hadith book logo

সূরা আলে ইমরান

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৭

আয়াত : ১৪২ – ১৪৩ কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত বান্দাদেরকেই আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন

اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِيْنَ جَاهَدُوْا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِيْنَ (১৪২) وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَاَيْتُمُوْهُ وَاَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ (১৪৩)

শাব্দিক অনুবাদ

১৪২. اَمْ কি حَسِبْتُمْ তোমরা মনে করছ اَنْ যে, تَدْخُلُوا তোমরা প্রবেশ করবে اَلْجَنَّةَ জান্নাতে, وَلَمَّا অথচ এখনও يَعْلَمِ অবগত হননি اَللهُ আল্লাহ اَلَّذِيْنَ যারা جَاهَدُوْا জিহাদ করেছে مِنْكُمْ তোমাদের মধ্য হতে وَيَعْلَمَ এবং অবগত হননি اَلصَّابِرِيْنَ ধৈর্য্যশীলদের ব্যাপারে।

১৪৩. وَلَقَدْ নিশ্চয় كُنْتُمْ তোমরা تَمَنَّوْنَ কামনা করছিলে اَلْمَوْتَ মৃত্যুর (শাহাদাতের) مِنْ قَبْلِ এর পূর্বেই اَنْ যে, تَلْقَوْهُ তার মুখোমুখী হওয়ার। فَقَدْ আর নিশ্চয় رَاَيْتُمُوْهُ তা তোমরা প্রত্যক্ষ করলে وَاَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ বাস্তব দৃষ্টিতে।

সরল অনুবাদ

১৪২. তোমরা কি মনে করছ যে, তোমরা (এমনিতেই) জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ (পরীক্ষার মাধ্যমে) জেনে নেননি যে, তোমাদের মধ্য হতে কারা জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্য্যশীল। [এখানে ঐসব লোকদেরকে তিরস্কার ও ধমক প্রদান করা হয়েছে, যারা নিজেদেরকে মুমিন হিসেবে দাবী করে, কিন্তু দ্বীনের স্বার্থে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট স্বীকার করতে রাজি নয় অথবা যারা শরীয়তের সহজসাধ্য বিষয়সমূহ খুবই মনোযোগ সহকারে আদায় করে এবং দ্বীনের কঠিন বিষয়সমূহকে পরিহার করে চলে অথবা যারা সত্যের বিরুদ্ধে শয়তানী শক্তিকে এমনভাবে ভয় করে থাকে, যেরূপ ভয় একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে করা উচিত অথবা দ্বীনের নফল বিষয়সমূহ আদায় করার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে এবং ফরয বিষয়সমূহ আদায় করার ব্যাপারে অবহেলা করে। এক কথায় যারা ঈমানী দুর্বলতার রোগে কঠিনভাবে আক্রান্ত- এ আয়াতে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে- যাতে করে তারা সেই দুর্বলতা কাটিয়ে নিজেদেরকে ঈমানী শক্তিতে উজ্জীবিত করতে পারে। সূরা বাকারার ২১৪নং এবং সূরা আনকাবুতের ২নং আয়াতেও এরূপ ব্যক্তিকে আরো ভিন্ন আকারে ধমক প্রদান করা হয়েছে। তারপর এ আয়াতে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য এমন একটি বিষয়কে শর্তারোপ করে দেয়া হয়েছে, যা ইসলামের সমস্ত হুকুম-আহকামের সাথে সম্পৃক্ত। আর তা হলো- পরিপূর্ণ ধৈর্য সহকারে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করা।]

১৪৩. নিশ্চয় তোমরা কামনা করছিলে (শাহাদাতের) মৃত্যুর এর (জিহাদের) সাথে সাক্ষাতের পূর্বেই। আর এইমাত্র তা তোমরা বাস্তব দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করলে। [এখানে ঐসব সাহাবীকে সম্বোধন করা হয়েছে, যারা বদর যুদ্ধের শহীদদের মর্যাদা অনুধাবন করে অনুরূপ মর্যাদা লাভের জন্য ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। অতঃপর এদেরই জোর দাবী অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদিনার বাহিরে গিয়ে কুরাইশদের আক্রমণ প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তারপর যখন যুদ্ধ শুরু হলো এবং মুসলিমগণ বিজয়ের প্রাথমিক অবস্থা অবলোকন করল- এমতাবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পুনরায় কাফিরদের আক্রমণের স্বীকার হয়ে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হলো, তখন অল্পসংখ্যক সাহাবী ব্যতীত অধিকাংশই পলায়ন করেছিল। আল্লাহ তা‘আলা এদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেই এই আয়াতের অবতারণা করে এ কথা অনুধাবন করিয়ে দেন যে, তোমরা যতটা সহজে শাহাদাতবরণের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছো, আসলে তা ততোটা সহজ নয়। যুদ্ধের ময়দানে উপনীত হলেই এর প্রকৃত অবস্থাটি অনুধাবন করা যায়। আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীর সমর্থনে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার আশা করো না এবং আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা কামনা কর। তবে যদি শত্রুর সাথে মুখোমুখী হওয়ার পরিস্থিতি আপনা আপনিই এসে যায় এবং তোমাদেরকে তাদের সাথে লড়তে হয়, তাহলে তখন (ময়দানে) সুদৃঢ় ও অনঢ় থাকো। জেনে রেখো! জান্নাত হলো তরবারির ছায়ার তলে। (বুখারী হা/২৮১৮)]

আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

১. নির্বাচিত বান্দা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

২. আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন ধরনের কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য নির্বাচিত করে থাকেন।

৩. আল্লাহর পরীক্ষাসমূহে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হবে।

৪. কোন অবস্থাতেই মৃত্যু কামনা করা যাবে না, তবে শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করা যাবে।