১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৪
আয়াত : ১৫৪ – ১৫৫ যুদ্ধক্ষেত্রে তন্দ্রা আসা প্রসঙ্গ
ثُمَّ اَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِّنْ ۢبَعْدِ الْغَمِّ اَمَنَةً نُّعَاسًا يَّغْشٰى طَآئِفَةً مِّنْكُمْ وَطَآئِفَةٌ قَدْ اَهَمَّتْهُمْ اَنْفُسُهُمْ يَظُنُّوْنَ بِاللهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِؕ يَقُوْلُوْنَ هَلْ لَّنَا مِنَ الْاَمْرِ مِنْ شَيْءٍؕ قُلْ اِنَّ الْاَمْرَ كُلَّه لِلّٰهِؕ يُخْفُوْنَ فِيْۤ اَنْفُسِهِمْ مَّا لَا يُبْدُوْنَ لَكَؕ يَقُوْلُوْنَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْاَمْرِ شَيْءٌ مَّا قُتِلْنَا هَاهُنَاؕ قُلْ لَّوْ كُنْتُمْ فِيْ بُيُوْتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِيْنَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ اِلٰى مَضَاجِعِهِمْۚ وَلِيَبْتَلِيَ اللهُ مَا فِيْ صُدُوْرِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِيْ قُلُوْبِكُمْؕ وَاللهُ عَلِيْمٌ ۢبِذَاتِ الصُّدُوْرِ (১৫৪) اِنَّ الَّذِيْنَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ اِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوْاۚ وَلَقَدْ عَفَا اللهُ عَنْهُمْؕ اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ حَلِيْمٌ (১৫৫)
শাব্দিক অনুবাদ
১৫৪. ثُمَّ অতঃপর اَنْزَلَ তিনি অবতীর্ণ করলেন عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর مِنْ ۢبَعْدِ الْغَمِّ দুঃখের পর থেকে اَمَنَةً প্রশান্তি نُعَاسًا তন্দ্রাস্বরূপ, يَغْشٰى যা আচ্ছন্ন করেছিল طَآئِفَةً একটি দলকে مِنْكُمْ তোমাদের মধ্য হতে। وَطَآئِفَةٌ আর একদল (মুনাফিকরা) قَدْ اَهَمَّتْهُمْ তারা চিন্তান্বিত করছিল اَنْفُسُهُمْ তাদের নিজেদেরকেই, يَظُنُّوْنَ তারা ধারণা পোষণ করে بِاللهِ আল্লাহ সম্পর্কে غَيْرَ ছাড়া اَلْحَقِّ সত্য ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ জাহিলী (যুগের) ধারণার মতো। يَقُوْلُوْنَ এমনকি তারা বলতে থাকে যে, هَلْ আছে কি لَنَا আমাদের জন্য مِنَ الْاَمْرِ এ বিষয়ে مِنْ شَيْءٍ কোন কিছু? قُلْ বলো, اِنَّ নিশ্চয় اَلْاَمْرَ বিষয় كُلَّه সকল لِلّٰهِ আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)। يُخْفُوْنَ তারা (এমন কিছু) গোপন রাখে فِيْۤ اَنْفُسِهِمْ নিজেদের অন্তরে, مَّا لَا يُبْدُوْنَ যা তারা প্রকাশ করে না لَكَ তোমার নিকট। يَقُوْلُوْنَ তারা বলে, لَوْ যদি كَانَ থাকত لَنَا আমাদের مِنَ الْاَمْرِ এ বিষয়ে شَيْءٌ কোন কিছু (ইখতিয়ার), مَا قُتِلْنَا তবে আমরা নিহত হতাম না هَاهُنَا এখানে। قُلْ বলো, لَوْ যদি كُنْتُمْ তোমরা থাকতে فِيْ بُيُوْتِكُمْ তোমাদের গৃহের মধ্যেও, لَبَرَزَ তবুও অবশ্যই বের হয়ে যেত اَلَّذِيْنَ যাদের প্রতি كُتِبَ নির্ধারিত হয়েছে عَلَيْهِمُ তাদের উপর اَلْقَتْلُ হত্যা (নিহত হওয়া) اِلٰى مَضَاجِعِهِمْ তারা স্বীয় মৃত্যুস্থানে। وَلِيَبْتَلِيَ আর যাতে পরীক্ষা করতে পারেন اَللهُ আল্লাহ مَا যা আছে فِيْ صُدُوْرِكُمْ তোমাদের অন্তরের মধ্যে وَلِيُمَحِّصَ এবং পরিশুদ্ধ করতে পারেন مَا যা আছে فِيْ قُلُوْبِكُمْ তোমাদের অন্তরে। وَاللهُ আর আল্লাহ عَلِيْمٌ ভালোভাবে অবগত بِذَاتِ বিষয় সম্পর্কে اَلصُّدُوْرِ অন্তরসমূহের।
