১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৪
আয়াত : ৭৫ – ৭৬ আমানত ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আহলে কিতাবের ভ্রান্ত ধারণা
وَمِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ اِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُّؤَدِّه ۤ اِلَيْكَۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ اِنْ تَأْمَنْهُ بِدِيْنَارٍ لَّا يُؤَدِّه ۤ اِلَيْكَ اِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَآئِمًاؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْاُمِّيِّيْنَ سَبِيْلٌۚ وَّيَقُوْلُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ (৭৫) بَلٰى مَنْ اَوْفٰى بِعَهْدِه وَاتَّقٰى فَاِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِيْنَ (৭৬)
শাব্দিক অনুবাদ
৭৫. وَمِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ আর আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে مَنْ যে اِنْ যদি تَأْمَنْهُ তুমি তার কাছে আমানত রাখ بِقِنْطَارٍ বিপুল পরিমাণ (ধন-সম্পদ), يُؤَدِّه তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে اِلَيْكَ তোমার নিকট। وَمِنْهُمْ আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে مَنْ যে اِنْ যদি تَأْمَنْهُ তুমি তার কাছে আমানত রাখ بِدِيْنَارٍ একটি দিনারও, لَا يُؤَدِّه তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে না اِلَيْكَ তোমরা নিকট - اِلَّا مَا دُمْتَ যতক্ষণ না তুমি عَلَيْهِ তার উপর قَآئِمًا দাঁড়িয়ে থাক। ذٰلِكَ এটা এজন্য যে, بِاَنَّهُمْ কেননা তারা قَالُوْا বলে لَيْسَ নেই عَلَيْنَا আমাদের উপর فِي الْاُمِّيِّيْنَ মূর্খদের ব্যাপারে سَبِيْلٌ কোন দায়িত্ব। وَيَقُوْلُوْنَ আর তারা বলে عَلَى اللهِ আল্লাহ সম্পর্কে اَلْكَذِبَ মিথ্যা কথা وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ অথচ তারা জানে ।
৭৬. بَلٰى তবে হ্যাঁ - مَنْ যে ব্যক্তি اَوْفٰى পূর্ণ করল بِعَهْدِه তার অঙ্গীকার وَاتَّقٰى এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করল, فَاِنَّ তবে নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ يُحِبُّ ভালোবাসেন اَلْمُتَّقِيْنَ মুত্তাকীদেরকে।
সরল অনুবাদ
৭৫. আর আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যদি তুমি তার কাছে বিপুল পরিমাণ (ধন-সম্পদও) আমানত রাখ, তবে সে তা তোমার নিকট ফিরিয়ে দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যদি তুমি তার কাছে একটি দিনারও আমানত রাখ, তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে না- যতক্ষণ না তুমি তার (মাথার) উপর দাঁড়িয়ে থাক (অর্থাৎ পেছনে লেগে থাক)। এটা এজন্য যে, তারা বলে- মূর্খদের (সম্পদ ফেরত দেয়ার) ব্যাপারে আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। [এখানে ইহুদীদের একটি মূর্খতাপ্রসূত ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তারা তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিকৃত করে ধর্মীয় শিক্ষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। যেমন- তালমুদে বলা হয়েছে, যদি কোন ইসরাঈলির বলদ কোন অ-ইসরাঈলির বলদকে আহত করে, তাহলে এজন্য কোন জরিমানা দিতে হবে না। কোন ব্যক্তি যদি কোন জিনিস কুড়িয়ে পায়, তাহলে তাকে চারপাশের জনবসতির দিকে নজর দিতে হবে। চারপাশে যদি ইসরাঈলীদের বসতি থাকে, তাহলে তাকে জিনিসটির ঘোষণা দিতে হবে। আর যদি অ-ইসরাঈলীদের বসতি থাকে, তাহলে বিনা ঘোষণায় সে জিনিসটি নিয়ে নিতে পারবে। ইসমাঈল বলেন, যদি ইসরাঈলী ও অ-ইসরাঈলীর মামলা বিচারপতি আদালতে আসে, তাহলে বিচারপতি ধর্মীয় আইনের আওতায় নিজের ভাইকে জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বললেন, এটা আমাদের আইন। আর অ-ইসরাঈলীদের আইনের আওতায় জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বলবেন, এটা তোমাদের আইন। যদি দুটো আইনের কোনোটার সাহায্যেই ইসরাঈলীকে জয়ী করানো সম্ভব না হয়, তাহলে যে কোন বাহানাবাজী ও কৌশল অবলম্বন করে ইসরাঈলীকে জয়ী করতে হবে। (TALMUDIC MISCELLANY PAUL ISAAC HERSHON, London 1880, page-37, 220, 221)] আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে-বুঝে মিথ্যা কথা বলে।
৭৬. তবে হ্যাঁ- যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করল এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করল, তবে নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালোবাসেন।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আমানতের জিনিস ফেরত দেয়া আবশ্যক।
