hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৭

আয়াত : ১৫৯ দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে কতিপয় নির্দেশ

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْۚ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيْظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْاَمْرِۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِيْنَ (১৫৯)

শাব্দিক অনুবাদ

১৫৯. فَبِمَا এ কারণেই رَحْمَةٍ অনুগ্রহে مِنَ اللهِ আল্লাহর পক্ষ হতে لِنْتَ তুমি কোমল প্রকৃতির হয়েছিলে لَهُمْ তাদের জন্য। وَلَوْ আর যদি كُنْتَ তুমি হতে فَظًّا কর্কশভাষী غَلِيْظَ الْقَلْبِ কঠোর হৃদয়ের অধিকারী لَانْفَضُّوْا তবে নিশ্চয় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত مِنْ হতে حَوْلِكَ তোমার চারপাশ। فَاعْفُ সুতরাং তুমি মার্জনা করো عَنْهُمْ তাদেরকে وَاسْتَغْفِرْ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করো لَهُمْ তাদের জন্য وَشَاوِرْهُمْ এবং তাদের সাথে পরামর্শ করো فِي الْاَمْرِ কাজকর্মের ব্যাপারে; فَاِذَا অতঃপর যখন عَزَمْتَ তুমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হবে, فَتَوَكَّلْ তখন ভরসা করো عَلَى اللهِ আল্লাহর প্রতি; اِنَّ اللهَ নিশ্চয় আল্লাহ يُحِبُّ ভালোবাসেন اَلْمُتَوَكِّلِيْنَ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে।

সরল অনুবাদ

১৫৯. অতএব আল্লাহর অনুগ্রহেই তুমি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলে। (এর বিপরীতে) যদি তুমি কর্কশভাষী ও কঠোর হৃদয়ের হতে, তবে নিশ্চয় তারা তোমার চারপাশ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। [এখানে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি আল্লাহ তা‘আলার এমন একটি অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নবীদের ওয়ারিশ হিসেবে প্রত্যেক দাঈ অথবা নেতার মধ্যে থাকা অত্যাবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ ধরনের চরিত্রের অধিকারী হয়েছিলেন বিধায় মানুষের মনে দ্রুত গতিতে প্রবেশ করতে পারতেন। অন্যথায় তিনি যদি এরূপ চরিত্রের অধিকারী না হতেন, তাহলে সাধারণ মানুষ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত এবং তার জন্য ইসলাম প্রচার করা আরো কঠিন হয়ে যেত।] সুতরাং তুমি তাদেরকে মার্জনা করো, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং কাজকর্মের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করো; অতঃপর (উক্ত পরামর্শের ভিত্তিতে কোন বিষয়ে) যখন তুমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হবে, তখন আল্লাহর প্রতি ভরসা করো; [এখানে নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে এখানে যেকোন কাজে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই আয়াতের উপর ভিত্তি করেই অনেক আলেম রাষ্ট্র প্রধানদের জন্য পরামর্শ গ্রহণ করাকে ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম শাওকানী বলেন, শাসকদের জন্য অত্যাবশ্যক হলো, তাঁরা এমন সব ব্যাপারে উলামাদের সাথে পরামর্শ করবেন, যেসব ব্যাপারে তাঁদের জ্ঞান নেই অথবা যে ব্যাপারে তারা সমস্যায় পড়েন। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সাথে সৈন্য সংক্রান্ত বিষয়ে, জনগণের দায়িত্বে নিয়োজিত নেতাদের সাথে জনসাধারণের কল্যাণ প্রসঙ্গে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিযুক্ত সরকারী দায়িত্বশীলদের সাথে সেই অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরামর্শ করবেন।] নিশ্চয় আল্লাহ (তার উপর) নির্ভরশীলদেরকে ভালোবাসেন।

আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্বভাব ছিল কোমল প্রকৃতির।

কোমল প্রকৃতির স্বভাব পাওয়াটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

মানুষের সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলা যাবে না।

কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হওয়া যাবে না।

কঠোর হৃদয়ের অধিকারী ও কর্কশভাষীরা কখনো মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারে না।

কর্কশভাষী ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী না হওয়াটা একজন আদর্শ নেতার অন্যতম গুণ।

অধিনস্ত ব্যক্তিবর্গের ছোটখাট ভুলগুলো ক্ষমা করে দেয়া উত্তম।

যে কোন কাজের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করে নেয়া অতি উত্তম কাজ।