১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
আয়াত : ১৬ – ১৭ জান্নাতীদের গুণাবলি
اَلَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (১৬) اَلصَّابِرِيْنَ وَالصَّادِقِيْنَ وَالْقَانِتِيْنَ وَالْمُنْفِقِيْنَ وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالْاَسْحَارِ (১৭)
শাব্দিক অনুবাদ
১৬. اَلَّذِيْنَ যারা يَقُوْلُوْنَ বলে, رَبَّنَا হে আমাদের প্রতিপালক! اِنَّنَا নিশ্চয় আমরা اٰمَنَّا ঈমান এনেছি। فَاغْفِرْ لَنَا সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন ذُنُوْبَنَا আমাদের পাপসমূহ وَقِنَا এবং আমাদেরকে রক্ষা করুন النَّارِ عَذَابَ আগুনের শাস্তি হতে ।
১৭. اَلصَّابِرِيْنَ যারা ধৈর্যশীল, وَالصَّادِقِيْنَ এবং সত্যবাদী, وَالْقَانِتِيْنَ এবং বিনয়ী, وَالْمُنْفِقِيْنَ এবং দানকারী وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারী بِالْاَسْحَارِ শেষ রাত্রে।
সরল অনুবাদ
১৬. (জান্নাতীদের গুণাবলি হচ্ছে) যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান এনেছি। [এখানে বুঝানো হয়েছে যে, জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রধান শর্তই হচ্ছে ঈমান আনয়ন করা। ঈমানদার ব্যক্তি ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।] সুতরাং আপনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। [যখন কোন ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই ঈমান আনয়ন করে, তখন সে পূর্বে কৃত পাপসমূহের জন্য খুবই অনুতপ্ত হয় এবং এর জন্য বার বার আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তারপর সে উক্ত পাপকর্ম থেকে সর্বদা বিরত থাকার চেষ্টা করে। কেননা সে জানে যে, এসব গুনাহের ক্ষমা অর্জন করতে না পারলে তাকে সর্বনিকৃষ্ট স্থান জাহান্নামে যেতে হবে। ফলে সে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য প্রার্থনা করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে। মূলত আল্লাহ তা‘আলা এরূপ ব্যক্তিকেই কিয়ামতের দিন জান্নাত প্রদান করবেন।]
১৭. (তারা) ধৈর্যশীল [জান্নাতী ব্যক্তিগণ দুনিয়াতে এতই ধৈর্য অবলম্বন করে যে, তারা দ্বীনের পথে দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকে। কোন ক্ষতি বা বিপদের মুখে তারা কখনো সাহসহারা হয় না। ব্যর্থতা তাদেরকে দুবর্ল করে না। লোভ-লালসায় তাদের পা পিছলে যায় না। যখন আপাতদৃষ্টিতে সাফল্যের কোন সম্ভাবনাই দেখা যায় না তখনো এরা মজবুতভাবে সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকে।], সত্যবাদী [জান্নাতী ব্যক্তিগণ এতটাই সত্যবাদী হয় যে, ইসলামের স্বার্থে যদি কখনো উক্ত সত্য কথাটি নিজের জীবন বিপন্নের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবুও তারা সেটি বলতে দ্বিধাবোধ করে না।], বিনয়ী, দানশীল [জান্নাতী ব্যক্তিগণ অতি দানশীল হয়ে থাকে। তারা স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল সকল অবস্থায় দান করতে সদা প্রস্তুত থাকে। এ কর্মের দ্বারা মূলত নিজেদের সওয়াবের পাল্লাকে ভারি থেকে আরো ভারি করে থাকে।] এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী [জান্নাতী ব্যক্তিগণ দুনিয়ার জীবনে শেষ রাত্রে অধিক হারে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকে। সে সময় তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তারা ভালো করে জানে যে, এ সময় আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য আহবান করেন। সুতরাং এ সময় যদি প্রার্থনা করা হয়, তাহলে অবশ্যই তিনি তা কবুল করবেন।]।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কৃত গুনাহের জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
২. সর্বদা জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
