১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৪
আয়াত : ১৩৪ – ১৩৬ জান্নাতীদের চরিত্র
اَلَّذِيْنَ يُنْفِقُوْنَ فِي السَّرَّآءِ وَالضَّرَّآءِ وَالْكَاظِمِيْنَ الْغَيْظَ وَالْعَافِيْنَ عَنِ النَّاسِؕ وَاللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ (১৩৪) وَالَّذِيْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ۫ وَمَنْ يَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللهُ۫ وَلَمْ يُصِرُّوْا عَلٰى مَا فَعَلُوْا وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ (১৩৫) اُولٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ وَنِعْمَ اَجْرُ الْعَامِلِيْنَ (১৩৬)
শাব্দিক অনুবাদ
১৩৪. اَلَّذِيْنَ যারা يُنْفِقُوْنَ ব্যয় করে فِي السَّرَّآءِ স্বচ্ছলতায় وَالضَّرَّآءِ ও অভাবগ্রস্থ অবস্থায় وَالْكَاظِمِيْنَ এবং যারা সংবরণকারী اَلْغَيْظَ ক্রোধ; وَالْعَافِيْنَ এবং ক্ষমা প্রদর্শনকারী عَنِ النَّاسِ মানুষের প্রতি। وَاللهُ আর আল্লাহ يُحِبُّ ভালোবাসেন اَلْمُحْسِنِيْنَ সৎকর্মশীলদেরকে।
১৩৫. وَالَّذِيْنَ আর যারা اِذَا যখন فَعَلُوْا করে ফেলে فَاحِشَةً কোন অশ্লীল কার্য اَوْ কিংবা ظَلَمُوْا যুলুম (অত্যাচার) করে ফেলে اَنْفُسَهُمْ নিজের জীবনের প্রতি, ذَكَرُوا তখন তারা স্মরণ করে اَللهَ আল্লাহকে فَاسْتَغْفَرُوْا অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করে لِذُنُوْبِهِمْ তাদের অপরাধসমূহের জন্য। وَمَنْ আর কে يَغْفِرُ ক্ষমা করতে পারে اَلذُّنُوْبَ অপরাধসমূহ اِلَّا ব্যতীত اَللهُ আল্লাহ? وَلَمْ يُصِرُّوْا এবং তারা অটল থাকে না عَلٰى (ঐ বিষয়ের) উপর مَا فَعَلُوْا যা তারা করেছে وَهُمْ অথচ তারা يَعْلَمُوْنَ জানে।
১৩৬. اُولٰٓئِكَ এরাই ঐসব লোক جَزَآؤُهُمْ তাদের পুরস্কার হচ্ছে مَغْفِرَةٌ ক্ষমা مِنْ رَّبِّهِمْ তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে وَجَنَّاتٌ এবং এমন উদ্যানসমূহ, تَجْرِيْ প্রবাহিত থাকবে مِنْ تَحْتِهَا যেগুলোর তলদেশ দিয়ে اَلْاَنْهَارُ নদীসমূহ; خَالِدِيْنَ তারা চিরস্থায়ী হবে فِيْهَا সেখানে وَنِعْمَ আর কতই না সুন্দর اَجْرُ প্রতিদান اَلْعَامِلِيْنَ (সৎ) কর্মশীলদের!
সরল অনুবাদ
১৩৪. (তাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে) যারা স্বচ্ছল ও অভাব (উভয়) অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে [অর্থাৎ মুত্তাকীগণ সর্বাবস্থায় আল্লাহর পথে দান করার জন্য প্রস্তুত থাকে- এমনকি এজন্য যদি তাদের সমস্ত সম্পদ দান করার প্রয়োজন হয়, তাহলেও তারা এতে কোনরূপ দ্বিধাবোধ করে না। আর তারা দান করার ক্ষেত্রে দারিদ্রতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায় না।] এবং তারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে [অর্থাৎ তাদের ক্রোধ তাদের আল্লাহভীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। তারা নিজেদের বিষয়ে কখনো কারো উপর ক্রোধান্বিত হন না, বরং তারা ঐসময় ক্রোধান্বিত হন, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ বিরুধী কোন কাজ সংঘটিত হতে দেখে।] এবং তারা মানুষকে ক্ষমা করে; [এখানে ক্ষমা বলতে ঐসব ক্ষমাকে বুঝানো হয়েছে, যা একান্তই তার নিজের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি তার সাথে এমন কোন অপরাধ করে, যার প্রতিশোধ গ্রহণ করা অথবা না করার বিষয়টি একান্তই তার সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে তারা তাকে ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। কিন্তু যদি তারা কাউকে এমন কোন অপরাধ সংঘটিত হতে দেখে, যার শাস্তির ব্যাপারে শরীয়তে স্পষ্ট বিধান রয়েছে, তাহলে তারা কাউকে ক্ষমা করে না- এমনকি একান্ত আপনজনকেও না।] আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।
১৩৫. (তাদের আরো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে) যারা যখন কোন অশ্লীল কার্য করে ফেলে কিংবা নিজের জীবনের প্রতি যুলুম (অত্যাচার) করে ফেলে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের অপরাধসমূহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে। [অর্থাৎ তারা যখন বুঝতে পারে যে, তার দ্বারা অমুক পাপ সংঘটিত হয়েছে, তাহলে তারা সাথে সাথেই আল্লাহর কাছে তাওবা করে এবং উত্তম কাজের দিকে মনোনিবেশ করে, যাতে করে উক্ত পাপ কর্মটি এই সৎকর্মের মাধ্যমে সমান সমান হয়ে যায়।] বস্তুত আল্লাহ ব্যতীত কে অপরাধসমূহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা যা (অন্যায়) করেছে, তার উপর জেনে-বুঝে অটল থাকে না। [অর্থাৎ তারা সত্যকে পাওয়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করে নেয়। সুতরাং তাদের কেউ যদি বুঝতে পারে যে, সে যেসব আমল করে থাকে, তার মধ্যে অমুক আমলটি শিরক অথবা বিদআতের সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে সে সাথে সাথেই সেটি পরিহার করে সঠিক আমলটিকে গ্রহণ করে নেয়। ফলে তারা কখনো কোন আমলের বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয় না।]
১৩৬. তাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে ক্ষমা এবং এমন উদ্যানসমূহ, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আর সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কতই না সুন্দর!
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল সকল অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা উচিত।
২. সর্বদা ক্রোধ সংবরণ করে চলতে হবে।
৩. মানুষকে ক্ষমা করা একটি মহৎ গুণ।
৪. কোন অশ্লীল কাজ করা যাবে না।
৫. কোন গুনাহ করার সাথে সাথেই আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে।
৬. জান্নাতীদের অন্যতম পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য ক্ষমা।
শাব্দিক অনুবাদ
১৩৪. اَلَّذِيْنَ যারা يُنْفِقُوْنَ ব্যয় করে فِي السَّرَّآءِ স্বচ্ছলতায় وَالضَّرَّآءِ ও অভাবগ্রস্থ অবস্থায় وَالْكَاظِمِيْنَ এবং যারা সংবরণকারী اَلْغَيْظَ ক্রোধ; وَالْعَافِيْنَ এবং ক্ষমা প্রদর্শনকারী عَنِ النَّاسِ মানুষের প্রতি। وَاللهُ আর আল্লাহ يُحِبُّ ভালোবাসেন اَلْمُحْسِنِيْنَ সৎকর্মশীলদেরকে।
১৩৫. وَالَّذِيْنَ আর যারা اِذَا যখন فَعَلُوْا করে ফেলে فَاحِشَةً কোন অশ্লীল কার্য اَوْ কিংবা ظَلَمُوْا যুলুম (অত্যাচার) করে ফেলে اَنْفُسَهُمْ নিজের জীবনের প্রতি, ذَكَرُوا তখন তারা স্মরণ করে اَللهَ আল্লাহকে فَاسْتَغْفَرُوْا অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করে لِذُنُوْبِهِمْ তাদের অপরাধসমূহের জন্য। وَمَنْ আর কে يَغْفِرُ ক্ষমা করতে পারে اَلذُّنُوْبَ অপরাধসমূহ اِلَّا ব্যতীত اَللهُ আল্লাহ? وَلَمْ يُصِرُّوْا এবং তারা অটল থাকে না عَلٰى (ঐ বিষয়ের) উপর مَا فَعَلُوْا যা তারা করেছে وَهُمْ অথচ তারা يَعْلَمُوْنَ জানে।
১৩৬. اُولٰٓئِكَ এরাই ঐসব লোক جَزَآؤُهُمْ তাদের পুরস্কার হচ্ছে مَغْفِرَةٌ ক্ষমা مِنْ رَّبِّهِمْ তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে وَجَنَّاتٌ এবং এমন উদ্যানসমূহ, تَجْرِيْ প্রবাহিত থাকবে مِنْ تَحْتِهَا যেগুলোর তলদেশ দিয়ে اَلْاَنْهَارُ নদীসমূহ; خَالِدِيْنَ তারা চিরস্থায়ী হবে فِيْهَا সেখানে وَنِعْمَ আর কতই না সুন্দর اَجْرُ প্রতিদান اَلْعَامِلِيْنَ (সৎ) কর্মশীলদের!
সরল অনুবাদ
১৩৪. (তাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে) যারা স্বচ্ছল ও অভাব (উভয়) অবস্থায় (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে [অর্থাৎ মুত্তাকীগণ সর্বাবস্থায় আল্লাহর পথে দান করার জন্য প্রস্তুত থাকে- এমনকি এজন্য যদি তাদের সমস্ত সম্পদ দান করার প্রয়োজন হয়, তাহলেও তারা এতে কোনরূপ দ্বিধাবোধ করে না। আর তারা দান করার ক্ষেত্রে দারিদ্রতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায় না।] এবং তারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে [অর্থাৎ তাদের ক্রোধ তাদের আল্লাহভীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। তারা নিজেদের বিষয়ে কখনো কারো উপর ক্রোধান্বিত হন না, বরং তারা ঐসময় ক্রোধান্বিত হন, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ বিরুধী কোন কাজ সংঘটিত হতে দেখে।] এবং তারা মানুষকে ক্ষমা করে; [এখানে ক্ষমা বলতে ঐসব ক্ষমাকে বুঝানো হয়েছে, যা একান্তই তার নিজের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ কেউ যদি তার সাথে এমন কোন অপরাধ করে, যার প্রতিশোধ গ্রহণ করা অথবা না করার বিষয়টি একান্তই তার সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে তারা তাকে ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। কিন্তু যদি তারা কাউকে এমন কোন অপরাধ সংঘটিত হতে দেখে, যার শাস্তির ব্যাপারে শরীয়তে স্পষ্ট বিধান রয়েছে, তাহলে তারা কাউকে ক্ষমা করে না- এমনকি একান্ত আপনজনকেও না।] আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।
১৩৫. (তাদের আরো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে) যারা যখন কোন অশ্লীল কার্য করে ফেলে কিংবা নিজের জীবনের প্রতি যুলুম (অত্যাচার) করে ফেলে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের অপরাধসমূহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে। [অর্থাৎ তারা যখন বুঝতে পারে যে, তার দ্বারা অমুক পাপ সংঘটিত হয়েছে, তাহলে তারা সাথে সাথেই আল্লাহর কাছে তাওবা করে এবং উত্তম কাজের দিকে মনোনিবেশ করে, যাতে করে উক্ত পাপ কর্মটি এই সৎকর্মের মাধ্যমে সমান সমান হয়ে যায়।] বস্তুত আল্লাহ ব্যতীত কে অপরাধসমূহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা যা (অন্যায়) করেছে, তার উপর জেনে-বুঝে অটল থাকে না। [অর্থাৎ তারা সত্যকে পাওয়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করে নেয়। সুতরাং তাদের কেউ যদি বুঝতে পারে যে, সে যেসব আমল করে থাকে, তার মধ্যে অমুক আমলটি শিরক অথবা বিদআতের সাথে সম্পৃক্ত, তাহলে সে সাথে সাথেই সেটি পরিহার করে সঠিক আমলটিকে গ্রহণ করে নেয়। ফলে তারা কখনো কোন আমলের বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয় না।]
১৩৬. তাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে ক্ষমা এবং এমন উদ্যানসমূহ, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত থাকবে; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে; আর সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কতই না সুন্দর!
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল সকল অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা উচিত।
২. সর্বদা ক্রোধ সংবরণ করে চলতে হবে।
৩. মানুষকে ক্ষমা করা একটি মহৎ গুণ।
৪. কোন অশ্লীল কাজ করা যাবে না।
৫. কোন গুনাহ করার সাথে সাথেই আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে।
৬. জান্নাতীদের অন্যতম পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য ক্ষমা।