১৫৫. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা تَوَلَّوْا পেছনে ফিরে গিয়েছিল مِنْكُمْ তোমাদের মধ্যে থেকে يَوْمَ الْتَقَى সম্মুখীন হওয়ার দিন اَلْجَمْعَانِ দু’দলের, اِنَّمَا নিশ্চয় اِسْتَزَلَّهُمُ তাদেরকে প্রতারিত করেছিল اَلشَّيْطَانُ শয়তান بِبَعْضِ কোন কোন বিষয়ে مَا كَسَبُوْا তারা যা অর্জন করেছিল; وَلَقَدْ অতঃপর عَفَا ক্ষমা করে দিলেন اَللهُ আল্লাহ عَنْهُمْ তাদেরকে। اِنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ غَفُوْرٌ অতি ক্ষমাশীল حَلِيْمٌ পরম সহিষ্ণু।
সরল অনুবাদ
১৫৪. অতঃপর তিনি দুঃখের পর তোমাদের উপর তন্দ্রাস্বরূপ প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা তোমাদের এক দলকে (মুমিনদেরকে) আচ্ছন্ন করেছিল। [এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলিমদের উপর ভিন্নধর্মী আরো একটি অনুগ্রহ। আবু তালহা (রাঃ) বলেন, উহুদের দিন যাদের উপর তন্দ্রার ভাব সৃষ্টি হয়েছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। সেদিন বারবার আমার তরবারি আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল এবং আমি তা তুলে নিচ্ছিলাম। (তিরমিযী, হা/৩০০৮)অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখলাম যে, সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নিজ নিজ ঢালের নিচে ঢলে পড়েছেন। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন। (তিরমিযী, হা/৩০০৭)] আর একদল (মুনাফিকরা) নিজেদের জীবনের ব্যাপারে চিন্তা করছিল; [আবু তালহা (রাঃ) বলেন, এটি ছিল মুনাফিকদের দল। তাদের নিজেদের জানের চিন্তা ছাড়া অন্য কোন চিন্তাই ছিল না। এরা ছিল সবচেয়ে কাপুরুষ ও ভীরু এবং সত্যের সাহায্য ত্যাগকারী। (তিরমিযী, হা/৩০০৮)] তারা তাদের জাহিলী ধারণা অনুযায়ী আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা করছিল। এমনকি তারা বলতে থাকে যে, এ ব্যাপারে (যুদ্ধে বের হওয়ার ব্যাপারে) আমাদের কোন (ইখতিয়ার) আছে কি? (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, সকল বিষয় আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)। তারা নিজেদের অন্তরে (এমন কিছু) গোপন রাখে, যা তারা তোমার নিকট প্রকাশ করে না। তারা বলে, যদি এ বিষয়ে আমাদের কোন (ইখতিয়ার) থাকত, তবে এখানে আমরা নিহত হতাম না। (তাদেরকে) বলে দাও, যদি তোমরা তোমাদের গৃহের মধ্যেও থাকতে, তবুও যাদের প্রতি নিহত হওয়া নির্ধারিত হয়েছে, তারা স্বীয় মৃত্যুস্থানে এসে উপস্থিত হতো। আর (এটা এজন্য) যে, যাতে তোমাদের অন্তরের মধ্যে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করতে পারেন এবং তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরিশুদ্ধও করতে পারেন। আর অন্তরসমূহে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ ভালোভাবে জানেন।
১৫৫. নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যারা দু’দলের সম্মুখীন হওয়ার দিন (উহুদ যুদ্ধে) পেছনে ফিরে গিয়েছিল, তারা যা অর্জন করেছিল তার কোন কোন বিষয়ের ব্যাপারে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করেছিল [অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যে ঈমানী দুর্বলতা ছিল, শয়তান সেই সুযোগটিই গ্রহণ করেছিল। অতঃপর শয়তান তোমাদেরকে পদস্খলন করে তোমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল।]; অতঃপর (তারা অনুতপ্ত হলে) আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। [সুতরাং এসব অপরাধের জন্য তাদেরকে আর কখনো তিরস্কার করা যাবে না এবং তাদের ব্যাপারে কোনরূপ অন্যায় মন্তব্য করা যাবে না।] নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম সহিঞ্চু।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
