১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৪
আয়াত : ১৯৬ – ১৯৮ দুনিয়ার সুখ-সম্ভোগ না পাওয়ার ব্যাপারে সান্ত্বনা
لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا فِي الْبِلَادِ (১৯৬) مَتَاعٌ قَلِيْلٌ۫ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُؕ وَبِئْسَ الْمِهَادُ (১৯৭) لٰكِنِ الَّذِيْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللهِؕ وَمَا عِنْدَ اللهِ خَيْرٌ لِّلْاَبْرَارِ (১৯৮)
শাব্দিক অনুবাদ
১৯৬. لَا يَغُرَّنَّكَ তোমাকে যেন প্রতারিত না করে تَقَلُّبُ তাদের বিচরণ اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে فِي الْبِلَادِ শহরসমূহে।
১৯৭. مَتَاعٌ (এগুলো) সম্ভোগ মাত্র قَلِيْلٌ সামান্য; ثُمَّ অতঃপর مَأْوَاهُمْ তাদের ঠিকানা হবে جَهَنَّمُ জাহান্নাম। وَبِئْسَ আর তা কতইনা নিকৃষ্ট اَلْمِهَادُ বিশ্রামস্থল!
১৯৮. لٰكِنِ কিন্তু اَلَّذِيْنَ যারা اِتَّقَوْا ভয় করে رَبَّهُمْ নিজেদের প্রতিপালককে, لَهُمْ তাদের জন্য রয়েছে جَنَّاتٌ এমন জান্নাতসমূহ, تَجْرِيْ প্রবাহিত রয়েছে مِنْ تَحْتِهَا যার তলদেশ দিয়ে اَلْاَنْهَارُ নদীসমূহ । خَالِدِيْنَ তারা চিরস্থায়ী হবে فِيْهَا সেখানে نُزُلًا এটা অতিথেয়তা مِنْ عِنْدِ নিকট থেকে اَللهِ আল্লাহর; وَمَا আর যা কিছু রয়েছে عِنْدَ اللهِ আল্লাহর নিকট خَيْر যেগুলো উত্তম لِلْاَبْرَارِ পুণ্যবানদের জন্য।
সরল অনুবাদ
১৯৬. (হে মুহাম্মাদ!) যারা কুফরী করেছে শহরসমূহে তাদের (অবাধ) বিচরণ যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। [এখানে পৃথিবীতে কাফিরদের বিচরণ বলতে তাদের আর্থিক ও ক্ষমতার প্রাচুর্যতাকে বুঝানো হয়েছে- যার কারণে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গোটা পৃথিবীতে অবাধে চলাফেরা করতে পারে এবং সকল ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর সাধারণ লোকেরা তাদের এসব প্রাচুর্যতা দেখে ভীষণভাবে লালায়িত হয়- এমনকি তা পাওয়ার আশায় নিজের ঈমান হারানোর উপক্রম হয় অথবা ঈমান বিসর্জন দেয়। ফলে আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সতর্ক করার মাধ্যমে গোটা মুসলিম উম্মাহকে এই ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। যাতে করে কোন মুসলিম দুনিয়ার ধন-সম্পদের প্রতারণার ফাঁদে আটকা না পড়ে এবং নিজেদের ঈমানকে আরো মজবুত করে নিতে পারে। আর তাদের এসব প্রাচুর্যতার মূল রহস্য আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী আয়াতেই বর্ণনা করে দিয়েছেন।]
১৯৭. (কেননা এসব কিছু হচ্ছে) সামান্য (কয়েকদিনের) সম্ভোগ মাত্র [অর্থাৎ কাফিরদের এসব প্রাচুর্যতা সামান্য কয়েক দিনের জন্য তথা কেবল দুনিয়ার জীবনের জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য তাদের কিছুই নেই। অপরদিকে দুনিয়ার জীবনে এগুলো তাদের কাছে যত বেশিই সংরক্ষিত থাকুক না কেন, জান্নাতের নিয়ামতের তুলনায় এগুলো একেবারেই সামান্য। যেহেতু পরকালে তাদের জন্য কোন অংশ নেই, সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এগুলো দান করেছেন। যাতে করে দুনিয়াটাকেই তারা জান্নাত হিসেবে উপভোগ করে নিতে পারে।]; অতঃপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
১৯৮. কিন্তু যারা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত রয়েছে। সেখানে তারা সর্বদাই অবস্থান করবে, এটা আল্লাহর নিকট থেকে (তাদের জন্য) আতিথেয়তা; আর আল্লাহর নিকট যেসব বস্তু (পুরস্কার হিসেবে) রয়েছে তা পুণ্যবানদের জন্য বহুগুণে উত্তম। [অর্থাৎ কাফিরদের প্রাচুর্যতার বিপরীতে যারা-ই অসচ্ছল জীবনযাপন করবে এবং প্রাচুর্যতা পেয়েও আল্লাহকে ভয় করে সেগুলো আল্লাহর পথেই ব্যয় করবে, তারাই জাহান্নামের বিপরীতে জান্নাত লাভ করার মাধ্যমে মহা পুরস্কারে ভূষিত হবে। সুতরাং এটি দুনিয়ার জীবনে প্রাপ্ত কাফিরদের পুরস্কারের চেয়ে অনেক উৎকৃষ্ট।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. দুনিয়াতে কাফিরদের চলাফেরা দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না।
২. দুনিয়া কাফিরদের জন্য সম্ভোগের ক্ষেত্র মাত্র।
৩. আল্লাহকে ভয় করলে জান্নাত লাভ করা যাবে।
শাব্দিক অনুবাদ
১৯৬. لَا يَغُرَّنَّكَ তোমাকে যেন প্রতারিত না করে تَقَلُّبُ তাদের বিচরণ اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে فِي الْبِلَادِ শহরসমূহে।
১৯৭. مَتَاعٌ (এগুলো) সম্ভোগ মাত্র قَلِيْلٌ সামান্য; ثُمَّ অতঃপর مَأْوَاهُمْ তাদের ঠিকানা হবে جَهَنَّمُ জাহান্নাম। وَبِئْسَ আর তা কতইনা নিকৃষ্ট اَلْمِهَادُ বিশ্রামস্থল!
