১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৭
আয়াত : ৯৬ – ৯৭ মক্কা ও তার মর্যাদা
اِنَّ اَوَّلَ بَيْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِيْ بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَّهُدًى لِّلْعَالَمِيْنَ (৯৬) فِيْهِ اٰيَاتٌ ۢبَيِّنَاتٌ مَّقَامُ اِبْرَاهِيْمَۚ وَمَنْ دَخَلَه كَانَ اٰمِنًاؕ وَّلِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَيْهِ سَبِيْلًاؕ وَّمَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ (৯৭)
শাব্দিক অনুবাদ
৯৬. اِنَّ নিশ্চয় اَوَّلَ সর্বপ্রথম بَيْتٍ ঘর وُضِعَ নির্মিত لِلنَّاسِ মানুষের জন্য (সেটিই) لَلَّذِيْ যেটি بِبَكَّةَ বাক্কায় (মক্কায় অবস্থিত) مُبَارَكًا বরকতময় وَهُدًى এবং পথনির্দেশিকা لِلْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসীর জন্য।
৯৭. فِيْهِ সেখানে রয়েছে اٰيَاتٌ নিদর্শনসমূহ بَيِّنَاتٌ স্পষ্ট; مَقَامُ اِبْرَاهِيْمَ মাকামে ইবরাহীম। وَمَنْ আর যে ব্যক্তি دَخَلَه তাতে প্রবেশ করবে كَانَ اٰمِنًا সে নিরাপদ وَلِلّٰهِ এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে عَلَى النَّاسِ মানুষের উপর (ফরয) حِجُّ হজ্জ করা اَلْبَيْتِ সেই ঘরে; اسْتَطَاعَ مَنِ যারা সামর্থ রাখে اِلَيْهِ তার দিকে سَبِيْلًا যাতায়াতের। وَمَنْ আর যে ব্যক্তি كَفَرَ তা অমান্য করবে فَاِنَّ তাহলে নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ غَنِيٌّ অমুখাপেক্ষী عَنِ الْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসী থেকে।
সরল অনুবাদ
৯৬. নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর হচ্ছে সেটিই, যেটি বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত- যেটি বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর (মানবজাতির) জন্য পথনির্দেশিকা। [এখানে ইহুদীদের আরো একটি আপত্তির জবাব দেয়া হয়েছে। মুসলিমরা যখন বাইতুল মাকদাস থেকে কিবলা পরিবর্তন করে কাবা ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তখন ইহুদীরা আপত্তি জানালো যে, তোমরা বাইতুল মাকদাসকে বাদ দিয়ে কাবাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করেছো কেন? অথচ পূর্ববতী নবীগণ এই বাইতুল মাকদাসকেই কিবলা হিসেবে গ্রহণ করে আসছিল। ইতিপূর্বে সূরা বাকারাতে তাদের এই আপত্তির জবাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইহুদীরা এরপরও এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে আসছিল। ফলে এখানে পুনরায় জবাব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইহুদীদের এই মিথ্যা দাবীর কথা প্রমাণ হয়ে যায়। কেননা বাইবেলে বাইতুল মাকদাস সম্পর্কে এসেছে যে, মূসা (আঃ) এর ৪৫০ বছর পর সুলাইমান (আঃ) এটি নির্মাণ করেছিলেন। (১-রাজাবলী, ৬ঃ১) আর সুলাইমান (আঃ) এর আমলেই এটি তাওহীদবাদীদের কিবলা হিসেবে গণ্য হয়। (১-রাজাবলী, ৮ঃ২৯-৩০) পক্ষান্তরে সমগ্র আরববাসীর ঐক্যমতে সুদীর্ঘকালীন ধারাবাহিক বর্ণনায় একথা প্রমাণিত যে, কাবা নির্মাণ করেছিলেন ইবরাহীম (আঃ)। তিনি মূসা (আঃ) এর ৮/৯ শ‘ বছর আগে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। কাজেই কাবার অগ্রবর্তী অবস্থান ও নির্মাণ সন্দেহাতীতভাবে সত্য।]