যুদ্ধক্ষেত্রে তন্দ্রা আসাটা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রশান্তিস্বরূপ।
মৃত্যু দেখলেও আল্লাহর পথে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
কোন ক্রমেই আল্লাহর বিরুদ্ধে খারাপ ধারণা পোষণ করা যাবে না।
প্রত্যেকের মৃত্যুর স্থান পূর্ব হতেই নির্ধারিত।
যুদ্ধ ঈমানদারদের থেকে মুনাফিকদেরকে পৃথক করে দেয়।
মানুষ শয়তানের প্রতারণার কারণেই পাপকর্মে লিপ্ত হয়।
শয়তান মানুষকে প্রতারণা করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
যে কোন পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করলে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১৫৪. ثُمَّ অতঃপর اَنْزَلَ তিনি অবতীর্ণ করলেন عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর مِنْ ۢبَعْدِ الْغَمِّ দুঃখের পর থেকে اَمَنَةً প্রশান্তি نُعَاسًا তন্দ্রাস্বরূপ, يَغْشٰى যা আচ্ছন্ন করেছিল طَآئِفَةً একটি দলকে مِنْكُمْ তোমাদের মধ্য হতে। وَطَآئِفَةٌ আর একদল (মুনাফিকরা) قَدْ اَهَمَّتْهُمْ তারা চিন্তান্বিত করছিল اَنْفُسُهُمْ তাদের নিজেদেরকেই, يَظُنُّوْنَ তারা ধারণা পোষণ করে بِاللهِ আল্লাহ সম্পর্কে غَيْرَ ছাড়া اَلْحَقِّ সত্য ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ জাহিলী (যুগের) ধারণার মতো। يَقُوْلُوْنَ এমনকি তারা বলতে থাকে যে, هَلْ আছে কি لَنَا আমাদের জন্য مِنَ الْاَمْرِ এ বিষয়ে مِنْ شَيْءٍ কোন কিছু? قُلْ বলো, اِنَّ নিশ্চয় اَلْاَمْرَ বিষয় كُلَّه সকল لِلّٰهِ আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)। يُخْفُوْنَ তারা (এমন কিছু) গোপন রাখে فِيْۤ اَنْفُسِهِمْ নিজেদের অন্তরে, مَّا لَا يُبْدُوْنَ যা তারা প্রকাশ করে না لَكَ তোমার নিকট। يَقُوْلُوْنَ তারা বলে, لَوْ যদি كَانَ থাকত لَنَا আমাদের مِنَ الْاَمْرِ এ বিষয়ে شَيْءٌ কোন কিছু (ইখতিয়ার), مَا قُتِلْنَا তবে আমরা নিহত হতাম না هَاهُنَا এখানে। قُلْ বলো, لَوْ যদি كُنْتُمْ তোমরা থাকতে فِيْ بُيُوْتِكُمْ তোমাদের গৃহের মধ্যেও, لَبَرَزَ তবুও অবশ্যই বের হয়ে যেত اَلَّذِيْنَ যাদের প্রতি كُتِبَ নির্ধারিত হয়েছে عَلَيْهِمُ তাদের উপর اَلْقَتْلُ হত্যা (নিহত হওয়া) اِلٰى مَضَاجِعِهِمْ তারা স্বীয় মৃত্যুস্থানে। وَلِيَبْتَلِيَ আর যাতে পরীক্ষা করতে পারেন اَللهُ আল্লাহ مَا যা আছে فِيْ صُدُوْرِكُمْ তোমাদের অন্তরের মধ্যে وَلِيُمَحِّصَ এবং পরিশুদ্ধ করতে পারেন مَا যা আছে فِيْ قُلُوْبِكُمْ তোমাদের অন্তরে। وَاللهُ আর আল্লাহ عَلِيْمٌ ভালোভাবে অবগত بِذَاتِ বিষয় সম্পর্কে اَلصُّدُوْرِ অন্তরসমূহের।
১৫৫. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা تَوَلَّوْا পেছনে ফিরে গিয়েছিল مِنْكُمْ তোমাদের মধ্যে থেকে يَوْمَ الْتَقَى সম্মুখীন হওয়ার দিন اَلْجَمْعَانِ দু’দলের, اِنَّمَا নিশ্চয় اِسْتَزَلَّهُمُ তাদেরকে প্রতারিত করেছিল اَلشَّيْطَانُ শয়তান بِبَعْضِ কোন কোন বিষয়ে مَا كَسَبُوْا তারা যা অর্জন করেছিল; وَلَقَدْ অতঃপর عَفَا ক্ষমা করে দিলেন اَللهُ আল্লাহ عَنْهُمْ তাদেরকে। اِنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ غَفُوْرٌ অতি ক্ষমাশীল حَلِيْمٌ পরম সহিষ্ণু।
সরল অনুবাদ
