hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

আয়াত : ৪৪ মারইয়াম (আঃ) এর অভিভাবকত্ব গ্রহণ

ذٰلِكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ الْغَيْبِ نُوْحِيْهِ اِلَيْكَؕ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ اِذْ يُلْقُوْنَ اَقْلَامَهُمْ اَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ اِذْ يَخْتَصِمُوْنَ (৪৪)

শাব্দিক অনুবাদ

৪৪. ذٰلِكَ এগুলো مِنْ اَنْۢبَآءِ সংবাদসমূহ থেকে اَلْغَيْبِ অদৃশ্যের نُوْحِيْهِ যা আমি ওহী করছি اِلَيْكَ তোমার প্রতি। وَمَا كُنْتَ আর তুমি তো ছিলে না لَدَيْهِمْ তাদের কাছে اِذْ যখন يُلْقُوْنَ তারা নিক্ষেপ করেছিল اَقْلَامَهُمْ তাদের কলমসমূহ اَيُّهُمْ তাদের মধ্যে কে يَكْفُلُ অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে مَرْيَمَ মারইয়ামের وَمَا كُنْتَ এবং তুমি তো ছিলে না لَدَيْهِمْ তাদের কাছে اِذْ যখন يَخْتَصِمُوْنَ তারা তর্ক-বিতর্ক করছিল।

সরল অনুবাদ

৪৪. (হে নবী!) এগুলো গায়েবের সংবাদ, যা আমি তোমার প্রতি ওহী (প্রত্যাদেশ) করছি। [এগুলোকে গায়েবের সংবাদ এজন্যই বলা হয়েছে যে, এসব ঘটনা সম্পর্কে সঠিক কোন জ্ঞান তৎকালীন আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খ্রিস্টান কারো কাছে ছিল না। বরং যা কিছু ছিল সেগুলো প্রকৃত ঘটনার বিকৃতরূপ। আল্লাহ তা‘আলা যদি ওহীর মাধ্যমে এসব ঘটনার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে অবগত না করতেন, তাহলে এ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা অন্য কোন মাধ্যমে সম্ভব হতো না। আর আল্লাহ তা‘আলা কোন নবী অথবা রাসূল ব্যতীত এসব বিষয়ে কাউকে অবগত করেন না। সুতরাং ওহীর মাধ্যমে এসব গায়েবের সংবাদ প্রাপ্ত হওয়াটা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর রিসালাতের সত্যতার জন্য একটি বড় প্রমাণ। অপর দিকে এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর গায়েব সম্পর্কে অবগত না থাকারও প্রমাণ। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যদি গায়েব জানতেন, তাহলে ওহীর মাধ্যমে এগুলোর জানানোর কোন প্রায়োজন ছিল না।] তুমি তো তাদের কাছে ছিলে না, যখন তাদের কলমসমূহ নিক্ষেপ করা হচ্ছিল (অর্থাৎ তারা লটারী করছিল), (এজন্য যে) কে মারইয়ামের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে এবং তুমি তো তখনও তাদের কাছে ছিলে না, যখন তারা তর্ক-বিতর্ক করছিল। [ঘটনা ছিল এই যে, মারইয়াম (আঃ) এর মাতা যখন তাঁকে আল্লাহর কাজের জন্য জন্মের পূর্বেই উৎসর্গ করে দিয়েছিল, তখন বংশের সবাই তাকে পবিত্র সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করে নিয়েছিল। এদিকে মারইয়াম (আঃ) এর জন্মের সময় তার পিতা জীবিত না থাকায়, তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে সবাই আগ্রহী ছিল। তৎকালীন যুগে আল্লাহ তা‘আলা নামে উৎসর্গিত সন্তান পালন করাকে খুবই পুণ্যের কাজ মনে করা হতো। সে কারণে মারইয়াম (আঃ)-কে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেল। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছিল যে, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে লটারীর প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকলেই জর্ডান নদীতে গিয়ে নিজেদের কলম নিক্ষেপ করে। নিয়ম ছিল, যার কলম নদীর স্রোতে ভেসে না গিয়ে স্থির থাকবে, সে-ই মারইয়ামের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অতঃপর দেখা গেল যে, কেবল যাকারিয়া (আঃ) এর কলমই নদীতে স্থির ছিল। ফলে তিনিই মারইয়াম (আঃ) এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাছাড়া এ দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি হকদার। কেননা তিনি ছিলেন মারইয়াম (আঃ) এর খালু।]

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. গায়েবের সংবাদ একমাত্র ওহী ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে জানা সম্ভব নয়।

২. মারইয়াম (আঃ) এর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য লটারী করা হয়েছিল।