৯৭. সেখানে রয়েছে (আল্লাহর) স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ [কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে আল্লাহ তা‘আলার অনেক নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। যেমন- ধূ ধূ মরুর বুকে এ ঘরটি নির্মাণ করা, কাবা ঘরের আশেপাশের অধিবাসীদের আহার্য সরবরাহের চমৎকার ব্যবস্থা করে দেয়া, জাহিলিয়াতের কারণে আড়াই হাজার বছর পর্যন্ত সমগ্র আরব ভূখন্ডে চরম অশান্তি ও নিরাপত্তা হীনতা বিরাজ করা সত্ত্বেও কেবল এই অঞ্চলের অধিবাসীগণ কর্তৃক শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করা, কাবা ঘরকে ধ্বংস করতে এসে আবাবিল পাখির কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে বাদশাহ আবরাহা ও তার সেনাদল আল্লাহর গযবে পতিত হওয়া ইত্যাদি। আরবের অধিবাসীগণ এসব নিদর্শন সম্পর্কে পূর্ব হতেই অবগত ছিল; ফলে তারা কাবা ঘরকে সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখতো।]; (এর মধ্যে একটি হচ্ছে) মাকামে ইবরাহীম [এটি হচ্ছে ইবরাহীম (আঃ) এর পায়ের ছাপ ধারণকৃত একটি পাথর। ইবরাহীম (আঃ) যখন কাবাঘর নির্মাণ করছিলেন, তখন তিনি এই পাথরের উপর দাঁড়িয়ে কাবাঘরের উপরের অংশের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। ফলে এতে ইবরাহীম (আঃ) এর পায়ের ছাপ লেগে যায়।]। আর যে ব্যক্তি তাতে (মক্কায়) প্রবেশ করবে সে নিরাপদ [অর্থাৎ নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে- এ ধরনের যে কোন কর্ম কাবা ও তার আশেপাশের এলাকা তথা হেরেম এর মধ্যে সংঘটিত করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর কষ্টের কারণ হয় এরূপ কোন কর্মও নিষিদ্ধ। যেমন- শিকার করা, গাছ কাটা ইত্যাদি। সুতরাং কাবা ও তার আশেপাশের এলাকার মানুষসহ সবধরনের প্রাণির জন্যই এটি একটি নিরাপদ স্থান। কিন্তু এরপরও যারা এখানে উপরোক্ত আইন ভঙ্গ করে নিরাপত্তা ভঙ্গ করতে আসবে, আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাদেরকে থামিয়ে দেবেন, যেমনিভাবে তিনি আবরাহার বাহিনীকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।] এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরে হজ্জ করা মানুষের উপর ফরয; যারা তার দিকে যাতায়াতের সামর্থ রাখে। [অর্থাৎ যারা পরিবারের স্বাভাবিক ভরণ-পোষণ বাদ দিয়ে কাবা ঘর পর্যন্ত পৌঁছা এবং সেখানে নিজের খরচ বহনপূর্বক পুনরায় পরিবারের কাছে ফিরে আসার মতো আর্থিক সক্ষমতা রাখে এবং শারীরিকভাবেও এ কাজ পূর্ণ করার মতো সুস্থতার অধিকারী হয়, তাদের উপর হজ্জ করা ফরয। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন আমাদের বই ‘‘জিলহজ্জ্ব মাসের করণীয় ও বর্জনীয়’’।] আর যে তা অমান্য করবে (তার জেনে রাখা উচিত যে), নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্ববাসী (মানবজাতি) থেকে অমুখাপেক্ষী। [এ বাক্যটির দ্বারা ঐসব ব্যক্তিদেরকে ধমক প্রদান করা হয়েছে, যারা হজ্জ পালন করার মতো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ পালন করতে অস্বীকার করে অথবা হজ্জ পালন করতে চায় না অথবা যারা আর্থিক ক্ষতির অজুহাতে হজ্জ পালনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি উত্থাপন করে। এখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, হজ্জ পালনের ব্যাপারে তোমরা যে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় করছ, যার কারণে হজ্জ পালন করছ না অথবা হজ্জ পালনের ব্যাপারে বিরুধিতায় লিপ্ত হয়েছো- এগুলো তোমাদের ঈমানী দুর্বলতা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের মুখাপেক্ষী নন; বরং তোমরাই তার মুখাপেক্ষী। তোমাদের এই সামান্য অর্থ আল্লাহর কোন উপকারে আসবে না; বরং এগুলো যদি তোমরা আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী হজ্জ পালনের মতো আর্থিক ইবাদাতসমূহের জন্য খরচ কর, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তোমাদের অন্তরের একাগ্রতা অনুযায়ী অনেক পুরস্কার প্রদান করবেন। আর যদি না কর, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং তোমরা ইসলামের একটি ফরয বিধান পালন করতে অস্বীকার করার কারণে কাফিরে পরিণত হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর হচ্ছে কাবা ঘর।
২. মক্কার অপর নাম বাক্কা।
৩. মক্কা একটি বরকতময় স্থান।
৪. মাকামে ইবরাহীম আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম।
