১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭০
আয়াত : ১২৩ – ১২৫ বদরের যুদ্ধে ফেরেশতাদের দ্বারা আল্লাহর সাহায্য
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللهُ بِبَدْرٍ وَّاَنْتُمْ اَذِلَّةٌۚ فَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ (১২৩) اِذْ تَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِيْنَ اَلَنْ يَّكْفِيَكُمْ اَنْ يُّمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَاثَةِ اٰلَافٍ مِّنَ الْمَلَآئِكَةِ مُنْزَلِيْنَ (১২৪) بَلٰۤى اِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا وَيَأْتُوْكُمْ مِّنْ فَوْرِهِمْ هٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ اٰلَافٍ مِّنَ الْمَلَآئِكَةِ مُسَوِّمِيْنَ (১২৫)
শাব্দিক অনুবাদ
১২৩. وَلَقَدْ আর অবশ্যই نَصَرَكُمُ তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন اَللهُ আল্লাহ بِبَدْرٍ বদরে وَاَنْتُمْ যখন তোমরা ছিলে اَذِلَّةٌ দুর্বল; فَاتَّقُوا অতএব তোমরা ভয় করো اَللهَ আল্লাহকে, لَعَلَّكُمْ যেন তোমরা تَشْكُرُوْنَ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
১২৪. اِذْ যখন تَقُوْلُ তুমি বলছিলে لِلْمُؤْمِنِيْنَ মুমিনদেরকে, اَلَنْ يَّكْفِيَكُمْ এটা কি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট নয় اَنْ যে, يُمِدَّكُمْ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন رَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক بِثَلَاثَةِ اٰلَافٍ مِّنَ الْمَلَآئِكَةِ তিন হাজার ফেরেশতা দ্বারা مُنْزَلِيْنَ প্রেরিত?
১২৫. بَلٰۤى হ্যাঁ اِنْ যদি تَصْبِرُوْا তোমরা ধৈর্যধারণ কর وَتَتَّقُوْا ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর وَيَأْتُوْكُمْ আর তারা তোমাদের উপর (আক্রমণ করতে) আসে مِنْ فَوْرِهِمْ هٰذَا এর চেয়ে দ্রুতবেগে, يُمْدِدْكُمْ তবে তোমাদেরকে সাহায্য করবেন رَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক بِخَمْسَةِ اٰلَافٍ مِنَ الْمَلَآئِكَةِ পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা مُسَوِّمِيْنَ চিহ্নিত।
সরল অনুবাদ
১২৩. আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছিলেন- যখন তোমরা দুর্বল ছিলে [অর্থাৎ সব দিক দিয়েই তোমরা কাফিরদের থেকে দুর্বল ছিলে। যেমন- সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে তোমরা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর তোমাদের বিপরীতে তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১০০০ জন। এ যুদ্ধে তোমাদের হাতিয়ারও ছিল তাদের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। তোমাদের দলে মাত্র হাতে গুণা কয়েকজন ছিল আরোহী এবং বাকী সকলেই ছিল পদাতিক। আর তোমাদের বিপরীতে তাদের অধিকাংশ সৈন্যই ছিল অশ্বারোহী। সুতরাং এই যুদ্ধে তোমাদের পরাজয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এ যুদ্ধে সরাসরি ফেরেশতা প্রেরণের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন। ফলে তোমরা কাফিরদের উপর বিজয় লাভ করতে পেরেছ।]; অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। [কেননা যদি এগুলো না করো, তাহলে তোমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য পৌঁছবে না। তোমরা এগুলো যথাযথভাবে পালন করেছো বিধায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এই যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং এটি তোমাদের জন্য সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।]
১২৪. যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, এটা কি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করে তোমাদেরকে সাহায্য করবেন?
১২৫. হ্যাঁ- যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো ও তাক্বওয়া অবলম্বন করো (সংযমী হও), আর তারা যদি (স্বেচ্ছায়) এর চেয়ে দ্রুতবেগে তোমাদের উপর (আক্রমণ করতে) আসে, তবে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার চিহ্নিত [অর্থাৎ তারা এমন কিছু বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হবে, যা দেখে সহজেই চিনতে পারা যাবে যে, এরা কাফির অথবা মুসলিমদের দলের কেউ নয়। বরং এরা তৃতীয় কোন পক্ষ থেকে তোমাদেরকে সাহায্যের জন্য প্রেরিত হয়েছে।] ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। [অত্র আয়াত দুটিতে ৩০০০ অথবা ৫০০০ দ্বারা নির্দিষ্ট সৈন্য সংখ্যাকে বুঝানো হয়নি; বরং প্রকৃতপক্ষে এগুলো দ্বারা আল্লাহর সাহায্যের আধিক্যকে বুঝানো হয়েছে। কেননা আনফালের ৯নং আয়াতে ১০০০ ফেরেশতার কথা বলা হয়েছে। আর প্রকৃতপক্ষে মুসলিমগণ কতজন ফেরেশতা দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। অতএব এ ধরনের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করে বুঝা যাচ্ছে যে, যদি মুসলিমদের প্রয়োজন হয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ৩০০০ অথবা ৫০০০ কেন- আরো বেশি ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন। যেহেতু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হচ্ছে মুসলিমদেরকে সাহায্য করা এবং তাদেরকেই বিজয়ী হিসেবে সাব্যস্ত করা। অত্র আয়াতটি বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হলেও হুকুমটি পরবর্তী সকল যুগের জন্যই প্রযোজ্য।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আল্লাহ তা‘আলা অনেক সময় দুর্বল দলকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের উপর বিজয় দান করে থাকেন।
২. বদর যুদ্ধে মুসলিমগণ আল্লাহর সহযোগিতায় বিজয় লাভ করেছিলেন।
৩. বদর যুদ্ধের বিজয়টি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলিমদের প্রতি একটি বিশেষ অনুগ্রহ।
৪. কাফিরদের বিরুদ্ধে মুমিনদেরকে সাহায্যের জন্য আল্লাহ তা‘আলা প্রয়োজনানুসারে ফেরেশতাদেরকেও প্রেরণ করে থাকেন।
শাব্দিক অনুবাদ
১২৩. وَلَقَدْ আর অবশ্যই نَصَرَكُمُ তোমাদেরকে সাহায্য করেছিলেন اَللهُ আল্লাহ بِبَدْرٍ বদরে وَاَنْتُمْ যখন তোমরা ছিলে اَذِلَّةٌ দুর্বল; فَاتَّقُوا অতএব তোমরা ভয় করো اَللهَ আল্লাহকে, لَعَلَّكُمْ যেন তোমরা تَشْكُرُوْنَ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
১২৪. اِذْ যখন تَقُوْلُ তুমি বলছিলে لِلْمُؤْمِنِيْنَ মুমিনদেরকে, اَلَنْ يَّكْفِيَكُمْ এটা কি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট নয় اَنْ যে, يُمِدَّكُمْ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন رَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক بِثَلَاثَةِ اٰلَافٍ مِّنَ الْمَلَآئِكَةِ তিন হাজার ফেরেশতা দ্বারা مُنْزَلِيْنَ প্রেরিত?