১৯৮. لٰكِنِ কিন্তু اَلَّذِيْنَ যারা اِتَّقَوْا ভয় করে رَبَّهُمْ নিজেদের প্রতিপালককে, لَهُمْ তাদের জন্য রয়েছে جَنَّاتٌ এমন জান্নাতসমূহ, تَجْرِيْ প্রবাহিত রয়েছে مِنْ تَحْتِهَا যার তলদেশ দিয়ে اَلْاَنْهَارُ নদীসমূহ । خَالِدِيْنَ তারা চিরস্থায়ী হবে فِيْهَا সেখানে نُزُلًا এটা অতিথেয়তা مِنْ عِنْدِ নিকট থেকে اَللهِ আল্লাহর; وَمَا আর যা কিছু রয়েছে عِنْدَ اللهِ আল্লাহর নিকট خَيْر যেগুলো উত্তম لِلْاَبْرَارِ পুণ্যবানদের জন্য।
সরল অনুবাদ
১৯৬. (হে মুহাম্মাদ!) যারা কুফরী করেছে শহরসমূহে তাদের (অবাধ) বিচরণ যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। [এখানে পৃথিবীতে কাফিরদের বিচরণ বলতে তাদের আর্থিক ও ক্ষমতার প্রাচুর্যতাকে বুঝানো হয়েছে- যার কারণে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গোটা পৃথিবীতে অবাধে চলাফেরা করতে পারে এবং সকল ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর সাধারণ লোকেরা তাদের এসব প্রাচুর্যতা দেখে ভীষণভাবে লালায়িত হয়- এমনকি তা পাওয়ার আশায় নিজের ঈমান হারানোর উপক্রম হয় অথবা ঈমান বিসর্জন দেয়। ফলে আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সতর্ক করার মাধ্যমে গোটা মুসলিম উম্মাহকে এই ধ্বংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। যাতে করে কোন মুসলিম দুনিয়ার ধন-সম্পদের প্রতারণার ফাঁদে আটকা না পড়ে এবং নিজেদের ঈমানকে আরো মজবুত করে নিতে পারে। আর তাদের এসব প্রাচুর্যতার মূল রহস্য আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী আয়াতেই বর্ণনা করে দিয়েছেন।]
১৯৭. (কেননা এসব কিছু হচ্ছে) সামান্য (কয়েকদিনের) সম্ভোগ মাত্র [অর্থাৎ কাফিরদের এসব প্রাচুর্যতা সামান্য কয়েক দিনের জন্য তথা কেবল দুনিয়ার জীবনের জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য তাদের কিছুই নেই। অপরদিকে দুনিয়ার জীবনে এগুলো তাদের কাছে যত বেশিই সংরক্ষিত থাকুক না কেন, জান্নাতের নিয়ামতের তুলনায় এগুলো একেবারেই সামান্য। যেহেতু পরকালে তাদের জন্য কোন অংশ নেই, সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এগুলো দান করেছেন। যাতে করে দুনিয়াটাকেই তারা জান্নাত হিসেবে উপভোগ করে নিতে পারে।]; অতঃপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!
১৯৮. কিন্তু যারা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত রয়েছে। সেখানে তারা সর্বদাই অবস্থান করবে, এটা আল্লাহর নিকট থেকে (তাদের জন্য) আতিথেয়তা; আর আল্লাহর নিকট যেসব বস্তু (পুরস্কার হিসেবে) রয়েছে তা পুণ্যবানদের জন্য বহুগুণে উত্তম। [অর্থাৎ কাফিরদের প্রাচুর্যতার বিপরীতে যারা-ই অসচ্ছল জীবনযাপন করবে এবং প্রাচুর্যতা পেয়েও আল্লাহকে ভয় করে সেগুলো আল্লাহর পথেই ব্যয় করবে, তারাই জাহান্নামের বিপরীতে জান্নাত লাভ করার মাধ্যমে মহা পুরস্কারে ভূষিত হবে। সুতরাং এটি দুনিয়ার জীবনে প্রাপ্ত কাফিরদের পুরস্কারের চেয়ে অনেক উৎকৃষ্ট।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. দুনিয়াতে কাফিরদের চলাফেরা দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না।
২. দুনিয়া কাফিরদের জন্য সম্ভোগের ক্ষেত্র মাত্র।
৩. আল্লাহকে ভয় করলে জান্নাত লাভ করা যাবে।