৫. মক্কায় প্রবেশকারীরা আল্লাহর পক্ষ হতে নিরাপত্তা লাভ করে থাকে।
৬. কাবা ঘরে হজ্জ পালন করা ফরয।
৭. হজ্জ কেবল সামর্থবানদের উপর ফরয।
৮. আল্লাহ তা‘আলা কারো মুখাপেক্ষী নন।
৯. কেউ হজ্জ করুক আর না করুক- তাতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না।
শাব্দিক অনুবাদ
৯৬. اِنَّ নিশ্চয় اَوَّلَ সর্বপ্রথম بَيْتٍ ঘর وُضِعَ নির্মিত لِلنَّاسِ মানুষের জন্য (সেটিই) لَلَّذِيْ যেটি بِبَكَّةَ বাক্কায় (মক্কায় অবস্থিত) مُبَارَكًا বরকতময় وَهُدًى এবং পথনির্দেশিকা لِلْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসীর জন্য।
৯৭. فِيْهِ সেখানে রয়েছে اٰيَاتٌ নিদর্শনসমূহ بَيِّنَاتٌ স্পষ্ট; مَقَامُ اِبْرَاهِيْمَ মাকামে ইবরাহীম। وَمَنْ আর যে ব্যক্তি دَخَلَه তাতে প্রবেশ করবে كَانَ اٰمِنًا সে নিরাপদ وَلِلّٰهِ এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে عَلَى النَّاسِ মানুষের উপর (ফরয) حِجُّ হজ্জ করা اَلْبَيْتِ সেই ঘরে; اسْتَطَاعَ مَنِ যারা সামর্থ রাখে اِلَيْهِ তার দিকে سَبِيْلًا যাতায়াতের। وَمَنْ আর যে ব্যক্তি كَفَرَ তা অমান্য করবে فَاِنَّ তাহলে নিশ্চয় اَللهَ আল্লাহ غَنِيٌّ অমুখাপেক্ষী عَنِ الْعَالَمِيْنَ বিশ্ববাসী থেকে।
সরল অনুবাদ
৯৬. নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর হচ্ছে সেটিই, যেটি বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত- যেটি বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর (মানবজাতির) জন্য পথনির্দেশিকা। [এখানে ইহুদীদের আরো একটি আপত্তির জবাব দেয়া হয়েছে। মুসলিমরা যখন বাইতুল মাকদাস থেকে কিবলা পরিবর্তন করে কাবা ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তখন ইহুদীরা আপত্তি জানালো যে, তোমরা বাইতুল মাকদাসকে বাদ দিয়ে কাবাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করেছো কেন? অথচ পূর্ববতী নবীগণ এই বাইতুল মাকদাসকেই কিবলা হিসেবে গ্রহণ করে আসছিল। ইতিপূর্বে সূরা বাকারাতে তাদের এই আপত্তির জবাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইহুদীরা এরপরও এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে আসছিল। ফলে এখানে পুনরায় জবাব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইহুদীদের এই মিথ্যা দাবীর কথা প্রমাণ হয়ে যায়। কেননা বাইবেলে বাইতুল মাকদাস সম্পর্কে এসেছে যে, মূসা (আঃ) এর ৪৫০ বছর পর সুলাইমান (আঃ) এটি নির্মাণ করেছিলেন। (১-রাজাবলী, ৬ঃ১) আর সুলাইমান (আঃ) এর আমলেই এটি তাওহীদবাদীদের কিবলা হিসেবে গণ্য হয়। (১-রাজাবলী, ৮ঃ২৯-৩০) পক্ষান্তরে সমগ্র আরববাসীর ঐক্যমতে সুদীর্ঘকালীন ধারাবাহিক বর্ণনায় একথা প্রমাণিত যে, কাবা নির্মাণ করেছিলেন ইবরাহীম (আঃ)। তিনি মূসা (আঃ) এর ৮/৯ শ‘ বছর আগে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। কাজেই কাবার অগ্রবর্তী অবস্থান ও নির্মাণ সন্দেহাতীতভাবে সত্য।]
৯৭. সেখানে রয়েছে (আল্লাহর) স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ [কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে আল্লাহ তা‘আলার অনেক নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। যেমন- ধূ ধূ মরুর বুকে এ ঘরটি নির্মাণ করা, কাবা ঘরের আশেপাশের অধিবাসীদের আহার্য সরবরাহের চমৎকার ব্যবস্থা করে দেয়া, জাহিলিয়াতের কারণে আড়াই হাজার বছর পর্যন্ত সমগ্র আরব ভূখন্ডে চরম অশান্তি ও নিরাপত্তা হীনতা বিরাজ করা সত্ত্বেও কেবল এই অঞ্চলের অধিবাসীগণ কর্তৃক শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করা, কাবা ঘরকে ধ্বংস করতে এসে আবাবিল পাখির কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে বাদশাহ আবরাহা ও তার সেনাদল আল্লাহর গযবে পতিত হওয়া ইত্যাদি। আরবের অধিবাসীগণ এসব নিদর্শন সম্পর্কে পূর্ব হতেই অবগত ছিল; ফলে তারা কাবা ঘরকে সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখতো।]; (এর মধ্যে একটি হচ্ছে) মাকামে ইবরাহীম [এটি হচ্ছে ইবরাহীম (আঃ) এর পায়ের ছাপ ধারণকৃত একটি পাথর। ইবরাহীম (আঃ) যখন কাবাঘর নির্মাণ করছিলেন, তখন তিনি এই পাথরের উপর দাঁড়িয়ে কাবাঘরের উপরের অংশের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। ফলে এতে ইবরাহীম (আঃ) এর পায়ের ছাপ লেগে যায়।]। আর যে ব্যক্তি তাতে (মক্কায়) প্রবেশ করবে সে নিরাপদ [অর্থাৎ নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটে- এ ধরনের যে কোন কর্ম কাবা ও তার আশেপাশের এলাকা তথা হেরেম এর মধ্যে সংঘটিত করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর কষ্টের কারণ হয় এরূপ কোন কর্মও নিষিদ্ধ। যেমন- শিকার করা, গাছ কাটা ইত্যাদি। সুতরাং কাবা ও তার আশেপাশের এলাকার মানুষসহ সবধরনের প্রাণির জন্যই এটি একটি নিরাপদ স্থান। কিন্তু এরপরও যারা এখানে উপরোক্ত আইন ভঙ্গ করে নিরাপত্তা ভঙ্গ করতে আসবে, আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাদেরকে থামিয়ে দেবেন, যেমনিভাবে তিনি আবরাহার বাহিনীকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।] এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরে হজ্জ করা মানুষের উপর ফরয; যারা তার দিকে যাতায়াতের সামর্থ রাখে। [অর্থাৎ যারা পরিবারের স্বাভাবিক ভরণ-পোষণ বাদ দিয়ে কাবা ঘর পর্যন্ত পৌঁছা এবং সেখানে নিজের খরচ বহনপূর্বক পুনরায় পরিবারের কাছে ফিরে আসার মতো আর্থিক সক্ষমতা রাখে এবং শারীরিকভাবেও এ কাজ পূর্ণ করার মতো সুস্থতার অধিকারী হয়, তাদের উপর হজ্জ করা ফরয। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন আমাদের বই ‘‘জিলহজ্জ্ব মাসের করণীয় ও বর্জনীয়’’।] আর যে তা অমান্য করবে (তার জেনে রাখা উচিত যে), নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্ববাসী (মানবজাতি) থেকে অমুখাপেক্ষী। [এ বাক্যটির দ্বারা ঐসব ব্যক্তিদেরকে ধমক প্রদান করা হয়েছে, যারা হজ্জ পালন করার মতো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ পালন করতে অস্বীকার করে অথবা হজ্জ পালন করতে চায় না অথবা যারা আর্থিক ক্ষতির অজুহাতে হজ্জ পালনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি উত্থাপন করে। এখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, হজ্জ পালনের ব্যাপারে তোমরা যে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় করছ, যার কারণে হজ্জ পালন করছ না অথবা হজ্জ পালনের ব্যাপারে বিরুধিতায় লিপ্ত হয়েছো- এগুলো তোমাদের ঈমানী দুর্বলতা এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের মুখাপেক্ষী নন; বরং তোমরাই তার মুখাপেক্ষী। তোমাদের এই সামান্য অর্থ আল্লাহর কোন উপকারে আসবে না; বরং এগুলো যদি তোমরা আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী হজ্জ পালনের মতো আর্থিক ইবাদাতসমূহের জন্য খরচ কর, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তোমাদের অন্তরের একাগ্রতা অনুযায়ী অনেক পুরস্কার প্রদান করবেন। আর যদি না কর, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং তোমরা ইসলামের একটি ফরয বিধান পালন করতে অস্বীকার করার কারণে কাফিরে পরিণত হবে।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর হচ্ছে কাবা ঘর।
২. মক্কার অপর নাম বাক্কা।
৩. মক্কা একটি বরকতময় স্থান।
৪. মাকামে ইবরাহীম আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম।
৫. মক্কায় প্রবেশকারীরা আল্লাহর পক্ষ হতে নিরাপত্তা লাভ করে থাকে।
৬. কাবা ঘরে হজ্জ পালন করা ফরয।
৭. হজ্জ কেবল সামর্থবানদের উপর ফরয।
৮. আল্লাহ তা‘আলা কারো মুখাপেক্ষী নন।
৯. কেউ হজ্জ করুক আর না করুক- তাতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে না।