১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৭
আয়াত : ১১৮ মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ
يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَأْلُوْنَكُمْ خَبَالًاؕ وَّدُّوْا مَا عَنِتُّمْۚ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَآءُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْۚ وَمَا تُخْفِيْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُؕ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْاٰيَاتِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ (১১৮)
শাব্দিক অনুবাদ
১১৮. يَاۤ اَيُّهَا ওহে اَلَّذِيْنَ যারা اٰمَنُوْا ঈমান আনয়ন করেছো! لَا تَتَّخِذُوْا তোমরা গ্রহণ করো না بِطَانَةً অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে مِنْ دُوْنِكُمْ নিজেদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে। لَا يَأْلُوْنَكُمْ তারা তোমাদের ব্যাপারে পরোয়া করবে না خَبَالًا সর্বনাশ করতে। وَدُّوْا তারা কামনা করে, مَا عَنِتُّمْ যা তোমাদেরকে কষ্ট দেয়। قَدْ بَدَتِ প্রকাশ পেয়েছে اَلْبَغْضَآءُ বিদ্বেষ مِنْ থেকেই اَفْوَاهِهِمْ তাদের মুখ; وَمَا আর যা কিছু تُخْفِيْ লুকিয়ে রাখে صُدُوْرُهُمْ তাদের অন্তরসমূহ اَكْبَرُ তা আরো জঘন্য। قَدْ بَيَّنَّا অবশ্যই আমি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি لَكُمُ তোমাদের জন্য اَلْاٰيَاتِ নিদর্শনসমূহ اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা تَعْقِلُوْنَ অনুধাবন করতে পার।
সরল অনুবাদ
১১৮. হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। (কেননা তুমি তাদের কল্যাণ কামনা করলেও) তারা তোমাদের সর্বনাশ করতে পরোয়া করবে না। তারা তোমাদের ব্যাপারে তাই কামনা করে, যা তোমাদেরকে কষ্ট দেয়। (তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের) বিদ্বেষটি তাদের মুখ থেকেই প্রকাশ পেয়েছে; আর তাদের অন্তরসমূহ যা লুকিয়ে রাখে তা আরো জঘন্য। অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি- যদি তোমরা অনুধাবন করতে পার। [মদীনার আশেপাশে ইহুদী বসবাস করতো। আওস ও খাজরায গোত্রের লোকদের সাথে প্রাচীনকাল থেকে তাদের বন্ধুত্ব চলে আসছিল। সুতরাং তারা ছিল গোত্রীয়ভাবে পরস্পরের প্রতিবেশী ও সহযোগী। এই সুবাধে উভয় গোত্রের লোকেরা ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতো- এমনকি তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়ার পরও ইহুদীদের সাথে তাদের সেই পুরাতন সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু নবী (সাঃ) ও তাঁর মিশনের বিরুদ্ধে ইহুদীদের মধ্যে যে শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল, তার কারণে তারা এ নতুন আন্দোলনে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে প্রস্তুত ছিল না। ফলে তারা আনসারদের সাথে বাহ্যত আগের সম্পর্ক বজায় রাখলেও, মনে মনে তারা তাদের চরম শত্রু হয়ে গিয়েছিল। ইহুদীরা তাদের এ বাহ্যিক বন্ধুত্বকে ব্যবহার করে মুসলিমদের জামাআতে আভ্যন্তরীণ ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টি করার এবং তাদের জামাআতের গোপন বিষয়গুলোর খবর সংগ্রহ করে শত্রুদের হাতে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য সর্বক্ষণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতটি নাযিল করে তাদের এই কুকর্মের ব্যাপারে মুসলিমদেরকে সাবধান করে দেন এবং তাদের এই সুযোগটি চিরতরে বন্ধ করে দেন।এই আয়াতের ভিত্তিতেই অনেক আলেম ফতোওয়া প্রদান করেন যে, অমুসলিমদেরকে মুসলিম রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা বৈধ নয়। (আহসানুল বয়ান ১২৬ পৃঃ)বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলার এই নির্দেশনাটি তারা ভুলেই গেছে। তারা রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অমুসলিদেরকে বসিয়ে রেখেছে এবং তাদের উপরই আস্থা পোষণ করছে- যারা তিলে তিলে মুসলিমদেরকে ধ্বংসের পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরই সুবাধে তারা মুসলিমদের মধ্যে প্রবেশ করছে এবং তাদের আদর্শ বিধ্বংসী নানা ধরনের অস্ত্র যেমন- অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, বাদ্যযন্ত্র, নতর্কী, পর্নোগ্রাফী, অমুসলিম মিশনারী, সুদ, ঘুষ, দুনিয়া বিলাসিতা, নাস্তিকতা ইত্যাদি মুসলিমদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কোন কাফিরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
২. কাফিররা মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করতে কোনরূপ পরোয়া করে না।
৩. অনেক কাফিরের মুখ থেকে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে যায়।
শাব্দিক অনুবাদ
১১৮. يَاۤ اَيُّهَا ওহে اَلَّذِيْنَ যারা اٰمَنُوْا ঈমান আনয়ন করেছো! لَا تَتَّخِذُوْا তোমরা গ্রহণ করো না بِطَانَةً অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে مِنْ دُوْنِكُمْ নিজেদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে। لَا يَأْلُوْنَكُمْ তারা তোমাদের ব্যাপারে পরোয়া করবে না خَبَالًا সর্বনাশ করতে। وَدُّوْا তারা কামনা করে, مَا عَنِتُّمْ যা তোমাদেরকে কষ্ট দেয়। قَدْ بَدَتِ প্রকাশ পেয়েছে اَلْبَغْضَآءُ বিদ্বেষ مِنْ থেকেই اَفْوَاهِهِمْ তাদের মুখ; وَمَا আর যা কিছু تُخْفِيْ লুকিয়ে রাখে صُدُوْرُهُمْ তাদের অন্তরসমূহ اَكْبَرُ তা আরো জঘন্য। قَدْ بَيَّنَّا অবশ্যই আমি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি لَكُمُ তোমাদের জন্য اَلْاٰيَاتِ নিদর্শনসমূহ اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা تَعْقِلُوْنَ অনুধাবন করতে পার।
সরল অনুবাদ
১১৮. হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। (কেননা তুমি তাদের কল্যাণ কামনা করলেও) তারা তোমাদের সর্বনাশ করতে পরোয়া করবে না। তারা তোমাদের ব্যাপারে তাই কামনা করে, যা তোমাদেরকে কষ্ট দেয়। (তোমাদের বিরুদ্ধে তাদের) বিদ্বেষটি তাদের মুখ থেকেই প্রকাশ পেয়েছে; আর তাদের অন্তরসমূহ যা লুকিয়ে রাখে তা আরো জঘন্য। অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি- যদি তোমরা অনুধাবন করতে পার। [মদীনার আশেপাশে ইহুদী বসবাস করতো। আওস ও খাজরায গোত্রের লোকদের সাথে প্রাচীনকাল থেকে তাদের বন্ধুত্ব চলে আসছিল। সুতরাং তারা ছিল গোত্রীয়ভাবে পরস্পরের প্রতিবেশী ও সহযোগী। এই সুবাধে উভয় গোত্রের লোকেরা ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতো- এমনকি তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়ার পরও ইহুদীদের সাথে তাদের সেই পুরাতন সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু নবী (সাঃ) ও তাঁর মিশনের বিরুদ্ধে ইহুদীদের মধ্যে যে শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল, তার কারণে তারা এ নতুন আন্দোলনে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে প্রস্তুত ছিল না। ফলে তারা আনসারদের সাথে বাহ্যত আগের সম্পর্ক বজায় রাখলেও, মনে মনে তারা তাদের চরম শত্রু হয়ে গিয়েছিল। ইহুদীরা তাদের এ বাহ্যিক বন্ধুত্বকে ব্যবহার করে মুসলিমদের জামাআতে আভ্যন্তরীণ ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টি করার এবং তাদের জামাআতের গোপন বিষয়গুলোর খবর সংগ্রহ করে শত্রুদের হাতে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য সর্বক্ষণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতটি নাযিল করে তাদের এই কুকর্মের ব্যাপারে মুসলিমদেরকে সাবধান করে দেন এবং তাদের এই সুযোগটি চিরতরে বন্ধ করে দেন।এই আয়াতের ভিত্তিতেই অনেক আলেম ফতোওয়া প্রদান করেন যে, অমুসলিমদেরকে মুসলিম রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা বৈধ নয়। (আহসানুল বয়ান ১২৬ পৃঃ)বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলার এই নির্দেশনাটি তারা ভুলেই গেছে। তারা রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অমুসলিদেরকে বসিয়ে রেখেছে এবং তাদের উপরই আস্থা পোষণ করছে- যারা তিলে তিলে মুসলিমদেরকে ধ্বংসের পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরই সুবাধে তারা মুসলিমদের মধ্যে প্রবেশ করছে এবং তাদের আদর্শ বিধ্বংসী নানা ধরনের অস্ত্র যেমন- অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, বাদ্যযন্ত্র, নতর্কী, পর্নোগ্রাফী, অমুসলিম মিশনারী, সুদ, ঘুষ, দুনিয়া বিলাসিতা, নাস্তিকতা ইত্যাদি মুসলিমদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কোন কাফিরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
২. কাফিররা মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করতে কোনরূপ পরোয়া করে না।
৩. অনেক কাফিরের মুখ থেকে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়ে যায়।