১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫
আয়াত : ৯৩ – ৯৪ বনী ইসরাঈলের মিথ্যাচারিতার জবাব
كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِيْۤ اِسْرَآئِيْلَ اِلَّا مَا حَرَّمَ اِسْرَآئِيْلُ عَلٰى نَفْسِه مِنْ قَبْلِ اَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُؕ قُلْ فَأْتُوْا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوْهَاۤ اِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ (৯৩) فَمَنِ افْتَرٰى عَلَى اللهِ الْكَذِبَ مِنْ ۢبَعْدِ ذٰلِكَ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ (৯৪)
শাব্দিক অনুবাদ
৯৩. كُلُّ সব اَلطَّعَامِ খাদ্যই كَانَ ছিল حِلًّا হালাল لِبَنِيْۤ اِسْرَآئِيْلَ বনী ইসরাঈলের জন্য, اِلَّا তবে مَا حَرَّمَ যা হারাম করে নিয়েছিল اِسْرَآئِيْلُ ইসরাঈল (ইয়াকুব) عَلٰى نَفْسِه তার নিজের উপর مِنْ قَبْلِ পূর্ব থেকেই اَنْ تُنَزَّلَ অবতীর্ণ হওয়ার اَلتَّوْرَاةُ তাওরাত। قُلْ বলো, فَأْتُوْا তবে তোমরা নিয়ে আসো بِالتَّوْرَاةِ তাওরাত فَاتْلُوْهَا এবং তা পাঠ করো اِنْ كُنْتُمْ যদি তোমরা হও صَادِقِيْنَ সত্যবাদী।
৯৪. فَمَنِ অতঃপর যারা اِفْتَرٰى আরোপ করে عَلَى اللهِ আল্লাহর উপর اَلْكَذِبَ মিথ্যাচার مِنْ ۢبَعْدِ ذٰلِكَ এসব কিছুর পরও فَاُولٰٓئِكَ এরাই ঐসব লোক هُمُ তারাই اَلظَّالِمُوْنَ যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
সরল অনুবাদ
৯৩. বনী ইসরাঈলের জন্য সব খাদ্যই হালাল ছিল, তবে যা তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই ইসরাঈল (ইয়াকুব) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিল তা ছাড়া। বলো, তবে তোমরা তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো- যদি তোমরা সত্যবাদী হও। [অত্র আয়াতটি নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট হিসেবে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়। উভয় বর্ণনাই গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যুক্তিযুক্ত। তা হলো- (১) আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইহুদীরা এক ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে নিয়ে আসল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা শাস্তি দাও। তারা বলল, আমরা তো এর শাস্তি হিসেবে তাদের চেহারায় কালি মেখে দেই এবং তাদেরকে প্রহার করি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমরা তাওরাতে কি প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এ ব্যাপারে কিছুই পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) তাদের বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো। এরপর তাওরাত পাঠ করার সময় তাদের তাওরাত-শিক্ষক প্রস্তর নিক্ষেপ সম্পর্কিত আয়াতের উপর স্বীয় হাত রেখে নিচের অংশ পড়তে লাগল। রজমের কথা লিখা আয়াতটি পড়ছিল না। এটা দেখে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) তার হাতটি রজমের আয়াতের উপর হতে সরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা কী? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তাদেরকে মসজিদের পার্শ্বে জানাযার স্থানের নিকট রজম করা হয়। (সহীহ বুখারী, হা/১৩২৯, ৪৫৫৬)(২) ইহুদী আলেমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দাওয়াতের পথে আপত্তি উত্থাপন করতে লাগলো যে, আপনি এমন কিছু খাবার হালাল হিসেবে গণ্য করেছেন, যা পূর্ববর্তী নবীদের সময় হারাম হিসেবে গণ্য হতো। যেমন- উটের গোশত ও তার দুধ খাওয়া; অথচ ইবরাহীম (আঃ) এর দ্বীনে এগুলো হারাম ছিল। ইহুদীদের এসব মিথ্যা অভিযোগের জবাবেই আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতটি নাযিল করেন। এতে তিনি তাদের গোমরাহী ফাঁস করে দেন এবং বলেন যে, তোমাদের এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কেননা তোমরা যে দ্বীনের অনুসারী হিসেবে দাবী করছ সেটি ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আঃ) এর অনেক পরে নাযিল হয়েছে। তাহলে তোমরা এসব নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ইবরাহীমের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দাবী করতে পার? দ্বিতীয়ত তোমরা যেসব বস্তু হালাল হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করছ, সেগুলো তোমাদের উপর মূলত হালালই ছিল। কিন্তু তোমাদের নিজেদের যুলুম ও অবাধ্যতার কারণে তোমাদের উপর কিছু কিছু বস্তু হারাম করে দেয়া হয়েছিল। (সূরা আনআম-৪৬) অপরদিকে কিছু কিছু বস্তু ইয়াকুব (আঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। যেমন- উটের গোশত ও তার দুধ ইত্যাদি। সুতরাং ইয়াকুব (আঃ) এর হারামকৃত বস্তুসমূহ কেবল তার সাথেই সম্পৃক্ত। তবুও তিনি তো তাওরাত নাযিল হওয়ার অনেক পূর্বে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন।]
৯৪. অতঃপর যারা এরপরও আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে, তারাই যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. বনী ইসরাঈলের লোকেরা কিছু কিছু খাদ্য নিজেরাই নিজেদের উপর হারাম করে নিয়েছিল, যা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হারাম করেননি।
২. আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা সবচেয়ে বড় যুলুম।
৩. তাওরাত কিতাব ইয়াকুব (আঃ) এর পরে অবতীর্ণ হয়েছিল।
শাব্দিক অনুবাদ
৯৩. كُلُّ সব اَلطَّعَامِ খাদ্যই كَانَ ছিল حِلًّا হালাল لِبَنِيْۤ اِسْرَآئِيْلَ বনী ইসরাঈলের জন্য, اِلَّا তবে مَا حَرَّمَ যা হারাম করে নিয়েছিল اِسْرَآئِيْلُ ইসরাঈল (ইয়াকুব) عَلٰى نَفْسِه তার নিজের উপর مِنْ قَبْلِ পূর্ব থেকেই اَنْ تُنَزَّلَ অবতীর্ণ হওয়ার اَلتَّوْرَاةُ তাওরাত। قُلْ বলো, فَأْتُوْا তবে তোমরা নিয়ে আসো بِالتَّوْرَاةِ তাওরাত فَاتْلُوْهَا এবং তা পাঠ করো اِنْ كُنْتُمْ যদি তোমরা হও صَادِقِيْنَ সত্যবাদী।
৯৪. فَمَنِ অতঃপর যারা اِفْتَرٰى আরোপ করে عَلَى اللهِ আল্লাহর উপর اَلْكَذِبَ মিথ্যাচার مِنْ ۢبَعْدِ ذٰلِكَ এসব কিছুর পরও فَاُولٰٓئِكَ এরাই ঐসব লোক هُمُ তারাই اَلظَّالِمُوْنَ যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
সরল অনুবাদ
৯৩. বনী ইসরাঈলের জন্য সব খাদ্যই হালাল ছিল, তবে যা তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই ইসরাঈল (ইয়াকুব) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিল তা ছাড়া। বলো, তবে তোমরা তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো- যদি তোমরা সত্যবাদী হও। [অত্র আয়াতটি নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট হিসেবে দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়। উভয় বর্ণনাই গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যুক্তিযুক্ত। তা হলো- (১) আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইহুদীরা এক ব্যভিচারী পুরুষ ও নারীকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে নিয়ে আসল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা শাস্তি দাও। তারা বলল, আমরা তো এর শাস্তি হিসেবে তাদের চেহারায় কালি মেখে দেই এবং তাদেরকে প্রহার করি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমরা তাওরাতে কি প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এ ব্যাপারে কিছুই পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) তাদের বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তাওরাত নিয়ে আসো এবং তা পাঠ করো। এরপর তাওরাত পাঠ করার সময় তাদের তাওরাত-শিক্ষক প্রস্তর নিক্ষেপ সম্পর্কিত আয়াতের উপর স্বীয় হাত রেখে নিচের অংশ পড়তে লাগল। রজমের কথা লিখা আয়াতটি পড়ছিল না। এটা দেখে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) তার হাতটি রজমের আয়াতের উপর হতে সরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা কী? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তাদেরকে মসজিদের পার্শ্বে জানাযার স্থানের নিকট রজম করা হয়। (সহীহ বুখারী, হা/১৩২৯, ৪৫৫৬)(২) ইহুদী আলেমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দাওয়াতের পথে আপত্তি উত্থাপন করতে লাগলো যে, আপনি এমন কিছু খাবার হালাল হিসেবে গণ্য করেছেন, যা পূর্ববর্তী নবীদের সময় হারাম হিসেবে গণ্য হতো। যেমন- উটের গোশত ও তার দুধ খাওয়া; অথচ ইবরাহীম (আঃ) এর দ্বীনে এগুলো হারাম ছিল। ইহুদীদের এসব মিথ্যা অভিযোগের জবাবেই আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতটি নাযিল করেন। এতে তিনি তাদের গোমরাহী ফাঁস করে দেন এবং বলেন যে, তোমাদের এ ধরনের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কেননা তোমরা যে দ্বীনের অনুসারী হিসেবে দাবী করছ সেটি ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আঃ) এর অনেক পরে নাযিল হয়েছে। তাহলে তোমরা এসব নিষেধাজ্ঞা কীভাবে ইবরাহীমের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দাবী করতে পার? দ্বিতীয়ত তোমরা যেসব বস্তু হালাল হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করছ, সেগুলো তোমাদের উপর মূলত হালালই ছিল। কিন্তু তোমাদের নিজেদের যুলুম ও অবাধ্যতার কারণে তোমাদের উপর কিছু কিছু বস্তু হারাম করে দেয়া হয়েছিল। (সূরা আনআম-৪৬) অপরদিকে কিছু কিছু বস্তু ইয়াকুব (আঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। যেমন- উটের গোশত ও তার দুধ ইত্যাদি। সুতরাং ইয়াকুব (আঃ) এর হারামকৃত বস্তুসমূহ কেবল তার সাথেই সম্পৃক্ত। তবুও তিনি তো তাওরাত নাযিল হওয়ার অনেক পূর্বে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন।]
৯৪. অতঃপর যারা এরপরও আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে, তারাই যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. বনী ইসরাঈলের লোকেরা কিছু কিছু খাদ্য নিজেরাই নিজেদের উপর হারাম করে নিয়েছিল, যা আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হারাম করেননি।
২. আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা সবচেয়ে বড় যুলুম।
৩. তাওরাত কিতাব ইয়াকুব (আঃ) এর পরে অবতীর্ণ হয়েছিল।