hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

আয়াত : ৩১ – ৩২ আল্লাহর আনুগত্য করার নির্দেশ

قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْؕ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ (৩১) قُلْ اَطِيْعُوا اللهَ وَالرَّسُوْلَۚ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِيْنَ (৩২)

শাব্দিক অনুবাদ

৩১. قُلْ বলো اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা تُحِبُّوْنَ ভালোবাস اَللهَ আল্লাহকে فَاتَّبِعُوْنِيْ তাহলে আমার অনুসরণ করো। يُحْبِبْكُمُ তাহলে তোমাদেরকে ভালোবাসবেন اَللهُ আল্লাহ وَيَغْفِرْ لَكُمْ এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন ذُنُوْبَكُمْ তোমাদের গুনাহসমূহ। وَاللهُ আর আল্লাহ غَفُوْرٌ অতি ক্ষমাশীল رَحِيْمٌ ও পরম দয়ালু।

৩২. قُلْ বলো اَطِيْعُوا তোমরা আনুগত্য করো اَللهَ আল্লাহর وَالرَّسُوْلَ এবং রাসূলের। فَاِنْ অতঃপর যদি تَوَلَّوْا তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় فَاِنَّ তবে নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ لَا يُحِبُّ ভালোবাসেন না اَلْكَافِرِيْنَ কাফিরদেরকে।

সরল অনুবাদ

৩১. (হে নবী!) বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ করো। [আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ই দাবী করে থাকে যে, তারা আল্লাহকে ভালোবাসে এবং আল্লাহও তাদেরকে ভালোবাসেন। আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলা কেবল তাদেরকেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর তারা এই ভালোবাসা অর্জনের নামে নানা ধরনের শিরক ও বিদআতের প্রচলন ঘটিয়েছিল। যেমন- উযাইর ও ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পুত্র হিসেবে গ্রহণ করা, মারইয়াম (আঃ)-কে আল্লাহর স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়া ইত্যাদি। উপরন্তু তারা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আগমন সম্পর্কে তাওরাত ও ইঞ্জিলে ভবিষ্যদ্বাণী থাকা সত্ত্বেও তাকে অস্বীকার করত এবং তার সাথে শত্রুতা পোষণ করত। মূলত তাদের প্রায় সকল কর্ম পদ্ধতিই ছিল তাদের দাবী তথা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের বিপরীত। কেননা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে কেবল আল্লাহর নির্দেশসমূহ ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পরিপূর্ণ আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত ছিল। অত্র আয়াতে কাফিরদেরকে তাদের মিথ্যা দাবী থেকে বেরিয়ে সঠিক পন্থায় আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের প্রতি আহবান করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অত্র আয়াত বর্তমান যুগের ঐসব ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও সতর্কবাণী হিসেবে প্রযোজ্য হবে, যারা ইসলামের নামে দ্বীনের নানা ধরনের বিদআতী আমল পালন করে থাকে। সুতরাং এসব আমল কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণই বয়ে আনে। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে অনেক লোকই এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে ব্যর্থ হন।] তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। [যখন কোন বান্দা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে যথাযথভাবে ভালোবাসবে এবং কোন শিরক ও বিদআতী কর্মে লিপ্ত হবে না, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসবেন। ফলে সে ধীরে ধীরে সৎকর্মের দিকে ধাবিত হবে এবং নিজেকে জান্নাতের উপযুক্ত বানিয়ে নিতে সক্ষম হবে। আর এ অবস্থা জারি থাকলে আল্লাহ তা‘আলা ঐ বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হবেন এবং তার ছোট ছোট ভুল-ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।] আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

৩২. (আরো) বলো, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের (আনুগত্য করো)। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে (জেনে রেখো) নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. কেউ আল্লাহকে ভালোবাসলে আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।

২. আল্লাহকে ভালোবাসলে আল্লাহ তা‘আলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।

৩. আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে অবশ্যই নবী ﷺ কে ভালোবাসতে হবে।

৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা আবশ্যক।

৫. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হারাম।

৬. আল্লাহ তা‘আলা কোন কাফিরকে ভালোবাসেন না।

৭. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে উক্ত ব্যক্তি কাফির হিসেবে গণ্য হবে।

৮. কাউকে ভালোবাসলে আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের স্বার্থেই ভালোবাসা উচিত।