুতরাং আপনার দায়িত্ব হলো তাদের উপর হদ কায়েম করা। এ কথা শুনে উসমান (রাঃ) আমাকে বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কি রাসূলকে পেয়েছ।

আমি বললাম, না! তবে রাসূল (ﷺ) এ সম্পর্কে আমার পুরোপুরি জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। অতঃপর উসমান (রাঃ) বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ এ-কে সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন। আর আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে। তারপর আমি দুই বার হিজরত করেছি। তারপর আমি রাসূলের পরিবারের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছি, রাসূলের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছি। সুতরাং আল্লাহর কসম, আমি তার নাফরমানি করিনি এবং কোন প্রতারণাও করিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর তায়ালা তাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। এরপর তার স্থানে খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন আবু বকর (রাঃ)। আমি তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি। আল্লাহর কসম! আমি তাঁর নাফরমানি করিনি এবং তার সাথে প্রতারণাও করিনি। শেষ পর্যন্ত তাকেও আল্লাহ তায়ালা উঠিয়ে নিয়েছেন। এরপর সেই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন উমর। আল্লাহর কসম! তার মৃত্যু পর্যন্ত আমি তার অবাধ্য হইনি এবং তার সাথে প্রতারণাও করিনি।

এরপর আল্লাহ তায়ালা আমাকে সেই খিলাফতের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে যা পেয়েছ আমার কাছ থেকেও তা-ই পাবে। এরপর তিনি বললেন, তুমি আমার সাথে কোন বিষয়ে আলাপ করছিলে? তুমি ওয়ালিদের ব্যাপারে যে বিষয়টি বলেছ আমি ইনশাল্লাহ সে ব্যাপারে সঠিক ব্যবস্থা নেব। অতঃপর ওয়ালিদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হলো। আর এ ক্ষেত্রে আলী (রাঃ) একে বেত্রাঘাত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। সুতরাং তিনি তা প্রয়োগ করেন। (আল খুলাফাউর রাশিদূন লি মুস্তফা মুরাদ, পৃঃ ৪১০)