hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৯

আয়াত : ১৪৫ মৃত্যু সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًاؕ وَّمَنْ يُّرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِه مِنْهَاۚ وَمَنْ يُّرِدْ ثَوَابَ الْاٰخِرَةِ نُؤْتِه مِنْهَاؕ وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِيْنَ (১৪৫)

শাব্দিক অনুবাদ

১৪৫. وَمَا كَانَ আর সম্ভব নয় لِنَفْسٍ কোন প্রাণীর জন্য اَنْ যে, تَمُوْتَ সে মৃত্যুবরণ করবে اِلَّا ব্যতীত بِاِذْنِ اللهِ আল্লাহর ইচ্ছা كِتَابًا লিখিত مُؤَجَّلًا মেয়াদ/সময়। وَمَنْ যে ব্যক্তি يُرِدْ কামনা করে, ثَوَابَ প্রতিদান اَلدُّنْيَا পার্থিব نُؤْتِه  আমি তাকে প্রদান করি مِنْهَا তা হতেই। وَمَنْ আর যে ব্যক্তি يُرِدْ কামনা করে ثَوَابَ প্রতিদান اَلْاٰخِرَةِ আখিরাতের, نُؤْتِه  আমি তাকে প্রদান করি مِنْهَا তা হতেই। وَسَنَجْزِي আর আমি অচিরেই পুরস্কার প্রদান করব اَلشَّاكِرِيْنَ কৃতজ্ঞদেরকে ।

সরল অনুবাদ

১৪৫. আর কোন প্রাণীর জন্য (সম্ভব) নয় যে, সে আল্লাহর ইচ্ছা (আদেশ) ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে, (তবে আল্লাহর কাছে এজন্য) সময় নির্ধারিত রয়েছে। [কোন মানুষের ক্ষমতা নেই যে, সে নিজ ইচ্ছায় মারা যাবে। এ কারণেই অনেক সময় দেখা যায় যে, একজন মুমূর্ষ রোগী হঠাৎ করে সুস্থ হয়ে উঠছে, আবার একজন সুস্থ মানুষ হঠাৎ করে মারা যাচ্ছে। অত্র আয়াত থেকে দুটি মর্মার্থ গ্রহণ করা যায়। তা হলো- (১) দেখো! তোমরা যে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া মাত্রই দিশেহারা হয়ে গেছ, সেটা একেবারেই অনর্থক। কেননা তিনি হলেন তোমাদের মতোই একজন মানুষ। পৃথিবীতে যত প্রকার প্রাণী রয়েছে, প্রত্যেকের মৃত্যুই অনিবার্য। (২) তোমরা যে মৃত্যুর ভয়ে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে গিয়েছিলে, এর পক্ষে কি কোন যৌক্তিকতা আছে? অথচ একদিন না একদিন তোমাদেরকে তো মৃত্যুবরণ করতেই হবে। অতএব ভবিষ্যতে যাতে তোমাদের দ্বারা এরূপ ভুল আর কখনো সংঘটিত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখো এবং মৃত্যুর ভয় ত্যাগ করে মানুষকে যথাযথভাবে আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিয়ে যাও।] যে ব্যক্তি পার্থিব প্রতিদান কামনা করে, আমি তাকে তা হতেই প্রদান করি। (পক্ষান্তরে) যে ব্যক্তি আখিরাতের প্রতিদান কামনা করে, আমি তাকে তা হতেই প্রদান করি। [এখানে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের পার্থিব জীবনে কৃতকর্মের প্রতিদান প্রাপ্তির সময় সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন এবং এই বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত করেছেন যে, দুনিয়ার জীবনটা হচ্ছে তোমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র। তোমাদের পরীক্ষার সুবিধার্থে এ জীবনে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তোমাদের কর্মের ব্যাপারে অবকাশ দিয়েছেন। এখন তোমরা চাইলে ভালো দিকগুলো গ্রহণ করতে পার অথবা খারাপ দিকগুলোও গ্রহণ করতে পার। অনুরূপভাবে তোমরা তোমাদের কাজের প্রতিদান এ জীবনেই গ্রহণ করতে পার অথবা আখিরাতের জীবনেও গ্রহণ করতে পার। সুতরাং তোমরা যদি তোমাদের ভালো কাজের প্রতিদানগুলো এ জীবনেই গ্রহণ করতে চাও, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাই প্রদান করবেন এবং তোমাদেরকে দুনিয়াতে সমৃদ্ধশালী ও অনেক প্রতিপত্তির অধিকারী করবেন। কিন্তু আখিরাতের জীবনে তোমাদের জন্য কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।] আর আমি অচিরেই (আমার প্রতি) কৃতজ্ঞদেরকে (যথাযথ) পুরস্কার দেব।

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

সকলের মৃত্যু আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়।

প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় পূর্ব হতেই নির্ধারিত রয়েছে।

দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য পরীক্ষাক্ষেত্র।

মানুষ আল্লাহর কাছে পার্থিব সুখ-শাস্তি কামনা করলে তা পাবে, আবার কেউ আখিরাত কামনা করলে তাই পাবে।

সর্বদা আল্লাহর নিয়মতসমূহের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে।