১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
আয়াত : ১০ – ১১ কাফিরদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অসারতা এবং তার উদাহরণ
اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًاؕ وَّاُولٰٓئِكَ هُمْ وَقُوْدُ النَّارِ (১০) كَدَأْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْؕ كَذَّبُوْا بِاٰيَاتِنَاۚ فَاَخَذَهُمُ اللهُ بِذُنُوْبِهِمْۚ وَاللهُ شَدِيْدُ الْعِقَابِ (১১)
শাব্দিক অনুবাদ
১০. اِنَّ الَّذِيْنَ নিশ্চয় যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে لَنْ تُغْنِيَ কখনো কোন কাজে আসবে না عَنْهُمْ তাদের জন্য اَمْوَالُهُمْ তাদের ধন-সম্পদ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ এবং সন্তান-সন্ততি مِنَ اللهِ আল্লাহর থেকে شَيْئًا কিছুমাত্র। وَاُولٰٓئِكَ هُمْ আর তারাই হবে وَقُوْدُ ইন্ধন اَلنَّارِ জাহান্নামের।
১১. كَدَأْبِ আচরণের ন্যায় اٰلِ فِرْعَوْنَ ফেরাউনের বংশধর وَالَّذِيْنَ এবং যারা مِنْ قَبْلِهِمْ তাদের পূর্বে ছিল كَذَّبُوْا তারা অস্বীকার করেছিল بِاٰيَاتِنَا আমার নিদর্শনসমূহকে, فَاَخَذَهُمْ ফলে তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন اَللهُ আল্লাহ بِذُنُوْبِهِمْ তাদের পাপের কারণে । وَاللهُ আর আল্লাহ شَدِيْدُ কঠোর اَلْعِقَابِ শাস্তি দানে।
সরল অনুবাদ
১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি আল্লাহর (আযাব) থেকে (তাদেরকে বাঁচানোর ব্যাপারে) কখনো কোন কাজে আসবে না। [এখানে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেননা কিয়ামতের দিন তো মানুষের হাতে কোন সম্পদই থাকবে না; সুতরাং সেদিন তারা কী করে এগুলোকে বিনিময় হিসেবে দেয়ার চেষ্টা করবে! আর সেদিন সকলেই থাকবে নিজ নিজ চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত। সুতরাং সন্তান-সন্ততি কীভাবে তাদের পিতামাতার উপকারে আসবে! পক্ষান্তরে দুনিয়াতে মানুষের জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিই হচ্ছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। তারা সকল পরিশ্রম এগুলোর জন্যই ব্যয় করে থাকে। বিপদাপদে এগুলোই তার জন্য কাজে আসে। এগুলোর মাধ্যমেই সে তার পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে থাকে। অথচ কিয়ামতের দিন এগুলোর কোন মূল্যই থাকবে না। বরং দুনিয়াতে এগুলোর মাধ্যমে পরকালের জন্য যে পাথেয় সংগ্রহ করেছে কিয়ামতের দিন সেগুলোই তার জন্য কাজে আসবে।] আর তারাই হবে জাহান্নামের ইন্ধন (জ্বালানী)। [ وَقُوْدُ অর্থ ইন্ধন বা জ্বালানী অর্থাৎ যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। কিয়ামতের দিন কাফিররাই হবে জাহান্নামের ইন্ধন।]
১১. (তাদের আচরণ) ফেরাউনের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তীদের আচরণের ন্যায়। তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পাপের (অপরাধের) কারণে পাকড়াও করেছিলেন। আর আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। [অত্র আয়াত দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে প্রত্যেক যুগের কাফিরদের আচরণ তথা কর্মপদ্ধতি প্রায় একই। তাদের প্রধান আচরণ হচ্ছে, আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে শয়তানের হুকুম বাস্তবায়ন করা এবং আল্লাহর সাথে শত্রুতা পোষণ করা। ফলে বর্তমানেও অনেক কাফির নেতৃবৃন্দ ও ইসলাম বিদ্বেষীর কাছে ইসলামের কথা উপস্থাপন করা হলেই দেখা যায় যে, তারা সাথে সাথেই এর প্রতিবাদ করে থাকে এবং এমন ভাব ধারণ করে থাকে, যেন তারা সরাসরি মৃত্যুকে দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব আচরণ আল্লাহর কাছে মূল্যায়ন যোগ্য নয়; বরং তাদের এসব অপরাধের কারণে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেই তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন, যেরকমভাবে শাস্তি প্রদান করেছিলেন ফিরাউন ও তার অনুচরদেরকে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুক্তি অসম্ভব।
২. কুফরী একটি মারাত্মক গুনাহ।
৩. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা কোন বিনিময় গ্রহণ করবেন না।
