hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৭

আয়াত : ১৭৯ আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা

مَا كَانَ اللهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلٰى مَاۤ اَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتّٰى يَمِيْزَ الْخَبِيْثَ مِنَ الطَّيِّبِؕ وَمَا كَانَ اللهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلٰكِنَّ اللهَ يَجْتَبِيْ مِنْ رُّسُلِه مَنْ يَّشَآءُ فَاٰمِنُوْا بِاللهِ وَرُسُلِه ۚ وَاِنْ تُؤْمِنُوْا وَتَتَّقُوْا فَلَكُمْ اَجْرٌ عَظِيْمٌ (১৭৯)

শাব্দিক অনুবাদ

১৭৯. مَا كَانَ اللهُ আল্লাহ এমন নন যে, لِيَذَرَ তিনি ছেড়ে দেবেন اَلْمُؤْمِنِيْنَ মুমিনদেরকে عَلٰى উপর مَا যার اَنْتُمْ তোমরা عَلَيْهِ তার উপর حَتّٰى যতক্ষণ পর্যন্ত يَمِيْزَ তিনি পৃথক করেন اَلْخَبِيْثَ অপবিত্রকে مِنْ হতে اَلطَّيِّبِ পবিত্র। وَمَا كَانَ اللهُ আবার তিনি এমনও নন যে, لِيُطْلِعَكُمْ তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন عَلَى الْغَيْبِ অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে। وَلٰكِنَّ اللهَ তবে আল্লাহ يَجْتَبِيْ মনোনীত করে থাকেন مِنْ থেকে رُسُلِه  তার রাসূলগণের مَنْ যাকে يَشَآءُ তিনি ইচ্ছা করেন; فَاٰمِنُوْا অতএব তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো بِاللهِ আল্লাহ প্রতি وَرُسُلِه  ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি। وَاِنْ আর যদি تُؤْمِنُوْا তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো وَتَتَّقُوْا এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করো, فَلَكُمْ তবে তোমাদের জন্য রয়েছে اَجْرٌ পুরস্কার عَظِيْمٌ মহা।

সরল অনুবাদ

১৭৯. আল্লাহ এমন নন যে, তিনি পবিত্র (মুমিন) হতে অপবিত্রকে (মুনাফিকদেরকে) পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থার উপর রয়েছ, সে অবস্থার উপরে মুমিনদেরকে ছেড়ে দেবেন। [অর্থাৎ মুসলিমরা ও মুনাফিকরা একই সাথে মিশে থাকুক- এটা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না। ফলে তিনি মুসলিমদেরকে মাঝে মধ্যে এমন কিছু পরীক্ষার সম্মুখীন করেন, যার কারণে স্বংক্রিয়ভাবে মুসলিমদের থেকে মুনাফিকরা পৃথক হয়ে যায়। কেননা একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য কঠিন বিপদসমূহ মোকাবেলার ক্ষেত্রে যেসব বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন, তা কোন মুনাফিকের মধ্যে থাকে না। ফলে যখনই তারা বিপদের আশংকা দেখে, তখনই তারা মুসলিমদের দল থেকে পৃথক হয়ে যায়। উহুদ যুদ্ধের সময় চূড়ান্ত বিপদ অবলোকন করে মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তার দলবল সহকারে মুসলিমদের দল থেকে পৃথক হয়ে যাওয়াটাই হলো এর জলজ্যান্ত প্রমাণ। বর্তমান মুসলিমদের জন্য এই ঘটনাটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে থাকে।] আবার তিনি এমনও নন যে, তোমাদেরকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন। তবে আল্লাহ (অদৃশ্যের বিষয়ে জানানোর জন্য) তার রাসূলগণের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করে থাকেন [এখানে অদৃশ্যের বিষয় বলতে মুনাফিকদের অন্তরে লুকায়িত বিষয়সমূহের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। কেননা তাদের অন্তরে লুকায়িত বিষয়সমূহ জানা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ তা‘আলা যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে এর কোন কোন সংবাদ তাঁর প্রেরিত নবী-রাসূলদেরকে জানিয়ে থাকেন- যেরকমভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন কোন মুনাফিকের ব্যাপারে জানতেন। আর বর্তমানে যেহেতু নবী-রাসূল আগমনের কোন সম্ভাবনা নেই, সুতরাং এ ব্যাপার জানার আর কোন রাস্তাই খোলা নেই। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাহলে বর্তমানে আমরা মুনাফিকদেরকে চিনব কীভাবে? এর উত্তর এই আয়াতের পূর্বের অংশেই দেয়া আছে অর্থাৎ যখন মুসলিমদের উপর কঠিন বিপদ আপতিত হবে, ঠিক তখনই তাদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে অনেক হাদীসেও তাদেরকে চেনার অনেক উপায় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন আমাদের বই ‘‘মুনাফিক কারা’’।]; অতএব তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। যদি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করো এবং তাক্বওয়া অবলম্বন কর, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

আয়াতের শিক্ষা

কোন বান্দাই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না।

আল্লাহ তা‘আলা নির্বাচিত রাসূলদেরকে অদৃশ্য বিষয়ের কোন কোন সংবাদ জানিয়ে থাকেন।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।