১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮২
আয়াত : ১৫১ – ১৫২ উহুদ যুদ্ধ প্রসঙ্গ
سَنُلْقِيْ فِيْ قُلُوْبِ الَّذِيْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَاۤ اَشْرَكُوْا بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِه سُلْطَانًاۚ وَّمَأْوَاهُمُ النَّارُؕ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِيْنَ (১৫১) وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَهٗۤ اِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِاِذْنِه ۚ حَتّٰۤى اِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْاَمْرِ وَعَصَيْتُمْ مِّنْ ۢبَعْدِ مَاۤ اَرَاكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَؕ مِنْكُمْ مَّنْ يُّرِيْدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرِيْدُ الْاٰخِرَةَۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْۚ وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْؕ وَاللهُ ذُوْ فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ (১৫২)
শাব্দিক অনুবাদ
১৫১. سَنُلْقِيْ অচিরেই আমি সঞ্চার করব فِيْ মধ্যে قُلُوْبِ অন্তরসমূহের اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوا কুফরী করেছে اَلرُّعْبَ ভীতি بِمَا কেননা اَشْرَكُوْا তারা অংশীদার স্থাপন করেছে بِاللهِ আল্লাহর সাথে; مَا لَمْ يُنَزِّلْ অথচ তিনি অবতরণ করেননি بِه এ বিষয়ে سُلْطَانًا কোন প্রমাণ। وَمَأْوَاهُمُ অতএব তাদের অবস্থানস্থল হবে اَلنَّارُ জাহান্নামই وَبِئْسَ এবং তা কতই না নিকৃষ্ট مَثْوَى বাসস্থান اَلظَّالِمِيْنَ অত্যাচারীদের জন্য!
১৫২. وَلَقَدْ আর নিশ্চয় صَدَقَكُمُ তোমাদের প্রতি সত্যে পরিণত করেছেন اَللهُ আল্লাহ وَعْدَهٗ স্বীয় অঙ্গীকার اِذْ যখন تَحُسُّوْنَهُمْ তোমরা তাদেরকে নির্মূল করছিলে بِاِذْنِه তাঁর আদেশে; حَتّٰۤى এমনকি اِذَا যখন فَشِلْتُمْ তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে وَتَنَازَعْتُمْ এবং তোমরা মতপার্থক্য করেছিলে فِي الْاَمْرِ একটি নির্দেশ সম্পর্কে। وَعَصَيْتُمْ আর তোমরা অবাধ্য হলে مِنْ ۢبَعْدِ পরও مَاۤ اَرَاكُمْ তোমাদেরকে দেখানো হয়েছিল مَا تُحِبُّوْنَ যা তোমরা ভালোবাস তা (বিজয়)। مِنْكُمْ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে مَنْ যে يُرِيْدُ কামনা করেছিল اَلدُّنْيَا দুনিয়া (গনীমত) وَمِنْكُمْ এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে مَنْ যে يُرِيْدُ কামনা করেছিল اَلْاٰخِرَةَ পরকাল। ثُمَّ অতঃপর صَرَفَكُمْ তিনি তোমাদেরকে সরিয়ে দিলেন عَنْهُمْ তাদের থেকে لِيَبْتَلِيَكُمْ তোমাদেরকে পরীক্ষার জন্য وَلَقَدْ এবং নিশ্চয় তিনি عَفَا عَنْكُمْ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। وَاللهُ আর আল্লাহ ذُوْ فَضْلٍ অনুগ্রহশীল عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ ঈমানদারদের প্রতি।
সরল অনুবাদ
১৫১. যারা কুফরী করেছে অচিরেই আমি তাদের অন্তরসমূহে ভীতি সঞ্চার করব। [অর্থাৎ কাফিররা বাহ্যিকভাবে ঈমানদারদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দুঃসাহসিকতা দেখালেও অন্তরের দিক থেকে কখনো শক্তিশালী হতে পারবে না। এ সমর্থনে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমাকে পাঁচটি এমন জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। তার মধ্যে একটি হলো, এক মাসের দূরত্বে অবস্থিত শত্রুর অন্তরে আমার ত্রাস (ভয়) ঢুকিয়ে দিয়ে আমাকে সাহায্য করা। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩৫)] কেননা তারা আল্লাহর সাথে (অন্যদেরকে) অংশীদার (বানিয়ে তাদের অনুসরণ) করেছে; অথচ এ বিষয়ে তিনি কোন প্রমাণ অবতরণ করেননি। [এখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের ভীত হওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হলো- তারা শিরক করে বেড়ায়। আর যারা শিরক করে বেড়ায়, তারা মূলত আল্লাহকে ভয় করে না; বরং নিজেদের জীবনকেই অধিক ভালোবাসে। অপরদিকে কেবল শিরক করার কারণে ভীত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাদের শিরকের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোন দলীল নেই।] অতএব জাহান্নামই হবে তাদের অবস্থানস্থল এবং তা অত্যাচারীদের জন্য কতই না নিকৃষ্টতম বাসস্থান!
