hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

আয়াত : ১৮ আল্লাহর একত্ববাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য

شَهِدَ اللهُ اَنَّه لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ وَالْمَلَآئِكَةُ وَاُولُو الْعِلْمِ قَآئِمًا ۢبِالْقِسْطِؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ (১৮)

শাব্দিক অনুবাদ

১৮. شَهِدَ সাক্ষ্য দেন اَللهُ আল্লাহ اَنَّه  নিশ্চয় তিনি لَاۤ اِلٰهَ কোন ইলাহ নেই اِلَّا ব্যতীত هُوَ তিনি। وَالْمَلَآئِكَةُ আর ফেরেশতাগণ وَاُولُو الْعِلْمِ এবং জ্ঞানীগণ قَآئِمًا যারা প্রতিষ্ঠিত بِالْقِسْطِ ন্যায়ের উপর لَاۤ اِلٰهَ কোন ইলাহ নেই اِلَّا ব্যতীত هُوَ তিনি। اَلْعَزِيْزُ মহাপরাক্রমশালী اَلْحَكِيْمُ মহাপ্রজ্ঞাবান।

সরল অনুবাদ

১৮. আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্যিকারের) ইলাহ নেই। [আল্লাহর একত্ববাদের ব্যাপারে আল্লাহর সাক্ষ্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য। কেননা একমাত্র তিনিই হচ্ছেন এমন সত্তা, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তিনি সৃষ্টির সকল বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন। সমস্ত সৃষ্টিকে সূক্ষ্মভাবে তিনিই পরিচালনা করে থাকেন। আর এরূপ সত্তার সাক্ষ্য দানের পরও একত্ববাদের বিষয়ে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করা চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।] ফেরেশতাগণ [সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহর পর ফেরেশতাদের সাক্ষ্যই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। কেননা তারা হচ্ছেন এমন সত্তা, যারা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করে থাকেন এবং তারা সর্বদা আল্লাহর হুকুম পালনে ব্যস্ত থাকেন। আর তারা হচ্ছেন মহাবিশে^র ব্যবস্থাপনা কার্যনির্বাহী ও কর্মচারী। সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে তারাই সবচেয়ে ভালো করে অবগত আছেন যে, এ মহাবিশ^ কার নির্দেশনায় পরিচালিত হয় এবং কে ইলাহ হওয়ার উপযুক্ত। যখন এরূপ সত্তাগণও আল্লাহর একত্ববাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তখন এ সত্যটি আরো দৃঢ়তা লাভ করেছে।] এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও [ফেরেশতাদের পর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাক্ষ্য। কেননা তারা হচ্ছেন এমন ব্যক্তিত্ব, যারা সৃষ্টির অনেক বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। ফলে তারা এ সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হন যে, একমাত্র আল্লাহই সমগ্র বিশে^র ইলাহ। তিনিই সবকিছুর মালিক ও পরিচালক। তাঁকে ছাড়া অন্য কেউই ইলাহ হওয়ার যোগ্য নয়।] (সাক্ষ্য দেন যে) তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্যিকারের) ইলাহ নেই। তিনিই মহাপরাক্রমশালী ও মহাপ্রজ্ঞাবান।

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ প্রমাণের জন্য তার কথাই যথেষ্ট।

২. নিরপেক্ষভাবে আল্লাহর নিদর্শনের কথা চিন্তা করলে তাওহীদের কথা স্বীকার করা আবশ্যক।