১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
আয়াত : ১২ – ১৩ কাফিরদের জন্য দুঃসংবাদ ও বদর যুদ্ধের বিবরণ
قُلْ لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا سَتُغْلَبُوْنَ وَتُحْشَرُوْنَ اِلٰى جَهَنَّمَؕ وَبِئْسَ الْمِهَادُ (১২) قَدْ كَانَ لَكُمْ اٰيَةٌ فِيْ فِئَتَيْنِ الْتَقَتَاؕ فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَاُخْرٰى كَافِرَةٌ يَّرَوْنَهُمْ مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِؕ وَاللهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِه مَنْ يَّشَآءُؕ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّاُولِي الْاَبْصَارِ (১৩)
শাব্দিক অনুবাদ
১২. قُلْ তুমি বলো لِلَّذِيْنَ তাদেরকে যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে, سَتُغْلَبُوْنَ অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে وَتُحْشَرُوْنَ এবং তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে اِلٰى جَهَنَّمَ জাহান্নামের দিকে । وَبِئْسَ আর তা কতই না নিকৃষ্ট اَلْمِهَادُ বিশ্রামস্থল!
১৩. قَدْ كَانَ لَكُمْ অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে اٰيَةٌ নিদর্শন, فِيْ فِئَتَيْنِ দুটি দলের মধ্যে اِلْتَقَتَا যারা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। فِئَةٌ একটি দল تُقَاتِلُ যুদ্ধ করছিল فِيْ سَبِيْلِ اللهِ আল্লাহর পথে; وَاُخْرٰى আর অপর দলটি كَافِرَةٌ কাফির। يَرَوْنَهُمْ তারা তাদেরকে দেখছিল مِثْلَيْهِمْ তাদের দ্বিগুণ رَأْيَ الْعَيْنِ বাহ্যিক দৃষ্টিতে। وَاللهُ আর আল্লাহ يُؤَيِّدُ সাহায্য করেন بِنَصْرِه তার সাহায্যের দ্বারা مَنْ يَّشَآءُ যাকে চান তাকে। اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে لَعِبْرَةً শিক্ষা لِاُولِي الْاَبْصَارِ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ।
সরল অনুবাদ
১২. (হে নবী!) যারা কুফরী করেছে তাদেরকে বলে দাও, অচিরেই তোমরা (এ দুনিয়াতে) পরাজিত হবে এবং (পরকালে) তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
১৩. অবশ্যই তোমাদের জন্য নিদর্শন (শিক্ষণীয়) রয়েছে, দুটি দল পরস্পর মুখোমুখি হওয়ার মধ্যে (বদরের যুদ্ধে)। [বদর যুদ্ধে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে কয়েকটি হলো- (১) কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য, (২) যুদ্ধে ফেরেশতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ, (৩) যুদ্ধের মধ্যে মুসলিম বাহিনীতে প্রশান্তিদায়ক তন্দ্রার আগমন, (৪) কাফিরদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো, (৫) যুদ্ধের ময়দানে একমুষ্ঠি বালুর কণার দ্বারা কাফিরদের দৃষ্টিশক্তি হনন ইত্যাদি।] (তাদের মধ্যে) একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল; আর অপর দলটি ছিল কাফির। তারা (কাফিররা) তাদেরকে (মুমিনদেরকে) চোখের (বাহ্যিক) দৃষ্টিতে দ্বিগুণ দেখছিল। [বদর যুদ্ধের দিন কাফিরদের সংখ্যা ছিল মুসলিমদের থেকে তিন গুণের চেয়েও কিছু বেশি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের চোখের এমন বিভ্রাট ঘটিয়েছিলেন যে, তারা মুসলিম বাহিনীর দিকে দৃষ্টিপাত করে মুসলিমদেরকেই তাদের থেকে সংখ্যার দ্বিগুণ বেশি মনে করেছিল। এটি ছিল মুসলিমদের জন্য আল্লাহর আরো একটি বিরাট সাহায্য। এর কারণে কাফিররা ভীত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মনোবল কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে তারা আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে টিকতে পারেনি।] কিন্তু আল্লাহ যাকে চান তাকে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা সাহায্য করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের (জ্ঞানীদের) জন্য শিক্ষা রয়েছে। [বদর যুদ্ধে জ্ঞানবান লোকদের জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। তবে তার মধ্যে তিনটি শিক্ষা খুবই উল্লেখযোগ্য। (১) মুসলিম ও কাফিররা যেভাবে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল তাতে উভয় দলের নৈতিক ও চারিত্রিক পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। একদিকে কাফিরদের বাহিনীতে মদপানের হিড়িক চলছিল। তাদের সঙ্গে গায়িকা ও নর্তকী বাঁদীরা এসেছিল। ফলে সেনা শিবিরে যেন এক উৎসব বয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে মুসলিমদের সেনাদলে আল্লাহভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। তাদের মধ্যে ছিল চরম নৈতিক সংযম। তাদের মুখে বার বার আল্লাহর নাম উচ্চারিত হচ্ছিল এবং আল্লাহর কাছে দু‘আ ও করুণা ভিক্ষার মহড়া চলছিল। দুটি সৈন্য দল দেখে যে কোন ব্যক্তি অতি সহজেই জানতে পারতো যে, কোন দলটি আল্লাহর পথে লড়াই করছে এবং কোনটি শয়তানের অনুচর। (২) মুসলিমরা তাদের সংখ্যাস্বল্পতা ও সমরাস্ত্রের অভাব সত্ত্বেও যেভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ও উন্নত অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত সেনাদলের উপর বিজয় লাভ করলো তাতে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, তারা আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত ছিল। (৩) আল্লাহর প্রবল ক্ষমতা সম্পর্কে গাফেল হয়ে যারা নিজেদের সাজ-সরঞ্জাম ও সমর্থকদের সংখ্যাধিক্যের কারণে অহংকারে মেতে উঠেছিল, তাদের জন্য এ ঘটনাটি ছিল যথার্থই একটি চাবুকের আঘাত। আল্লাহ কিভাবে মাত্র কয়েকজন অভাবী ও প্রবাসী মুহাজির এবং মদীনার কৃষক সমাজের মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠীর দ্বারা কুরাইশদের মতো অভিজাত, শক্তিশালী ও সমগ্র আরবীয় সমাজের মধ্যমণি গোত্রকে পরাজিত করতে পারেন, তা তারা স্বচক্ষেই দেখে নিল।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. দুনিয়াতে কাফিরদের পরাজয় অতি নিশ্চিত।
২. কাফিরদের শেষ পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।
৩. জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।
৪. বদর যুদ্ধের মধ্যে মুসলিমদের জন্য অনেক শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে।
৫. বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাফিররা ছিল মুসলিমদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি।
৬. আল্লাহ তা‘আলা সর্বদা মুমিনদেরকে সাহায্য করে থাকেন।
৭. কাফিররা দুনিয়াতে সংখ্যায় ও অস্ত্রে অধিক হলেও মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।
৮. ঈমান ও আমল সঠিক থাকলে মুমিনরাই বিজয় লাভ করবে।
শাব্দিক অনুবাদ
১২. قُلْ তুমি বলো لِلَّذِيْنَ তাদেরকে যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে, سَتُغْلَبُوْنَ অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে وَتُحْشَرُوْنَ এবং তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে اِلٰى جَهَنَّمَ জাহান্নামের দিকে । وَبِئْسَ আর তা কতই না নিকৃষ্ট اَلْمِهَادُ বিশ্রামস্থল!
১৩. قَدْ كَانَ لَكُمْ অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে اٰيَةٌ নিদর্শন, فِيْ فِئَتَيْنِ দুটি দলের মধ্যে اِلْتَقَتَا যারা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। فِئَةٌ একটি দল تُقَاتِلُ যুদ্ধ করছিল فِيْ سَبِيْلِ اللهِ আল্লাহর পথে; وَاُخْرٰى আর অপর দলটি كَافِرَةٌ কাফির। يَرَوْنَهُمْ তারা তাদেরকে দেখছিল مِثْلَيْهِمْ তাদের দ্বিগুণ رَأْيَ الْعَيْنِ বাহ্যিক দৃষ্টিতে। وَاللهُ আর আল্লাহ يُؤَيِّدُ সাহায্য করেন بِنَصْرِه তার সাহায্যের দ্বারা مَنْ يَّشَآءُ যাকে চান তাকে। اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে لَعِبْرَةً শিক্ষা لِاُولِي الْاَبْصَارِ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ।
সরল অনুবাদ
১২. (হে নবী!) যারা কুফরী করেছে তাদেরকে বলে দাও, অচিরেই তোমরা (এ দুনিয়াতে) পরাজিত হবে এবং (পরকালে) তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে। আর তা কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
১৩. অবশ্যই তোমাদের জন্য নিদর্শন (শিক্ষণীয়) রয়েছে, দুটি দল পরস্পর মুখোমুখি হওয়ার মধ্যে (বদরের যুদ্ধে)। [বদর যুদ্ধে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে কয়েকটি হলো- (১) কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য, (২) যুদ্ধে ফেরেশতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ, (৩) যুদ্ধের মধ্যে মুসলিম বাহিনীতে প্রশান্তিদায়ক তন্দ্রার আগমন, (৪) কাফিরদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো, (৫) যুদ্ধের ময়দানে একমুষ্ঠি বালুর কণার দ্বারা কাফিরদের দৃষ্টিশক্তি হনন ইত্যাদি।] (তাদের মধ্যে) একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল; আর অপর দলটি ছিল কাফির। তারা (কাফিররা) তাদেরকে (মুমিনদেরকে) চোখের (বাহ্যিক) দৃষ্টিতে দ্বিগুণ দেখছিল। [বদর যুদ্ধের দিন কাফিরদের সংখ্যা ছিল মুসলিমদের থেকে তিন গুণের চেয়েও কিছু বেশি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের চোখের এমন বিভ্রাট ঘটিয়েছিলেন যে, তারা মুসলিম বাহিনীর দিকে দৃষ্টিপাত করে মুসলিমদেরকেই তাদের থেকে সংখ্যার দ্বিগুণ বেশি মনে করেছিল। এটি ছিল মুসলিমদের জন্য আল্লাহর আরো একটি বিরাট সাহায্য। এর কারণে কাফিররা ভীত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মনোবল কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে তারা আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে টিকতে পারেনি।] কিন্তু আল্লাহ যাকে চান তাকে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা সাহায্য করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের (জ্ঞানীদের) জন্য শিক্ষা রয়েছে। [বদর যুদ্ধে জ্ঞানবান লোকদের জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। তবে তার মধ্যে তিনটি শিক্ষা খুবই উল্লেখযোগ্য। (১) মুসলিম ও কাফিররা যেভাবে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল তাতে উভয় দলের নৈতিক ও চারিত্রিক পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। একদিকে কাফিরদের বাহিনীতে মদপানের হিড়িক চলছিল। তাদের সঙ্গে গায়িকা ও নর্তকী বাঁদীরা এসেছিল। ফলে সেনা শিবিরে যেন এক উৎসব বয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে মুসলিমদের সেনাদলে আল্লাহভীতি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। তাদের মধ্যে ছিল চরম নৈতিক সংযম। তাদের মুখে বার বার আল্লাহর নাম উচ্চারিত হচ্ছিল এবং আল্লাহর কাছে দু‘আ ও করুণা ভিক্ষার মহড়া চলছিল। দুটি সৈন্য দল দেখে যে কোন ব্যক্তি অতি সহজেই জানতে পারতো যে, কোন দলটি আল্লাহর পথে লড়াই করছে এবং কোনটি শয়তানের অনুচর। (২) মুসলিমরা তাদের সংখ্যাস্বল্পতা ও সমরাস্ত্রের অভাব সত্ত্বেও যেভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ও উন্নত অস্ত্র সজ্জায় সজ্জিত সেনাদলের উপর বিজয় লাভ করলো তাতে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, তারা আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত ছিল। (৩) আল্লাহর প্রবল ক্ষমতা সম্পর্কে গাফেল হয়ে যারা নিজেদের সাজ-সরঞ্জাম ও সমর্থকদের সংখ্যাধিক্যের কারণে অহংকারে মেতে উঠেছিল, তাদের জন্য এ ঘটনাটি ছিল যথার্থই একটি চাবুকের আঘাত। আল্লাহ কিভাবে মাত্র কয়েকজন অভাবী ও প্রবাসী মুহাজির এবং মদীনার কৃষক সমাজের মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠীর দ্বারা কুরাইশদের মতো অভিজাত, শক্তিশালী ও সমগ্র আরবীয় সমাজের মধ্যমণি গোত্রকে পরাজিত করতে পারেন, তা তারা স্বচক্ষেই দেখে নিল।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. দুনিয়াতে কাফিরদের পরাজয় অতি নিশ্চিত।
২. কাফিরদের শেষ পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।
৩. জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।
৪. বদর যুদ্ধের মধ্যে মুসলিমদের জন্য অনেক শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে।
৫. বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাফিররা ছিল মুসলিমদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি।
৬. আল্লাহ তা‘আলা সর্বদা মুমিনদেরকে সাহায্য করে থাকেন।
৭. কাফিররা দুনিয়াতে সংখ্যায় ও অস্ত্রে অধিক হলেও মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।
৮. ঈমান ও আমল সঠিক থাকলে মুমিনরাই বিজয় লাভ করবে।