১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
আয়াত : ২৫ – ২৭ আল্লাহর ক্ষমতা
فَكَيْفَ اِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيْهِ۫ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ (২৫) قُلِ اللّٰهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَآءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَآءُؕ بِيَدِكَ الْخَيْرُؕ اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ (২৬) تُوْلِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُوْلِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِؗ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّؗ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ (২৭)
শাব্দিক অনুবাদ
২৫. فَكَيْفَ তখন কেমন অবস্থা হবে, اِذَا যখন جَمَعْنَاهُمْ আমি তাদেরকে একত্র করব لِيَوْمٍ এমন এক দিনে لَا رَيْبَ কোন সন্দেহ নেই فِيْهِ যে ব্যাপারে। وَوُفِّيَتْ আর দেয়া হবে كُلُّ প্রত্যেক نَفْسٍ ব্যক্তিকে مَا كَسَبَتْ যা সে অর্জন করেছে وَهُمْ এবং তাদের উপর لَا يُظْلَمُوْنَ কোন অন্যায় করা হবে না।
২৬. قُلْ বলো اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! مَالِكَ মালিক اَلْمُلْكِ রাজত্বের تُؤْتِي আপনি দান করেন اَلْمُلْكَ রাজত্ব مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন وَتَنْزِعُ এবং আপনি কেড়ে নেন اَلْمُلْكَ রাজত্ব مِمَّنْ যার থেকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন। وَتُعِزُّ আর আপনি সম্মানিত করেন مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন وَتُذِلُّ এবং আপনি অপদস্থ করেন مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন। بِيَدِكَ আপনারই হাতে اَلْخَيْرُ কল্যাণ। اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ নিশ্চয় আপনিই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৭. تُوْلِجُ আপনিই প্রবেশ করান اَللَّيْلَ রাতকে فِي النَّهَارِ দিনের মধ্যে وَتُوْلِجُ এবং আপনিই প্রবেশ করান اَلنَّهَارَ দিনকে فِي اللَّيْلِ রাতের মধ্যে। وَتُخْرِجُ আপনি বের করেন اَلْحَيَّ জীবিতকে مِنَ الْمَيِّتِ মৃত হতে وَتُخْرِجُ এবং আপনি বের করেন اَلْمَيِّتَ মৃতকে مِنَ الْحَيِّ জীবিত হতে। وَتَرْزُقُ আর আপনি রিযিক দান করেন مَنْ تَشَآءُ যাকে আপনি ইচ্ছা করেন بِغَيْرِ حِسَابٍ হিসাব ছাড়া।
সরল অনুবাদ
২৫. অতঃপর তখন কেমন অবস্থা হবে, যখন আমি তাদেরকে একত্র করব এমন এক দিনে, যে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে (প্রতিদানস্বরূপ) পুরোপুরি তাই দেয়া হবে, যা সে অর্জন করেছে এবং তাদের উপর কোন অন্যায় করা হবে না। [প্রতিদান প্রদানের ক্ষেত্রে কারো সাথে বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না; অর্থাৎ কারো নেকী থেকে বিন্দু পরিমাণ অংশ বিনা কারণে কেটে নেয়া হবে না। বরং কেউ যদি বিন্দু পরিমাণ ভালো প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে তাকে তা-ই প্রদান করা হবে। আবার কেউ যদি কোন বিন্দু পরিমাণ শাস্তির উপযুক্ত হয়, তাহলে তাকে তা-ই প্রদান করা হবে। তবে আল্লাহ তা‘আলা যদি কোন বান্দার উপর দয়া পরবশ হয়ে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করে দেন, তাহলে সেটি ভিন্ন কথা। অনুরূপভাবে ইহুদীদের এসব মিথ্যা দাবী কিয়ামতের দিন কোন কাজে আসবে না; বরং সেদিন তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ীই যথাযথ প্রতিদান প্রদান করা হবে।]
২৬. (হে নবী!) বলো, রাজত্বের মালিক হে আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন। আর আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেন। (মূলত) সমস্ত কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয় আপনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। [অত্র আয়াতে সীমাহীন ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটি বুঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহর ক্ষমতার কাছে একেবারেই তুচ্ছ। দুনিয়াবাসীদের মধ্যে ক্ষমতার বিন্যাস ও তাঁর পরিবর্তন তিনিই ঘটিয়ে থাকেন। অনুরূপভাবে কাউকে সম্মানিত করা অথবা অপদস্থ করার ক্ষমতাও আল্লাহর হাতে। আর তিনি সবকিছুই বান্দার কল্যাণের জন্য করে থাকেন। বান্দা যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ততদিন পর্যন্ত অনুগ্রহস্বরূপ অনেক সম্মান অথবা রাজত্ব দান করেন। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহর হুকুম পালন করা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তখন থেকে সম্মান ও রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। অতঃপর তিনি উক্ত স্থানে এমন কাউকে অধিষ্ঠিত করেন, যারা তাঁর হুকুমসমূহকে যথাযথভাবে বাস্তাবয়ন করবে অথবা তাদের উপর এমন জালিম শাসককে চাপিয়ে দেবেন, যারা তাদেরকে অনেক কষ্ট দেবে- যাতে তারা আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে।]
২৭. আপনিই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। [এখানে ঋতু পরিবর্তনের কথা বুঝানো হয়েছে। কারণ যখন রাত লম্বা হয়, তখন দিন ছোট হয়ে যায়; অর্থাৎ দিনের কিছু অংশ রাতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আবার যখন দিন লম্বা হয়, তখন রাত ছোট হয়ে যায়; অর্থাৎ রাতের কিছু অংশ দিনের মধ্যে ঢুকে পড়ে।] আপনি মৃত হতে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত হতে মৃতকে বের করেন। [এক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ এবং রূপক অর্থ- উভয়টিই সমানভাবে প্রযোজ্য। যখন এটির প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা হবে তখন এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। যেমন- (১) আল্লাহ তা‘আলা প্রকৃতপক্ষেই মৃত মানুষকে জীবিত করতে সক্ষম। যেমনিভাবে উযাইর (আঃ)-কে দীর্ঘ ১০০ বছর মৃত অবস্থায় রাখার পর পুনরায় জীবিত করেছিলেন। (২) আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষকেই মৃত্যু দান করেন; অতঃপর তিনিই কিয়ামতের দিন এই মৃত অবস্থা থেকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।আর যদি এর রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়, তখন এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। যেমন- (১) মানুষ মাতৃগর্ভে যে বীর্য থেকে সৃষ্টি হয়, সেটিকে যদি মৃত হিসেবে ধরা হয়, তাহলে মানুষ সর্বপ্রথম মৃত অবস্থা থেকে জীবিত হয় এবং দুনিয়ার জীবনের হায়াত শেষ হয়ে গেলে পুনরায় মৃত অবস্থায় চলে যায়। (২) যদি মৃত বলতে ঈমানের অনুপস্থিতি তথা কাফিরদেরকে এবং জীবিত বলতে ঈমানের উপস্থিতি তথা ঈমানদারদেরকে বুঝানো হয়, তাহলে এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কাফির হতে মুমিন এবং মুমিন হতে কাফিরে পরিবর্তন করিয়ে দেন।] আর আপনি যাকে ইচ্ছা অগণিত রিযিক দান করেন।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিনের পরিস্থিতি হবে খুবই ভয়াবহ।
২. কিয়ামতের দিন সকলকে তাদের আমলনামা প্রদান করা হবে।
৩. কিয়ামতের দিন সকলকে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে।
৪. কিয়ামতের দিন প্রতিদান প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে যুলুম করা হবে না।
৫. সমস্ত রাজত্বের একচ্ছত্র অধিকারী হলেন আল্লাহ তা‘আলা।
৬. কাউকে রাজত্ব প্রদান করা অথবা ছিনিয়ে নেয়া, সম্মানিত করা অথবা অপমানিত করা, কল্যাণ অথবা অকল্যাণ দান করা ইত্যাদি সবকিছু আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।
৭. আল্লাহ তা‘আলাই রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রের মধ্যে অনুপ্রবেশ করান।
৮. আল্লাহ তা‘আলাই মৃত হতে জীবিতকে এবং জীবিত হতে মৃতকে বের করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।
৯. আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা তাকে অগণিত রিযিক তথা জীবিকা দান করে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
২৫. فَكَيْفَ তখন কেমন অবস্থা হবে, اِذَا যখন جَمَعْنَاهُمْ আমি তাদেরকে একত্র করব لِيَوْمٍ এমন এক দিনে لَا رَيْبَ কোন সন্দেহ নেই فِيْهِ যে ব্যাপারে। وَوُفِّيَتْ আর দেয়া হবে كُلُّ প্রত্যেক نَفْسٍ ব্যক্তিকে مَا كَسَبَتْ যা সে অর্জন করেছে وَهُمْ এবং তাদের উপর لَا يُظْلَمُوْنَ কোন অন্যায় করা হবে না।
২৬. قُلْ বলো اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ! مَالِكَ মালিক اَلْمُلْكِ রাজত্বের تُؤْتِي আপনি দান করেন اَلْمُلْكَ রাজত্ব مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন وَتَنْزِعُ এবং আপনি কেড়ে নেন اَلْمُلْكَ রাজত্ব مِمَّنْ যার থেকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন। وَتُعِزُّ আর আপনি সম্মানিত করেন مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন وَتُذِلُّ এবং আপনি অপদস্থ করেন مَنْ যাকে تَشَآءُ আপনি ইচ্ছা করেন। بِيَدِكَ আপনারই হাতে اَلْخَيْرُ কল্যাণ। اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ নিশ্চয় আপনিই সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
২৭. تُوْلِجُ আপনিই প্রবেশ করান اَللَّيْلَ রাতকে فِي النَّهَارِ দিনের মধ্যে وَتُوْلِجُ এবং আপনিই প্রবেশ করান اَلنَّهَارَ দিনকে فِي اللَّيْلِ রাতের মধ্যে। وَتُخْرِجُ আপনি বের করেন اَلْحَيَّ জীবিতকে مِنَ الْمَيِّتِ মৃত হতে وَتُخْرِجُ এবং আপনি বের করেন اَلْمَيِّتَ মৃতকে مِنَ الْحَيِّ জীবিত হতে। وَتَرْزُقُ আর আপনি রিযিক দান করেন مَنْ تَشَآءُ যাকে আপনি ইচ্ছা করেন بِغَيْرِ حِسَابٍ হিসাব ছাড়া।
সরল অনুবাদ
২৫. অতঃপর তখন কেমন অবস্থা হবে, যখন আমি তাদেরকে একত্র করব এমন এক দিনে, যে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে (প্রতিদানস্বরূপ) পুরোপুরি তাই দেয়া হবে, যা সে অর্জন করেছে এবং তাদের উপর কোন অন্যায় করা হবে না। [প্রতিদান প্রদানের ক্ষেত্রে কারো সাথে বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না; অর্থাৎ কারো নেকী থেকে বিন্দু পরিমাণ অংশ বিনা কারণে কেটে নেয়া হবে না। বরং কেউ যদি বিন্দু পরিমাণ ভালো প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে তাকে তা-ই প্রদান করা হবে। আবার কেউ যদি কোন বিন্দু পরিমাণ শাস্তির উপযুক্ত হয়, তাহলে তাকে তা-ই প্রদান করা হবে। তবে আল্লাহ তা‘আলা যদি কোন বান্দার উপর দয়া পরবশ হয়ে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করে দেন, তাহলে সেটি ভিন্ন কথা। অনুরূপভাবে ইহুদীদের এসব মিথ্যা দাবী কিয়ামতের দিন কোন কাজে আসবে না; বরং সেদিন তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ীই যথাযথ প্রতিদান প্রদান করা হবে।]
২৬. (হে নবী!) বলো, রাজত্বের মালিক হে আল্লাহ! আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন। আর আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেন। (মূলত) সমস্ত কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয় আপনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। [অত্র আয়াতে সীমাহীন ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটি বুঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহর ক্ষমতার কাছে একেবারেই তুচ্ছ। দুনিয়াবাসীদের মধ্যে ক্ষমতার বিন্যাস ও তাঁর পরিবর্তন তিনিই ঘটিয়ে থাকেন। অনুরূপভাবে কাউকে সম্মানিত করা অথবা অপদস্থ করার ক্ষমতাও আল্লাহর হাতে। আর তিনি সবকিছুই বান্দার কল্যাণের জন্য করে থাকেন। বান্দা যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ততদিন পর্যন্ত অনুগ্রহস্বরূপ অনেক সম্মান অথবা রাজত্ব দান করেন। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহর হুকুম পালন করা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তখন থেকে সম্মান ও রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। অতঃপর তিনি উক্ত স্থানে এমন কাউকে অধিষ্ঠিত করেন, যারা তাঁর হুকুমসমূহকে যথাযথভাবে বাস্তাবয়ন করবে অথবা তাদের উপর এমন জালিম শাসককে চাপিয়ে দেবেন, যারা তাদেরকে অনেক কষ্ট দেবে- যাতে তারা আল্লাহর হুকুম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে।]
২৭. আপনিই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। [এখানে ঋতু পরিবর্তনের কথা বুঝানো হয়েছে। কারণ যখন রাত লম্বা হয়, তখন দিন ছোট হয়ে যায়; অর্থাৎ দিনের কিছু অংশ রাতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আবার যখন দিন লম্বা হয়, তখন রাত ছোট হয়ে যায়; অর্থাৎ রাতের কিছু অংশ দিনের মধ্যে ঢুকে পড়ে।] আপনি মৃত হতে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত হতে মৃতকে বের করেন। [এক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ এবং রূপক অর্থ- উভয়টিই সমানভাবে প্রযোজ্য। যখন এটির প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা হবে তখন এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। যেমন- (১) আল্লাহ তা‘আলা প্রকৃতপক্ষেই মৃত মানুষকে জীবিত করতে সক্ষম। যেমনিভাবে উযাইর (আঃ)-কে দীর্ঘ ১০০ বছর মৃত অবস্থায় রাখার পর পুনরায় জীবিত করেছিলেন। (২) আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষকেই মৃত্যু দান করেন; অতঃপর তিনিই কিয়ামতের দিন এই মৃত অবস্থা থেকে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।আর যদি এর রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়, তখন এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। যেমন- (১) মানুষ মাতৃগর্ভে যে বীর্য থেকে সৃষ্টি হয়, সেটিকে যদি মৃত হিসেবে ধরা হয়, তাহলে মানুষ সর্বপ্রথম মৃত অবস্থা থেকে জীবিত হয় এবং দুনিয়ার জীবনের হায়াত শেষ হয়ে গেলে পুনরায় মৃত অবস্থায় চলে যায়। (২) যদি মৃত বলতে ঈমানের অনুপস্থিতি তথা কাফিরদেরকে এবং জীবিত বলতে ঈমানের উপস্থিতি তথা ঈমানদারদেরকে বুঝানো হয়, তাহলে এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কাফির হতে মুমিন এবং মুমিন হতে কাফিরে পরিবর্তন করিয়ে দেন।] আর আপনি যাকে ইচ্ছা অগণিত রিযিক দান করেন।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিনের পরিস্থিতি হবে খুবই ভয়াবহ।
২. কিয়ামতের দিন সকলকে তাদের আমলনামা প্রদান করা হবে।
৩. কিয়ামতের দিন সকলকে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে।
৪. কিয়ামতের দিন প্রতিদান প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে যুলুম করা হবে না।
৫. সমস্ত রাজত্বের একচ্ছত্র অধিকারী হলেন আল্লাহ তা‘আলা।
৬. কাউকে রাজত্ব প্রদান করা অথবা ছিনিয়ে নেয়া, সম্মানিত করা অথবা অপমানিত করা, কল্যাণ অথবা অকল্যাণ দান করা ইত্যাদি সবকিছু আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।
৭. আল্লাহ তা‘আলাই রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাত্রের মধ্যে অনুপ্রবেশ করান।
৮. আল্লাহ তা‘আলাই মৃত হতে জীবিতকে এবং জীবিত হতে মৃতকে বের করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।
৯. আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা তাকে অগণিত রিযিক তথা জীবিকা দান করে থাকেন।