hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

আয়াত : ২৩ – ২৪ কাফিরদের কুফরী করার কারণ

اَلَمْ تَرَ اِلَى الَّذِيْنَ اُوْتُوْا نَصِيْبًا مِّنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ اِلٰى كِتَابِ اللهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلّٰى فَرِيْقٌ مِّنْهُمْ وَهُمْ مُّعْرِضُوْنَ (২৩) ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَيَّامًا مَّعْدُوْدَاتٍ وَّغَرَّهُمْ فِيْ دِيْنِهِمْ مَّا كَانُوْا يَفْتَرُوْنَ (২৪)

শাব্দিক অনুবাদ

২৩. اَلَمْ تَرَ তুমি কি লক্ষ্য করনি, اِلَى দিকে اَلَّذِيْنَ যাদেরকে اُوْتُوْا দেয়া হয়েছিল نَصِيْبًا কিছু অংশ الْكِتَابِ مِنَ কিতাবের? يُدْعَوْنَ তাদেরকে যখন আহবান করা হয় اِلٰى দিকে كِتَابِ اللهِ আল্লাহর কিতাবের لِيَحْكُمَ যাতে মীমাংসা করা যায় بَيْنَهُمْ তাদের মধ্যে, ثُمَّ তারপর يَتَوَلّٰى মুখ ফিরিয়ে নেয় فَرِيْقٌ একটি দল مِنْهُمْ তাদের মধ্যে। وَهُمْ مُّعْرِضُوْنَ আর তারাই তো অমান্যকারী।

২৪. ذٰلِكَ এটা بِاَنَّهُمْ এজন্য যে, قَالُوْا তারা বলে, لَنْ تَمَسَّنَا আমাদেরকে কখনো স্পর্শ করবে না اَلنَّارُ আগুন اِلَّا তবে اَيَّامًا কয়েকটি দিন مَعْدُوْدَاتٍ নির্দিষ্ট। وَغَرَّهُمْ আর তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে فِيْ دِيْنِهِمْ তাদের দ্বীনের ব্যাপারে مَا كَانُوْا يَفْتَرُوْنَ তারা যা মিথ্যা রচনা করেছিল।

সরল অনুবাদ

২৩. (হে নবী!) তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের কিছু অংশ (কুরআন ছাড়া অন্যান্য আসমানী কিতাবের জ্ঞান) দেয়া হয়েছিল? [এখানে ‘‘যাদেরকে কিতাবের কিছু অংশ দেয়া হয়েছিল’’ বলতে তাওরাত ও ইঞ্জীল থেকে কিছু জ্ঞান লাভকারী ইহুদী ও খ্রিস্টানদের আলেমদেরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা এসব আলেমদের নিকট যখন প্রকৃত ইসলামের কথা বলা হতো, তখন তাদের অধিকাংশই নিজেদের গোঁড়ামি ও অল্প জ্ঞানের কারণে মেনে নিতে অস্বীকার করত। অনুরূপভাবে অত্র আয়াতটি বর্তমান যুগের বিদআতীদের ক্ষেত্রেও একটি উত্তম উদাহরণ। কেননা দ্বীন ইসলামের ক্ষেত্রে তারাও অনুরূপ আচরণ করে থাকে, যা তাদের নিজেদের জন্য এবং সমস্ত মুসলিম বিশে^র জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।] তাদেরকে যখন আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এর দিকে আহবান করা হলো, যাতে তাদের মধ্যে (বিদ্যমান বিবাদ) মীমাংসা করা যায়, তখন তাদের মধ্যে একটি দল মুখ ফিরিয়ে নিল। [প্রত্যেক যুগেই সত্যের বিরুদ্ধে এরূপ একটি দল বিদ্যমান থাকে। তাদের সামনে যখনই কোন সত্য উপস্থাপন করা হয়, তখনই তারা এর বিরুধিতা করে থাকে। অথচ তারা সমাজে সম্মানিত ও গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত থাকে। তারা নিজেদের সম্মান ও সুখ্যাতি হারানোর ভয়ে নিজেদের মতের বিরুধী সত্যকে কখনো মেনে নিতে রাজি নয়।] আর তারাই তো অমান্যকারী।

২৪. এটা এজন্য যে, তারা বলে, নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন ছাড়া আগুন (জাহান্নাম) আমাদেরকে কখনো স্পর্শ করবে না। (মূলত) তারা যা মিথ্যা রচনা করেছিল তা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। [এটি হচ্ছে ইহুদী সম্প্রদায়ের একটি চরম মিথ্যাচার। তারা দাবী করে যে, জান্নাত কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। দুনিয়াতে তারা যা কিছুই করে বেড়াক না কেন পরকালে তারা জান্নাত পাবেই। তাদের সকল অপরাধ আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দেবেন। তাদের বংশধরকে আগুন কখনো স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা তারা তারা অমুকের সন্তান, অমুকের উম্মত এবং তারা অমুকের অমুকের হাতে হাত রেখেছে। যদি কখনো তাদের কোন পাপের কারণে জাহান্নামে যেতেও হয়, তখন মাত্র কয়েক দিন শাস্তি ভোগ করবে। শরীর থেকে পাপের দাগ শেষ হয়ে গেলেই তাদেরকে জাহান্নাম থেকে উঠিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তাদের এরূপ ধারণার কারণেই তারা পৃথিবীতে নির্ভীকভাবে কঠিন থেকে কঠিনতর অপরাধ করে বেড়ায়; অথচ কোন অবস্থাতেই তাদের মনে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় না। সুতরাং তাদের এ ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত। এর কারণে তারা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির মধ্যে পতিত হচ্ছে এবং নিজেদেরকে জাহান্নামের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিচ্ছে।]

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. সর্বদা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিবাদ মীমাংসা করতে হবে।

২. আল্লাহর দিকে আহবান করলে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া যাবে না।

৩. সর্বদা একটি দল সত্যের বিরোধিতা করেই থাকে।

৪. সত্যের বিরোধীরা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত।

৫. দ্বীনের মধ্যে কোন কিছু বিকৃত ঘটানো যাবে না।

৬. দ্বীনের মধ্যে বিকৃতি ঘটানো নিজেদের ধোঁকা দেয়ার শামিল।