১৫২. আর নিশ্চয় আল্লাহ (উহুদের ময়দানে) স্বীয় অঙ্গীকার [এখানে অঙ্গীকার বলতে ঐ অঙ্গীকারকে বুঝানো হয়েছে, কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় ও সাহায্য করার ব্যাপারে যা আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদেরকে দিয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধের প্রথম দিকে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটেছিল।] সত্যে পরিণত করেছেন- যখন তোমরা তাঁর আদেশে (যুদ্ধের প্রথমদিকে) তাদেরকে নির্মূল (হত্যা) করছিলে; (আর এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল) যতক্ষণ না তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে এবং (রাসূলের একটি বিশেষ) নির্দেশ (পালন করা) সম্পর্কে মতপার্থক্য করেছিলে। [এটি হচ্ছে উহুদ যুদ্ধের সেই অবস্থা, যখন খালিদ বিন ওয়ালিদ মুসলিমদের দুর্বলতার সুযোগে পিছন দিক থেকে আক্রমণ করে বসে এবং মুসলিমগণ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে দিশেহারা হয়ে পড়েন। উপরন্তু এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদেরকে একত্রিত হতে বললেন, সাহাবীগণ এ নির্দেশ পালনে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। ফলে অনেকেই যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করে, আবার অনেকেই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যায় এবং অনেকেই মুশরিকদের সাথে মিশে যায়। তবে কেবলমাত্র ৯ জন সাহাবী আহবান শোনার সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে একত্রিত হয় এবং মুশরিকদের আক্রমণ প্রতিহত করে। পরবর্তী আয়াতেও এই পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।] তোমরা যা ভালোবাস তা (বিজয়) তোমাদেরকে দেখানোর পরও তোমরা অবাধ্য হলে। [এটি হচ্ছে উহুদ যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থার ফলাফল, যা মুসলিমগণ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি।] (প্রকৃত বিষয় হচ্ছে) তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ দুনিয়া (গনীমত) কামনা করেছিল এবং কেউ কেউ পরকাল কামনা করেছিল। [এটি উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে মুসলিমদের বেশ কয়েকটি কৃতকর্মই চোখে পড়ার মতো। যেমন- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আদেশ অমান্য করে তীরন্দাজদের একটি দল কর্তৃক গনীমতের মাল সংগ্রহের জন্য চলে যাওয়া, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আহবানে কর্ণপাত না করে পুনরায় একত্রিত না হওয়া, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, কাফিরদের সাথে মিশ্রিত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।] অতঃপর তোমাদেরকে পরীক্ষার জন্য তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে সরিয়ে দিলেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। [অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা দেখতে পেলেন যে, কোন কোন মুসলিমের ঈমানে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে, তখন তাদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এই পরীক্ষার অবতারণা করেন। ফলে এটি পরবর্তীতে সকল মুসলিমদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়।] আর আল্লাহ ঈমানদারদের প্রতি অনুগ্রহশীল। [এখানে যে অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে, সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ। এগুলো তিনি কেবল ঈমানদার বান্দাদেরকেই দান করে থাকেন। তাদেরকে ছাড়া অন্য কেউ এ অনুগ্রহ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য নয়। এছাড়া কাফির-মুশরিকসহ সমস্ত সৃষ্টি যেসব অনুগ্রহ পেয়ে থাকে, সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সাধারণ অনুগ্রহ, যা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পৃথিবীতে বসবাসের উপকরণ হিসেবে দান করে থাকেন।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে থাকেন।
শিরক করার ব্যাপারে পৃথিবীতে কোন দলীল নেই।
মুশরিকদের শেষ পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।
আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করাটাও এক ধরনের যুলুম।
উহুদে যুদ্ধে রাসূলূল্লাহ ﷺ এর আদেশ অমান্য করাটা ছিল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
দুনিয়া লাভ তথা গনীমতের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করা বৈধ নয়।
উহুদ যুদ্ধের বিপর্যয়টি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুমিনদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ।
শাব্দিক অনুবাদ
১৫১. سَنُلْقِيْ অচিরেই আমি সঞ্চার করব فِيْ মধ্যে قُلُوْبِ অন্তরসমূহের اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوا কুফরী করেছে اَلرُّعْبَ ভীতি بِمَا কেননা اَشْرَكُوْا তারা অংশীদার স্থাপন করেছে بِاللهِ আল্লাহর সাথে; مَا لَمْ يُنَزِّلْ অথচ তিনি অবতরণ করেননি بِه এ বিষয়ে سُلْطَانًا কোন প্রমাণ। وَمَأْوَاهُمُ অতএব তাদের অবস্থানস্থল হবে اَلنَّارُ জাহান্নামই وَبِئْسَ এবং তা কতই না নিকৃষ্ট مَثْوَى বাসস্থান اَلظَّالِمِيْنَ অত্যাচারীদের জন্য!