১২৫. بَلٰۤى হ্যাঁ اِنْ যদি تَصْبِرُوْا তোমরা ধৈর্যধারণ কর وَتَتَّقُوْا ও তাক্বওয়া অবলম্বন কর وَيَأْتُوْكُمْ আর তারা তোমাদের উপর (আক্রমণ করতে) আসে مِنْ فَوْرِهِمْ هٰذَا এর চেয়ে দ্রুতবেগে, يُمْدِدْكُمْ তবে তোমাদেরকে সাহায্য করবেন رَبُّكُمْ তোমাদের প্রতিপালক بِخَمْسَةِ اٰلَافٍ مِنَ الْمَلَآئِكَةِ পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা مُسَوِّمِيْنَ চিহ্নিত।
সরল অনুবাদ
১২৩. আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছিলেন- যখন তোমরা দুর্বল ছিলে [অর্থাৎ সব দিক দিয়েই তোমরা কাফিরদের থেকে দুর্বল ছিলে। যেমন- সৈন্য সংখ্যার দিক থেকে তোমরা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর তোমাদের বিপরীতে তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১০০০ জন। এ যুদ্ধে তোমাদের হাতিয়ারও ছিল তাদের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। তোমাদের দলে মাত্র হাতে গুণা কয়েকজন ছিল আরোহী এবং বাকী সকলেই ছিল পদাতিক। আর তোমাদের বিপরীতে তাদের অধিকাংশ সৈন্যই ছিল অশ্বারোহী। সুতরাং এই যুদ্ধে তোমাদের পরাজয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এ যুদ্ধে সরাসরি ফেরেশতা প্রেরণের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন। ফলে তোমরা কাফিরদের উপর বিজয় লাভ করতে পেরেছ।]; অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। [কেননা যদি এগুলো না করো, তাহলে তোমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য পৌঁছবে না। তোমরা এগুলো যথাযথভাবে পালন করেছো বিধায় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে এই যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং এটি তোমাদের জন্য সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।]
১২৪. যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, এটা কি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করে তোমাদেরকে সাহায্য করবেন?
১২৫. হ্যাঁ- যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো ও তাক্বওয়া অবলম্বন করো (সংযমী হও), আর তারা যদি (স্বেচ্ছায়) এর চেয়ে দ্রুতবেগে তোমাদের উপর (আক্রমণ করতে) আসে, তবে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার চিহ্নিত [অর্থাৎ তারা এমন কিছু বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হবে, যা দেখে সহজেই চিনতে পারা যাবে যে, এরা কাফির অথবা মুসলিমদের দলের কেউ নয়। বরং এরা তৃতীয় কোন পক্ষ থেকে তোমাদেরকে সাহায্যের জন্য প্রেরিত হয়েছে।] ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। [অত্র আয়াত দুটিতে ৩০০০ অথবা ৫০০০ দ্বারা নির্দিষ্ট সৈন্য সংখ্যাকে বুঝানো হয়নি; বরং প্রকৃতপক্ষে এগুলো দ্বারা আল্লাহর সাহায্যের আধিক্যকে বুঝানো হয়েছে। কেননা আনফালের ৯নং আয়াতে ১০০০ ফেরেশতার কথা বলা হয়েছে। আর প্রকৃতপক্ষে মুসলিমগণ কতজন ফেরেশতা দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। অতএব এ ধরনের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করে বুঝা যাচ্ছে যে, যদি মুসলিমদের প্রয়োজন হয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ৩০০০ অথবা ৫০০০ কেন- আরো বেশি ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন। যেহেতু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হচ্ছে মুসলিমদেরকে সাহায্য করা এবং তাদেরকেই বিজয়ী হিসেবে সাব্যস্ত করা। অত্র আয়াতটি বদর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হলেও হুকুমটি পরবর্তী সকল যুগের জন্যই প্রযোজ্য।]
আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. আল্লাহ তা‘আলা অনেক সময় দুর্বল দলকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলের উপর বিজয় দান করে থাকেন।
২. বদর যুদ্ধে মুসলিমগণ আল্লাহর সহযোগিতায় বিজয় লাভ করেছিলেন।
৩. বদর যুদ্ধের বিজয়টি ছিল আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলিমদের প্রতি একটি বিশেষ অনুগ্রহ।
৪. কাফিরদের বিরুদ্ধে মুমিনদেরকে সাহায্যের জন্য আল্লাহ তা‘আলা প্রয়োজনানুসারে ফেরেশতাদেরকেও প্রেরণ করে থাকেন।