১
সূরা আলে ইমরান
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৩
আয়াত : ১১০ শ্রেষ্ঠ উম্মতের বর্ণনা
كُنْتُمْ خَيْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِؕ وَلَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْؕ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَاَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُوْنَ (১১০)
শাব্দিক অনুবাদ
১১০. كُنْتُمْ তোমরাই خَيْرَ اُمَّةٍ শ্রেষ্ঠ উম্মত, اُخْرِجَتْ বের করা হয়েছে لِلنَّاسِ মানুষের (কল্যাণের) জন্য। تَأْمُرُوْنَ তোমরা আদেশ করবে بِالْمَعْرُوْفِ সৎকাজের وَتَنْهَوْنَ এবং নিষেধ করবে عَنِ থেকে اَلْمُنْكَرِ অসৎ কাজ وَتُؤْمِنُوْنَ আর তোমরা ঈমান আনবে بِاللهِ আল্লাহর উপর। وَلَوْ আর যদি اٰمَنَ ঈমান আনত اَهْلُ الْكِتَابِ আহলে কিতাবরা, لَكَانَ তাহলে তা হতো خَيْرًا কল্যাণকর لَهُمْ তাদের জন্য। مِنْهُمُ (তবে) তাদের মধ্যে اَلْمُؤْمِنُوْنَ কত ঈমানদার রয়েছে; وَاَكْثَرُهُمُ কিন্তু তাদের অধিকাংশই اَلْفَاسِقُوْنَ ফাসিকদের অন্তর্ভুক্ত।
সরল অনুবাদ
১১০. তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা (সৃষ্টি করা) হয়েছে। [অর্থাৎ তোমাদেরকে এমন একটি আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে, যেখানে ইতিপূর্বে বনী ইসরাঈল অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু তারা সেটি ধরে রাখতে পারেনি; বরং তারা নিজেদের অযোগ্যতার কারণে সেখান থেকে বিচ্যূত হয়ে গেছে। ফলে এখন তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কেননা যোগ্যতার দিক থেকে বর্তমানে তোমরাই তাদের থেকে অধিক অগ্রগামী। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মানুষের জন্য মানুষ কল্যাণকর তখনই হয়, যখন তাদের গ্রীবাদেশে (আল্লাহর আনুগত্যের) শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। অতঃপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে। (সহীহ বুখারী, হা/৪৫৫৭) অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতটির ব্যাপারে বলেন, অবশ্যই তোমরাই দুনিয়াতে ৭০ সংখ্যা পূর্ণকারী দল। তোমরাই আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বোত্তম ও মর্যাদাসম্পন্ন। (তিরমিযী, হা/৩০০১)] তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে (বিশ্বাস স্থাপন করবে)। [এগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসনে অধিষ্ঠিত থাকার মৌলিক গুণাবলি। যেহেতু এসব বিষয়ে বনী ইসরাঈলকে আদেশ দেয়ার পরও তারা তা অমান্য করেছিল, সুতরাং তাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসন থেকে অপসারণ করে তোমাদেরকে সেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সুতরাং এখন তোমরা যতদিন পর্যন্ত এই গুণাবলি যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা এই আসনেই অধিষ্ঠিত থাকবে। আর যখনই তোমরা এই গুণাবলি থেকে বিচ্যুত হবে, তখনই তোমাদের উপর অপমান ও লাঞ্ছনার বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে।] আর আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনত, তাহলে তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। [অর্থাৎ এখনও যদি তারা আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ঈমান আনয়ন করে, তাহলে তারা তোমাদের সাথে মিলিত হয়ে পুনরায় শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।] (তবে) তাদের মধ্যে কতক ঈমানদার (বিশ্বাসী) রয়েছে [অর্থাৎ তাদের মধ্যে অল্পকিছু লোক এমন রয়েছে যে, তারা সত্যকে অনুধাবন করতে পারে এবং সত্যকে গ্রহণের প্রতি আগ্রহী থাকে। ফলে যখনই তাদেরকে দ্বীনের পথে দাওয়াত প্রদান করা হয়, তখন তারা সহজেই বুঝে নেয় যে, এটিই সত্য দ্বীন। অতঃপর ইসলামের ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করে পরম প্রশান্তি অনুভব করে।]; কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক (পাপাচারী)। [অর্থাৎ তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই পৃথিবীতে অরাজকতা সৃষ্টি করে বেড়ায়। তারা আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ঈমান আনয়ন করে না। বরং তারা তাঁর সাথে অনেক সৃষ্টিকে শরীক করে থাকে। তারা নিজেদের অনেক মতবাদকে দ্বীনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। অতঃপর তারা তাদের বিকৃত দ্বীনকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে, সত্য দ্বীনের শীতল হাওয়া তাদের গায়ে সহ্য হয় না। ফলে এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসার দেখে তারা আক্রোশের বশবর্তী হয়ে এর বিরুধিতায় লিপ্ত হয়। তারা সর্বদা এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যে, কখন ইসলাম ও তার অনুসারীদের সামান্যতম ক্ষতি করা যাবে। তাদের এরূপ আচরণে সত্য দ্বীনের অনুসারী তথা মুসলিমগণ যাতে কোনরূপ বিভ্রান্তে পতিত না হয়, সেজন্যই পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সান্ত্বনা প্রদান করেছেন এবং একটি স্থায়ী সুসংবাদ প্রদান করেছেন।]
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. ঈমানদার ও সৎকর্মশীল লোকেরাই দুনিয়ার মধ্যে আগত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।
২. ঈমানদারগণ সর্বদা মানুষের জন্য কল্যাণকার ব্যক্তিত্ব।
৩. সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৪. আহলে কিতাবের অধিকাংশই ফাসিক তথা পাপাচারী।
৫. আহলে কিতাবের মধ্যেও কিছু কিছু লোক ঈমান আনয়ন করে থাকে।
শাব্দিক অনুবাদ
১১০. كُنْتُمْ তোমরাই خَيْرَ اُمَّةٍ শ্রেষ্ঠ উম্মত, اُخْرِجَتْ বের করা হয়েছে لِلنَّاسِ মানুষের (কল্যাণের) জন্য। تَأْمُرُوْنَ তোমরা আদেশ করবে بِالْمَعْرُوْفِ সৎকাজের وَتَنْهَوْنَ এবং নিষেধ করবে عَنِ থেকে اَلْمُنْكَرِ অসৎ কাজ وَتُؤْمِنُوْنَ আর তোমরা ঈমান আনবে بِاللهِ আল্লাহর উপর। وَلَوْ আর যদি اٰمَنَ ঈমান আনত اَهْلُ الْكِتَابِ আহলে কিতাবরা, لَكَانَ তাহলে তা হতো خَيْرًا কল্যাণকর لَهُمْ তাদের জন্য। مِنْهُمُ (তবে) তাদের মধ্যে اَلْمُؤْمِنُوْنَ কত ঈমানদার রয়েছে; وَاَكْثَرُهُمُ কিন্তু তাদের অধিকাংশই اَلْفَاسِقُوْنَ ফাসিকদের অন্তর্ভুক্ত।
সরল অনুবাদ
১১০. তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা (সৃষ্টি করা) হয়েছে। [অর্থাৎ তোমাদেরকে এমন একটি আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে, যেখানে ইতিপূর্বে বনী ইসরাঈল অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু তারা সেটি ধরে রাখতে পারেনি; বরং তারা নিজেদের অযোগ্যতার কারণে সেখান থেকে বিচ্যূত হয়ে গেছে। ফলে এখন তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কেননা যোগ্যতার দিক থেকে বর্তমানে তোমরাই তাদের থেকে অধিক অগ্রগামী। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মানুষের জন্য মানুষ কল্যাণকর তখনই হয়, যখন তাদের গ্রীবাদেশে (আল্লাহর আনুগত্যের) শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। অতঃপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে। (সহীহ বুখারী, হা/৪৫৫৭) অপরদিকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতটির ব্যাপারে বলেন, অবশ্যই তোমরাই দুনিয়াতে ৭০ সংখ্যা পূর্ণকারী দল। তোমরাই আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বোত্তম ও মর্যাদাসম্পন্ন। (তিরমিযী, হা/৩০০১)] তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে (বিশ্বাস স্থাপন করবে)। [এগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসনে অধিষ্ঠিত থাকার মৌলিক গুণাবলি। যেহেতু এসব বিষয়ে বনী ইসরাঈলকে আদেশ দেয়ার পরও তারা তা অমান্য করেছিল, সুতরাং তাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসন থেকে অপসারণ করে তোমাদেরকে সেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সুতরাং এখন তোমরা যতদিন পর্যন্ত এই গুণাবলি যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা এই আসনেই অধিষ্ঠিত থাকবে। আর যখনই তোমরা এই গুণাবলি থেকে বিচ্যুত হবে, তখনই তোমাদের উপর অপমান ও লাঞ্ছনার বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে।] আর আহলে কিতাবরা যদি ঈমান আনত, তাহলে তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। [অর্থাৎ এখনও যদি তারা আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ঈমান আনয়ন করে, তাহলে তারা তোমাদের সাথে মিলিত হয়ে পুনরায় শ্রেষ্ঠ উম্মতের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।] (তবে) তাদের মধ্যে কতক ঈমানদার (বিশ্বাসী) রয়েছে [অর্থাৎ তাদের মধ্যে অল্পকিছু লোক এমন রয়েছে যে, তারা সত্যকে অনুধাবন করতে পারে এবং সত্যকে গ্রহণের প্রতি আগ্রহী থাকে। ফলে যখনই তাদেরকে দ্বীনের পথে দাওয়াত প্রদান করা হয়, তখন তারা সহজেই বুঝে নেয় যে, এটিই সত্য দ্বীন। অতঃপর ইসলামের ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করে পরম প্রশান্তি অনুভব করে।]; কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক (পাপাচারী)। [অর্থাৎ তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই পৃথিবীতে অরাজকতা সৃষ্টি করে বেড়ায়। তারা আল্লাহর প্রতি যথাযথভাবে ঈমান আনয়ন করে না। বরং তারা তাঁর সাথে অনেক সৃষ্টিকে শরীক করে থাকে। তারা নিজেদের অনেক মতবাদকে দ্বীনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। অতঃপর তারা তাদের বিকৃত দ্বীনকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে, সত্য দ্বীনের শীতল হাওয়া তাদের গায়ে সহ্য হয় না। ফলে এই দ্বীনের প্রচার ও প্রসার দেখে তারা আক্রোশের বশবর্তী হয়ে এর বিরুধিতায় লিপ্ত হয়। তারা সর্বদা এই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যে, কখন ইসলাম ও তার অনুসারীদের সামান্যতম ক্ষতি করা যাবে। তাদের এরূপ আচরণে সত্য দ্বীনের অনুসারী তথা মুসলিমগণ যাতে কোনরূপ বিভ্রান্তে পতিত না হয়, সেজন্যই পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সান্ত্বনা প্রদান করেছেন এবং একটি স্থায়ী সুসংবাদ প্রদান করেছেন।]
আয়াত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা
১. ঈমানদার ও সৎকর্মশীল লোকেরাই দুনিয়ার মধ্যে আগত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।
২. ঈমানদারগণ সর্বদা মানুষের জন্য কল্যাণকার ব্যক্তিত্ব।
৩. সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৪. আহলে কিতাবের অধিকাংশই ফাসিক তথা পাপাচারী।
৫. আহলে কিতাবের মধ্যেও কিছু কিছু লোক ঈমান আনয়ন করে থাকে।