১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
আয়াত : ৭৯ – ৮০ নবীদের ব্যাপারে আল্লাহর সাক্ষ্য
مَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ يُّؤْتِيَهُ اللهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُوْلَ لِلنَّاسِ كُوْنُوْا عِبَادًا لِّيْ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَلٰكِنْ كُوْنُوْا رَبَّانِيِّيْنَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُوْنَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُوْنَ (৭৯) وَلَا يَأْمُرَكُمْ اَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَآئِكَةَ وَالنَّبِيِّيْنَ اَرْبَابًاؕ اَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ اِذْ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ (৮০)
শাব্দিক অনুবাদ
৭৯. مَا كَانَ এটা সম্ভব নয় لِبَشَرٍ কোন মানুষের জন্য اَنْ যে, يُؤْتِيَهُ তাকে দান করবেন اَللهُ আল্লাহ اَلْكِتَابَ কিতাব, وَالْحُكْمَ এবং জ্ঞান وَالنُّبُوَّةَ এবং নবুওয়াত; ثُمَّ অতঃপর يَقُوْلَ সে বলবে لِلنَّاسِ মানুষদেরকে, كُوْنُوْا তোমরা হয়ে যাও عِبَادًا বান্দা لِيْ আমার مِنْ دُوْنِ اللهِ আল্লাহকে বাদ দিয়ে। وَلٰكِنْ বরং كُوْنُوْا তোমরা হয়ে যাও رَبَّانِيِّيْنَ আল্লাহ ওয়ালা। بِمَا كُنْتُمْ কারণ তোমরা تُعَلِّمُوْنَ শিক্ষা দিয়ে থাক اَلْكِتَابَ কিতাব وَبِمَا كُنْتُمْ এবং তোমরা নিজেরাও تَدْرُسُوْنَ অধ্যায়ন করে থাক।
৮০. وَلَا يَأْمُرَكُمْ আর সে তোমাদেরকে (এই) নির্দেশও দেবে না যে, اَنْ تَتَّخِذُوا তোমরা গ্রহণ করো اَلْمَلَآئِكَةَ ফেরেশতাদেরকে وَالنَّبِيِّيْنَ এবং নবীদেরকে اَرْبَابًا প্রতিপালক হিসেবে। اَيَأْمُرُكُمْ সে কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেবে بِالْكُفْرِ কুফরীর بَعْدَ পর اِذْ যখন اَنْتُمْ তোমরা مُسْلِمُوْنَ মুসলিম।
সরল অনুবাদ
৭৯. কোন মানুষের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, জ্ঞান ও নবুওয়াত দান করবেন; অতঃপর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার বান্দা (দাস) হয়ে যাও। বরং (সে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর এ কথাই বলবে যে) তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও। কারণ তোমরা কিতাব শিক্ষা দিয়ে থাক এবং তোমরা নিজেরাও অধ্যায়ন করে থাক। [এখানে খ্রিস্টানদের কথা বুঝানো হয়েছে। তারা ঈসা (আঃ)-কে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে; অথচ তিনি হলেন, একজন মানুষ। তাকে কেবল কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত প্রদান করে অন্যান্য মানুষের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। এমন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কোন মানুষের পক্ষে এ কথা বলা কখনো সম্ভব নয় যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার পূজা কর; তিনি তো কেবল সে কথাই বলবেন, যা আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা হলো- তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও।]
৮০. আর সে তোমাদেরকে (এই) নির্দেশও দেবে না যে, তোমরা ফেরেশতা এবং নবীদেরকে নিজেদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করো। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর সে কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দেবে। [এ আয়াতে একটি মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে শিক্ষা মানুষকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তার বন্দেগী ও পূজা-অর্চনায় লিপ্ত করে এবং তাকে আল্লাহর দাসত্বের পর্যায় থেকে উলুহিয়্যাতের পর্যায়ে উন্নীত করে, তা কখনো নবীর শিক্ষা হতে পারে না। কোন ধর্মীয় গ্রন্থে এ ধরনের বক্তব্য দেখা গেলে সেখানে বিভ্রান্ত লোকেরা বিকৃতি ঘটিয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. প্রকৃত আলিমগণের পক্ষে মানুষকে বিভ্রান্তিকর বিষয়ের দিকে আহবান করা সম্ভব নয়।