৩. ধৈর্যশীলতা, সত্যবাদিতা, বিনয়ী হওয়া, দানকারী এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী ইত্যাদি জান্নাতী লোকদের বৈশিষ্ট্য।
শাব্দিক অনুবাদ
১৬. اَلَّذِيْنَ যারা يَقُوْلُوْنَ বলে, رَبَّنَا হে আমাদের প্রতিপালক! اِنَّنَا নিশ্চয় আমরা اٰمَنَّا ঈমান এনেছি। فَاغْفِرْ لَنَا সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন ذُنُوْبَنَا আমাদের পাপসমূহ وَقِنَا এবং আমাদেরকে রক্ষা করুন النَّارِ عَذَابَ আগুনের শাস্তি হতে ।
১৭. اَلصَّابِرِيْنَ যারা ধৈর্যশীল, وَالصَّادِقِيْنَ এবং সত্যবাদী, وَالْقَانِتِيْنَ এবং বিনয়ী, وَالْمُنْفِقِيْنَ এবং দানকারী وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারী بِالْاَسْحَارِ শেষ রাত্রে।
সরল অনুবাদ
১৬. (জান্নাতীদের গুণাবলি হচ্ছে) যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা ঈমান এনেছি। [এখানে বুঝানো হয়েছে যে, জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রধান শর্তই হচ্ছে ঈমান আনয়ন করা। ঈমানদার ব্যক্তি ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।] সুতরাং আপনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। [যখন কোন ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই ঈমান আনয়ন করে, তখন সে পূর্বে কৃত পাপসমূহের জন্য খুবই অনুতপ্ত হয় এবং এর জন্য বার বার আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তারপর সে উক্ত পাপকর্ম থেকে সর্বদা বিরত থাকার চেষ্টা করে। কেননা সে জানে যে, এসব গুনাহের ক্ষমা অর্জন করতে না পারলে তাকে সর্বনিকৃষ্ট স্থান জাহান্নামে যেতে হবে। ফলে সে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য প্রার্থনা করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে। মূলত আল্লাহ তা‘আলা এরূপ ব্যক্তিকেই কিয়ামতের দিন জান্নাত প্রদান করবেন।]
১৭. (তারা) ধৈর্যশীল [জান্নাতী ব্যক্তিগণ দুনিয়াতে এতই ধৈর্য অবলম্বন করে যে, তারা দ্বীনের পথে দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকে। কোন ক্ষতি বা বিপদের মুখে তারা কখনো সাহসহারা হয় না। ব্যর্থতা তাদেরকে দুবর্ল করে না। লোভ-লালসায় তাদের পা পিছলে যায় না। যখন আপাতদৃষ্টিতে সাফল্যের কোন সম্ভাবনাই দেখা যায় না তখনো এরা মজবুতভাবে সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকে।], সত্যবাদী [জান্নাতী ব্যক্তিগণ এতটাই সত্যবাদী হয় যে, ইসলামের স্বার্থে যদি কখনো উক্ত সত্য কথাটি নিজের জীবন বিপন্নের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবুও তারা সেটি বলতে দ্বিধাবোধ করে না।], বিনয়ী, দানশীল [জান্নাতী ব্যক্তিগণ অতি দানশীল হয়ে থাকে। তারা স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল সকল অবস্থায় দান করতে সদা প্রস্তুত থাকে। এ কর্মের দ্বারা মূলত নিজেদের সওয়াবের পাল্লাকে ভারি থেকে আরো ভারি করে থাকে।] এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী [জান্নাতী ব্যক্তিগণ দুনিয়ার জীবনে শেষ রাত্রে অধিক হারে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকে। সে সময় তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। তারা ভালো করে জানে যে, এ সময় আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য আহবান করেন। সুতরাং এ সময় যদি প্রার্থনা করা হয়, তাহলে অবশ্যই তিনি তা কবুল করবেন।]।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কৃত গুনাহের জন্য সর্বদা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
২. সর্বদা জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
৩. ধৈর্যশীলতা, সত্যবাদিতা, বিনয়ী হওয়া, দানকারী এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী ইত্যাদি জান্নাতী লোকদের বৈশিষ্ট্য।