২. আমানতের খিয়ানত করা মারাত্মক অপরাধ।
৩. সর্বযুগে সকল জনপদে আমানতের খিয়ানতকারী কিছু লোক বিদ্যমান থাকে; আবার কিছু লোক সর্বদা সৎপন্থা অবলম্বন করে থাকে।
৪. নিজেদের ইচ্ছামতো আইন বানিয়ে নেয়া বৈধ নয়।
৫. আল্লাহর ব্যাপারে জেনে-শুনে মিথ্যারোপ করা মহাপাপ।
৬. অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করা মুত্তাকীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শাব্দিক অনুবাদ
৭৫. وَمِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ আর আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে مَنْ যে اِنْ যদি تَأْمَنْهُ তুমি তার কাছে আমানত রাখ بِقِنْطَارٍ বিপুল পরিমাণ (ধন-সম্পদ), يُؤَدِّه তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে اِلَيْكَ তোমার নিকট। وَمِنْهُمْ আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে مَنْ যে اِنْ যদি تَأْمَنْهُ তুমি তার কাছে আমানত রাখ بِدِيْنَارٍ একটি দিনারও, لَا يُؤَدِّه তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে না اِلَيْكَ তোমরা নিকট - اِلَّا مَا دُمْتَ যতক্ষণ না তুমি عَلَيْهِ তার উপর قَآئِمًا দাঁড়িয়ে থাক। ذٰلِكَ এটা এজন্য যে, بِاَنَّهُمْ কেননা তারা قَالُوْا বলে لَيْسَ নেই عَلَيْنَا আমাদের উপর فِي الْاُمِّيِّيْنَ মূর্খদের ব্যাপারে سَبِيْلٌ কোন দায়িত্ব। وَيَقُوْلُوْنَ আর তারা বলে عَلَى اللهِ আল্লাহ সম্পর্কে اَلْكَذِبَ মিথ্যা কথা وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ অথচ তারা জানে ।
৭৬. بَلٰى তবে হ্যাঁ - مَنْ যে ব্যক্তি اَوْفٰى পূর্ণ করল بِعَهْدِه তার অঙ্গীকার وَاتَّقٰى এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করল, فَاِنَّ তবে নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ يُحِبُّ ভালোবাসেন اَلْمُتَّقِيْنَ মুত্তাকীদেরকে।
সরল অনুবাদ
৭৫. আর আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যদি তুমি তার কাছে বিপুল পরিমাণ (ধন-সম্পদও) আমানত রাখ, তবে সে তা তোমার নিকট ফিরিয়ে দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যদি তুমি তার কাছে একটি দিনারও আমানত রাখ, তবে সে তা ফিরিয়ে দেবে না- যতক্ষণ না তুমি তার (মাথার) উপর দাঁড়িয়ে থাক (অর্থাৎ পেছনে লেগে থাক)। এটা এজন্য যে, তারা বলে- মূর্খদের (সম্পদ ফেরত দেয়ার) ব্যাপারে আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। [এখানে ইহুদীদের একটি মূর্খতাপ্রসূত ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তারা তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিকৃত করে ধর্মীয় শিক্ষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। যেমন- তালমুদে বলা হয়েছে, যদি কোন ইসরাঈলির বলদ কোন অ-ইসরাঈলির বলদকে আহত করে, তাহলে এজন্য কোন জরিমানা দিতে হবে না। কোন ব্যক্তি যদি কোন জিনিস কুড়িয়ে পায়, তাহলে তাকে চারপাশের জনবসতির দিকে নজর দিতে হবে। চারপাশে যদি ইসরাঈলীদের বসতি থাকে, তাহলে তাকে জিনিসটির ঘোষণা দিতে হবে। আর যদি অ-ইসরাঈলীদের বসতি থাকে, তাহলে বিনা ঘোষণায় সে জিনিসটি নিয়ে নিতে পারবে। ইসমাঈল বলেন, যদি ইসরাঈলী ও অ-ইসরাঈলীর মামলা বিচারপতি আদালতে আসে, তাহলে বিচারপতি ধর্মীয় আইনের আওতায় নিজের ভাইকে জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বললেন, এটা আমাদের আইন। আর অ-ইসরাঈলীদের আইনের আওতায় জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বলবেন, এটা তোমাদের আইন। যদি দুটো আইনের কোনোটার সাহায্যেই ইসরাঈলীকে জয়ী করানো সম্ভব না হয়, তাহলে যে কোন বাহানাবাজী ও কৌশল অবলম্বন করে ইসরাঈলীকে জয়ী করতে হবে। (TALMUDIC MISCELLANY PAUL ISAAC HERSHON, London 1880, page-37, 220, 221)] আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে-বুঝে মিথ্যা কথা বলে।
৭৬. তবে হ্যাঁ- যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করল এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করল, তবে নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালোবাসেন।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আমানতের জিনিস ফেরত দেয়া আবশ্যক।
২. আমানতের খিয়ানত করা মারাত্মক অপরাধ।
৩. সর্বযুগে সকল জনপদে আমানতের খিয়ানতকারী কিছু লোক বিদ্যমান থাকে; আবার কিছু লোক সর্বদা সৎপন্থা অবলম্বন করে থাকে।
৪. নিজেদের ইচ্ছামতো আইন বানিয়ে নেয়া বৈধ নয়।
৫. আল্লাহর ব্যাপারে জেনে-শুনে মিথ্যারোপ করা মহাপাপ।
৬. অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করা মুত্তাকীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।