১৫৪. অতঃপর তিনি দুঃখের পর তোমাদের উপর তন্দ্রাস্বরূপ প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা তোমাদের এক দলকে (মুমিনদেরকে) আচ্ছন্ন করেছিল। [এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলিমদের উপর ভিন্নধর্মী আরো একটি অনুগ্রহ। আবু তালহা (রাঃ) বলেন, উহুদের দিন যাদের উপর তন্দ্রার ভাব সৃষ্টি হয়েছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। সেদিন বারবার আমার তরবারি আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল এবং আমি তা তুলে নিচ্ছিলাম। (তিরমিযী, হা/৩০০৮)অপর বর্ণনায় তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখলাম যে, সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নিজ নিজ ঢালের নিচে ঢলে পড়েছেন। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন। (তিরমিযী, হা/৩০০৭)] আর একদল (মুনাফিকরা) নিজেদের জীবনের ব্যাপারে চিন্তা করছিল; [আবু তালহা (রাঃ) বলেন, এটি ছিল মুনাফিকদের দল। তাদের নিজেদের জানের চিন্তা ছাড়া অন্য কোন চিন্তাই ছিল না। এরা ছিল সবচেয়ে কাপুরুষ ও ভীরু এবং সত্যের সাহায্য ত্যাগকারী। (তিরমিযী, হা/৩০০৮)] তারা তাদের জাহিলী ধারণা অনুযায়ী আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা করছিল। এমনকি তারা বলতে থাকে যে, এ ব্যাপারে (যুদ্ধে বের হওয়ার ব্যাপারে) আমাদের কোন (ইখতিয়ার) আছে কি? (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, সকল বিষয় আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)। তারা নিজেদের অন্তরে (এমন কিছু) গোপন রাখে, যা তারা তোমার নিকট প্রকাশ করে না। তারা বলে, যদি এ বিষয়ে আমাদের কোন (ইখতিয়ার) থাকত, তবে এখানে আমরা নিহত হতাম না। (তাদেরকে) বলে দাও, যদি তোমরা তোমাদের গৃহের মধ্যেও থাকতে, তবুও যাদের প্রতি নিহত হওয়া নির্ধারিত হয়েছে, তারা স্বীয় মৃত্যুস্থানে এসে উপস্থিত হতো। আর (এটা এজন্য) যে, যাতে তোমাদের অন্তরের মধ্যে যা আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করতে পারেন এবং তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরিশুদ্ধও করতে পারেন। আর অন্তরসমূহে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ ভালোভাবে জানেন।
১৫৫. নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যারা দু’দলের সম্মুখীন হওয়ার দিন (উহুদ যুদ্ধে) পেছনে ফিরে গিয়েছিল, তারা যা অর্জন করেছিল তার কোন কোন বিষয়ের ব্যাপারে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করেছিল [অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যে ঈমানী দুর্বলতা ছিল, শয়তান সেই সুযোগটিই গ্রহণ করেছিল। অতঃপর শয়তান তোমাদেরকে পদস্খলন করে তোমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল।]; অতঃপর (তারা অনুতপ্ত হলে) আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। [সুতরাং এসব অপরাধের জন্য তাদেরকে আর কখনো তিরস্কার করা যাবে না এবং তাদের ব্যাপারে কোনরূপ অন্যায় মন্তব্য করা যাবে না।] নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও পরম সহিঞ্চু।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
যুদ্ধক্ষেত্রে তন্দ্রা আসাটা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রশান্তিস্বরূপ।
মৃত্যু দেখলেও আল্লাহর পথে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
কোন ক্রমেই আল্লাহর বিরুদ্ধে খারাপ ধারণা পোষণ করা যাবে না।
প্রত্যেকের মৃত্যুর স্থান পূর্ব হতেই নির্ধারিত।
যুদ্ধ ঈমানদারদের থেকে মুনাফিকদেরকে পৃথক করে দেয়।
মানুষ শয়তানের প্রতারণার কারণেই পাপকর্মে লিপ্ত হয়।
শয়তান মানুষকে প্রতারণা করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
যে কোন পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করলে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে থাকেন।