১৫২. وَلَقَدْ আর নিশ্চয় صَدَقَكُمُ তোমাদের প্রতি সত্যে পরিণত করেছেন اَللهُ আল্লাহ وَعْدَهٗ স্বীয় অঙ্গীকার اِذْ যখন تَحُسُّوْنَهُمْ তোমরা তাদেরকে নির্মূল করছিলে بِاِذْنِه তাঁর আদেশে; حَتّٰۤى এমনকি اِذَا যখন فَشِلْتُمْ তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে وَتَنَازَعْتُمْ এবং তোমরা মতপার্থক্য করেছিলে فِي الْاَمْرِ একটি নির্দেশ সম্পর্কে। وَعَصَيْتُمْ আর তোমরা অবাধ্য হলে مِنْ ۢبَعْدِ পরও مَاۤ اَرَاكُمْ তোমাদেরকে দেখানো হয়েছিল مَا تُحِبُّوْنَ যা তোমরা ভালোবাস তা (বিজয়)। مِنْكُمْ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে مَنْ যে يُرِيْدُ কামনা করেছিল اَلدُّنْيَا দুনিয়া (গনীমত) وَمِنْكُمْ এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে مَنْ যে يُرِيْدُ কামনা করেছিল اَلْاٰخِرَةَ পরকাল। ثُمَّ অতঃপর صَرَفَكُمْ তিনি তোমাদেরকে সরিয়ে দিলেন عَنْهُمْ তাদের থেকে لِيَبْتَلِيَكُمْ তোমাদেরকে পরীক্ষার জন্য وَلَقَدْ এবং নিশ্চয় তিনি عَفَا عَنْكُمْ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। وَاللهُ আর আল্লাহ ذُوْ فَضْلٍ অনুগ্রহশীল عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ ঈমানদারদের প্রতি।
সরল অনুবাদ
১৫১. যারা কুফরী করেছে অচিরেই আমি তাদের অন্তরসমূহে ভীতি সঞ্চার করব। [অর্থাৎ কাফিররা বাহ্যিকভাবে ঈমানদারদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দুঃসাহসিকতা দেখালেও অন্তরের দিক থেকে কখনো শক্তিশালী হতে পারবে না। এ সমর্থনে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমাকে পাঁচটি এমন জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দেয়া হয়নি। তার মধ্যে একটি হলো, এক মাসের দূরত্বে অবস্থিত শত্রুর অন্তরে আমার ত্রাস (ভয়) ঢুকিয়ে দিয়ে আমাকে সাহায্য করা। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩৫)] কেননা তারা আল্লাহর সাথে (অন্যদেরকে) অংশীদার (বানিয়ে তাদের অনুসরণ) করেছে; অথচ এ বিষয়ে তিনি কোন প্রমাণ অবতরণ করেননি। [এখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের ভীত হওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হলো- তারা শিরক করে বেড়ায়। আর যারা শিরক করে বেড়ায়, তারা মূলত আল্লাহকে ভয় করে না; বরং নিজেদের জীবনকেই অধিক ভালোবাসে। অপরদিকে কেবল শিরক করার কারণে ভীত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাদের শিরকের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোন দলীল নেই।] অতএব জাহান্নামই হবে তাদের অবস্থানস্থল এবং তা অত্যাচারীদের জন্য কতই না নিকৃষ্টতম বাসস্থান!
