১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৯
আয়াত : ১৮১ – ১৮২ আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তি করার পরিণাম
لَقَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّذِيْنَ قَالُوْاۤ اِنَّ اللهَ فَقِيْرٌ وَّنَحْنُ اَغْنِيَآءُۘ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوْا وَقَتْلَهُمُ الْاَنْۢبِيَآءَ بِغَيْرِ حَقٍّۚ وَّنَقُوْلُ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِيْقِ (১৮১) ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ اَيْدِيْكُمْ وَاَنَّ اللهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيْدِ (১৮২)
শাব্দিক অনুবাদ
১৮১. لَقَدْ অবশ্যই سَمِعَ শ্রবণ করেছেন اَللهُ আল্লাহ قَوْلَ এমন কথা দ্বারা, اَلَّذِيْنَ যারা قَالُوْا বলেছিল যে, اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ فَقِيْرٌ অভাবগ্রস্ত وَنَحْنُ এবং আমরা اَغْنِيَآءُ অভাবমুক্ত। سَنَكْتُبْ অতি শীঘ্রই আমি লিখে রাখব مَا যা قَالُوْا তারা বলেছে। وَقَتْلَهُمْ আর হত্যা করার বিষয়টিও (লিখে রাখব) اَلْاَنْۢبِيَآءَ নবীদেরকে بِغَيْرِ ব্যতীত حَقٍّ ন্যায়বিচার। وَنَقُوْلُ আমি বলব, ذُوْقُوْا তোমরা আস্বাদন গ্রহণ করো عَذَابَ শাস্তিকে اَلْحَرِيْقِ প্রজ্জ্বলিত আগুনের।
১৮২. ذٰلِكَ এটা, بِمَا যা قَدَّمَتْ পূর্বে প্রেরণ করেছে اَيْدِيْكُمْ তোমাদের হাতসমূহ; وَاَنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ لَيْسَ নন بِظَلَّامٍ অত্যাচারী لِلْعَبِيْدِ বান্দাদের প্রতি।
সরল অনুবাদ
১৮১. অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শ্রবণ করেছেন, যারা (বিদ্রূপ করে) বলেছিল যে, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবগ্রস্ত এবং আমরা অভাবমুক্ত। [এ আয়াতটি ইহুদীদেরকে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ করা হয়েছে। কেননা যখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করলেন যে, مَنْ ذَا الَّذِيْ يُقْرِضُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا অর্থাৎ কে আছে যে আল্লাহকে করযে হাসানা তথা উত্তম ঋণ দেবে?- (সূরা বাক্বারা- ২৪৫) তখন ইহুদীরা এটাকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে নিল এবং বলল যে, তোমাদের প্রতিপালক এতই গরীব হয়ে গেছেন যে, তিনি ঋণ চাচ্ছেন? অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এই প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতেই অত্র আয়াত নাযিল করে তাদের এসব কৃতকর্মের শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন।] তারা যা বলেছে অতি শীঘ্রই তা আমি লিখে রাখব। আর আমি অন্যায়ভাবে তাদের (কর্তৃক) নবীদের হত্যা করার বিষয়টিও (লিখে রাখব)। (সেদিন) আমি (তাদেরকে) বলব, তোমরা প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তি আস্বাদন গ্রহণ করো। [অর্থাৎ ইতিপূর্বে তারা যেসব নবীকে সত্য বলার কারণে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে সেগুলো সহ তাদের সমস্ত অপরাধের বিবরণ তো যথাযথভাবে তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ রাখা হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে তারা সেসব নবীর ওয়ারিশ অর্থাৎ আলেম ও মুজাহিদদেরকে সত্যের পথে থাকার কারণে অন্যায়ভাবে হত্যা করছে, সেগুলোও তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে রাখা হবে। সেই সাথে ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের নানা ধরনের হঠকারিতা, অন্যায় কথাবার্তা ও চক্রান্তসমূহও লিপিবদ্ধ করে রাখা হবে। অবশেষে সমস্ত অন্যায় কর্মের বিনিময়ে যখন তারা শাস্তি প্রাপ্ত হওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে উপযুক্ত হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে প্রজ্জ্বলিত আগুন দ্বারা পরিপূর্ণ জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।]
১৮২. তোমাদের হাতসমূহ পূর্বে যা প্রেরণ করেছে তার জন্য এটা (শাস্তি) [ঐখানে পূর্বে প্রেরণ করা বলতে ঐসব কর্মকে বুঝানো হয়েছে, যা দুনিয়ার জীবনে মানুষ তাদের হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা করে থাকে। যেহেতু কোন কর্ম সংঘটিত করে ফেললেই সেটি আমলনামায় উঠে যায় এবং আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তনের পূর্বে সেগুলো তাঁর নিকট জমা হয়ে যায়, তাই এসব কর্মের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করতে গিয়ে ‘পূর্বে প্রেরণ করা’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।]; নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন। [অর্থাৎ তোমরা যে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছো, এজন্য কখনো ধারণা করো না যে, এর দ্বারা তোমার উপর আল্লাহ অত্যাচার করেছেন। বরং এগুলো হচ্ছে তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ তা‘আলা কেবল তোমাদেরকে সেই ফলসমূহ প্রদান করেছেন মাত্র।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
আল্লাহর বিষয়ে কখনো বিদ্রূপ করা যাবে না।
আল্লাহর সাথে বিদ্রূপ করার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম।
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সমস্ত কৃতকর্মই লিপিবদ্ধ করে রাখেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১৮১. لَقَدْ অবশ্যই سَمِعَ শ্রবণ করেছেন اَللهُ আল্লাহ قَوْلَ এমন কথা দ্বারা, اَلَّذِيْنَ যারা قَالُوْا বলেছিল যে, اِنَّ নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ فَقِيْرٌ অভাবগ্রস্ত وَنَحْنُ এবং আমরা اَغْنِيَآءُ অভাবমুক্ত। سَنَكْتُبْ অতি শীঘ্রই আমি লিখে রাখব مَا যা قَالُوْا তারা বলেছে। وَقَتْلَهُمْ আর হত্যা করার বিষয়টিও (লিখে রাখব) اَلْاَنْۢبِيَآءَ নবীদেরকে بِغَيْرِ ব্যতীত حَقٍّ ন্যায়বিচার। وَنَقُوْلُ আমি বলব, ذُوْقُوْا তোমরা আস্বাদন গ্রহণ করো عَذَابَ শাস্তিকে اَلْحَرِيْقِ প্রজ্জ্বলিত আগুনের।
১৮২. ذٰلِكَ এটা, بِمَا যা قَدَّمَتْ পূর্বে প্রেরণ করেছে اَيْدِيْكُمْ তোমাদের হাতসমূহ; وَاَنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ لَيْسَ নন بِظَلَّامٍ অত্যাচারী لِلْعَبِيْدِ বান্দাদের প্রতি।
সরল অনুবাদ
১৮১. অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শ্রবণ করেছেন, যারা (বিদ্রূপ করে) বলেছিল যে, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবগ্রস্ত এবং আমরা অভাবমুক্ত। [এ আয়াতটি ইহুদীদেরকে উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ করা হয়েছে। কেননা যখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করলেন যে, مَنْ ذَا الَّذِيْ يُقْرِضُ اللهَ قَرْضًا حَسَنًا অর্থাৎ কে আছে যে আল্লাহকে করযে হাসানা তথা উত্তম ঋণ দেবে?- (সূরা বাক্বারা- ২৪৫) তখন ইহুদীরা এটাকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে নিল এবং বলল যে, তোমাদের প্রতিপালক এতই গরীব হয়ে গেছেন যে, তিনি ঋণ চাচ্ছেন? অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এই প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতেই অত্র আয়াত নাযিল করে তাদের এসব কৃতকর্মের শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন।] তারা যা বলেছে অতি শীঘ্রই তা আমি লিখে রাখব। আর আমি অন্যায়ভাবে তাদের (কর্তৃক) নবীদের হত্যা করার বিষয়টিও (লিখে রাখব)। (সেদিন) আমি (তাদেরকে) বলব, তোমরা প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তি আস্বাদন গ্রহণ করো। [অর্থাৎ ইতিপূর্বে তারা যেসব নবীকে সত্য বলার কারণে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে সেগুলো সহ তাদের সমস্ত অপরাধের বিবরণ তো যথাযথভাবে তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ রাখা হয়েছে। সুতরাং বর্তমানে তারা সেসব নবীর ওয়ারিশ অর্থাৎ আলেম ও মুজাহিদদেরকে সত্যের পথে থাকার কারণে অন্যায়ভাবে হত্যা করছে, সেগুলোও তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে রাখা হবে। সেই সাথে ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের নানা ধরনের হঠকারিতা, অন্যায় কথাবার্তা ও চক্রান্তসমূহও লিপিবদ্ধ করে রাখা হবে। অবশেষে সমস্ত অন্যায় কর্মের বিনিময়ে যখন তারা শাস্তি প্রাপ্ত হওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে উপযুক্ত হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে প্রজ্জ্বলিত আগুন দ্বারা পরিপূর্ণ জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে।]
১৮২. তোমাদের হাতসমূহ পূর্বে যা প্রেরণ করেছে তার জন্য এটা (শাস্তি) [ঐখানে পূর্বে প্রেরণ করা বলতে ঐসব কর্মকে বুঝানো হয়েছে, যা দুনিয়ার জীবনে মানুষ তাদের হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা করে থাকে। যেহেতু কোন কর্ম সংঘটিত করে ফেললেই সেটি আমলনামায় উঠে যায় এবং আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তনের পূর্বে সেগুলো তাঁর নিকট জমা হয়ে যায়, তাই এসব কর্মের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করতে গিয়ে ‘পূর্বে প্রেরণ করা’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।]; নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন। [অর্থাৎ তোমরা যে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছো, এজন্য কখনো ধারণা করো না যে, এর দ্বারা তোমার উপর আল্লাহ অত্যাচার করেছেন। বরং এগুলো হচ্ছে তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ তা‘আলা কেবল তোমাদেরকে সেই ফলসমূহ প্রদান করেছেন মাত্র।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
আল্লাহর বিষয়ে কখনো বিদ্রূপ করা যাবে না।
আল্লাহর সাথে বিদ্রূপ করার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম।
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সমস্ত কৃতকর্মই লিপিবদ্ধ করে রাখেন।