৪. আল্লাহর আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ।
৫. কাফিররাই জাহান্নামের ইন্ধন।
৬. আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করলে তিনি তাদেরকে অনেক সময় দুনিয়াতেই পাকড়াও করে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১০. اِنَّ الَّذِيْنَ নিশ্চয় যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে لَنْ تُغْنِيَ কখনো কোন কাজে আসবে না عَنْهُمْ তাদের জন্য اَمْوَالُهُمْ তাদের ধন-সম্পদ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ এবং সন্তান-সন্ততি مِنَ اللهِ আল্লাহর থেকে شَيْئًا কিছুমাত্র। وَاُولٰٓئِكَ هُمْ আর তারাই হবে وَقُوْدُ ইন্ধন اَلنَّارِ জাহান্নামের।
১১. كَدَأْبِ আচরণের ন্যায় اٰلِ فِرْعَوْنَ ফেরাউনের বংশধর وَالَّذِيْنَ এবং যারা مِنْ قَبْلِهِمْ তাদের পূর্বে ছিল كَذَّبُوْا তারা অস্বীকার করেছিল بِاٰيَاتِنَا আমার নিদর্শনসমূহকে, فَاَخَذَهُمْ ফলে তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন اَللهُ আল্লাহ بِذُنُوْبِهِمْ তাদের পাপের কারণে । وَاللهُ আর আল্লাহ شَدِيْدُ কঠোর اَلْعِقَابِ শাস্তি দানে।
সরল অনুবাদ
১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি আল্লাহর (আযাব) থেকে (তাদেরকে বাঁচানোর ব্যাপারে) কখনো কোন কাজে আসবে না। [এখানে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কেননা কিয়ামতের দিন তো মানুষের হাতে কোন সম্পদই থাকবে না; সুতরাং সেদিন তারা কী করে এগুলোকে বিনিময় হিসেবে দেয়ার চেষ্টা করবে! আর সেদিন সকলেই থাকবে নিজ নিজ চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত। সুতরাং সন্তান-সন্ততি কীভাবে তাদের পিতামাতার উপকারে আসবে! পক্ষান্তরে দুনিয়াতে মানুষের জন্য ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিই হচ্ছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। তারা সকল পরিশ্রম এগুলোর জন্যই ব্যয় করে থাকে। বিপদাপদে এগুলোই তার জন্য কাজে আসে। এগুলোর মাধ্যমেই সে তার পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে থাকে। অথচ কিয়ামতের দিন এগুলোর কোন মূল্যই থাকবে না। বরং দুনিয়াতে এগুলোর মাধ্যমে পরকালের জন্য যে পাথেয় সংগ্রহ করেছে কিয়ামতের দিন সেগুলোই তার জন্য কাজে আসবে।] আর তারাই হবে জাহান্নামের ইন্ধন (জ্বালানী)। [ وَقُوْدُ অর্থ ইন্ধন বা জ্বালানী অর্থাৎ যা দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। কিয়ামতের দিন কাফিররাই হবে জাহান্নামের ইন্ধন।]
১১. (তাদের আচরণ) ফেরাউনের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তীদের আচরণের ন্যায়। তারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পাপের (অপরাধের) কারণে পাকড়াও করেছিলেন। আর আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। [অত্র আয়াত দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে প্রত্যেক যুগের কাফিরদের আচরণ তথা কর্মপদ্ধতি প্রায় একই। তাদের প্রধান আচরণ হচ্ছে, আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে শয়তানের হুকুম বাস্তবায়ন করা এবং আল্লাহর সাথে শত্রুতা পোষণ করা। ফলে বর্তমানেও অনেক কাফির নেতৃবৃন্দ ও ইসলাম বিদ্বেষীর কাছে ইসলামের কথা উপস্থাপন করা হলেই দেখা যায় যে, তারা সাথে সাথেই এর প্রতিবাদ করে থাকে এবং এমন ভাব ধারণ করে থাকে, যেন তারা সরাসরি মৃত্যুকে দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব আচরণ আল্লাহর কাছে মূল্যায়ন যোগ্য নয়; বরং তাদের এসব অপরাধের কারণে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেই তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন, যেরকমভাবে শাস্তি প্রদান করেছিলেন ফিরাউন ও তার অনুচরদেরকে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুক্তি অসম্ভব।
২. কুফরী একটি মারাত্মক গুনাহ।
৩. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা কোন বিনিময় গ্রহণ করবেন না।
৪. আল্লাহর আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ।
৫. কাফিররাই জাহান্নামের ইন্ধন।
৬. আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করলে তিনি তাদেরকে অনেক সময় দুনিয়াতেই পাকড়াও করে থাকেন।