১৫২. আর নিশ্চয় আল্লাহ (উহুদের ময়দানে) স্বীয় অঙ্গীকার [এখানে অঙ্গীকার বলতে ঐ অঙ্গীকারকে বুঝানো হয়েছে, কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় ও সাহায্য করার ব্যাপারে যা আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদেরকে দিয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধের প্রথম দিকে সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ঘটেছিল।] সত্যে পরিণত করেছেন- যখন তোমরা তাঁর আদেশে (যুদ্ধের প্রথমদিকে) তাদেরকে নির্মূল (হত্যা) করছিলে; (আর এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল) যতক্ষণ না তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে এবং (রাসূলের একটি বিশেষ) নির্দেশ (পালন করা) সম্পর্কে মতপার্থক্য করেছিলে। [এটি হচ্ছে উহুদ যুদ্ধের সেই অবস্থা, যখন খালিদ বিন ওয়ালিদ মুসলিমদের দুর্বলতার সুযোগে পিছন দিক থেকে আক্রমণ করে বসে এবং মুসলিমগণ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে দিশেহারা হয়ে পড়েন। উপরন্তু এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদেরকে একত্রিত হতে বললেন, সাহাবীগণ এ নির্দেশ পালনে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। ফলে অনেকেই যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন করে, আবার অনেকেই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যায় এবং অনেকেই মুশরিকদের সাথে মিশে যায়। তবে কেবলমাত্র ৯ জন সাহাবী আহবান শোনার সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে একত্রিত হয় এবং মুশরিকদের আক্রমণ প্রতিহত করে। পরবর্তী আয়াতেও এই পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।] তোমরা যা ভালোবাস তা (বিজয়) তোমাদেরকে দেখানোর পরও তোমরা অবাধ্য হলে। [এটি হচ্ছে উহুদ যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থার ফলাফল, যা মুসলিমগণ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি।] (প্রকৃত বিষয় হচ্ছে) তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ দুনিয়া (গনীমত) কামনা করেছিল এবং কেউ কেউ পরকাল কামনা করেছিল। [এটি উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে মুসলিমদের বেশ কয়েকটি কৃতকর্মই চোখে পড়ার মতো। যেমন- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আদেশ অমান্য করে তীরন্দাজদের একটি দল কর্তৃক গনীমতের মাল সংগ্রহের জন্য চলে যাওয়া, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আহবানে কর্ণপাত না করে পুনরায় একত্রিত না হওয়া, যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, কাফিরদের সাথে মিশ্রিত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।] অতঃপর তোমাদেরকে পরীক্ষার জন্য তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে সরিয়ে দিলেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। [অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা দেখতে পেলেন যে, কোন কোন মুসলিমের ঈমানে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে, তখন তাদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এই পরীক্ষার অবতারণা করেন। ফলে এটি পরবর্তীতে সকল মুসলিমদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়।] আর আল্লাহ ঈমানদারদের প্রতি অনুগ্রহশীল। [এখানে যে অনুগ্রহের কথা বলা হয়েছে, সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ। এগুলো তিনি কেবল ঈমানদার বান্দাদেরকেই দান করে থাকেন। তাদেরকে ছাড়া অন্য কেউ এ অনুগ্রহ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য নয়। এছাড়া কাফির-মুশরিকসহ সমস্ত সৃষ্টি যেসব অনুগ্রহ পেয়ে থাকে, সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সাধারণ অনুগ্রহ, যা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পৃথিবীতে বসবাসের উপকরণ হিসেবে দান করে থাকেন।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে থাকেন।
শিরক করার ব্যাপারে পৃথিবীতে কোন দলীল নেই।
মুশরিকদের শেষ পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।
আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করাটাও এক ধরনের যুলুম।
উহুদে যুদ্ধে রাসূলূল্লাহ ﷺ এর আদেশ অমান্য করাটা ছিল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
দুনিয়া লাভ তথা গনীমতের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করা বৈধ নয়।
উহুদ যুদ্ধের বিপর্যয়টি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুমিনদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ।