hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯২

আয়াত : ১৬৭ – ১৬৮ উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের মাধ্যমে মুনাফিকরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল

وَلِيَعْلَمَ الَّذِيْنَ نَافَقُوْاۚ وَقِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اَوِ ادْفَعُوْاؕ قَالُوْا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّاتَّبَعْنَاكُمْؕ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ اَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْاِيْمَانِۚ يَقُوْلُوْنَ بِاَفْوَاهِهِمْ مَّا لَيْسَ فِيْ قُلُوْبِهِمْؕ وَاللهُ اَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُوْنَ (১৬৭) اَلَّذِيْنَ قَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوْا لَوْ اَطَاعُوْنَا مَا قُتِلُوْاؕ قُلْ فَادْرَءُوْا عَنْ اَنْفُسِكُمُ الْمَوْتَ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ (১৬৮)

শাব্দিক অনুবাদ

১৬৭. وَلِيَعْلَمَ আর যাতে তিনি জেনে নিতে পারেন اَلَّذِيْنَ তাদের ব্যাপারেও, যারা نَافَقُوْا মুনাফিকী করেছে। وَقِيْلَ বলা হয়েছিল لَهُمْ তাদেরকে تَعَالَوْا তোমরা এসো قَاتِلُوْا যুদ্ধ করো فِيْ سَبِيْلِ اللهِ আল্লাহর পথে اَوْ অথবা اِدْفَعُوْا প্রতিরোধ করো; قَالُوْا তারা বলেছিল, لَوْ যদি نَعْلَمُ আমরা জানতাম قِتَالًا যুদ্ধের ব্যাপারটা, لَاتَّبَعْنَاكُمْ তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম। هُمْ তারা لِلْكُفْرِ কুফরীর দিকে يَوْمَئِذٍ সেদিন اَقْرَبُ অধিক নিকটবর্তী ছিল مِنْهُمْ لِلْاِيْمَانِ তাদের ঈমানের চেয়ে; يَقُوْلُوْنَ তারা এমন কথা বলে بِاَفْوَاهِهِمْ তাদের মুখ দ্বারা مَا যা لَيْسَ নেই فِيْ قُلُوْبِهِمْ তাদেরই অন্তরে। وَاللهُ আর আল্লাহ اَعْلَمُ ভালো জানেন بِمَا যা يَكْتُمُوْنَ তারা গোপন করে।

১৬৮. اَلَّذِيْنَ যারা قَالُوْا বলেছিল لِاِخْوَانِهِمْ তাদের ভাইদের সম্পর্কে وَقَعَدُوْا এবং তারা বসেছিল لَوْ اَطَاعُوْنَا যদি তারা আমাদের অনুসরণ করত مَا قُتِلُوْا তাহলে তারা নিহত হতো না। قُلْ বলো فَادْرَءُوْا অতএব প্রতিরোধ করো عَنْ থেকে اَنْفُسِكُمُ তোমাদের নিজেদের اَلْمَوْتَ মৃত্যুকে اِنْ যদি كُنْتُمْ তোমরা হও صَادِقِيْنَ সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

সরল অনুবাদ

১৬৭. আর যাতে তিনি তাদের ব্যাপারেও জেনে নিতে পারেন, যারা মুনাফিকী করেছে। তাদেরকে বলা হয়েছিল, তোমরা এসো- আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো অথবা প্রতিরোধ করো; তারা বলেছিল, যদি আমরা যুদ্ধের ব্যাপারটা জানতাম, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম। [ঘটনাটি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মুসলিম বাহিনী নিয়ে উহুদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তখন তাঁর সেনাবাহিনীর মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর নেতৃত্বে ৩০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি দলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু যখন তারা শাউত্ব নামক স্থান পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তার সাথীদের নিয়ে মুসলিম বাহিনী থেকে পৃথক হয়ে যায়। তখন আবদুল্লাহ ইবনে হারাম (রাঃ) তাদেরকে বুঝিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রচেষ্টা চালান। এতে কেউ কেউ মুসলিমদের সেনাদলে ফিরে যেতে চাইলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই বলল, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস হলো- আজ যুদ্ধ হবে না। তাই আমরা চলে যাচ্ছি। আজ যুদ্ধ হওয়ার যদি কোন সম্ভাবনা থাকত, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমাদের সাথে থাকতাম।] সেদিন তারা তাদের ঈমানের চেয়ে কুফরীর অধিক নিকটবর্তী ছিল; তারা মুখে এমন কথা বলে, যা তাদেরই অন্তরে নেই। আর তারা যা কিছু গোপন করে, আল্লাহ তা ভালো জানেন।

১৬৮. (এরা হচ্ছে ঐসব লোক) যারা (ঘরে) বসে থেকে তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলছিল, যদি তারা আমাদের কথা মান্য করত (ঘরে বসে থাকত) তাহলে তারা নিহত হতো না। (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদের থেকে মৃত্যুকে প্রতিরোধ করো। [অর্থাৎ তোমাদের এসব দাবী একেবারেই ভিত্তিহীন। কেননা প্রত্যেকের মৃত্যুর নির্ধারিত সময় পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ আছে। সুতরাং তাদের এরূপ মৃত্যুর বিষয়টিও পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ ছিল- যেরকমভাবে তোমাদের মৃত্যুর বিষয়টিও লিপিবদ্ধ আছে। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যুর সময় তোমরা সেই স্থানেই উপস্থিত হবে, যেখানে মৃত্যুবরণ করার বিষয়ে পূর্ব হতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এ আয়াতে মুনাফিকদের এই মিথ্যা দাবীর বিষয়ে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে।]

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

যুদ্ধ শুরু হলে মুনাফিকরা পৃথক হয়ে যায়।

কারো বিরুদ্ধে অহেতুক সমালোচনা করা যাবে না।

ঈমানের কমতি থাকলে কুফরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া যায় না।