২. আল্লাহর কিতাব নিজে শিক্ষা করা এবং অপরকেও শিক্ষা দেয়ার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
৩. কোন ফেরেশতা বা নবীকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।
শাব্দিক অনুবাদ
৭৯. مَا كَانَ এটা সম্ভব নয় لِبَشَرٍ কোন মানুষের জন্য اَنْ যে, يُؤْتِيَهُ তাকে দান করবেন اَللهُ আল্লাহ اَلْكِتَابَ কিতাব, وَالْحُكْمَ এবং জ্ঞান وَالنُّبُوَّةَ এবং নবুওয়াত; ثُمَّ অতঃপর يَقُوْلَ সে বলবে لِلنَّاسِ মানুষদেরকে, كُوْنُوْا তোমরা হয়ে যাও عِبَادًا বান্দা لِيْ আমার مِنْ دُوْنِ اللهِ আল্লাহকে বাদ দিয়ে। وَلٰكِنْ বরং كُوْنُوْا তোমরা হয়ে যাও رَبَّانِيِّيْنَ আল্লাহ ওয়ালা। بِمَا كُنْتُمْ কারণ তোমরা تُعَلِّمُوْنَ শিক্ষা দিয়ে থাক اَلْكِتَابَ কিতাব وَبِمَا كُنْتُمْ এবং তোমরা নিজেরাও تَدْرُسُوْنَ অধ্যায়ন করে থাক।
৮০. وَلَا يَأْمُرَكُمْ আর সে তোমাদেরকে (এই) নির্দেশও দেবে না যে, اَنْ تَتَّخِذُوا তোমরা গ্রহণ করো اَلْمَلَآئِكَةَ ফেরেশতাদেরকে وَالنَّبِيِّيْنَ এবং নবীদেরকে اَرْبَابًا প্রতিপালক হিসেবে। اَيَأْمُرُكُمْ সে কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেবে بِالْكُفْرِ কুফরীর بَعْدَ পর اِذْ যখন اَنْتُمْ তোমরা مُسْلِمُوْنَ মুসলিম।
সরল অনুবাদ
৭৯. কোন মানুষের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, জ্ঞান ও নবুওয়াত দান করবেন; অতঃপর সে মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার বান্দা (দাস) হয়ে যাও। বরং (সে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর এ কথাই বলবে যে) তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও। কারণ তোমরা কিতাব শিক্ষা দিয়ে থাক এবং তোমরা নিজেরাও অধ্যায়ন করে থাক। [এখানে খ্রিস্টানদের কথা বুঝানো হয়েছে। তারা ঈসা (আঃ)-কে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে; অথচ তিনি হলেন, একজন মানুষ। তাকে কেবল কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত প্রদান করে অন্যান্য মানুষের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। এমন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কোন মানুষের পক্ষে এ কথা বলা কখনো সম্ভব নয় যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার পূজা কর; তিনি তো কেবল সে কথাই বলবেন, যা আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা হলো- তোমরা আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যাও।]
৮০. আর সে তোমাদেরকে (এই) নির্দেশও দেবে না যে, তোমরা ফেরেশতা এবং নবীদেরকে নিজেদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করো। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর সে কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দেবে। [এ আয়াতে একটি মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে শিক্ষা মানুষকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তার বন্দেগী ও পূজা-অর্চনায় লিপ্ত করে এবং তাকে আল্লাহর দাসত্বের পর্যায় থেকে উলুহিয়্যাতের পর্যায়ে উন্নীত করে, তা কখনো নবীর শিক্ষা হতে পারে না। কোন ধর্মীয় গ্রন্থে এ ধরনের বক্তব্য দেখা গেলে সেখানে বিভ্রান্ত লোকেরা বিকৃতি ঘটিয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. প্রকৃত আলিমগণের পক্ষে মানুষকে বিভ্রান্তিকর বিষয়ের দিকে আহবান করা সম্ভব নয়।
২. আল্লাহর কিতাব নিজে শিক্ষা করা এবং অপরকেও শিক্ষা দেয়ার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
৩. কোন ফেরেশতা বা নবীকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।