১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৬
আয়াত : ১৭৬ – ১৭৮ কাফিরদের শক্তির অসারতা
وَلَا يَحْزُنْكَ الَّذِيْنَ يُسَارِعُوْنَ فِي الْكُفْرِۚ اِنَّهُمْ لَنْ يَّضُرُّوا اللهَ شَيْئًاؕ يُّرِيْدُ اللهُ اَلَّا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِي الْاٰخِرَةِۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيْمٌ (১৭৬) اِنَّ الَّذِيْنَ اشْتَرَوُا الْكُفْرَ بِالْاِيْمَانِ لَنْ يَّضُرُّوا اللهَ شَيْئًاۚ وَّلَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ (১৭৭) وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اَنَّمَا نُمْلِيْ لَهُمْ خَيْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْؕ اِنَّمَا نُمْلِيْ لَهُمْ لِيَزْدَادُوْاۤ اِثْمًاۚ وَّلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ (১৭৮)
শাব্দিক অনুবাদ
১৭৬. وَلَا يَحْزُنْكَ তোমাকে চিন্তিত না করে اَلَّذِيْنَ যারা يُسَارِعُوْنَ দ্রুতগতিতে ধাবিত হচ্ছে فِي الْكُفْرِ কুফরির দিকে اِنَّهُمْ নিশ্চয় তারা لَنْ يَّضُرُّوا কখনো ক্ষতি করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কোন কিছুতেই। يُرِيْدُ ইচ্ছা করেন اَللهُ আল্লাহ اَلَّا يَجْعَلَ যে, রাখবেন না لَهُمْ তাদের জন্য حَظًّا কোন অংশই فِي الْاٰخِرَةِۚ আখিরাতে। اِنَّهُمْ তাদের জন্যই রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি عَظِيْمٌ মহা।
১৭৭. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা اِشْتَرَوْا ক্রয় করে নিয়েছে اَلْكُفْرَ কুফরীকে بِالْاِيْمَانِ ঈমানের পরিবর্তে لَنْ يَّضُرُّوا তারা কখনো কোন ক্ষতি করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কোন কিছুই; وَلَهُمْ আর তাদের জন্য রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি اَلِيْمٌ যন্ত্রণাদায়ক।
১৭৮. وَلَا يَحْسَبَنَّ আর তারা যেন মনে না করে اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে اَنَّمَا نُمْلِيْ আমি যে সুযোগ দেই لَهُمْ তাদেরকে, خَيْرٌ কল্যাণকর لِاَنْفُسِهِمْ তাদের জন্য। اِنَّمَا نُمْلِيْ আমি অবকাশ প্রদান করি لَهُمْ তাদেরকে, لِيَزْدَادُوْا যাতে তারা বর্ধিত করে اِثْمًا তাদের পাপ। وَلَهُمْ আর তাদের জন্য রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি مُهِيْنٌ লাঞ্ছনাদায়ক।
সরল অনুবাদ
১৭৬. (হে নবী!) যারা দ্রুতগতিতে কুফরির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তারা (তাদের কর্মকান্ড) যেন তোমাকে চিন্তিত না করে। তারা কিছুতেই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [ইসলামের বিরুদ্ধে কাফির-মুশরিকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মনীতি দেখে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মাঝে মধ্যে গভীরভাবে অনুধাবন করতেন যে, আহ! যদি সমস্ত মানুষ মুসলিম হয়ে যেত এবং তারা এই উৎসাহ-উদ্দীপনাসমূহ ইসলামের পক্ষে প্রদর্শন করত, তাহলে কতই না ভালো হতো। আর এ কারণে তিনি অনেক সময় ভীষণ কষ্ট পেতেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাতে কাফিরদের কর্মকান্ড দেখে কখনো এরূপ চিন্তিত না হন, সেজন্য আল্লাহ অত্র আয়াত নাযিল করে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং এই সুসংবাদ প্রদান করেন যে, তারা তোমার বিরুদ্ধে অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে যতকিছু করার চেষ্টাই করুক না কেন, কোন ক্রমেই তারা সফলকাম হবে না। মাঝে মধ্যে তাদের কোন কোন কাজ বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে সফলকাম মনে হলেও শেষ ফলাফল ইসলামের পক্ষেই হবে।] আল্লাহ ইচ্ছা করেন যে, তাদের জন্য আখিরাতে যেন কোন অংশই না থাকে। [অর্থাৎ কাফিরদের এসব কর্মকান্ডের পেছনে আল্লাহর বৃহত্তম হেকমত রয়েছে। কেননা একদিকে তিনি তাদেরকে এসব কাজ করার জন্য অবকাশ দিচ্ছেন এ জন্য যে, যাতে করে আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশই না থাকে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশের জন্য পরিপূর্ণভাবে উপযুক্ত হয়ে উঠে। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার এই হিকমতটির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। আর অপরদিকে তিনি তাদের কর্মের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে কষ্ট প্রদান করে তাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে নিচ্ছেন এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য উপযুক্ত করে নিচ্ছেন। অত্র আয়াতের মর্মার্থ হিসেবে একথাটিও অনুধাবন করা যায়। উল্লেখ্য যে, এখানে এরূপ কোন প্রশ্ন রাখার সুযোগ নেই যে, যেহেতু কাফিরদের মন্দ কর্ম সমূহ আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হচ্ছে, সুতরাং এজন্য তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে শাস্তি প্রদান করাটা যুলুম নয় কি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার কর্মের জন্যই অবকাশ দিয়েছেন। সুতরাং তারা যদি মন্দ কর্ম না করে ভালো কর্মের দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে তারা শাস্তির বিপরীত পুরস্কার পাবে।] তাদের জন্যই রয়েছে মহাশাস্তি।
১৭৭. নিশ্চয় যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে ক্রয় করে নিয়েছে, তারা কিছুতেই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১৭৮. আর যারা কুফরী করে তারা যেন এটা মনে না করে যে, আমি তাদেরকে যে সুযোগ দেই, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। (প্রকৃতপক্ষে) আমি তাদেরকে অবকাশ প্রদান করি, যাতে তারা তাদের পাপ বর্ধিত করে। [অর্থাৎ কুফরী অবস্থায় তারা যা কিছু করে থাকে, সবই তাদের জন্য ক্ষতিকর। যদিও তারা কখনো কখনো সমাজকল্যাণমূলক কাজ সংঘটিত করে থাকে, তবুও তা তাদের জন্য প্রকৃত উপকার বয়ে আনে না। বরং কেননা মানুষের কর্মের প্রকৃত উপকার তখনই প্রাপ্ত হবে, যখন সে পরকালে সফলতা অর্জন করতে পারবে। কিন্তু তারা যেসব ভালো কাজ করে, তার কর্মফল দুনিয়াতেই পেয়ে থাকে।] আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
কাফিররা তাদের কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর কোনরূপ ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম নয়।
কাফিরদের কর্মকান্ডের কারণে বিপদের আশঙ্কায় কোনরূপ চিন্তিত হওয়া যাবে না।
কাফিররা তাদের কর্মের মাধ্যমে আখিরাতকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে থাকে।
ঈমানের পরিবর্তে কুফরী ক্রয় করা যাবে না।
আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে কাফিরদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১৭৬. وَلَا يَحْزُنْكَ তোমাকে চিন্তিত না করে اَلَّذِيْنَ যারা يُسَارِعُوْنَ দ্রুতগতিতে ধাবিত হচ্ছে فِي الْكُفْرِ কুফরির দিকে اِنَّهُمْ নিশ্চয় তারা لَنْ يَّضُرُّوا কখনো ক্ষতি করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কোন কিছুতেই। يُرِيْدُ ইচ্ছা করেন اَللهُ আল্লাহ اَلَّا يَجْعَلَ যে, রাখবেন না لَهُمْ তাদের জন্য حَظًّا কোন অংশই فِي الْاٰخِرَةِۚ আখিরাতে। اِنَّهُمْ তাদের জন্যই রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি عَظِيْمٌ মহা।
১৭৭. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা اِشْتَرَوْا ক্রয় করে নিয়েছে اَلْكُفْرَ কুফরীকে بِالْاِيْمَانِ ঈমানের পরিবর্তে لَنْ يَّضُرُّوا তারা কখনো কোন ক্ষতি করতে পারবে না اَللهَ আল্লাহর شَيْئًا কোন কিছুই; وَلَهُمْ আর তাদের জন্য রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি اَلِيْمٌ যন্ত্রণাদায়ক।
১৭৮. وَلَا يَحْسَبَنَّ আর তারা যেন মনে না করে اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে اَنَّمَا نُمْلِيْ আমি যে সুযোগ দেই لَهُمْ তাদেরকে, خَيْرٌ কল্যাণকর لِاَنْفُسِهِمْ তাদের জন্য। اِنَّمَا نُمْلِيْ আমি অবকাশ প্রদান করি لَهُمْ তাদেরকে, لِيَزْدَادُوْا যাতে তারা বর্ধিত করে اِثْمًا তাদের পাপ। وَلَهُمْ আর তাদের জন্য রয়েছে عَذَابٌ শাস্তি مُهِيْنٌ লাঞ্ছনাদায়ক।
সরল অনুবাদ
১৭৬. (হে নবী!) যারা দ্রুতগতিতে কুফরির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তারা (তাদের কর্মকান্ড) যেন তোমাকে চিন্তিত না করে। তারা কিছুতেই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [ইসলামের বিরুদ্ধে কাফির-মুশরিকদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মনীতি দেখে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মাঝে মধ্যে গভীরভাবে অনুধাবন করতেন যে, আহ! যদি সমস্ত মানুষ মুসলিম হয়ে যেত এবং তারা এই উৎসাহ-উদ্দীপনাসমূহ ইসলামের পক্ষে প্রদর্শন করত, তাহলে কতই না ভালো হতো। আর এ কারণে তিনি অনেক সময় ভীষণ কষ্ট পেতেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাতে কাফিরদের কর্মকান্ড দেখে কখনো এরূপ চিন্তিত না হন, সেজন্য আল্লাহ অত্র আয়াত নাযিল করে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং এই সুসংবাদ প্রদান করেন যে, তারা তোমার বিরুদ্ধে অর্থাৎ ইসলামের বিরুদ্ধে যতকিছু করার চেষ্টাই করুক না কেন, কোন ক্রমেই তারা সফলকাম হবে না। মাঝে মধ্যে তাদের কোন কোন কাজ বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে সফলকাম মনে হলেও শেষ ফলাফল ইসলামের পক্ষেই হবে।] আল্লাহ ইচ্ছা করেন যে, তাদের জন্য আখিরাতে যেন কোন অংশই না থাকে। [অর্থাৎ কাফিরদের এসব কর্মকান্ডের পেছনে আল্লাহর বৃহত্তম হেকমত রয়েছে। কেননা একদিকে তিনি তাদেরকে এসব কাজ করার জন্য অবকাশ দিচ্ছেন এ জন্য যে, যাতে করে আখিরাতে তাদের জন্য কোন অংশই না থাকে এবং তারা জাহান্নামে প্রবেশের জন্য পরিপূর্ণভাবে উপযুক্ত হয়ে উঠে। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার এই হিকমতটির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। আর অপরদিকে তিনি তাদের কর্মের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে কষ্ট প্রদান করে তাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে নিচ্ছেন এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য উপযুক্ত করে নিচ্ছেন। অত্র আয়াতের মর্মার্থ হিসেবে একথাটিও অনুধাবন করা যায়। উল্লেখ্য যে, এখানে এরূপ কোন প্রশ্ন রাখার সুযোগ নেই যে, যেহেতু কাফিরদের মন্দ কর্ম সমূহ আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হচ্ছে, সুতরাং এজন্য তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে শাস্তি প্রদান করাটা যুলুম নয় কি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার কর্মের জন্যই অবকাশ দিয়েছেন। সুতরাং তারা যদি মন্দ কর্ম না করে ভালো কর্মের দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে তারা শাস্তির বিপরীত পুরস্কার পাবে।] তাদের জন্যই রয়েছে মহাশাস্তি।
১৭৭. নিশ্চয় যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে ক্রয় করে নিয়েছে, তারা কিছুতেই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১৭৮. আর যারা কুফরী করে তারা যেন এটা মনে না করে যে, আমি তাদেরকে যে সুযোগ দেই, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। (প্রকৃতপক্ষে) আমি তাদেরকে অবকাশ প্রদান করি, যাতে তারা তাদের পাপ বর্ধিত করে। [অর্থাৎ কুফরী অবস্থায় তারা যা কিছু করে থাকে, সবই তাদের জন্য ক্ষতিকর। যদিও তারা কখনো কখনো সমাজকল্যাণমূলক কাজ সংঘটিত করে থাকে, তবুও তা তাদের জন্য প্রকৃত উপকার বয়ে আনে না। বরং কেননা মানুষের কর্মের প্রকৃত উপকার তখনই প্রাপ্ত হবে, যখন সে পরকালে সফলতা অর্জন করতে পারবে। কিন্তু তারা যেসব ভালো কাজ করে, তার কর্মফল দুনিয়াতেই পেয়ে থাকে।] আর তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
কাফিররা তাদের কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর কোনরূপ ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম নয়।
কাফিরদের কর্মকান্ডের কারণে বিপদের আশঙ্কায় কোনরূপ চিন্তিত হওয়া যাবে না।
কাফিররা তাদের কর্মের মাধ্যমে আখিরাতকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে থাকে।
ঈমানের পরিবর্তে কুফরী ক্রয় করা যাবে না।
আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে কাফিরদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন।