১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৬
আয়াত : ১১৬ – ১১৭ কাফিরদের ধন-সম্পদ ও তাদের খরচের উপমা
اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَلَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًاؕ وَّاُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ النَّارِۚ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ (১১৬) مَثَلُ مَا يُنْفِقُوْنَ فِي هٰذِهِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَثَلِ رِيْحٍ فِيْهَا صِرٌّ اَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ فَاَهْلَكَتْهُؕ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللهُ وَلٰكِنْ اَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُوْنَ (১১৭)
শাব্দিক অনুবাদ
১১৬. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে لَنْ تُغْنِيَ কখনো আসবে না عَنْهُم তাদের (উপকারে) اَمْوَالُهُمْ তাদের ধন-সম্পদ وَلَاۤ এবং না اَوْلَادُهُمْ তাদের সন্তান-সন্ততি مِنَ اللهِ আল্লাহর নিকট شَيْئًا কোন প্রকার। وَاُولٰٓئِكَ আর তারাই হবে اَصْحَابُ অধিবাসী اَلنَّارِ আগুনের, هُمْ তারা فِيْهَا সেখানে خَالِدُوْنَ চিরস্থায়ী হবে।
১১৭. مَثَلُ উদাহরণ مَا يُنْفِقُوْنَ তারা যা খরচ করছে فِي মধ্যে هٰذِهِ এই اَلْحَيَاةِ الدُّنْيَا দুনিয়াবী জীবনে كَمَثَلِ মতো رِيْحٍ ঐ বাতাসের, فِيْهَا যাতে রয়েছে صِرٌّ অতি ঠান্ডা; اَصَابَتْ তা আঘাত করল حَرْثَ শস্যক্ষেতে قَوْمٍ এমন এক সম্প্রদায়ের, ظَلَمُوْا যারা যুলুম করেছিল اَنْفُسَهُمْ তাদের নিজেদের উপর। فَاَهْلَكَتْهُ অতঃপর তা এটাকে ধ্বংস করে দিল। وَمَا ظَلَمَهُمُ আর তাদের উপর কোন যুলুম করেননি اَللهُ আল্লাহ وَلٰكِنْ বরং اَنْفُسَهُمْ নিজেদের উপরই يَظْلِمُوْنَ তারা যুলুম করেছে।
সরল অনুবাদ
১১৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে আল্লাহর (শাস্তির) মোকাবেলায় তাদের সন্তান-সন্ততি এবং ধন-সম্পদ কিছুতেই কোন প্রকার কাজে আসবে না। আর তারাই হবে আগুনের (জাহান্নামের) অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। [তারা নিজেদের ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং আখিরাতের সুখ-শান্তিকে অবিশ্বাস করে দুনিয়ার সুখ-শান্তিকেই বড় করে দেখেছে- অতঃপর এই তাড়নাতেই তারা বৈধ অথবা অবৈধ উপায়ে অনেক সম্পদ জমা করেছে এবং তারা নিজেদের সন্তান-সন্ততিকে অন্যতম শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে অন্যান্য মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেড়িয়েছে, তাদের এসব প্রতিপত্তি আখিরাতে কোন কাজে আসবে না। বরং সেদিন তার কাছ থেকে এগুলো ছিনিয়ে নেয়া হবে। দুনিয়াতে তারা যে বিষয়টিকে অস্বীকার করে আসছিল, সেটি যখন তারা সরাসরি নিজের চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং দুনিয়াতে অর্জিত প্রভাব-প্রতিপত্তিকেও অকেজো হিসেবে পাবে, তখন তারা সাথে সাথেই হতভম্ব হয়ে যাবে। অবশেষে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।]
১১৭. এ দুনিয়াবী জীবনে তারা যা খরচ করছে তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ বাতাসের সাথে, যাতে রয়েছে অতি ঠান্ডা; তা আঘাত করল এমন এক সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেতে, যারা তাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছিল। অতঃপর তা এটাকে ধ্বংস করে দিল। [এখানে বাতাস মানে হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক কল্যাণাকাঙ্ক্ষা, যার ভিত্তিতে কাফিররা জনকল্যাণমূলক কাজ এবং দান খয়রাত ইত্যাদিতে অর্থ ব্যয় করে থাকে। আর তুষারকণা হচ্ছে, সঠিক ঈমান ও আল্লাহর বিধান অনুসৃতির অভাব, যার ফলে তাদের সমগ্র জীবন মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। আর শস্যক্ষেত মানে হচ্ছে মানুষের পার্থিব জীবন। এ উপমাটির সাহায্যে আল্লাহ তা‘আলা এটা বুঝিয়েছেন যে, শস্যক্ষেতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাতাস যেমন উপকারী তেমনি আবার এই বাতাসের মধ্যে যদি তুষারকণা থাকে, তাহলে তা শস্যক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনি দান-খয়রাত যদিও মানুষের আখিরাতের ক্ষেতের পরিচর্যা করে; কিন্তু এর মধ্যে কুফরীর বিষ মিশ্রিত থাকলে তা লাভজনক হওয়ার পরিবর্তে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।] আর আল্লাহ তাদের উপর কোন যুলুম করেননি বরং তারাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। [এখানে সৎ কাজের প্রতিদান নষ্ট হয়ে যাওয়াকে যুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ী হচ্ছে তারা নিজেরাই। কেননা তাদের নিজেদের কুফরী কর্মের কারণেই এসব হয়েছে; আল্লাহ তা‘আলা তো কেবল তাদের কর্মের প্রতিফল ঘটিয়েছেন মাত্র। তারা যদি এসব কুকর্ম না করত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মের সর্বোত্তম পুরস্কার দিতেন।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আল্লাহর শাস্তি হতে মুক্তির জন্য কাফিরদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ কোন কিছুই গ্রহণ করা হবে না।
২. কাফিরদের আমলের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল, যা সামান্য আঘাতেই নিঃশেষ হয়ে যায়।
৩. কাফিররা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে থাকে।
শাব্দিক অনুবাদ
১১৬. اِنَّ নিশ্চয় اَلَّذِيْنَ যারা كَفَرُوْا কুফরী করেছে لَنْ تُغْنِيَ কখনো আসবে না عَنْهُم তাদের (উপকারে) اَمْوَالُهُمْ তাদের ধন-সম্পদ وَلَاۤ এবং না اَوْلَادُهُمْ তাদের সন্তান-সন্ততি مِنَ اللهِ আল্লাহর নিকট شَيْئًا কোন প্রকার। وَاُولٰٓئِكَ আর তারাই হবে اَصْحَابُ অধিবাসী اَلنَّارِ আগুনের, هُمْ তারা فِيْهَا সেখানে خَالِدُوْنَ চিরস্থায়ী হবে।
১১৭. مَثَلُ উদাহরণ مَا يُنْفِقُوْنَ তারা যা খরচ করছে فِي মধ্যে هٰذِهِ এই اَلْحَيَاةِ الدُّنْيَا দুনিয়াবী জীবনে كَمَثَلِ মতো رِيْحٍ ঐ বাতাসের, فِيْهَا যাতে রয়েছে صِرٌّ অতি ঠান্ডা; اَصَابَتْ তা আঘাত করল حَرْثَ শস্যক্ষেতে قَوْمٍ এমন এক সম্প্রদায়ের, ظَلَمُوْا যারা যুলুম করেছিল اَنْفُسَهُمْ তাদের নিজেদের উপর। فَاَهْلَكَتْهُ অতঃপর তা এটাকে ধ্বংস করে দিল। وَمَا ظَلَمَهُمُ আর তাদের উপর কোন যুলুম করেননি اَللهُ আল্লাহ وَلٰكِنْ বরং اَنْفُسَهُمْ নিজেদের উপরই يَظْلِمُوْنَ তারা যুলুম করেছে।
সরল অনুবাদ
১১৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে আল্লাহর (শাস্তির) মোকাবেলায় তাদের সন্তান-সন্ততি এবং ধন-সম্পদ কিছুতেই কোন প্রকার কাজে আসবে না। আর তারাই হবে আগুনের (জাহান্নামের) অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। [তারা নিজেদের ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং আখিরাতের সুখ-শান্তিকে অবিশ্বাস করে দুনিয়ার সুখ-শান্তিকেই বড় করে দেখেছে- অতঃপর এই তাড়নাতেই তারা বৈধ অথবা অবৈধ উপায়ে অনেক সম্পদ জমা করেছে এবং তারা নিজেদের সন্তান-সন্ততিকে অন্যতম শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে অন্যান্য মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেড়িয়েছে, তাদের এসব প্রতিপত্তি আখিরাতে কোন কাজে আসবে না। বরং সেদিন তার কাছ থেকে এগুলো ছিনিয়ে নেয়া হবে। দুনিয়াতে তারা যে বিষয়টিকে অস্বীকার করে আসছিল, সেটি যখন তারা সরাসরি নিজের চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং দুনিয়াতে অর্জিত প্রভাব-প্রতিপত্তিকেও অকেজো হিসেবে পাবে, তখন তারা সাথে সাথেই হতভম্ব হয়ে যাবে। অবশেষে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।]
১১৭. এ দুনিয়াবী জীবনে তারা যা খরচ করছে তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ বাতাসের সাথে, যাতে রয়েছে অতি ঠান্ডা; তা আঘাত করল এমন এক সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেতে, যারা তাদের নিজেদের উপর যুলুম করেছিল। অতঃপর তা এটাকে ধ্বংস করে দিল। [এখানে বাতাস মানে হচ্ছে মানুষের বাহ্যিক কল্যাণাকাঙ্ক্ষা, যার ভিত্তিতে কাফিররা জনকল্যাণমূলক কাজ এবং দান খয়রাত ইত্যাদিতে অর্থ ব্যয় করে থাকে। আর তুষারকণা হচ্ছে, সঠিক ঈমান ও আল্লাহর বিধান অনুসৃতির অভাব, যার ফলে তাদের সমগ্র জীবন মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। আর শস্যক্ষেত মানে হচ্ছে মানুষের পার্থিব জীবন। এ উপমাটির সাহায্যে আল্লাহ তা‘আলা এটা বুঝিয়েছেন যে, শস্যক্ষেতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাতাস যেমন উপকারী তেমনি আবার এই বাতাসের মধ্যে যদি তুষারকণা থাকে, তাহলে তা শস্যক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনি দান-খয়রাত যদিও মানুষের আখিরাতের ক্ষেতের পরিচর্যা করে; কিন্তু এর মধ্যে কুফরীর বিষ মিশ্রিত থাকলে তা লাভজনক হওয়ার পরিবর্তে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।] আর আল্লাহ তাদের উপর কোন যুলুম করেননি বরং তারাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। [এখানে সৎ কাজের প্রতিদান নষ্ট হয়ে যাওয়াকে যুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ী হচ্ছে তারা নিজেরাই। কেননা তাদের নিজেদের কুফরী কর্মের কারণেই এসব হয়েছে; আল্লাহ তা‘আলা তো কেবল তাদের কর্মের প্রতিফল ঘটিয়েছেন মাত্র। তারা যদি এসব কুকর্ম না করত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্মের সর্বোত্তম পুরস্কার দিতেন।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আল্লাহর শাস্তি হতে মুক্তির জন্য কাফিরদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ কোন কিছুই গ্রহণ করা হবে না।
২. কাফিরদের আমলের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল, যা সামান্য আঘাতেই নিঃশেষ হয়ে যায়।
৩. কাফিররা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে থাকে।