১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬২
আয়াত : ১০৬ – ১০৯ কিয়ামতের দিনে ঈমানদার ও কাফিরদের চেহারার বর্ণনা
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْهٌ وَّتَسْوَدُّ وُجُوْهٌۚ فَاَمَّا الَّذِيْنَ اسْوَدَّتْ وُجُوْهُهُمْ۫ اَكَفَرْتُمْ بَعْدَ اِيْمَانِكُمْ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ (১০৬) وَاَمَّا الَّذِيْنَ ابْيَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِيْ رَحْمَةِ اللهِؕ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ (১০৭) تِلْكَ اٰيَاتُ اللهِ نَتْلُوْهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّؕ وَمَا اللهُ يُرِيْدُ ظُلْمًا لِّلْعَالَمِيْنَ (১০৮) وَلِلّٰهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْاَرْضِؕ وَاِلَى اللهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ (১০৯)
শাব্দিক অনুবাদ
১০৬. يَوْمَ সেদিন تَبْيَضُّ উজ্জ্বল হবে وُجُوْهٌ কিছু চেহারা وَتَسْوَدُّ এবং কালো হবে وُجُوْهٌ কিছু চেহারা। فَاَمَّا অতঃপর اَلَّذِيْنَ যাদের اِسْوَدَّتْ কালো হবে وُجُوْهُهُمْ তাদের চেহারা, اَكَفَرْتُمْ তোমরা কি কুফরী করেছিলে بَعْدَ পর اِيْمَانِكُمْ তোমাদের ঈমান আনার? فَذُوْقُوْا সুতরাং তোমরা ভোগ করো اَلْعَذَابَ শাস্তি بِمَا সে কারণে যা كُنْتُمْ তোমরা تَكْفُرُوْنَ কুফরী করতে।
১০৭. وَاَمَّا আর اَلَّذِيْنَ যাদের اِبْيَضَّتْ উজ্জ্বল হবে وُجُوْهُهُمْ তাদের চেহারা فَفِيْ তারা থাকবে رَحْمَةِ রহমতে اَللهِ আল্লাহর। هُمْ তারা فِيْهَا সেখানে خَالِدُوْنَ চিরস্থায়ী হবে।
১০৮. تِلْكَ এগুলো হলো اٰيَاتُ নিদর্শনসমূহ اَللهِ আল্লাহর, نَتْلُوْهَا আমি তা পাঠ করছি عَلَيْكَ তোমার নিকট بِالْحَقِّ যথাযথভাবে। وَمَا আর না اَللهُ আল্লাহ يُرِيْدُ চান ظُلْمًا অবিচার করতে لِلْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসীর প্রতি ।
১০৯. وَلِلّٰهِ আল্লাহর জন্য مَا যা কিছু আছে فِي মধ্যে اَلسَّمَاوَاتِ আকাশসমূহের وَمَا এবং যা কিছু আছে فِي মধ্যে اَلْاَرْضِ জমিনের وَاِلَى এবং দিকেই اَللهِ আল্লাহর تُرْجَعُ প্রত্যাবর্তিত হবে اَلْاُمُوْرُ সকল বিষয়।
সরল অনুবাদ
১০৬. সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল এবং কিছু চেহারা হবে কালো। অতঃপর যাদের চেহারা কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), তোমরা কি তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা যে কুফরী করতে তার কারণে শাস্তি ভোগ করো।
১০৭. আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে (জান্নাতে) থাকবে; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। [এই আয়াতদ্বয়ে দুটি দল ও তাদের পরিণাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো- উজ্জ্বল চেহারা ধারণকারী দল। আর অপরটি হচ্ছে- কালো চেহারা ধারণকারী দল। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, উজ্জ্বল চেহারা ধারণকারী দলটি হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত। আর কালো চেহারা ধারণকারী দলটি হলো আহলে বিদআত। (ফাতহুল কাদীর, সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর)]
১০৮. এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, আমি তা তোমার নিকট যথাযথভাবে পাঠ করছি। আর আল্লাহ বিশ্ববাসীর (মানবজাতির) প্রতি অবিচার করতে চান না। [অর্থাৎ কোনরূপ দিক নির্দেশনা বা হেদায়াত প্রেরণ না করেই আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিতে চান না। অত্র আয়াতে এ বিষয়টিকেই যুলুম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যত মানুষকে প্রেরণ করেন, প্রত্যেককেই তিনি জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করার উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রেরণ করেন। আর সাধারণ বিবেকের দাবী হচ্ছে, পরীক্ষার শুরুতেই পরীক্ষার্থীকে যাবতীয় নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবহিত করা। যেমন- পরীক্ষার হলের ভেতরে কিরূপ আচরণ করা যাবে এবং কিরূপ আচরণ করা যাবে না, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেমন হবে, কীভাবে উত্তরপত্র লিখলে বেশি নাম্বার পাওয়া যাবে ইত্যাদি। সুতরাং যদি এরূপ না করেই কারো পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই যুলুম হিসেবে গণ্য হবে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা হচ্ছেন মহাবিজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী। তার পক্ষে এরূপ বিবেক বহির্ভূত কাজ করা একেবারেই বেমানান। এ কারণে তিনি তার বান্দাদেরকে পৃথিবীতে পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রেরণ করার সাথে সাথে অতি দয়াপরবশ হয়ে এমন সব ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেছেন, যাতে করে তারা অতি সহজেই উত্তীর্ণ হয়ে যেতে পারে। যেমন- জন্মের পূর্বে গ্রহণকৃত সকল মানুষের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া, ইসলামকে একমাত্র জীবনবিধান হিসেবে নির্ধারিত করে দেয়া, সৎকর্ম ও অসৎকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া, দুনিয়ার কর্মফল হিসেবে আখিরাতের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়া ইত্যাদি।]
১০৯. আকাশসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। [অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু করছে সবকিছু তিনি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিয়ামতের দিন মানুষসহ সমস্ত সৃষ্টিকেই তার সামনে উপস্থিত করা হবে। সেদিন তিনি বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন এবং সমস্ত সৃষ্টি তথা নিয়ামতকে মানুষের ভালো অথবা মন্দ কাজের জন্য সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড় করাবেন। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেই বেঁচে থাকো।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিন ঈমানদারদের চেহারা হবে উজ্জ্বল বর্ণের এবং কাফিরদের চেহারা হবে কালো।
২. কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল চেহারাধারীরা আল্লাহর রহমত লাভ করে ধন্য হবে।
৩. আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিকানা একমাত্র আল্লাহর।
৪. দুনিয়ার সবকিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।
শাব্দিক অনুবাদ
১০৬. يَوْمَ সেদিন تَبْيَضُّ উজ্জ্বল হবে وُجُوْهٌ কিছু চেহারা وَتَسْوَدُّ এবং কালো হবে وُجُوْهٌ কিছু চেহারা। فَاَمَّا অতঃপর اَلَّذِيْنَ যাদের اِسْوَدَّتْ কালো হবে وُجُوْهُهُمْ তাদের চেহারা, اَكَفَرْتُمْ তোমরা কি কুফরী করেছিলে بَعْدَ পর اِيْمَانِكُمْ তোমাদের ঈমান আনার? فَذُوْقُوْا সুতরাং তোমরা ভোগ করো اَلْعَذَابَ শাস্তি بِمَا সে কারণে যা كُنْتُمْ তোমরা تَكْفُرُوْنَ কুফরী করতে।
১০৭. وَاَمَّا আর اَلَّذِيْنَ যাদের اِبْيَضَّتْ উজ্জ্বল হবে وُجُوْهُهُمْ তাদের চেহারা فَفِيْ তারা থাকবে رَحْمَةِ রহমতে اَللهِ আল্লাহর। هُمْ তারা فِيْهَا সেখানে خَالِدُوْنَ চিরস্থায়ী হবে।
১০৮. تِلْكَ এগুলো হলো اٰيَاتُ নিদর্শনসমূহ اَللهِ আল্লাহর, نَتْلُوْهَا আমি তা পাঠ করছি عَلَيْكَ তোমার নিকট بِالْحَقِّ যথাযথভাবে। وَمَا আর না اَللهُ আল্লাহ يُرِيْدُ চান ظُلْمًا অবিচার করতে لِلْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসীর প্রতি ।
১০৯. وَلِلّٰهِ আল্লাহর জন্য مَا যা কিছু আছে فِي মধ্যে اَلسَّمَاوَاتِ আকাশসমূহের وَمَا এবং যা কিছু আছে فِي মধ্যে اَلْاَرْضِ জমিনের وَاِلَى এবং দিকেই اَللهِ আল্লাহর تُرْجَعُ প্রত্যাবর্তিত হবে اَلْاُمُوْرُ সকল বিষয়।
সরল অনুবাদ
১০৬. সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল এবং কিছু চেহারা হবে কালো। অতঃপর যাদের চেহারা কালো হবে (তাদেরকে বলা হবে), তোমরা কি তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? সুতরাং তোমরা যে কুফরী করতে তার কারণে শাস্তি ভোগ করো।
১০৭. আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে (জান্নাতে) থাকবে; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। [এই আয়াতদ্বয়ে দুটি দল ও তাদের পরিণাম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো- উজ্জ্বল চেহারা ধারণকারী দল। আর অপরটি হচ্ছে- কালো চেহারা ধারণকারী দল। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, উজ্জ্বল চেহারা ধারণকারী দলটি হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত। আর কালো চেহারা ধারণকারী দলটি হলো আহলে বিদআত। (ফাতহুল কাদীর, সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর)]
১০৮. এগুলো হলো আল্লাহর নিদর্শন, আমি তা তোমার নিকট যথাযথভাবে পাঠ করছি। আর আল্লাহ বিশ্ববাসীর (মানবজাতির) প্রতি অবিচার করতে চান না। [অর্থাৎ কোনরূপ দিক নির্দেশনা বা হেদায়াত প্রেরণ না করেই আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দিতে চান না। অত্র আয়াতে এ বিষয়টিকেই যুলুম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যত মানুষকে প্রেরণ করেন, প্রত্যেককেই তিনি জান্নাতের নিয়ামত ভোগ করার উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রেরণ করেন। আর সাধারণ বিবেকের দাবী হচ্ছে, পরীক্ষার শুরুতেই পরীক্ষার্থীকে যাবতীয় নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবহিত করা। যেমন- পরীক্ষার হলের ভেতরে কিরূপ আচরণ করা যাবে এবং কিরূপ আচরণ করা যাবে না, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেমন হবে, কীভাবে উত্তরপত্র লিখলে বেশি নাম্বার পাওয়া যাবে ইত্যাদি। সুতরাং যদি এরূপ না করেই কারো পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই যুলুম হিসেবে গণ্য হবে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা হচ্ছেন মহাবিজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী। তার পক্ষে এরূপ বিবেক বহির্ভূত কাজ করা একেবারেই বেমানান। এ কারণে তিনি তার বান্দাদেরকে পৃথিবীতে পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রেরণ করার সাথে সাথে অতি দয়াপরবশ হয়ে এমন সব ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেছেন, যাতে করে তারা অতি সহজেই উত্তীর্ণ হয়ে যেতে পারে। যেমন- জন্মের পূর্বে গ্রহণকৃত সকল মানুষের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া, ইসলামকে একমাত্র জীবনবিধান হিসেবে নির্ধারিত করে দেয়া, সৎকর্ম ও অসৎকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া, দুনিয়ার কর্মফল হিসেবে আখিরাতের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়া ইত্যাদি।]
১০৯. আকাশসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। [অর্থাৎ দুনিয়াতে মানুষ যা কিছু করছে সবকিছু তিনি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিয়ামতের দিন মানুষসহ সমস্ত সৃষ্টিকেই তার সামনে উপস্থিত করা হবে। সেদিন তিনি বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত থাকবেন এবং সমস্ত সৃষ্টি তথা নিয়ামতকে মানুষের ভালো অথবা মন্দ কাজের জন্য সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড় করাবেন। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেই বেঁচে থাকো।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. কিয়ামতের দিন ঈমানদারদের চেহারা হবে উজ্জ্বল বর্ণের এবং কাফিরদের চেহারা হবে কালো।
২. কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল চেহারাধারীরা আল্লাহর রহমত লাভ করে ধন্য হবে।
৩. আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিকানা একমাত্র আল্লাহর।
৪. দুনিয়ার সবকিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।